Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। প্রিয় নেতৃবৃন্দ, আস্সালামুআলাইকুম।
দেশ এখন এক সংকট কাল অতিক্রম করছে। শুধু রাজনৈতিক সংকটই নয় দেশে এখন মানবতা বিপন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় সর্বত্র সমাজের গুণীজনদের সচেতনভাবে অপমান করা হচ্ছে দেশে চালু হয়েছে ভয়ের সংস্কৃতি এমন এক ভয়াবহ সংকটকালীন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা।
সভায় উপস্থিত সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। অশেষ কৃতজ্ঞতা এবং আনুগত্য দেশনেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাহসী নেতৃত্বের প্রতি প্রতি যিনি সকল নির্যাতন নিপীড়ন হুমকি ধামকি উপেক্ষা করেও দেশ এবং জনগণের স্বার্থে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
আমি আপনাদের সকলের মাধ্যমে ধন্যবাদ জানাতে চাই,সারাদেশে আমার দলের নেতাকর্মী সমর্থক শুভাকাঙ্খীদের প্রতি যারা জেল জুলুম এমনকি জীবনের ভয় উপেক্ষা করে সাহসের সঙ্গে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগের প্রতি। তাদের শোকাহত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি শোক ও সমবেদনা।
আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মীকে আমরা হারিয়েছি তাদের স্মরণ করে দলীয়ভাবে গৃহীত শোক প্রস্তাবের প্রতিও আমার গভীর শ্রদ্ধা। আমি আল্লাহর কাছে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।
প্রিয় নেতৃবৃন্দ
আমি জানি, আপনারা এখন যেই ভেন্যুতে বসে দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক করছেন এটি পেতে আমাদের অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে। এর কারণ এখন যারা অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছেন বিএনপিকে তাদের ভয়। কারণ তারা জানে জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। জনগণ বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্রকামী জনগণ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত দেশ, দেশের জনগণ গণতন্ত্র যতবার সংকটে পড়েছে, বিপন্ন হয়েছে প্রতিটি সংকট উত্তরণে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি কিংবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালে কিংবা ৭৫ সালে ..আমরা যেমন জিয়াউর রহমানের বলিষ্ঠ-সাহসী ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব দেখেছি একইভাবে ৯০ এর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সফল আন্দোলনে আমরা দেখেছি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনেও বিএনপি এবং দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অবিচল।
তাই খালেদা জিয়া আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক। দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের প্রতীক। আধিপত্যবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য লড়াই সংগ্রামে খালেদা জিয়া আমাদের প্রেরণা। তিনি মাদার অফ ডেমোক্রেসি।
এ কারণেই খালেদা জিয়া অপশক্তির টার্গেট । এ কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা এ কারণেই বিচারের নামে অবিচার। বিনাভোটের অবৈধ সরকার বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক ইমেজ কালিমালিপ্ত করতে চায়।
বর্তমান সরকারের একটি পরিসংখ্যানেই রয়েছে, দেশে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৩ লাখের বেশি। এতো লাখ লাখ মামলা রেখে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায় দেয়ার জন্য যেভাবে তড়িঘড়ি করা হচ্ছে. এটা রীতিমতো উদ্বেগজনক।
তারপরও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রতি সপ্তাহে দু’তিনদিন করে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন এবং হাজিরা দিচ্ছেন। এর কারণ, মানুষের ভরসার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল আদালতের উপর মানুষের আস্থা যেন না হারায়। তবে আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরী করার দায়িত্ব বিএনপির একার নয়বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় সরকারকে যেমন সৎ হতে হয়,আদালতেরও দায়িত্ব, বাদী-বিবাদী উভয়ের জন্য আদালতকে মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার জায়গা হিসেবে পরিগণিত করা। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে আদালতের আচরণ আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াচ্ছে কিনা এ প্রশ্নটি এখন বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে আমি এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, বিএনপি বিভিন্ন সময়ে জনগণের সমর্থন নিয়ে কমপক্ষে পাঁচ বার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। এখানে আপনাদের অনেকেরই বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিচালনারও অভিজ্ঞতা রয়েছে অনেকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সুতরাং আপনাদের অনেকেরই জানা আছে , সরকারের কিছু অগ্রাধিকার প্রকল্প থাকে। রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্প থাকে । সরকারের ওই সব অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করে দেয়ার জন্য ঠিকাদারদেরকে তড়িঘড়ি করতে হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো মূল্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণার জন্য আদালতের দৃশ্যমান তাড়াহুড়ায় অনেকের কাছেই প্রতীয়মান হচ্ছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিচার কার্যটিও যেন সরকারের কোনো অগ্রাধিকার প্রকল্পেরই একটি অংশ।
জনমনে এই ধারণার সৃষ্টির একটি যৌক্তিক কারণ হলো, আদালত একটি মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে আগামী আটই ফেব্রুয়ারী। একইসঙ্গে তার আগেই আরেকটি মামলার বিচারের শুনানি শুরু করে দিয়েছে। কেন এতো তাড়াহুড়ো? বিচারালয় তো কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নয়।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং সারেদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকার নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে যেভাবে আইন আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে এটি আর চলতে দেয়া যায়না, এটি আর মেনে নেয়া যায়না।

তাই বিচারক ও বিচার বিভাগের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় বিচারককে ‘ঠিকাদার’ এবং বিচারালয়েকে ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে’ পরিণত করার আওয়ামী চক্রান্তের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি রুখে দাঁড়াবে ইনশা আল্লাহ । শুধু আইন আদালতই নয় রাষ্ট্রের সবকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের নামে তামাশার কারণে জনগণের কাছে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন শূন্যের কোটায়। শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছে স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে সকল স্তরের পরীক্ষা মানেই এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস আর নকলের ছড়াছড়ি।
ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের দ্বারা নারীদের অবমাননা আর সময়ে সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন দেশে ক্রমেই যেন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্র বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীনদের মুখে কথিত উন্নয়নের গল্প পাকিস্তানের আয়ুব খানের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাদের উন্নয়ন যে ফাঁকা বুলি সাম্প্রতিক সময়ে এই সরকারের এক মন্ত্রীর কথায় ও সেটি স্পষ্ট। অবৈধ মন্ত্রী বলছেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত আর আইসিটি মন্ত্রণালয় অন্ধগলিতে।
প্রশাসনকে চূড়ান্ত রকমের দলীয় করণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে জন প্রশাসনের শত শত কর্মকর্তা কর্মচারীকে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। গুম খুন অপহরণকে এই সরকার রুটিন ওয়ার্কে পরিণত করেছে। মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নেই।
এমনকি জনগণ ব্যাংকে টাকা রেখেও আর্থিক নিরাপত্তা পাচ্ছেনা। দেশের সরকারি বেসরকারি ব্যাংকগুলো আওয়ামী লীগের নেতামন্ত্রীদের মানিব্যাগের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতি বছর দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা। সুইস ব্যাংকে প্রতি বছরই বাড়ছে কিছু নির্দিষ্ট বাংলাদেশিদের টাকার পরিমান। ২০১৭ সালকে চিহ্নিত করা হয়েছে ব্যাংক ডাকাতির বছর হিসেবে। এই হলো দেশের বর্তমান অবস্থা ।
গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে সরকারের অনাচারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমই বিকল্প সরকার। কিন্তু দেশে এখন অধিকাংশ গণমাধ্যমের অবস্থা আরো শোচনীয়। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে কোনো ঘটনা আড়াল করতে ব্যর্থ হলে ওইসব ঘটনাগুলো বাধ্য হয়েই হয়তো পত্র পত্রিকায় প্রকাশ পায় কিন্তু পরক্ষনেই নিজেদেরকে ‘সরকারবিরোধী নয়’ এটা প্রমান করতে বিএনপির বিরুদ্ধে আরো তিনটি মনগড়া রিপোর্ট প্রকাশ করে।
প্রিয় নেতৃবৃন্দ
বিনাভোটের এই সরকার নিজেদের অনিয়ম -অপকর্ম আড়াল করতে দেশে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে। বিরোধী দল ও ভিন্নমতের মানুষের উপর নির্যাতন নিপীড়নকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকার । গুণীজনদের তাচ্ছিল্য কিংবা অপমান করে সরকার তাদের মুখ বন্ধ রাখার কৌশল নিয়েছে। অবস্থা এখন এতটাই বিপর্যয়কর অবস্থায় পৌঁছেছে যে সমাজের সুবোধ বলে বিবেচিত মানুষগুলোকে ‘গাধা’ বলে গাল দিলেও কারো কোনো বিকার নেই। অধিকার হারাতে হারাতে মানুষ কি মানবিক মর্যাদাও হারিয়ে ফেলবে?
তাই একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্নজনের বিভিন্ন মোট থাকতে পারে। কিন্তু দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে কতগুলো মৌলিক ইস্যুতে আমাদের সবাইকে এক কাতারে জগে দাঁড়াতে হবে। সাম্য মানবিক মর্যাদা আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেতনা নিয়ে আমরা ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। আসুন আবারো সাম্য,মানবিক মর্যাদা আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা রাষ্ট্রের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা অপশক্তির কবল থেকে দেশকে মুক্ত করি.গণতন্ত্র রক্ষা করি।
প্রিয় নেতৃবৃন্দ
দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণে অতীতের মতোই জনগণের আস্থা বিএনপির উপর। জেল -জুলুম- হুলিয়া- নির্যাতন- নিপীড়ন মোকাবেলা করেই বারবার বিএনপির নেতৃত্বেই দেশ উন্নয়নের ধারায় ফিরে এসেছে,আলোর পথে ফিরে এসেছে। ৭৫ সালে সকল রাজনৈতিক দল সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হলে দেশে পুনরায় সকল রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমরা বিএনপির সকল স্তরের সকল নেতা সকল কর্মী শহীদ জিয়ার উত্তরসূরি।
শহীদ জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে জনগণকে সাথে নিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে সাথে নিয়ে আমাদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে, আমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
সাংবিধানিক নিয়মে এ বছরই সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য। একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতে চায়। কিন্তু নিরপেক্ষ নির্বাচনে এই সরকারের ভয়। আওয়ামী লীগের ভয়। কারণ স্পষ্টভাবে তারা জানে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে, জনগণ নির্ভয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে, আওয়ামী লীগ অবশ্যই জয়লাভ করতে পারবেনা। এ কারণে তারা বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আইনি অজুহাতে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। হামলা মামলা জেল জুলুম দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবিয়ে রাখতে চায়। তাই এই অবস্থায় আন্দোলনের বিকল্প নেই।
কিন্তু বিএনপির আন্দোলনে ভয় পেয়ে আওয়ামী লীজের অবৈধ সরকার এখন সারাদেশে বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার ও হয়রানি শুরু করেছে। নেতাদের বেপরোয়া গ্রেফতার তারা আন্দোলন দমিয়ে রাখতে চায় নেতৃত্বের সংকট সৃষ্টি করতে চায়। তাই ওদেরকে জানিয়ে দিতে হবে, ওদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে বিএনপির প্রতিটি নেতা কর্মীই দেশপ্রেমিক দায়িত্বশীল। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অতীতের মতো এখনো জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত। সারাদেশে -প্রবাসে বিএনপির লক্ষ কোটি নেতা কর্মী। কত লক্ষ নেতা কর্মীকে ওরা গ্রেফতার করবে।
প্রিয় নেতৃবৃন্দ
তাই সারাদেশের বিএনপির প্রতিটি নেতা- কর্মী -সমর্থক-শুভাকাঙ্খীর কাছে আমার আহবান, ক্ষমতাসীন চক্রের কেউ কেউ আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে যদিও কোনো লাভ হবেনা। গত একদশকের আন্দোলনে শত কষ্ট ও নির্যাতনের মুখেও জাতীয়তাবাদী শক্তির কোনো নেতা কর্মী আপোষ করেনি। কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়নি, হওয়ার দরকার আছে বলেও আমি মনে করিনা।

সুতরাং, কারো নির্দেশের অপেক্ষা নয়। আপনি নিজেই নেতৃত্ব গ্রহণ করুন। আপনার সামনের নেতাকে যদি গ্রেফতার করা হয়, আপনি – আপনারা আপনার এলাকায় বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলনকে গতি দেয়ার জন্য নিজেরা নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচন করে পরমুহূর্তে থেকে আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান।
শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসেবে পরিস্থিতি বুঝে নিজেই সিদ্ধান্ত নিন। দেশ ও মানুষের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ৭১ সালে কারো নির্দেশের অপেক্ষা না করেই যেভাবে জিয়াউর রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসেবে ..গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের লড়াইয়ে আপনিও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন। শুধু মনে রাখবেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে আমাদের সর্বাধিনায়ক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন সাহস ও সতৰ্কতার সঙ্গে প্রস্তুত থাকুন, গণতন্ত্রের বিজয় সন্নিকটে, এ বছরই গণতন্ত্রের বিজয় দেখবে বাংলাদেশ।
ইনশাল্লাহ। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ

[ভিডিওতে ধারণ করা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এ বক্তব্যটি ৩রা ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ঢাকায় লা মেরিডিয়ান হোটেলে আয়োজিত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে প্রচারিত হয়]

 

 

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: