এক নজরে দেখা জুরিখ শহর

মোহাম্মদ ফয়সাল
যশ চোপড়ার ক্যামেরায় আমি প্রথম দেখি সুইৎজারল্যান্ডকে । ছবির নাম চাঁদনি। তখন আমাদের বাড়িতে সিনেমা দেখার অনুমতি ছিল না, হিন্দি সিনেমা হলেত কথায় নাই। তাই এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে সিনেমাটি দেখেছিলাম। ছবির মতো সুন্দর দেশটি দেখে প্রথম দর্শনেই মোহিত হয়ে পড়ি। এর পরে আরও অনেক বার দেখেছি তাকে সিনেমার পর্দায়। তবু দেশটির প্রতি মুগ্ধতা কমেনি একটুও।
উচ্চশিক্ষার জন্য এখন র্জামানীতে রয়েছি। তাই শেনেগন ভিসা তো হাতে রয়েছে! ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশের মধ্যে ২২টি দেশে ভ্রমণের ছাড়পত্র হল এই ভিসা। সুইৎজারল্যান্ডও রয়েছে সেই তালিকায়। পশ্চিমের সব দেশেই গ্রীষ্মের এক অন্য সৌন্দর্য। এই সময়ে গাছের পাতায় চলে রংবদলের খেলা। তাই গ্রীষ্মের মাঝামাঝিতে হঠাৎ সুইৎজারল্যান্ড যাওয়ার সুযোগ হল ।
পাহাড় ঘেরা ছোট্ট সাজানো শহর জুরিখ। কাছেই রাইন জলপ্রপাত। ইউরোপের সব থেকে বড় জলপ্রপাত। জুরিখ থেকে ট্রেনে ঘণ্টাখানেক। তার পর কিছুটা পায়ে হেঁটে পৌঁছলাম জলপ্রপাতের কাছে। অবাক করে দেয় এর ব্যাপ্তি। চার পাশের রঙিন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।
তারপর জুরিখ লেকে ভ্রমণ। আসলে জুরিখের চাপোশের পাহাড়ের মাঝের উপত্যকাই হল জুরিখ লেক। প্রকৃতির কোলে এই উপত্যকার অপরূপ সৌন্দর্য সম্পর্কে যা বলা হবে, তা অবশ্যই কম। সবুজ পাহাড়ের উপর শহর ঘেরা হ্রদ। আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের মেলা। সবুজ মখমলের মাঠে ছোট ছোট ফুলের রঙিন নকশা। মাঝে সুন্দর সুন্দর কাঠের বাড়ি। এই সব দেখে মনে পড়ে, পারস্য কবি আমির খসরুর কবিতার একটি লাইন— যদি স্বর্গ কোথাও থাকে, তা এখানেই, তা এখানেই, তা এখানেই।
এরপর উটলিবুর্গ ভ্রমন। উচু পাহাড় থেকে একনজরে জুরিখ শহর ।মখমলের মতো সবুজ মাঠ, ছোট সুন্দর বাড়ি, মাঠে চড়ে বেড়াচ্ছে গরু, ভেড়া। চার দিকে মাথা তুলে সুন্দরী আল্পস। অবর্ণনীয় সুইৎজারল্যান্ড।
ক্রমে বিকেল ঘনিয়ে এল। সূর্যাস্তের সোনা গলা রং ঢেলে জুরিখ তখন অন্যবদ্য রূপে। সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে আবার লেকের পাড়ে। এর ঠিক পাশেই শহরের নিজস্ব সৌন্দর্যের সঙ্গে প্রকৃতি মিলেমিশে এক অন্য রূপ নিয়েছে।
সফর শেষে ঘরে ফেরার পালা। জুরিখ থেকে উড়ান ধরে সোজা মিউনিখ। নীল আকাশের নীচে রঙিন প্রকৃতি দেখে সত্যি হল আমার আশৈশবের স্বপ্ন।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: