বিদ্যুৎ সমস্যার বিকল্প সমাধানে আগ্রহ নেই সরকারের

তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সুন্দরবনের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র না করে বিকল্প ব্যবস্থার কথা সরকারকে বললেও তারা শোনে না। সরকারের আগ্রহ হচ্ছে বেশি টাকা ব্যয় হয় এমন সব প্রকল্পে। তাদের আগ্রহ বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানিকে সন্তুষ্ট করা।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ শনিবার বিকেলে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ঢাকা মহানগর কমিটি আয়োজিত এক বিক্ষোভ পদযাত্রায় তিনি এ কথা বলেন।

আনু মুহাম্মদ সুন্দরবনের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, সরকার বিদেশিদের সন্তুষ্ট করতে এই প্রকল্প করছে। সন্তুষ্ট করা শুধু অর্থনৈতিক লুটপাটের ভাগের জন্য নয়। সন্তুষ্ট করা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য। কারণ, এখানে ভারতকে সন্তুষ্ট করতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াকে সন্তুষ্ট করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যেসব বিশেষজ্ঞ আছেন, তাঁরা কাঠ কয়লা ও খনিজ কয়লার মধ্যে তফাত কী—এটা বোঝেন না। অথচ সেই বিশেষজ্ঞদের হাতেই সারা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ জিম্মি হয়ে আছে। সুন্দরবনের মতো অতুলনীয় সম্পদ, যা আরেকটি বানানো যাবে না, সেই সুন্দরবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষা এসব বিশেষজ্ঞ ও কমিশনভোগেী লোকজনের হাতে জিম্মি।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘রূপপুর কর, বাঁশখালী কর, রামপালে প্রকল্প কর, সুন্দরবন ধ্বংস কর, বঙ্গোপসাগরে গ্যাসক্ষেত্র নিলামে ওঠাও। এভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ সর্বনাশ করে বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ, দেশের জাতীয় স্বার্থ সর্বনাশ করে বাংলাদেশের সরকার জাতীয় নিরাপত্তার নামে কিংবা জ্বালানির নিরাপত্তার নামে বিদেশিদের ওপর ভরসা করছে।’

বিক্ষোভ পদযাত্রায় জনমত উপেক্ষা করে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। এই চুক্তি বন্ধের লক্ষ্যে দলমত-নির্বিশেষে দেশের জনগণকে ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জাতীয় কমিটির ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বিদ্যুৎ প্রকল্প করেন ভালো কথা, কিন্তু সুন্দরবনের অতি নিকটে কেন? ভারতকে খুশি করার জন্য এবং সুন্দরবন ধ্বংস করার জন্য এই বিদ্যুৎ প্রকল্প।

বিক্ষোভ থেকে রামপাল চুক্তি বাতিল ও সুন্দরবন রক্ষায় লিফলেট বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিক্ষোভ শেষে পদযাত্রাটি প্রেসক্লাব থেকে পল্টন হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক অভিমুখে যাত্রা করে।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: