দেশের স্বার্থে ভারতকে ভুটানের “না” : শেখার কাছে শেখ হাসিনার

ভুটান-বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) মটরযান চলাচল চুক্তি কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছিলো ভারত। তবে ভুটান (২৫ এপ্রিল) কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুষ্ঠানিভাবে ভারতকে জানিয়ে দিয়েছে তারা এই চুক্তি এখন কার্যকর করতে পারবেনা। ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “অন্য তিন দেশ (বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল) চুক্তিতে অনুসমর্থন দিলেও ভুটানের রাজকীয় সরকার দেশের ভেতরের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের তোলা উদ্বেগগুলোকে আমলে নিয়ে এই চুক্তি কার্যকর করা থেকে সরে এসেছে। ভুটানের বিরোধী দলের সাংসদদের শঙ্কা, বিবিআইএন চুক্তি তাদের পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। তা ছাড়া অন্য তিন দেশের যানবাহনকে ভুটানের ওপর দিয়ে অবাধ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলে দেশে কর্মসংস্থানে সংকট তৈরি হবে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে পার্লামেন্টে জানান, ভুটান বিবিআইএন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। কারণ জনগণের মধ্যে সংহতি নষ্ট হয় এমন কিছু গ্রহণ না করাই ভালো হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানের পরিবেশ চুক্তিটি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার উপযোগী নয়।

তবে এর আগে, ভুটান-বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল এই চার দেশের পরিবহণ মন্ত্রীরা ২০১৫ সালের ১৫ জুন থিম্ফুতে বিবিআইএন মটরযান চলাচল চুক্তি সই করেছিল। গত বছর (২০১৬) জুলাইতে ভুটানের সংসদের নিম্নকক্ষ এই চুক্তিতে অনুমোদন দেয়। কিন্তু ওই বছরের নভেম্বরে উচ্চকক্ষে চুক্তিটি তোলা হলে তা প্রত্যাখ্যান করেন আইনপ্রণেতারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভূটান লিখিতভাবে ভারতকে জানিয়েছে যে পার্লামেন্টে বিরোধিতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেরিং টবগে সরকার চুক্তিটি অনুমোদন করাতে পারেনি। তবে চুক্তি অনুমোদনের সংসদের দুই কক্ষের যৌথ বৈঠক ডাকার সুযোগ ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকলেও আগামী বছর নির্বাচনের আগে চুক্তিটি পাস করাতে গিয়ে তিনি কোনো রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে চাইছেন না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এদিকে (বিবিআইএন) মটরযান চলাচল চুক্তি’ কার্যকরে ভুটানের বিরোধিতা ভারতের সামনে আরেকটি বাধার প্রাচীর তৈরি করেছে। ফলে, চুক্তিটি এগিয়ে নিতে বিকল্প চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ভারত। এখন ভুটানকে বাদ দিয়ে শুধু বাংলাদেশ ও নেপালকে নিয়ে একটি ‘উপ-আঞ্চলিক’ কানেকটিভিটি তৈরির কথা ভাবছে ভারত।

এই চুক্তি কার্যকরে নেপাল রাজি। আর বাংলাদেশ রাজি না হয়ে উপায় নেই। কারণ ভারত চাইলে শেখ হাসিনা এই চুক্তি করতে বাধ্য। ভারতকে না বলার মতো সাহস নেই শেখ হাসিনার। ভুটানের মতো দেশও তার দেশের পার্লামেন্টের দোহাই দিয়ে কিংবা জনমতের দোহাই দিয়ে চুক্তি কার্যকর থেকে সরে এসেছে। আর বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অধিকাংশ এমপিরা এ ব্যাপারে কিছু জানেন বলেও মনে হয়না। কারণ ভারতের সঙ্গে করা কোনো ইস্যুই শেখ হাসিনা পার্লামেন্টে কিংবা জনগণের সামনে তুলে ধরেননা, এমনকি তুলে ধরারও প্রয়োজন মনে করেননা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশের পার্লামেন্টের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা প্রণব মুখার্জির রান্নাঘর। তাই ভারতকে কিভাবে “না” বলতে হয় এটি ভুটানের কাছ থেকে শেখ হাসিনার শেখার আছে বলে অনেকেই মনে করেন।ভুটানের মতো দেশ যেখানে নিজ দেশের জনগণ ও পার্লামেন্টের দোহাই দিয়ে ভারতের স্বার্থে করা একটি চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে সেখানে কোনো ইস্যুতেই শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াতে না পারা দেশের জনগণের জন্য লজ্জার।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: