খালেদা জিয়ার বক্তব্য বিকৃত করে রায় দিয়েছেন আখতারুজ্জামান

বিশেষ রিপোর্ট : জালজালিয়াতি আর নথি ঘষামাজা করে কেবল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার চার্জশীট এবং চার্জফ্রেমই করা হয়নি এমনকি মামেলার রায়ও দেয়া হয়েছে খালেদা জিয়ার বক্তব্য বিকৃত করে মামলার রায়ের নথি ঘষামাজার মাধ্যমে। ১৯ ফেব্রুয়ারী মামলার বিচারক রায়ের সার্টিফায়েড কপি খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের দেয়ার পর বেরিয়ে আসে কিভাবে বিচারক খালেদা জিয়ার বক্তব্য বিকৃতভাবে উদ্বৃত করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানিতে অংশ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া কয়েকদিন আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর খালেদা জিয়া আদালতে লিখিতভাবে শেখ হাসিনার বর্তমান ব্যাংক ডাকাত সরকারের দুর্নীতি ও টাকা পাচারসহ নানা অপকর্ম তুলে ধরেন।

লিখিত দীর্ঘ বক্তব্যের একটি পৃষ্ঠায় খালেদা জিয়া বলেন, ” ব্লগার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও বিভিন্ন ধর্মের লোক, এমনকি বিদেশীরা খুন হচ্ছেন। সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে, তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে।কোথাও কারো কোনো নিরাপত্তা ও অধিকার নেই। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে নির্বিচারে গুলি করে প্রতিবাদী মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের হত্যা করা হচ্ছে। এগুলো কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়? ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি? ”

আদালতে যখন খালেদা জিয়া বিচারকের কাছে প্রশ্ন করেন ‘ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি? ” এই বাক্যের শেষে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছিল।

খালেদা জিয়ার বক্তব্যটি প্রশ্নবোধক চিহ্নসহ দৈনিক মানব জমিনসহ বিভিন্নজাতীয় পত্র পত্রিকায় হুবহু প্রকাশিত হয়। পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টেও সেখানেও বিচারকের সামনে খালেদা জিয়ার উচ্চারণ ‘ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি?

বাক্যটির শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছিল। কিন্তু যখন ১৯ ফেব্রুয়ারী রায়ের সার্টিফায়েড কপি প্রকাশিত হয় তখন দেখা যায় খালেদা জিয়ার প্রশ্ন “ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি? ” এই বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নটি বিচারক তুলে দিয়েছেন।

প্রশ্নবোধক চিহ্ন তুলে দিলে বাক্যটি দাঁড়ায় “ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি” ।

বাক্যটি নিজেদের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে এরপর বিচারের নামে রায়ের লেখক চক্রটি রায়ের কপিতে লিখে “আদালত মনে করেন আসামি বেগম খালেদা জিয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার বিধান মোতাবেক আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য প্রদানের সময় নিজ জবানিতে স্বীকার করেছেন যে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন”।

এভাবেই খালেদা জিয়ার প্রশ্নবোধক বাক্যকে সাধারণ বাক্য বানিয়ে বিচারক লিখেন ‘খালেদা জিয়া নিজেই অপরাধ স্বীকার করেছেন’ । এ বিষয়ে একাধিক আইনজীবী বলেছেন, এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো খালেদা জিয়াকে ফাঁসাতে গিয়ে শেখ হাসিনা নিজেই ফেঁসে গেছেন।

কারণ, জিয়া অরফানেজ মামলার বিষয়বস্তু, চার্জশিট, চার্জফ্রেম এবং সবশেষে রায় প্রদান সবকিছুই জালজালিয়াতি এবং নথিপত্র ঘষামাজা করে বানানো।

শুধুমাত্র শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তার নির্দেশেই দুর্নীতিবাজ তদন্ত কর্মকর্তা হারুন, বিচারক আখতারুজ্জামান, আইনসচিব পিস্তল দুলাল আর অবৈধ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক চক্র এই মামলার রায় তৈরী করেছেন।

এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ৮ ফেব্রুয়ারী। আখতারুজ্জামান মাত্র ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় লিখেন। তারপর ১০ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারী সেই রায়ের ১১৭৪ পৃষ্ঠার সার্টিফায়েড কপি দিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীদেরকে। রায়ের সার্টিফায়েড কপি প্রকাশ করা পর দেখা গেছে বিচারক নামধারী আখতারুজ্জামান এই রায়ের কপিতে ঘষামাজা এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে জনগণের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করতেই জাল জালিয়াতি কিংবা ভুয়া নথিপত্র তৈরী করে শেখ হাসিনার নির্দেশে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার চার্জশীট দায়ের করা হয়েছিল। বাসুদেব নামক এক বিচারককে ব্যবহার করে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। আর আখতারুজ্জামান নামের আরেক বিচারককে দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় দেয়া হলো। সেই রায়েও দুর্নীতি।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: