ভিডিও >> ‘জমির চাচা’ নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ‘ইসলাম এলার্জির’ নেপথ্য কারন !

আমান আব্দুহু
একাত্তর টিভিতে বিশিষ্ট মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভাব‍্য একজন জমির চাচা এবং অন্যতম এক শাহবাগি পান্ডা নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর আলোচিত স্বাক্ষাতকারটি দেখলাম। ( নিচের ভিডিও দেখুন )
তিনি বলেছেন “একটি পাঁচ বছরের বাচ্চা যখন মসজিদে যাচ্ছে জুম্মার নামায পড়তে বাবার হাত ধরে, সেই মসজিদে সে কী কথাটা শুনছে? সে কিন্তু একটা হেইট স্পিচই শুনছে। সে কিন্তু… মৌলবি সাহেব যখন মোনাজাত করছেন… বেশিরভাগ জায়গায়… আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি… বলছে যে কাফেরদেরকে ধ্বংস করো। বিধর্মীদের ধ্বংস করো। আল্লাহ তুমি মুসলমানদের হেফাজত করো। আমি ঠিক বুঝিনা যে এই শিশুটি যে বড় হলো সেই শিশুটি তাহলে … আমাদের সমাজে তো একটি প্যারালাল কিছু সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিলো!”

জনাব বাচ্চুর কথাটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একটি বেদনা থেকে এ কথা বলেছেন। ঠিক একই বেদনা থেকে মাননীয় হাসিনা সরকারী খুতবা-খতনাকরণ প্রজেক্ট শুরু করেছেন। কথাটা ঐ প্রজেক্টের অংশ।
যদিও ইমাম সাহেবের ঐ কথাগুলো বেশিরভাগ সময় সরাসরি রাসুল সা. এর শেখানো মুনাজাত। স্বয়ং রাসুল সা. এসব দোয়া করেছেন। তাহলে বাচ্চুদার কথা অনুযায়ী হযরত মোহাম্মদ সা. নিজেই হেইট স্পিচ প্রচার করেছেন!! বটে! তাহলে তো অনেক ভালোবাসার দরকার।
উদাহরণস্বরুপ ইমাম সাহেবরা যখন এসব কথাবার্তা বলেন তখন কাশ্মীরের জন্য দোয়া করেন আমরা সবাই জানি। আরবী খুতবা না বুঝে ঝিমাতে থাকলেও হঠাৎ করে খুতবায় কাশ্মীর ফিলিস্তিন এসব শব্দ শুনে চমকে উঠি। একটু চিন্তা হয়।
এই যে দাদাদের দেশের দখলে থাকা স্বাধীনতাকামী অত্যাচারিত মানুষদেরকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী না ডেকে উল্টা তাদের জন্য দোয়া করা হয় এতে শাহবাগিদের অনেক বেদনা হয়। এরকম অনেক ছোট ছোট বেদনা জমে আজ সব একসাথে হয়েছে। খুনী ধর্ষক লুটেরা ইন্ডিয়ান আর্মিকে ভালোবাসা দিতে হবে। তা না করে উল্টা আমরা ঘৃণা দিচ্ছি। এটা কোন কথা হইলো অ্যাঁ!
সুতরাং বাংলাদেশের হাল যেদিকে যাইতেছে তাতে জুমার নামাযের আগে আরবী কথাবার্তার বদলে সরাসরি রবীন্দ্রসংগীত গাইলেই হয়।
সবাই মসজিদে বসবে আর ইমাম সাহেব হারমোনিয়াম বাজিয়ে চোখ বন্ধ করে দরদ দিয়ে গাইবে, আমার বাংলাদেশ ব্যাংকে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি আহা! অথবা, আজ জোছনা রাতে ভাড়ৎদার আর্মি গেছে অভিযানে!
তারপর পাঁচ বছরের বাচ্চারা অনেক ভালোবাসা শিখবে। তারা বড় হয়ে হাসনাত আবদুল হাই এর লেখা টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি গল্পের নায়ক জমির চাচার মতো ভালোবাসাময় মানুষ হবে।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: