মাহমুদুর রহমানের জামিন চেম্বারে স্থগিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণের চেষ্টা ও হত্যার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে করা মামলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার বিচারপতি। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আজ রোববার এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয় ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। মাহমুদুর রহমানের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ওই মামলায় মাহমুদুর রহমানকে নিয়মিত জামিন দিয়েছিলেন। মাহমুদুর রহমানের নামে এই মামলাসহ অন্তত ৭০টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যসব মামলায় এর আগেই জামিন নিয়েছেন তিনি। জানা যায়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে যেকোনো সময় বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংগঠন জাসাসের সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় একত্রিত হয়ে যোগসাজসে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান বাদি হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন। এই মামলায় চলতি বছর ১৮ এপ্রিল ঢাকার সিএমএম আদালতে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো এবং ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত ২৫ এপ্রিল এ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেন। পরে ২৫ এপ্রিল পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে মাহমুদুর রহমানের আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করেন। তবে সেই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ। পরে নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন মাহমুদুর রহমান। হাইকোর্ট তার জামিন প্রশ্নে এর আগে রুল জারি করেছিলেন। সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ৭ সেপ্টেম্বর জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে মাহমুদুর রহমান কারাগারেই আছেন।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: