Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284

প্রসঙ্গ : স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া এবং ‘অন বিহাফ অফ শেখ মুজিব’

বিশেষ রিপোর্ট : : শেখ মুজিবের আন্দোলন ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের জন্য। তিনি চেয়েছিলেন ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের শাসক হতে। এ কারণে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ কিংবা ২৫ মার্চেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব । এমনকি ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদাররা গণহত্যা শুরু করলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব গ্রহণ করেননি বরং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমপর্ণ করেন পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর কাছে।

অপরদিকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের উপর হামলা শুরু করলে তখনকার তরুণ মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট ‘ বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সময় নষ্ট না করে নিজেকে অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরেই ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানী দখলদারবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য মা বোনের সম্মানেই বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

১৯৭২ সালে ২৬ মার্চ প্রকাশিত অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ‘একটি জাতির জন্ম’ শিরোনামে জিয়াউর রহমান নিজে একটি নিবন্ধ লিখেন। এতে তিনি লিখেন….

” সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটালিয়নের অফিসার, জেসিও আর জওয়ানদের ডাকলাম। তাদের উদ্দেশে একটি ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলাম। ….. আমি সংক্ষেপে সব বললাম এবং তাদেরকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কথা জানিয়ে নির্দেশ দিলাম স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে। তারা সর্বসম্মতিক্রমে হৃষ্টচিত্তে এ আদেশ মেনে নিল। আমি তাদের একটা সামরিক পরিকল্পনা দিলাম।

আরো লিখেন .. .. .. ” তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সাল। রক্ত আঁখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটা দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখবে, ভালোবাসবে। এই দিনটিকে তারা কোনো দিন ভুলবে না। কো-ন-দি-ন না”।

১৯৭২ সালে ২৬ মার্চ রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমানের দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণাটি পরবর্তীতে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র এবং দেশে বিদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরপর কয়েকদিন প্রকাশিত হয়। বাংলাদশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লিখেন জিয়াউর রহমান। সেই সময় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতাকামী মানুষের একচ্ছত্র নেতা। কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী তৎকালীন স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের উপর হামলা করার পরও শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেননি। তিনি ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িতে বসে থেকে পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে বিনা প্রতিবাদে আত্মসমপর্ণ করেন। এ অবস্থায় দিকনির্দেশনাহীন স্বাধীনতাকামী মানুষের সামনে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান।

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রথমে নিজেই ড্রাফট করেন এবং নিজেকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরবর্তী ঘোষণায় তিনি তৎকালীন প্রধান রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নামোল্লেখ করেন। স্বাধীনতার ঘোষণায় শেখ মুজিবুর রহমানের নাম বলার উদ্দেশ্য ছিল (এক) শেখ মুজিব ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক নেতা (দুই) স্বাধীনতার ঘোষণায় শেখ মুজিবের নামোল্লেখ করলে পাকিস্তানিরা আর শেখ মুজিবকে বিশ্বাস করবেনা। ফলে চাইলেও সংখাগরিষ্ট দলের নেতা হিসেবে পাকিস্তানিদের সঙ্গে আপসরফা করে শেখ মুজিবের আর ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ থাকবেনা। উল্লেখ্য, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানিরা স্বাধীনতাকামী বাঙালির উপর হামলা করার আগ পর্যন্ত শেখ মুজিব সংখ্যাগরিষ্ট দলের নেতা হিসেবে ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য আলাপ আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তান অর্থাৎ কেন্দ্রের ডাকের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান পরবর্তী স্বাধীনতার ঘোষণায় বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার সাথে ‘অন বিহাফ অফ শেখ মুজিব’ বলার কারণে পাকিস্তানিদের ফন্দি এবং শেখ মুজিবের ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন ভেস্তে যায়।

অপ্রিয় সত্য হলো, সারাজীবন পূর্ববাংলার স্বাধিকারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক সময় মুক্তিযুদ্ধকালে নেতৃত্ব গ্রহন করতে বার্থ হয়েছিলেন শেখ মুজিব।

স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তার ভূমিকা ছিল বিতর্কিত ও রহস্যময়। এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পরও পাকিস্তান থেকে শেখ মুজিবের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফেরা ছিল বিতর্কিত। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারীশেখ মুজিব স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরেছিলেন পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে। যে কোন যুক্তিতেই হোক, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার পর অন্য দেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করা মানে আইনের দৃষ্টিতে তিনি ওই দেশেরই নাগরিক।

বাংলাদেশের বিজয় দিবসের পরও বিনাবাক্য ব্যয়ে সজ্ঞানে পাকিস্তানের পাসপোর্ট গ্রহণ করে শেখ মুজিব পাকিস্তানের নাগরিকত্ব কবুল করেছেন। এটাই আইনের কথা। অতএব পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর তার নাগরিকত্ব আইনের দৃষ্টিতেই বিচার্য।

একজন পাকিস্তানী নাগরিক কেমন করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন শেখ মুজিব সেই প্রশ্নের আইনগত নিষ্পত্তি হওয়া জরুরী ।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: