জঙ্গি অভিযানের তথ্য ও ছবির অসঙ্গতি: সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

ডেইলি বিডি টাইমস অনলাইন: ঢাকার কল্যাণপুরে কথিত জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে ৯জন ‘জঙ্গি’ নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের দেয়া তথ্য এবং ছবিতে ফুটে ওঠা চিত্রের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর সামাজাকি মাধ্যমে এ নিয়ে রীতিমত আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
তার আগে বিডিটুডে “জঙ্গিরা সবজি কাটার ছুরি দিয়ে হামলা চালায়, ২৪ ঘন্টা কালো পাঞ্জাবি পরে থাকে!” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়–
“জঙ্গিদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল এবং সেগুলো তারা ব্যবহারও করেছিল বলে পুলিশের দাবি। কিন্তু প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। পাঞ্জাবি পরাবস্থায় নিহত একজনের ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার হাতে সাধারণ সবজি কাটার জন্য ব্যবহৃত একটি ছুরি ধরা রয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, যাদের কাছে গ্রেনেড, রাইফেল, তলোয়ারের মতো বড় অস্ত্র রয়েছে তারা আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত পুলিশ-র‌্যাব-সোয়াতের গুলির মুখে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে ওইসব অস্ত্র ব্যবহার না করে কেন সবজি কাটার ছোট্ট ছুরি ব্যবহার করলো?! ‘প্রশিক্ষিত’ এসব জঙ্গিরা এত শিশুসুলভ হয় কী করে!
দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, পুলিশ বলছে ভোর রাতে জঙ্গিদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জঙ্গিদের ট্রেডমার্ক পোশাক হচ্ছে কালো পাঞ্জাবি। কল্যাণপুরে নিহত সবার গায়ে কালো পাঞ্জাবি দেখা যাচ্ছে। নিজেদের বাসায় অবস্থান করার সময় ভোর রাতে (ঘুমে থাকার সময়) জঙ্গিরা পাঞ্জাবি পরাবস্থায় ছিল! রাত-দিন ২৪ ঘন্টাই কি তাহলে তারা তাদের ‘জঙ্গিবাদী’ ইউনিফর্ম পরে থাকে?!”
এ সংবাদ প্রকাশের পর অভিযানটি ‘আয়োজিত’ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। এরকম কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো–
মামুন নামে একজন লিখেছেন, “মানুষের শরীরে গুলি লাগার পরে মৃত্যুর যন্ত্রণায় ঢলে পড়ে। তারপরও আপেল কাটার তাদের ছুরি হাতে থাকে, পড়ে যায় না! বাংলাদেশ কি যে হচ্ছে।আল্লাহ তালা সবাইকে রহম করুন।
মেহেদি হাসান লিখেছেন, “আহা জঙ্গি! জঙ্গির লাশের হাতের মুঠোয় কাচামরিচ পেয়াজ কাটার চাকু। আহা জঙ্গি!”
অন্য একজন লিখেছেন, “আইজিপি বললেন- নিহতরা সবাই শিক্ষিত, এলিট ফ্যামিলির! কিন্তু উনারা ক্যামনে বুঝলো তা? আইজিপি তো ঘটনাস্থলে গেছেন লাশ হওয়ার পরে। তার মানে নিহতদের বায়োডাটা আগে থেকেই ছিল পুলিশের কাছে!”
ছোয়াব খান লিখেছেন, “সামান্য অাঘাত পেলে হাতে কিছু রাখা যায়না। কিন্তু গুলি খেয়ে মরার পরেও হাতের ছুরি ফেলে দেয়নি!,কত সুন্দর নাটক। মনে হয় ২০১৬ সালের সেরা নাটক হবে।”
মোশাররফ লিখেছেন, “এক জঙ্গীকে দেখা যাচ্ছে, নিহত হওয়ার পরও একে-47 ছুরি ধরে আছে! ওরে বাপরে বাপ!!!”
মুনির খান লিখেছেন, “বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষেরই ক্রাইম সিরিয়াল, ক্রাইমের উপর তথ্যচিত্র, ক্রাইম সিনেমা আরও অনেক কিছু। অতএব আমাদের যদি প্রতিবন্ধী জ্ঞান দিয়ে তৈরী নাটক গেলাতে চান তাতো হজম হবেনা। বিবেকহীন, জ্ঞানশূন্য, প্রলাপী আওয়ামীরা বুঝলেও বাকি জনসাধারণকে এতো সহজেই নাটকের সফলতা বুঝাবেন?
সবাইকে চোখ বুজে সাবান লুকানো কাকের মতো মনে করেন?”
হাসান লিখেছেন, “সব গুলো জঙ্গী আইএস ড্রেস পরিধান করে, গলা জড়াজড়ি করে, হাতে আপেল কাটার ছুরি নিয়ে পুলিশের দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে মারা যায়! ঘুমোতে যাওয়ার আগে কেন জুতা পরিধান করে পাগড়ী মাথায় দিলো সেই প্রশ্ন করলে খবর আছে।”

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: