এই হারুন দুর্নীতির দায়ে বিএনপি শাসনামলে দুদক থেকে চাকুরীচ্যুত সেই হারুন

বিশেষ রিপোর্ট : : মনগড়া অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বাদী হারুন দুর্নীতি অযোগ্যতা ও অসততার অভিযোগে বিএনপি সরকারের শাসনামলে দুদক থেকে চাকুরী হারিয়েছিলেন। সেই হারুনকে ডেকে এনে মঈন-ফখরুদ্দিনের শাসনামলে চাকুরীতে পুনর্বহাল করা হয়। এরপর মঈন-ফখরুদ্দিনের উত্তরসূরী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে হারুনকে দু দফা প্রমোশন দেয়। সেই হারুনকে দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার চার্জশীট দাখিল করান শেখ হাসিনা। হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সেই হারুন জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরী করা নথিপত্রের ভিত্তিতে তৈরী করা ভুয়া মামলার চার্জশিটে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। অথচ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার প্রথম তদন্তকারী দুদক কর্মকর্তা নূর আহমেদের তদন্ত রিপোর্টে খালেদা জিয়ার নামই ছিলোনা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট কথিত দুর্নীতি মামলার বাদী, তদন্তকরি কর্মকর্তা এবং সাক্ষী একই ব্যক্তি – হারুন অর রশিদ। তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো’তে (পরবর্তীতে দুদক) যোগদানের কয়েক বছর পর ১৯৯২ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান হারুন অর রশিদ। তৃতীয় দফায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৫ সালে বিভিন্ন অভিযোগে দুদক থেকে হারুন চাকুরিচ্যুত হয়।

হারুন তার চাকুরীচ্যুতির বিরুদ্ধে আদালতে গেলে সেখানেও হেরে যায়। পুনরায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে হারুন। আপীলে থাকা অবস্থায় মঈন-ফখরুদ্দীনের আমলে দুদক চেয়ারম্যান হাসান মসহুদ পুনরায় হারুনকে চাকুরীতে উপসহকারী পরিচালক পদে পুনর্বহাল করেন। দুদকে নিয়োগ পাওয়ার দিনকয়েকের মধ্যেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় হারুনকে। প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসা পূরণের সুযোগ পেয়ে যায় হারুন। তার পূর্ববর্তী কর্মকর্তা নূর আহম্মেদের রিপোর্টের সূত্র ধরে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ২০০৮ সালের ৩ রা জুলাই হারুন থানায় কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করে। খালেদা জিয়ার প্রতি হারুনের ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকার কারণে ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন চক্র এই হারুনকে দুদকে চাকুরীতে পুনর্বহাল করে অপরদিকে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে হারুনকে দু’টি প্রমোশন দিয়ে প্রথমে দুদকের সহকারী পরিচালক ও পরে উপপরিচালক বানায়। এই হারুনই এখন শেখ হাসিনার তুরুপের তাস।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: