Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284

আইনমন্ত্রীর বাবা বঙ্গবন্ধুকে বলেন, ‘মোশতাক তোমাকে খুন করবে’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাবা প্রখ্যাত আইনজীবী সিরাজুল হক বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘খন্দকার মোশতাক তাঁকে (আইনমন্ত্রীর বাবা) খুন করবে না। খুন করবে বঙ্গবন্ধুকেই।’ তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘খন্দকার মোশতাকের পায়ের নখ থেকে চুল পর্যন্ত হারামিতে ভরা। তাঁর মতো কেউ মোশতাককে বাংলাদেশে কেউ চেনে না।’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এসব তথ্য জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আইনমন্ত্রীর বাবা সিরাজুল হক।

আনিসুল হক বলেন, তাঁদের বাসা গণভবনের ঠিক উল্টো দিকে। বঙ্গবন্ধু একদিন আমার পিতাকে গণভবনে ডাকেন। বাবার কাছ থেকে শুনেছেন উল্লেখ করে আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১ আগস্ট। মাগরিবের নামাজের সময় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গণভবনে দেখা করতে যান আমার পিতা। সেখানে আগে থেকে বসা ছিলেন খন্দকার মোশতাক ও তাহের উদ্দিন ঠাকুর। পিতা যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু পাশের কক্ষে গেলেন। বঙ্গবন্ধু উঠে যাওয়ার পরপরই আমার বাবাকে মোশতাক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে বলে একটু নামাজ পড়ার অনুমতি নিয়ে দিতে। তখন আমার পিতা মোশতাককে বলেন, ‘নামাজ পড়ার জন্য অনুমতি নেওয়ার কী দরকার আছে। আপনারা যদি নামাজ পড়বেন তাহলে আপনারাই অনুমতি চান না কেন? পরে বঙ্গবন্ধু আসার পর মোশতাকদের নামাজ পড়ার জন্য যেতে বললেন।’

আনিসুল হক আরও বলেন, ‘তাঁরা দুজন নামাজ পড়তে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ও আমার পিতা কথা বলতে শুরু করলেন। বঙ্গবন্ধু আমার পিতাকে বললেন, তাঁর (বঙ্গবন্ধু) কাছে সুনির্দিষ্ট খবর আছে যে, খন্দকার মোশতাক আমার পিতাকে মেরে ফেলবে। আমার আব্বা হজম করে নিয়ে বললেন, যদি এ রকম খবর থাকে তাহলে আমাকে (আইনমন্ত্রীর বাবা) না, তোমাকে (বঙ্গবন্ধু) মারবে? তার কারণ হচ্ছে, আমাকে মারলে তাঁর একটা বুলেটেরও দাম উঠবে না। তোমাকে মারবে। উনি (বঙ্গবন্ধু) তখন বলেছিলেন যে, খন্দকার মোশতাকের পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত হারামিতে ভরা। ওকে বাংলাদেশের কেউ চেনে না আমি ছাড়া। তারপরে আমি দেখেছি, আগস্ট মাসের ১ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অন্তত পাঁচবার এসেছিলেন শুধু জানার জন্য, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার পিতার কী কথা হয়েছিল।’

বঙ্গবন্ধুর খুনের কারণ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আপনারা জানেন, খন্দকার মোশতাক সাহেব টুপি পরতেন। এই টুপির নাম মোশতাক টুপি। পাকিস্তান না রাখতে পারার কারণে সাংঘাতিক মনঃকষ্টে ছিল টুপি পরা মোশতাক সাহেব। তাই তিনি ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারকে সপরিবারে হত্যা করেন।’

একই অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে কোনো প্রকার সম্পর্ক ছিল না। তিনি মানুষ হয়েছেন করাচিতে। তাঁর চাকরি জীবন সেখানে। তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। পাকিস্তানি গোয়েন্দা বাহিনীর কাজই ছিল, ভারত বিদ্বেষী মনোভাব ছড়ানো। বাঙালিকে বাপের নাম ভুলিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা করা। তারপর আসলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এরশাদকে ওভাবে বাঙালি বলা যাবে না। তিনি কোচবিহারের লোক। তিনি আবার রাষ্ট্রধর্ম জুড়ে দিয়েছেন সংবিধানে। যা হোক পঁচাত্তর সালে এই ধরনের নামে বাঙালি ধরনের লোকেরা দেশ শাসন করেছেন। ৯৬-এর পরে আবার আমাদের বাঙালির পুনর্জাগরণ হয়েছে।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: