বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তারেক রহমানের ১২তম কারাবন্দী দিবস

ডেইলি বিডিটাইমস রিপোর্ট : ৭ মার্চ ২০১৮। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১২ তম কারাবন্দী দিবস। ২০০৭ সালের এই দিনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তৎকালীন মঈন-ফখরুদ্দিনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে। তারপর এই তুমুল জনপ্রিয় নেতাকে প্রাননাশের জন্য তার ওপর চালানো হয় ভয়াবহ বর্বরতা। তার বিরুদ্ধে মিথ্যায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আঁতাত করে মঈন-ফখরুদ্দিন ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলো। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশ ছেড়ে আমেরিকা চলে যায় শেখ হাসিনা। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কোনোভাবে দেশ ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় মঈন-ফখরুদ্দিনের ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়। এদিকে খালেদা জিয়া এবং তার দুই সন্তান বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর মুক্তির দাবিতে রাজপথে আন্দোলন জোরালো হতে থাকে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি মঈন-ফখরুদ্দিনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে নানা নাটক শেষে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। একপর্যায়ে গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতার মায়া ত্যাগ করতে থাকে মঈন-ফখরুদ্দিন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানকে জামিনে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় মঈন-ফখরুদ্দিনের অনিয়মতান্ত্রিক সরকার। জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আসেন তারেক রহমান। অপরদিকে ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ক্ষমতা দখল করে শেখ হাসিনা। এখনো অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখে প্রতিনিয়ত তারেক রহমানের নিরাপদ দেশে ফেরা ঠেকাতে একে পর ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা জানেন, আসন্ন দিনে তার একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তারেক রহমান। তাই রাজনীতি থেকে তারেক রহমানকে মাইনাস করতে মিথ্যা মামলা আর অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছেন শেখ হাসিনা। এরই অংশ হিসেবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার জন্য তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় অনুপস্থিতিতে বিচার করে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। তারেক রহমানের তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলেও এখন পর্যন্ত একটিরও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি শেখ হাসিনা। ইন্টারপোলে তারেক রহমান রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষতিগ্রস্থ করতে ইন্টারপোলে তারেক রহমানের নাম পাঠানো হয়েছে। পরে ইন্টারপোল এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমান পেয়ে তারেক রহমানের নাম ইন্টারপোলের তালিকা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়।
এদিকে তারেক রহমানের ১২তম কারাবন্দি দিবস পালনে দেশে বিদেশে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। তার কারাবন্দি দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে। দলের পক্ষ থেকে কারাবন্দী দিবসে সারাদেশে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন
করা হয়েছে। কেন্দ্রিয়ভাবে মিলাদ মাহফিলের করা হচ্ছে। তারেক রহমানের ১২তম কারাবন্ধী দিবসে কর্মসূচী ঘোষনা করেছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও ভারপ্রাপ্তসাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ । এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, দেশে গনতন্ত্র ও আইনের শাসন এবং জনগনের অধিকার আদায়ে তারেক রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। ২০০৭ সালে তিনি অবৈধ অনৈতিক সরকারের সাথে আপোষ করেন নাই বলেই তাকে কারা নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তারেক রহমানের ১২তম কারাবন্ধী দিবসে তার নির্দেশ অনুসরন করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মী সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী দুঃশাসনের কবল থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হবে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সফল করতে হবে। নেতৃদ্বয় আরো বলেন, তারেক রহমানের সাহস দূঢ়চেতা মনোবল এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি তার অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মী সমর্থকদের অনুপ্রানিত করছে। তারেক রহমানের ১২তম কারাবন্ধী দিবসে তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজ বুধবার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের উদ্যেগে দেশব্যাপী মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘অপরদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হচ্ছে ‘তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ডকুমেন্টারী প্রদর্শন।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: