বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড লুটের ঘটনা শেখ হাসিনা কেন ধামাচাপা দিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন ?

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড লুটের ঘটনায় ব্যাংক ডাকাত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, জয়ের বন্ধু ভারতীয় নাগরিক রাকেশ আস্তানা এবং তৎকালীন গভর্নর ড. আতিয়ার রহমানকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ না করলে টাকা লুটের আসল রহস্য বের হবেনা। গোয়েন্দাদের ধারণা, টাকা লুটের সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পর্ক রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের ৮শ ১০কোটি টাকা লুট হয়েছে এবং এ ঘটনায় সাধারণ নিয়মেও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। জানা প্রয়োজন, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী টাকা লুটের ঘটনা জানার পরও কেন শেখ হাসিনা এই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কেন কাউকে না জানিয়ে কিংবা কোনো প্রক্রিয়া না মেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেম সজীব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু ভারতীয় নাগরিক রাকেশ আস্তানার হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। গোয়েন্দা সূত্রগুলোমতে রিজার্ভ বহুড়ীর ঘটনায় তদন্তে গোয়েন্দারা অনেকদূর এগিয়ে গেলেও এখনো এইসব প্রশ্নগুলোর জবাব সংশ্লিষ্টদের জানা প্রয়োজন। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতিবাচক মনোভাবের কারণে তার পুত্র জয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করার সাহস করছেন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা তথ্যমতে, এটি হ্যাকিং নয় বরং পূর্বপরিকল্পিত উপায়ে ডিজিটাল ব্যাংক ডাকাতি। ৫ ফেব্রুয়ারী টাকা লুটের ঘটনা ২৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ধামাচাপা দিয়ে রাখতে সক্ষম হয় শেখ হাসিনা-জয়-আতিয়ার চক্র পরে ফিলিপাইনের গণমাধ্যমে এটি প্রকাশ হয়ে পড়লে বাংলাদেশের জনগণ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড লুটের ঘটনা জানতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বহুল আলোচিত রিজার্ভ ফান্ডের টাকা লুটের ঘটনায় সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইনডিপেনডেন্ট টিভি। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড লুটের সঙ্গে পাঁচ দেশের অন্তত ৪৩ ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠান জড়িত বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এখানেই শেষ নয়, সন্দেহের তালিকায় আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচ শাখায় কর্মরত অন্তত ১৪ জন কর্মকর্তা ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি। সিআইডির বরাত দিয়ে সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সিআইডি বলছে, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় কোনে না কোনেভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচ শাখার অন্তত ১৪ জন কর্মকর্তা জড়িত। বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও আছেন সন্দেহের তালিকায়। তিনি লুটের সময় সুইফট এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ছিলেন।

গোয়েন্দা সূত্র মতে, সন্দেহের তালিকায় আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেব ও বাজেট শাখার একজন যুগ্ম পরিচালক, দুজন উপ-পরিচালক, একজন উপ-মহাব্যবস্থাপক, পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের একজন উপ-মহাব্যবস্থাপক, দুজন যুগ্ম পরিচালক ও দুজন উপ-পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

এছাড়া আইটি শাখার একজন উপ-মহাব্যবস্থাপক, এফএসএসএস পিডি বিভাগের একজন উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ফরেক্স শাখার একজন উপ-পরিচালক আছেন সন্দেহের তালিকায়।

সিআইডি বলছে, ফরেক্স শাখার সন্দেহভাজন ওই কর্মকর্তার কক্ষেই লুটেরারা প্রথম প্রচেষ্টা চালায়। সন্দেহভাজন কর্মকর্তারা হ্যাকারদের সুযোগ করে দিতে ভূমিকা রেখেছেন।

সিআইডি বলছে, ভারতীয় একটি কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের সঙ্গে আরটিজিএস কানেকশন দেয়ার পরই রিজার্ভ লুটের সুযোগ তৈরি হয় বলেও প্রামাণ মিলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের সাথে আরটিজিএস কানেকশন দেয়ার কাজ দিতে ভারতীয় নাগরিক এডি হাদ্দাদকে সহায়তা করেছিলেন নির্বাহী পরিচালক পদমর্যার এক কর্মকর্তা। আরটিজিএস কানেকশন দেয়ার পরই সুইফটের নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ে। আর তখন থেকেই লুটের পরিকল্পনা করে চক্রটি। আর হ্যাক হওয়ার কথা জেনেও এডি হাদ্দাদ ও বাংলাদেশ সুইফট এসোসিয়েশনের তৎকালীন এক নেতা গভর্নরকে সুইফট খোলা রাখতে চাপ দিয়েছেন।

সিআইডি মনে করছে, এই তিনজন রিজার্ভ লুটের ঘটনায় সরাসরি জড়িত। এদের আইনের আওতায় আনতে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডি কর্মকর্তারা।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ফিলিপাইনের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি রিজার্ভ চুরিতে জড়িত। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে আরসিবিসি ব্যাংক, ফিল্ডরেম মানি এক্সচেঞ্জ, বিকন কারেন্সি, ক্যাসিনো সোলেয়ার ও ইস্টার্ন হাওয়াই। পাশাপাশি ফিলিপাইন, চীন, শ্রীলঙ্কা, জাপান ও ভারতের অন্তত ৪৩ ব্যক্তি রিজার্ভ লুটের সঙ্গে জড়িত।

সন্দেহের শীর্ষে সুইফটের প্রেসিডেন্ট এডি হাদ্দাদ, কর্মকর্তা নীলা ভান্নান, আর্থেস সুদিন্দ্র, প্রীতম রেড্ডি, অভিজিত কুমার সাহা, রবি সুভ্রানিয়াম ও সৌরভ কুমার। এডি হাদ্দাদের পরিকল্পনায় পাঁচজন হ্যাকিংয়ে জড়িত হয়। অন্যদিকে চীনের নাগরিক গাওসুয়া, ডিংজে, শ্রীলংকার শালিকা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শালিকা প্যারেরাসহ পাঁচ পরিচালক, জাপানের গাড়ি ব্যবসায়ী সাসাকি ও তার পূর্বপরিচিত জয়দেবা রিজার্ভ চুরিতে সরাসরি জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আর ভুয়া নাম ঠিকানায় অ্যাকাউন্ট খুলতে সহায়তা করে আরসিবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান লরেন্স তান তৎকালীন ম্যানেজার মায়া দিগুতিসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

উল্লেখ, ২০১৬ সালে চার ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি হয় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার। টাকায় প্রায় ৮ শ ১০ কোটি। এই লুটের ঘটনায় মামলা হলে তদন্তে নামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগটি। সিআইডি জানিয়েছে রিজার্ভ চুরির মামলাটির তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিতে আরো সময় লাগবে।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: