তুরস্কের রাজনীতিতে জাতীয় ঐক্যের সুর

আবু সালেহ ইয়াহিয়া

১৫ জুলাইয়ের রক্তাক্ত ও ব্যর্থ সেনা ক্যু যেন তুরস্কের রাজনীতির জন্য ঐক্যের সুবাতাস বয়ে নিয়ে এসেছে। সেনা ক্যুর বিরুদ্ধে একই সুরে কথা বলা ও গণতন্ত্রের জন্য একই মঞ্চে অবস্থানের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা দুরত্বগুলো কমে আসতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে।

তুরস্কের জনপ্রিয় অনলাইনপোর্টাল হাবেরলেরডটকম ও সনদাকিকাডটকম এর পৃথক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য মতে, গতকাল তুরস্কের ঐতিহাসিক তাকসিম ময়দানে “গণতান্ত্রিক সমাবেশ” নামে বিশাল সমাবেশ করেছে বিরোধী দল CHP। এতে ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির পক্ষ থেকে পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহমেত মুয়েজ্জিনউলো উপস্থিত হয়ে বিরোধী দলের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করেন। আরও অংশ গ্রহন করেন, একে পার্টির ইস্তাম্বুলের প্রেসিডেন্ট সেলিম তেমুরজি ও ইস্তাম্বুলের মেয়র কাদির তপবাশ। এ সময় সরকারি দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী মিছিল সহকারে তাদের সাথে যোগ দেন। এরদোয়ান আমলের প্রায় ১৪ বছরে এই প্রথম বিরোধী দলের কোন সমাবেশে যোগদান করলো সরকারী দল। সমাবেশে লক্ষাধিক লোক উপস্থিত হয়েছিলেন। সমাবেশে অন্য দলগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া, বিভিন্ন NGO, Union ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে পোর্টাল দুটি।

প্রতিবেদনে প্রদত্ত তথ্য মতে, আজ সব দলের প্রধানদের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আমন্ত্রন জানিয়েছেন রেজেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। যাতে প্রধান বিরোধীদলের নেতা কিলিচ দারউলো ও যাবেন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এরদোয়ান আমলে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতির আহবানে সাড়া দিয়ে এটাই হবে তার প্রথম রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যাওয়া।

১৫ জুলাই রাতের ব্যর্থ সেনা ক্যু কে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে দেশের জনগণ। তাইতো সে রাত্রেই তারা জীবন দিয়ে রুখে দিয়েছে এমন অশুভ তৎপরতা। তারপর থেকে গুনতন্ত্রকে পাহারা দিতেই রাজপথে নির্ঘুম রজনি পার করছে দেশের সর্বস্তরের জনগণ। সরকারি দল একে পার্টি সবাইকে নিয়ে একসাথে উত্তরণ ঘটাতে চায় দেশটির ইতিহাসের ভয়াভহতম এ পরিস্থিতি।আর তাইতো এ ঘটনার পর সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে জমে থাকা বরফও গলতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে।

২৫ জুলাই ২০১৬।

লেখক : গবেষক

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: