‘মা’ কারারুদ্ধ

রানা আরিয়ান : শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার কোপানলে এক চরম নিষ্ঠুর অবিচারের শিকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।তার প্রতি চলছে ভয়াবহ এবং নজিরবিহীন অমানবিক আচরণ। দীর্ঘ তিনযুগ ধরে যিনি দেশে গণতন্ত্র আর সুশাসন কায়েম করার জন্য ভূমিকা রেখে আসছিলেন যিনি তার প্রতি বিরুদ্ধে কেন এ কোন ধরণের বিচার ? একটিবারের জন্যও ভাবা হয়নি খালেদা জিয়া তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন। একটিবারের জন্যও ভাবা হয়নি তিনি স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী।একটিবারের জন্যও ভাবা হয়নি ৭৩ বছর বয়সের একজন নারী তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি স্বামীহারা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবলে পড়ে পরিবার পরিজন সন্তান স্বজনদের কাছ থেকে দূরে। তার আপন বাংলাদেশ, তার আপনজন দেশের জনগণ। এমন একজন নেত্রীকে জনমানবহীন এক নির্জন কারাগারে এক ভুতুড়ে পরিবেশে একটি স্যাঁতস্যাঁতে ভবনেই কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এই ভবনটি পরিত্যক্ত হবার কিছুদিন আগেও এই কারাগারে অনেকের ফাঁসির দন্ড কার্যকর করা হয়েছে। আর সেখানেই একাকী রাখা হয়েছে দেশনেত্রীকে । তিনি ছাড়া আর একজন বন্দীও সেখানে নেই। একজন নারী হিসেবে সামান্য মর্যাদাও কী তার প্রাপ্য ছিল না? এ কী নির্দয় ব্যবহার!

খালেদা জিয়া যেনো জামিনে বেরিয়ে আসতে না পারেন সেজন্য এখন একটির পর একটি মিথ্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার একটি এবং ঢাকার দু’টি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তার নামে ৩৪টি মামলাই সচল করার অপচেষ্টা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার প্রতি এই নির্মমতায় দেশের মানুষ আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। বাংলাদেশের হৃদয়ই যেন ভেঙ্গে গেছে। মানুষের অন্তর কেঁদে উঠছে। নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের অন্ধকার প্রকোস্টে আজ শুধু একজন ব্যক্তি খালেদা জিয়াকেই বন্দী করা হয়নি, বন্দী করা হয়েছে গণতন্ত্রকে।বন্দী করা হয়েছে মানুষের ভালোবাসাকে।বন্দি করা হয়েছে জাতির বিবেককে। তাকে কারান্তরীণ করায় বিএনপির অসংখ্য অজস্র নেতাকর্মী যেমন বিক্ষুব্ধ, দেশবাসীও সহ দেশবাসী মর্মাহত। প্রতিটি মানুষের চোখে ভেসে উঠছে খালেদা জিয়ার নিষ্পাপ মায়াভরা মুখখানি। অনেকের চোখে ঘুম নেই। নীরবে চোখের পানি ফেলছেন। কখনোবা ডুকরে কেঁদে উঠছেন।কাঁদছে দেশবাসী। নামাজ পড়ে অনেককে হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কান্নাকাটি করছেন।
বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন মানুষের কাছে দিবালোকের মতো স্পস্ট, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে, জাল-জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে। হাসিনা নিজেই আওয়ামীলীগের আইনজীবিদের দিয়ে মাত্র দশ দিনে ছয়শত বত্রিশ পাতার রায় লিখিয়ে বিচারক ড.আখতারুজ্জানকে দিয়ে পাঠ করিয়েছে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালত থেকে নিজেদের পক্ষে রায় বের করা আনার পরও নিজের প্রতিহিংসা দমন করতে পারেননি দেশের উচ্চ আদালত ঘোষিত “রং হেডেড” শেখ হাসিনা। বরং চরম জিঘাংসা,ক্রুড়তা,অমানবিক, হৃদয়হীন এবং প্রতিহিংসাপরায়ন প্রকাশ ঘটান। বরিশালে (৮ ফেব্রুয়াটি) এক জনসভায় দম্ভের সঙ্গেই উচ্চারণ করেন”কোথায় আজ খালেদা জিয়া? দেশপ্রেমিক সিরাজ সিকদারকে খুন করার পর চুয়াত্তর সালে সংসদে দাড়িয়ে শেখ মুজিব দম্ভ করে বলেছিলো “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? গণতন্ত্র হত্যাকারী পিতা মুজিবের মতো শেখ হাসিনা একইরকম দম্ভোক্তি করে বিকৃত সুখ অনুভব করছে, বন্য উল্লাসে মেতে উঠেছে।
তবে রায় ঘোষণার আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে জনগণের উদ্দেশ্য বলেছেন, ‘আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। কোনো দুর্নীতি করেনি।’ বাংলাদেশের মানুষ তার এই কথা একশভাগ বিশ্বাস করেছে।
তারা বিশ্বাস করে আপনি কোনো অন্যায় করেননি। আপনি নব্য ফেরাউন হাসিনার জুলুমের শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিচার হয়না অথচ মাত্র দুই কোটি টাকা নিয়ে এতো হুলুস্থুল।শেখ হাসিনার নামে ১৫ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পনের মামলা দলীয় বিচারপতিদের দিয়ে গায়েব করে ফেলা হয়েছে। তবে জনগন সব জানে। খালেদা জিয়ার গগনচুম্বি জনপ্রিয়তায় নিদ্রাহীন হাসিনা তাকে নির্বাচনে অযোগ্য করতে ক্যাঙ্গারু কোর্টকে ব্যবহার করেছে।গণতন্ত্র কারারুদ্ধ রেখে অন্যের স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত এক কুলাঙ্গার।
পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ আজ মজলুমের পক্ষে। হাসিনার অবিশ্বাস্য নির্মম জুলুমের শিকার বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এখন প্রতিটি মানুষের প্রানোৎসারিত সবটুকু সহানুভূতি,আবেগ,ভালোবাসা অকাতরে উপচে পড়ছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়া হয়ে জনগনের প্রানাধিক প্রিয়।
মানুষের জীবনে সবচেয়ে আপনজন তার মা।মাতৃমুর্তি খুব খুব শক্তিশালী।আমরা দেশকে মায়ের সন্মান দেই।আমাদের মায়েরা কষ্ট সহ্য করেন, মুখে কিছু বলেন না; হয়তো নীরবে অশ্রুপাত করেন। বেগম জিয়াকে যে কষ্ট দেয়া হচ্ছে তাতে কেবল দলের নেতাকর্মী নন,প্রতিটি বিবেকবান মানুষ তাঁকে মাতৃমুর্তি হিসাবে হ্রদয়ের গহীনে গ্রথিত করছে।তাঁরা মনে করছে মা নিশ্চয় নীরবে অশ্রুপাত করছেন। মায়ের সেই অদৃশ্য কল্পিত কান্না, তাঁদের বুকে ক্রমাগত শেলের মতো বিঁধছে।ইতোমধ্যে এক অভাবনীয় ,অভুতপূর্ব জনপ্রিয়তার অনুসঙ্গে গনমানুষের কাছে প্রতিভাত হয়ে উঠেছেন একজন মাতৃমুর্তি রূপ খালেদা জিয়া। দলের কর্মী সমর্থকই নয়, মানবতাবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষের তিনি এখন ‘মা’ । মানুষের হৃদয়ে এখন মায়ের আসন। ‘মা’ এখন কারারুদ্ধ। মা’য়ের অপমানে ঢুকরে কাঁদছে বাংলাদেশ। কারাদণ্ড ‘মা’ খালেদা জিয়ার শক্তি এখন অকল্পনীয়। অসামান্য অনন্য উজ্জ্বল মাতৃমুর্তিতে যেই উচ্চতায় বেগম জিয়া পৌঁছেছেন, অনেক রাজনীতিকের ভাগ্যেই এমন ভালোবাসা জোটেনা।
“বন্দি আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাবো না’, -এই শ্লোগানের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে দেশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে। দলীয় কর্মীসমর্থকদের কন্ঠে বুকঝিম ভালোবাসায় উচ্চারিত এই ধ্বনি,প্রতিধ্বনি অনুরণিত হচ্ছে প্রতিটি প্রানে প্রানে।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: