Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284 Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284 Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284 Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284

মনো-সমাজবিজ্ঞানীদের মত: কেন ফেসবুকে আসক্তি?

কখনও খেয়াল করে দেখেছেন দিনের কতটা সময় আপনি ফেসবুকে কাটান? ফেসবুক কি আপনার মধ্যে এক ধরনের আসক্তি তৈরি করেছে? মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্যান্য আসক্তির মতো ফেসবুকে আসক্তিও ভালো নয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আসক্তি শব্দটাই তো খারাপ। শুধু লেখাপড়া ছাড়া আর কোনো আসক্তিই ভালো না। পৃথিবীতে সব ভালো জিনিসকে চাইলেই খারাপভাবে ব্যবহার করা যায়। আমরা জানি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উৎপত্তি কীভাবে আর কেন হয়েছে। বিশেষ করে হারানো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়া কিংবা চারপাশের বন্ধুদের সঙ্গে সংযোগে থাকা যায় সে জন্য। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে পরিবার কিংবা কাছের মানুষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এর থেকে খারাপ দিক আর কী হতে পারে। ফেসবুকে আসক্তির কারণে দেখা যায় চাকরিতে গেলে সময় দিতে চায় না, আচার-আচরণের পরিবর্তন আসে, ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন হয়। এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে পরিবারকে কার্যকর সময় দিতে পারে না। কামাল উদ্দীন বলেন, বর্তমানে ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে যেটা হয়, ফেসবুকের মাধ্যমে বিপরীত লিঙ্গের অপরিচিত কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। যে কারণে ছেলেমেয়েরা সবসময় ওই ঘোরের মধ্যে থাকে। আর এটা এমন একটা মাধ্যম যেখানে বোঝার উপায় থাকে না যে আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন। যদিও অন্যান্য মাধ্যম আছে যেমন ভিডিওয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় তবুও ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড যেহেতু ঝুঁকি তো থেকেই যায়। এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তির কিছু কারণও আছে। আপনি সারা দিন খাওয়া-দাওয়া করার পর সেই এনার্জিটা ব্যয় করতে হবে তো। কিন্তু ছেলেমেয়েরা সেটা ব্যয় করতে পারছে না। হাটেমাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরের খোলা পরিবেশে আড্ডায় মেতে উঠতে পারছে না। বন্ধু, আড্ডা, খেলাধুলা এমনকি পড়ালেখা থেকে শুরু করে সবকিছুই ঘরোয়াভাবে করতে হচ্ছে।  অনেকাংশে রাষ্ট্র তাদের সেই পরিবেশ দিতে পারছে না। সেই সঙ্গে পরিবার এবং সমাজ থেকে যতটুকু পাওয়ার কথা সেটা পাচ্ছে না। আবার অনেকের ক্ষেত্রে যেটা হয় ছেলেমেয়েরাও নিতে পারে না। এটা একটা দ্বিপক্ষীয় বিষয়। তবে এক্ষেত্রে বৃহত্তর অর্থে সমাজ এবং পরিবারের সমস্যা এবং ব্যক্তিগত সমস্যাও আছে। আসক্তির আর একটা পারিবারিক কারণ যেটা বর্তমান সময়ে খুবই লক্ষণীয় সেটা হলো, পরিবারের সদস্যদের সময় না দেয়া। স্বামী অথবা স্ত্রী একে অপরকে সঠিকভাবে সময় না দিলে তখন তারা অন্য দিকে ঝুঁকে পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যেটা দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা পরিচিত-অপরিচিত অনেক নতুন বন্ধু খুঁজে নেয়। তখন তারা স্বাভাবিক বিচার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে যে কারণে নেগেটিভ জিনিসিটা বেশি হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেইসবুক ব্যবহারের সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে এটা সময়ের অপচয়। আমার মতে, এটা রিটায়ার্ড যারা তাদের জন্য ঠিক আছে। যদিও প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ অভিরুচি কে কোন দিকে যাবে, কোন কাজটা করবে। তবুও আমার মনে হচ্ছে ছেলেমেয়েদের ফেসবুকে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। আসক্তি কোনো কিছুতেই ভালো না এটা সবসময়ই খারাপ। বর্তমান সময়ে ফেসবুকে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে সংসার ভাঙছে, দাম্পত্য জীবনে কলহ বাড়ছে। অপরিচিত মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে পরিবারের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলার পর ভালো লাগা কাজ করে। যে কারণে পরিবারে ভাঙনের শুরু হয়। এছাড়া ফেইক আইডির মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ছেলেমেয়েদের জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। প্রচুর ছেলেমেয়ে আছে যারা রাতে, দিনে এমনকি ক্লাসে বসেও ফেইসবুক ব্যবহার করে। আর ভালো দিক যেটা সেটা হচ্ছে, হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। আর সবচেয়ে বড় যে দিকটা সেটা হলো, বিশ্বের সব খবর জানতে পারে, জ্ঞানের পরিধি বাড়ে এবং যোগাযোগ বাড়ছে। নেহাল করিম বলেন, এসব আসক্তির একটা বড় কারণ হচ্ছে বর্তমানে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার সুযোগ পায় না। স্কুল-কলেজগুলোতে খেলার মাঠ নেই, এমনকি শহরের মধ্যেও খেলার জায়গা নেই। সব দখলে নিয়ে ছেলেমেয়েদের ঘরোয়া হতে বাধ্য করছে। জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় মা-বাবাও চায় তার সন্তানরা যেন ঘরের মধ্যেই থাকেন। আর লেখাপড়া, কোচিং এসবের মধ্যে খেলার জন্য সুযোগ পায় না তারা। তিনি বলেন, আমাদের সময় যেটা ছিল ভাই-বোন বেশি হওয়ায় আলাদা রুমের ব্যবস্থা ছিল না। অন্য ভাইবোনরা কী করছে সব টের পেতাম। এখন রুম পদ্ধতি হওয়ার কারণে ছেলেমেয়েরা দরজা বন্ধ রেখে কী করে সেটা কেউ টের পায় না। টেলিভিশন, ইন্টারনেট, ইউটিউভ এ সবের চাহিদা তাই প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চাহিদাগুলো পূরণ করার কারণেই আসক্তি বাড়ছে। নেহাল করিম বলেন, প্রতিটি উদ্ভাবনই মানুষের কল্যাণের জন্য। তাই শিক্ষার্থী, তরুণ-তরণীদের বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। প্রত্যেকটা বয়সেরই একটা ধর্ম আছে। তাই তাদেরকে ভালো মন্দ বুঝিয়ে দিতে হবে। মোবাইলে সন্তানরা কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে এটা সব বাবা-মায়ের জানার কথা না। তবুও যেন মা-বাবা সচেতন থাকেন সন্তানরা যেন কোনোভাবে প্রতারিত না হয়। যদি ছেলেমেয়েদের জীবনের লক্ষ্য, আদর্শ এবং উদ্দেশ্য ঠিক করে দেয়া যায় তখন ঝুঁকিটা একটু কম থাকে। এটা তাদের বুঝাতে হবে জীবনের লক্ষ্যটাকে ঠিক রেখে সবকিছু করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, ড. আফরোজা হোসেন বলেন, কোনো কিছুর প্রতি মানুষের আসক্তিটা কখন হয় সেটা আগে বুঝতে হবে। যখন আমাদের কাছে কোনো কিছু করার থাকে না কিংবা উপায় খুঁজে পায় না তখন আমরা আশপাশের অন্য বিষয়ের দিকে নির্ভরশীল হই। আর এই নির্ভরতা বেড়ে গিয়েই আসক্তি হয়। বর্তমানে ফেসবুকে যে নেটওয়ার্কিং হচ্ছে সেটা তো অলস সময় পার করা। সব মায়েরা চায় তাদের সন্তানরা সবসময় পড়ালেখা করুক। কিন্তু তারা নিজেও জানে না কখন সন্তানরা অন্যদিকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আর এটাতো এমন নয় যে, সময় বেঁধে দিলে বাচ্চারা শুনবে। তরুণ-তরুণীদের কতক্ষণ চোখের সামনে রাখা যায় কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়ে নজর রাখা যায়। তবে যেটা করতে পারে সেটা হচ্ছে পরিবার থেকে নীতি-নৈতিকতার বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিতে হবে। আফরোজা হোসেন বলেন, আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে অবসর সময়ে  ছেলেমেয়েরা কী করবে। তাদের তো আমরা কোনো অপশন দিতে পারছি না। বাইরে কোথায় পাঠাবো নিজের সন্তানদের মানসিক বিকাশ এবং খেলাধুলার জন্য। সেই জায়গাটা থাকতে হবে। বর্তমানে আমরা এমন একটা সিস্টেমের মধ্যে বাস করছি, যেটা স্বাভাবিক নয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমরা বাধ্য হচ্ছি নিজেদের সন্তানদের তালাবদ্ধ করে বড় করতে। ফেসবুক কিংবা অন্য মাধ্যমগুলোতে আসক্তি বাড়ার আরেকটা কারণ এটাই। সমাজে কিংবা রাষ্ট্রে যদি পরিবর্তন আনতে হয় তাহলে এমনভাবে আনতে হবে যেন আমাদের নিজেদের কাজে লাগে সেই সঙ্গে অন্য দশজনের ও উপকারে আসে। শুধু ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা কিছু মানুষের কথা চিন্তা করে পরিবর্তন আনলে সেটা অবশ্যই ফলপ্রসূ হবে না।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: