ভারতের আকাশে চীনের নজরদারি!

ভারতীয় রাডার এড়িয়ে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে চীনা বিমান ছবি তুলে নিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের গোয়েন্দারা এ তথ্য জানতে পেরেছেন। চীন-সীমান্তের বারাহোতিতে চীনা বিমানের অনুপ্রবেশের বিষয়টি উঠে আসার পর তদন্তে নেমে চীনের নজরদারির বিষয়টি জানতে পেরেছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।

কয়েকদিন আগে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত অভিযোগ করেছিলেন, সীমান্তের বারাহোতিতে অনুপ্রবেশ করেছে চীনা সেনারা। এ নিয়ে কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট পাঠান তিনি। এতে নড়েচড়ে বসে নয়াদিল্লি। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বারাহোতিতে পা রাখার আগে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ )-র উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এয়ারক্যাফ্ট , সিন্থেটিক অ্যাপারচার রেডার ( এসএআর ) নজরদারি চালিয়েছিল বারাহোতির আকাশে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে নেওয়া প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে চীনের বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন এই অত্যাধুনিক এয়ারক্র্যাফ্ট। এসএআর মাটি থেকে ৪০ হাজার ফিট ওপর দিয়ে উড়তে পারে। প্রয়োজনে শত্রু দেশের রেডারের নজর এড়াতে ৬০ হাজার ফিট পর্যন্ত ওপরেও উঠে যেতে পারে এসএআর। রাতের অন্ধকারে কিংবা খারাপ আবহাওয়াতেও উচ্চ মানের দুর্দান্ত ছবি তুলতে পারে বিমানটি।

চলতি বছরের শুরুর দিকে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলপ্রদেশের ওপরেও ঢুঁ মেরেছিল চীনের ‘টুপলভ টু ১৫৩ এম ’ এয়ারক্র্যাফ্ট।

এসএআর উত্তরাখণ্ডের বারাহোতির ওপর নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার পর পরই, পিপলস লিবারেশন আর্মির অন্তত ২৫ সেনা সেখানে অনুপ্রবেশ করে। সেখানে তারা আধ ঘণ্টার মতো অবস্থান করে ফিরে যায় চীনে।

বারাহোতির ওই এলাকাটি উভয় দেশই ‘বিতর্কিত’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। দু’দেশই বারাহোতিতে অস্ত্র হাতে সেনাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল আগেই।

বারাহোতিকে ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ বলতে মানতে চায় না চীন। চীনারা বারাহোতিকে ‘উ -জে ’ বলে থাকেন। ভারতও বারাহোতির দাবি ছাড়তে রাজি নয়। ১৯৫৮ সালে দু’দেশই মেনে নেয় এলাকাটি বিতর্কিত এবং সেখানে সেনা না পাঠানোর।১৯৬২-র ভারত -চীন যুদ্ধের সময় পশ্চিমে লাদাখ বা পুর্বের অরুণাচলে যুদ্ধ লাগালেও মধ্যভাগের এই ৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা গোলাগুলির বাইরেই ছিল।

ভারতের অভিযোগ, বারাহোতিতে সেনা পাঠিয়ে ওই চুক্তি ভঙ্গ করেছে চীন। ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে নয়াদিল্লি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: