Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284

কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা : জাল জালিয়াতির কয়েকটি নমুনা

বিশেষ রিপোর্ট : : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা। মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। এ মামলার কোনো ভিত্তি নেই। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দেয়া হলেও এর আসল উদ্দেশ্য খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে বিতর্কিত করা। দেশে আইনের শাসন থাকলে শুরুতেই এ মামলা বাতিল হয়ে যেত। এমনকি অদক্ষতা এবং অসততার কারণে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার চাকুরীচ্যুতি এমনকি জেল জরিমানা হওয়ার কথা ছিল। কারণ এ মামলাটি করা হয়, ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে । অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে করা ব্যাংক একাউন্টে কথিত আত্মসাতের ওই দুই কোটি টাকা বেড়ে এখন ছয় কোটি টাকার বেশি হয়েছে। টাকা আত্মসাৎ হলে ব্যাংকে টাকা বাড়লো কিসের ভিত্তিতে? এ মামলায় রাস্ট্রপক্ষের ৩২ জন সাক্ষীর কোনো সাক্ষীই বলেননি যে, টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। একজন সাক্ষীর জবানবন্দি দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি দুদক।

শেখ হাসিনার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে অস্রের মুখে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন। তারা ক্ষমতা দখল করে বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে রাজনীতি ও দেশছাড়া করার অসৎ পরিকল্পনা থেকেই এই মামলার জন্ম। ২০০৮ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথমে নূর আহম্মেদ নামে দুদকের এক কর্মকর্তাকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট সংক্রান্ত ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়। নূর আহম্মেদ মামলা তদন্ত করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৮ সালের ১১ জুন একটি রিপোর্ট দেয়। (তারেক রহমানের নাম না জড়ালে মঈন-ফখরুদ্দিন-মাসহুদের রোষানলে পড়ে চাকুরী হারানোর ভয় ছিল) । তবে দুদক কর্মকর্তা নূর আহম্মেদ কোনোভাবেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করতে পারেননি। কারণ কোনো পর্যায়ে কোনোভাবেই খালেদা জিয়া এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেননা। তবে এই রিপোর্ট পছন্দ হয়নি দুদকের। তারা দুই দিনের মাথায় হারুনুর রশিদ নামে দুদকে আরেক কর্মকর্তাকে এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেয়। হারুনকে তদন্ত করতে দেয়ার উদ্দেশ্যই ছিল যেকোনো উপায়ে খালেদা জিয়ার নাম জড়ানো। আর এই কাজটি হারুনকে দিয়েই সম্ভব কারণ বিএনপি সরকারের আমলে অযোগ্যতা এবং দায়িত্বহীনতার কারণে দুদক থেকে হারুনের চাকরি চলে গিয়েছিলো।

কে এই দুদক হারুন ?

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট কথিত দুর্নীতি মামলার বাদী, তদন্তকরি কর্মকর্তা এবং সাক্ষী একই ব্যক্তি – হারুন অর রশিদ। তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো’তে (পরবর্তীতে দুদক) যোগদানের কয়েক বছর পর ১৯৯২ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান হারুন অর রশিদ। তৃতীয় দফায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৫ সালে বিভিন্ন অভিযোগে দুদক থেকে হারুন চাকুরিচ্যুত হয়। হারুন তার চাকুরীচ্যুতির বিরুদ্ধে আদালতে গেলে সেখানেও হেরে যায়। পুনরায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে হারুন। আপীলে থাকা অবস্থায় মঈন-ফখরুদ্দীনের আমলে দুদক চেয়ারম্যান হাসান মসহুদ পুনরায় হারুনকে চাকুরীতে উপসহকারী পরিচালক পদে পুনর্বহাল করেন। দুদকে নিয়োগ পাওয়ার দিনকয়েকের মধ্যেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় হারুনকে। প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসা পূরণের সুযোগ পেয়ে যায় হারুন। তার পূর্ববর্তী কর্মকর্তা নূর আহম্মেদের রিপোর্টের সূত্র ধরে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ২০০৮ সালের ৩ রা জুলাই হারুন থানায় কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করে। খালেদা জিয়ার প্রতি হারুনের ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকার কারণে ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন চক্র এই হারুনকে দুদকে চাকুরীতে পুনর্বহাল করে অপরদিকে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে হারুনকে দু’টি প্রমোশন দিয়ে প্রথমে দুদকের সহকারী পরিচালক ও পরে উপপরিচালক বানায়।

নূর আহম্মেদ এবং হারুনুর রশিদ দুদকের এই দুই কর্মকর্তা বিদেশ থেকে আসা টাকা আত্মসাতের কথিত অভিযোগের অনুসন্ধান করে রিপোর্ট দিলেও তারা কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টের জন্য টাকাটা কোন দেশ থেকে এসেছে। যারা অভিযোগের মূল পয়েন্ট সম্পর্কেই অজ্ঞ, এমন ব্যক্তির তদন্ত রিপোর্ট ও মামলা আমলে নিয়ে মামলার কার্যক্রম চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় প্রমাণিত, শেখ হাসিনা কিংবা দুদকের উদ্দেশ্য বিচার নয় বরং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা।

জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সাজানো মামলাটির কয়েকটি মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য তুলে ধরা হলো : –

.সরকার পক্ষ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি, টাকা কোথা থেকে এসেছে। আদালতে তারা বলছেন,টাকা এসেছে কুয়েত অথবা সৌদি আরব থেকে। (টাকাটা কোন দেশ থেকে এসেছে যারা এই তথ্য সম্পর্কেই নিশ্চিত হতে পারেনি কিংবা নিশ্চিত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেনি এমন লোকদের দিয়ে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা দায়ের হাস্যকর এবং প্রতিহিংসামূলক)। বলা হয়েছে, টাকা এসেছে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ডিডি’র মাধ্যমে। (উল্লেখ্য, এখানেও আসল ডিডি (ডিমান্ড ড্রাফটস) উপস্থাপন না করে আদালতে কেবলমাত্র ঘষামাজা ফটোকপি দেয়া হয়েছে)

.সরকার পক্ষের ১ নং এবং ৩১ নং সাক্ষীর বক্তব্য অনুসারে টাকা সরাসরি সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখায় জমা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, কোন ব্যাংক একাউন্টে একটি ডিডি কি সরাসরি জমা দেয়া যায়?

.ওই টাকা ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত অলস পড়ে ছিল। (যদি অভিযোগটি হয়, টাকা কেন অলস পড়ে ছিল? এর অর্থ টাকা অলস পড়ে ছিল ফলে আত্মসাতের অভিযোগ অবান্তর ) । সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, তাহলে কেন আত্মসাতের মামলা?

. বিদেশ থেকে প্রাপ্ত টাকার দুই কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩শ’ ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা দেয়া হয়েছে জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে এবং ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩শ’ ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা দেয়া হয়েছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে। এর মানে হলো এখানে টাকা আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যেই উদ্দেশ্যে টাকা দেয়া হয়েছে, সেই উদ্দেশেই দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য টাকা বন্টন করে দেয়া হয়েছে।

৫. তবে এবং ভাগ বন্টনে কোন চেক, ফরোয়ার্ডিং লেটার, রিকোয়েস্ট লেটার, ভাউচার, এপ্রুভাল কিংবা নোটশিটে বেগম খালেদা জিয়ার কোন স্বাক্ষর নেই কিংবা অনুমোদন নেই। খালেদা জিয়ার কোনো সাক্ষ্য বা অনুমোদন রয়েছে এমন কোন প্রমানও রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি। (এর দ্বারাও প্রমাণিত টাকা লেনদেনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই অতএব এই মামলা তার নামে চলতে পারেনা)।

. তবুও জোর করে খালেদা জিয়াকে জড়ানোর জন্য আলামত হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের যে ক্যাশবুক সরকার পক্ষ উপস্থাপন করেছে সেটি স্পষ্টতই জালিয়াতি করে তৈরী করা হয়েছে। কারণ এটি প্রধানমন্ত্রীর অফিসের ক্যাশবুক এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ক্যাশবুক হিসেবে যেটি দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে, যে কোনো মুদি দোকানেও এরচেয়ে উন্নতমানের ক্যাশবুক থাকে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একাউন্ট যেখানে প্রতি বছর সরকারিভাবেই অডিট করা হয়, সেখানে এ ধরণের ক্যাশবুক থাকা অসম্ভব। সরকার পক্ষ নিজেদের তৈরী করা ক্যাশবুকে একই চেক নম্বর দিয়ে একই পরিমান টাকার কথা একবার লেখা হয়েছে ১৯৯৩ সালের জানুয়ারী মাসে আবার লেখা হয়েছে নভেম্বর মাসে । আর্শ্চযের বিষয় হলো, এমনকি তথাকথিত ক্যাশবুকে যেই চেক নম্বরটি বসানো হয়েছে আলামত হিসেবে সেই চেকটিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি।

. অভিযোগে বলা হচ্ছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এতিমখানা স্থাপনের জন্য এক খণ্ড জমি কেনার মূল্য বাবদ ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬ শ ৪৩ টাকা ৮০ পয়সা ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে শরফুদ্দিন আহমেদকে প্রদান করা হয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হলো, দুর্নীতি কবে ঘটেছিল? ১৯৯৩ সালে? নাকি ২০০৬ সালে?

. দুর্নীতির ঘটনা যদি ১৯৯৩ সালে ঘটে থাকে, তাহলে কেন দুর্নীতির অভিযোগ পুরো টাকার উপর উঠলো না?

(উল্লেখ্য, দু্ইটি ট্রাস্টে সমানভাবে বণ্টন করা বরাদ্দের (২,৩৩,৩৩,৩৩৩.৪০ + ২,৩৩,৩৩,৩৩৩.৪০) মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে কেবলমাত্র ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ এর বিরুদ্ধে। জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত আরেকটি এতিমখানা ‘জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা হয়নি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ এর জন্য বরাদ্দ করা মোট ২,৩৩,৩৩,৩৩৩.৪০ টাকার মধ্যে ২,১০,৭১,৬৪৩.৮০ টাকার উপর দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রাস্টের জন্য বরাদ্দ বাকী ২২,৬১,৮৫৬.২০ টাকার উপর কোন দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়নি।)

আর দুর্নীতি যদি ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে ঘটে থাকে, তাহলে তখন তো বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না।

. আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের মাধ্যমে দুর্নীতির ঘটনা যদি ১৯৯৩ সালে না ঘটে ২০০৬ সালে ঘটে থাকে, তাহলে সেটি ট্রাস্ট আইন কিংবা দণ্ডবিধির সংশ্লিস্ট ধারায় মামলা হবার কথা; দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাদের এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে এই মামলা হবার কথা নয়।

১০. জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এফডিআর খোলা এবং এতিমখানা স্থাপনের জন্য এক খণ্ড জমি কেনার অগ্রীম মূল্য বাবদ শরফুদ্দিন আহমেদকে ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে ৫টি চেকের মাধ্যমে আড়াই কোটি টাকা প্রদান করা হয়। প্রকৃতপক্ষে শরফুদ্দিন আহমেদকে ২ কোটি টাকার ফেসভ্যালুর ২টি এফডিআর প্রদান করা হয়, যা মেয়াদান্তে আড়াই কোটি টাকা হবার কথা ছিল। তবে শরফুদ্দিন আহমেদ নির্দিষ্ট মেয়াদ পুর্তির আগেই সেই এফডিআর ভাঙিয়ে ফেলার কারণে ক্ষতিপূরণ, আয়কর এবং মূল্য সংযোজন কর দেবার পর আড়াই কোটি টাকার পরিবর্তে তিনি হাতে পান ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬ শ ৪৩ টাকা ৮০ পয়সা। কিন্তু জমি না কেনার কারণে তিনি পুরো আড়াই কোটি টাকাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে ফেরত দেন। যে কারণে এই লেন-দেন এর ফলে ট্রাস্ট আর্থিকভাবে কোন ক্ষতির সম্মুখিন হয়নি।

১১. সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট। নতুন সরকার ব্যবস্থা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
তখন থেকে তিনি রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হন। মামলায় ‘প্রধানমন্ত্রীর অরফানেজ ট্রাস্ট’ খোলার তারিখ দেখানো হয়েছে ১৯৯১ সালের ৯ জুন। এ ধরণের একাউন্ট খোলার নির্বাহী আদেশ দেবেন সরকার প্রধান। খালেদা জিয়া তো এই সময়টিতে সরকার প্রধান ছিলেন না। বাস্তবতা হলো, খালেদা জিয়াকে ফাঁসাতে গিয়ে যারা নথি জালিয়াতি করেছেন, তারা তখনকার সরকার ব্যবস্থার কথা মাথায় রাখেননি।

১২. জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষী দিতে এসে সরকার পক্ষের ১৯ নং সাক্ষী আদালতে বলেছেন, ১৯৯৩ সালের জানুয়ারী মাসের ৩১ তারিখে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের হিসাব রক্ষক পদ থেকে ইস্তফা প্রদান করেন। তাহলে কথিত ক্যাশবুকে ১৯৯৩ সালের এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবর মাসে তার লেখা এন্ট্রি পাওয়ার ঘটনা কিভাবে সম্ভব? এটি নিঃসন্দেহে ব্যাখ্যার দাবি রাখে। জেরার মুখে যদিও আদালতে এই সাক্ষী বলেছেন, তিনি চাকুরী থেকে ইস্তফা প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ডেকে এনে এই এন্ট্রি দেয়ানো হয়েছে। চাকুরিতে ইস্তফা প্রদানের পর পরবর্তী মাসগুলোতে তো তার চাকরিই নেই তাহলে কিভাবে লেজার এন্ট্রি দেয়া সম্ভব? কিংবা এটা কি গ্রহণযোগ্য কিংবা আইনসম্মত? প্রশ্ন উঠেছে, আসলে এই এন্ট্রিগুলো কবে দেয়া হয়েছে? ১৯৯৩ সালে? নাকি ২০০৮ সালে যখন ওই সাক্ষীকে ডাকা হয়েছিল তখন? কারণ ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে কর্মরত হিসাব রক্ষক ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’ সংক্রান্ত কোন হিসাব দেখেন নাই বলে আদলতে জানিয়েছেন। ১৯৯৩ সালের এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবরে যদি এন্ট্রি দেবার প্রয়োজনই হতো, তাহলে তো সেটি তখনকার কর্মরত হিসাব রক্ষক ২১ নং সাক্ষীকে দিয়েই করানোর কথা ছিল।
১৩. একমাত্র একজন সাক্ষী (সৈয়দ জগলুল পাশা) একটি স্বাক্ষর দেখার দাবী করেছেন তবে তিনি এর কোনো প্রমানই উপস্থাপন করতে পারেনি। আসলে এই ব্যক্তিটি-ই তিনি যিনি ইস্তফা দানকারী ১৯ নং সাক্ষীকে ইস্তফা প্রদানের পর ডেকে এনে আইন বহির্ভূতভাবে অগ্রীম তারিখে ক্যাশবুকে বিভিন্ন এন্ট্রি দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলো.

এভাবে কয়েক ডজন অসঙ্গতি রয়েছে কথিত এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা ভুয়া মামলায়। মুলত: একটি মিথ্যা মামলা সাজাতে গিয়ে পদে পদে রাষ্ট্রপক্ষকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা কিংবা তার কাজল যত কথাই বলুক জনগণের কাছে এখন এটি স্পষ্ট, কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং জাল জালিয়াতি নির্ভর। এই জাল জালিয়াতির সঙ্গে যারা জড়িত একদিন তাদেরকে এই মিথ্যাচারের অভিযোগে আদালতের সাঁমনে দাঁড়াতে হবে।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: