আবুল মালের তথ্য ব্যাংকে মাল নেই : ব্যাংক ডাকাতদের খপ্পরে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর

অপরাধ প্রতিবেদক : বর্তমান ব্যাংক ডাকাত সরকার পরিচালিত চোরাই সংসদে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন আবুল মাল। মাল বলেছেন দেশের সাতটি ব্যাংকে আসল মাল নেই অর্থাৎ ব্যাংকের মূলধনও লুট হয়ে গেছে। বাস্তবতা হলো, ব্যাংক ডাকাতদের খপ্পরে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি সাতটি ব্যাংকে ৯ হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা মূলধন ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সোমবার সংসদ সদস্য আবদুল মতিনের (মৌলভীবাজার-২) লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে কার্যরত ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে চারটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৬২৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমান ছিল ১ হাজার ৭৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা। সর্বমোট ৯ হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এ সাতটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে।

আবুল মালের দেয়া তথ্য মতে, এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি ৩ হাজার ১৪০ কোটি ৪১ লাখ, রুপালী ব্যাংকের ৬৮৯ কোটি ৯০ লাখ, জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ২৭২ কোটি ৯৩ লাখ এবং বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ২ হাজার ৫২২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকা, দি ফারমার্স ব্যাংকের ঘাটতি ৭৪ কোটি ৭৬ লাখ এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১ হাজার ৪৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

মুহিত জানান, একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট ঘাটতি প্রভিশনের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৬৭৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকসমূহের প্রভিশন ঘাটতি ৭ হাজার ৫৬৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং বেসরকারি ব্যাংকের উদ্ধৃত্ত প্রভিশন রয়েছে ১ হাজার ৭৬ কোটি টাকা।

এসব ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ২ হাজার ৯০০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, রুপালী ব্যাংকের ১ হাজার ২৪৫ কোটি ৩৪ লাখ, বেসিক ব্যাংকের ৩ হাজার ৪২১ কোটি ৫৪ লাখ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮৬১ কোটি ৬১ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং স্টান্ডার্ড ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ৮৯ কোটি ৯ লাখ টাকা।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছর হতে শুরু করে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার ১০ হাজার ২৭২ কোটি টাকার মূলধন পুনঃমূলধনিকরণ সুবিধা প্রদান করেছে যা ব্যাংকগুলোতে ইতিমধ্যে মূলধন হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

মূলধন ঘাটতি পূরণে ১৬শ’ কোটি টাকা ফারমার্স ব্যাংকে দিচ্ছে সরকার

অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি দি ফারমার্স ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে ইতিমধ্যে ৫০০ কোটি টাকা বন্ড ইস্যু অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ১১শ’ কোটি টাকা মূলধন বৃদ্ধি করার জন্য রাষ্ট্রায়াত্ব চারটি ব্যাংক এবং একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ও বিভিন্ন পন্থা অবলম্বনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এমপি সেলিম উদ্দিন (সিলেট-৫) এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ৬ হাজার ৯৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা রেমিটেন্স বৈধভাবে দেশে এসেছে। সবচেয়ে বেশী রেমিটেন্স এসেছে সৌদি আরব থেকে ১২শ’ ১ কোটি ৪০ লাখ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১১শ’ ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: