Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284

‘ হার্ভার্ডে শেখ হাসিনা চৰ্চা’ : হাসিনাকে নিয়ে বোরহান কবিরের ছাগলামি

[সৈয়দ বোরহান কবির নামে সাংবাদিক নামধারী একব্যক্তি ‘বাংলা ইনসাইডার’ নামে একটি নিউজ পোর্টাল চালায়। বোরহান কবিরের মা ছিল শেখ হাসিনার বাসার গৃহকর্মী। তবে শেখ হাসিনার বাড়ির সাবেক স্টাফ মরহুম মতিউর রহমান রেন্টু একবার বলেছিলেন, অবিশ্বস্ত হওয়ার কারণে বোরহানের মা’কে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে স্বার্থের কারণে শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখেছে সৈয়দ বোরহান কবির। সেই বোরহান কবির এখন প্রায়শই শেখ হাসিনার পক্ষে আজগুবি সব খবর দেয়। দেখা যায় সবকটি নিউজ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক ঘরোয়া আলাপে মন্তব্য করে বলেছেন, শেখ হাসিনার ইজ্জত বাড়ানোর নামে বোরহান কবির নিজের বীরাঙ্গনা মা’য়ের অপমানের প্রতিশোধ নিচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। ] ‘বিডিফ্যাক্ট চেক’ নামে একটি নিউজ পোর্টাল বোরহান কবিরের ‘বাংলা ইনসাইডার’ এর ভুয়া নিউজ চেক করে দেখেছে পুরাই ভুয়া। ডেইলি বিডিটাইমস এর পাঠকদের জন্য নিউজটি তুলে ধরছি।

২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী ‘বাংলা ইনসাইডার’ এ বোরহানের নিউজের শিরোনাম ছিল ‘ হার্ভার্ডে শেখ হাসিনা চৰ্চা’

জাহেদ আরমান : : “হার্ভার্ডে শেখ হাসিনা চর্চা” শিরোনামে আবারও ভূয়া সংবাদ প্রকাশ করেছে অনলাইন সংবাদ পোর্টাল বাংলা ইনসাইডার। এই সংবাদে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চর্চা হচ্ছে। অন্তত তিনটি বড় ধরনের গবেষণায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি, বিচক্ষণতা এবং কৌশল নিয়ে গবেষণা হচ্ছে।” হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের তিনজন অধ্যাপকের নাম উল্লেখ করে এই সংবাদটি করা হয়। বিডি ফ্যাক্টচেক এর পক্ষ থেকে ওই তিন অধ্যাপক গ্রাহাম অ্যালিসন, আর্থার অ্যাপলবাম ও ক্রিস্টোফার অ্যাভেরির সঙ্গে ইমেইলে যোগাযোগ করা হয়। ক্রিস্টোফার অ্যাভেরি এই ধরণের গবেষণার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

 

এছাড়া সংবাদে কোনো গবেষণা প্রবন্ধ ও জার্নালের নাম উল্লেখ করা হয়নি। আর যেসব অধ্যাপকদের কথা বলা হয়েছে তাদের গবেষণা আগ্রহের সাথে প্রতিবেদনে উল্লেখিত বক্তব্যের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ক্রিস্টোফার অ্যাভেরির অস্বীকার:

হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ওয়েবসাইট থেকে তিন অধ্যাপকের ইমেইল ঠিকানা সংগ্রহ করে বাংলা ইনসাইডার অনলাইন পোর্টালটির ইংরেজি ভার্সনে প্রকাশিত “Extensive research on Sheikh Hasina at Harvard” সংবাদটির লিংকসহ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার একদিন পরে ক্রিস্টোফার অ্যাভেরি ইমেইলের উত্তর পাঠান। সেখানে তিনি বলেন, “Truelly speaking, I did not publish any book on leadership and management. I have an interest on rating and selection mechanisms, focusing on the college admissions system.” অন্য দুই অধ্যাপক গ্রাহাম অ্যালিসন ও আর্থার অ্যাপলবাম এখনও ইমেইলের কোনো উত্তর দেননি।

গবেষণা প্রবন্ধ ও জার্নালের নাম নেই:

গবেষণা প্রবন্ধ সাধারণত কোনো কন্ফারেন্সে উপস্থাপন করা হয় অথবা জার্নালে প্রকাশিত হয়। এর আগে গবেষণা প্রবন্ধের ফলাফল সম্পর্কে জানার সুযোগ খুবই কম। বাংলা ইনসাইডার “হার্ভার্ডে শেখ হাসিনা চর্চা” শিরোনামে যে সংবাদটি প্রকাশ করেছে তাতে কোনো গবেষণা প্রবন্ধ ও জার্নালের নাম প্রকাশ করা হয়নি। আর গবেষণা প্রবন্ধগুলো যদি কোনো কন্ফারেন্সে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে সেগুলোরও নাম প্রকাশ করা হয়নি। তথ্যসূত্র হিসেবে বলা হয়েছে,  “হাভার্ডের কেনেডি স্কুলের আরেক খ্যাতিমান অধ্যাপক আর্থার অ্যাপলবাম তাঁর সাম্প্রতিক লেকচারগুলোতেও শেখ হাসিনা প্রশংসার বন্যায় ভাসছেন।” এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আর্থার অ্যাপলবামের শ্রেণীকক্ষে দেওয়া লেকচার বাংলা ইনসাইডার-এর প্রতিবেদক কোথায় পেলেন? আর পেলেও তাঁর সূত্র উল্লেখ করেন নি কেন?

প্রফেসরদের সম্পর্কে ভুল তথ্য:

বাংলা ইনসাইডার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ক্রিস্টোফার অ্যাভেরি, কেনেডি স্কুলে পাবলিক পলিসি পড়ান।” অথচ হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে “ক্রিস্টোফার অ্যাভেরি “মার্কেট অ্যান্ড মার্কেট ফেইলিওর” এবং “মাইক্রোইকোনমিক থিওরী (পার্ট ২)” নামক দুইটি কোর্স পড়ান। বাংলা ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ক্রিস্টোফার অ্যাভেরি পাবলিক লিডারশিপ এবং ম্যানেজমেন্টের উপর অনেকগুলো গবেষণা করেছেন। কিন্তু কেনেডি স্কুলের ওয়েবসাইটে যে সিভি সংরক্ষিত আছে সেখানে দেখা যাচ্ছে  তাঁর গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে কলেজ ভর্তি ব্যবস্থাপনা।

বাংলা ইনসাইডার আরও জানাচ্ছে, ”ক্রিস্টোফার অ্যাভেরির নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় ‘শুধু নেতার জনপ্রিয়তার কারণে একটি অজনপ্রিয় দল কীভাবে ক্ষমতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকে, তার উদাহরণ হিসেবে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ এসেছে।” অথচ তাঁর সিভিতে (https://www.hks.harvard.edu/faculty/christopher-avery) দেখা যাচ্ছে তিনি শুধু কলেজ ভর্তি ব্যবস্থাপনা নিয়েই গবেষণা করেন। পাবলিক লিডারশিপ এবং ম্যানেজমেন্ট নিয়ে তাঁর কোনো গবেষণা নেই।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: