Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284

ফারজানা রুপার অন্ধকারের জীবন

ডেইলিবিডিটাইমস : ছবিতে বসে থাকা এই মহিলার নাম ফারজানা রুপা। আর ফারজানা রুপার ওপর থাকা এই ব্যক্তির নাম ন্যাংটা সাজু। সোশ্যাল মিডিয়ায় ন্যাংটা সাজু বহুল পরিচিত নাম। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গিয়ে প্রকাশ্যেই সম্পূর্ণ ন্যাংটা হয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে ছবি তুলে সমালোচনায় এসেছিলেন সাজু। তবে ন্যাংটা সাজুতে আপত্তি নেই বহুগামী ফারজানা রুপার। পেশায় নিজেকে সাংবাদিক দাবি করলেও রুপার নেশার রূপ ভিন্ন। ছাত্রমৈত্রীর সাবেক নেতা বাপ্পাদিত্য বসুর সাবেক গার্লফ্রেন্ড ফারজানা রুপা এখন শেখ রেহানার মালিকানাধীন আওয়ামী বাক্স ৭১ টিভি’র সাংবাদিক। ৭১ টিভি’র নির্বাহী সম্পাদক মোজাম্মেল বাবুর বোতল সঙ্গী ফারজানা রুপা এই টিভিতে যা ইচ্ছে তাই প্রচার করতে পারেন। সিটিং প্রধান বিচারপতি কিংবা বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা, যার বিরুদ্ধেই হোক, ফারজানা রুপার গল্প প্রচারে বান্ডা দেয়ার সাহস কারো নেই।

সাংবাদিক নামধারী দূবৃত্ত ফারজানা রুপা ছাত্রজীবনেও ছিল উশৃঙ্খল। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার রুপা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে ছাত্রমৈত্রীর রাজনীতিতে। ক্যাম্পাসের বন্ধনহীন জীবনে রুপা একাধারে মাদকাসক্ত এবং যৌনাসক্ত হয়ে পড়ে। স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে ছাত্রমৈত্রীর নেতা বাপ্পাদিত্য বসুর সঙ্গে লিভটুগেদার করে বছরখানেক। এরপর বাপ্পাদিত্যের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তার সঙ্গ ত্যাগ করে। বাপ্পাদিত্য বসু’র সঙ্গে ত্যাগ করার পর আরো উশৃঙ্খল হয়ে ওঠে রুপা। ক্যাম্পাসের পাশে সোহরোয়ার্দি উদ্যান থেকে অসামাজিক কার্যকলাপ করার অপরাধে টহলরত পুলিশ কমপক্ষে দুইবার তাকে আটক করে। প্রতিবার থানায় জিডি ও হয়েছিল। পরে তাকে ছাত্রলীগ নেতা প্রয়াত মাহাবুল হক শাকিল থানা থেকে তদবির করে ছাড়িয়ে এনেছিল।

বাপ্পাদিত্য বসুর সঙ্গে ত্যাগ করার পর রুপা আরো দুইজনের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব হয়। তাদের একজন এখন একটি বিতর্কিত অনলাইনের সম্পাদক। তবে সেখানেও শেষ রক্ষায় হয়নি। এরপর বহুগামী রুপার টার্গেটে পড়ে শাকিল আহমেদ। শাকিলের সঙ্গে পরিচয় হয় ড্রাগের আড্ডায়। শাকিল আহমেদ বর্তমানে ৭১ টিভির বার্তা সম্পাদক। শাকিল নিজেও ক্যাম্পাসে ড্র্যাগ এডিক্ট হিসেবে পরিচিত ছিল। শেষ পর্যন্ত শাকিলকে স্বামী হিসেবে পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আর পড়া হয়ে ওঠেনি রুপার।

এই দম্পতির ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, শাকিল ড্ৰাগমুক্ত হতে পারলেও রুপা এখনো ড্রাগমুক্ত হতে পারেনি। এসব নিয়ে শাকিল প্রতিবাদ জানালেও রুপার ভয়ে বেশিদূর এগুতে পারেনি শাকিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রুপার উশৃঙ্খলতা সীমা ছাড়িয়ে যায়। শেখ হাসিনা পরিবারের কাছের মানুষ হয়ে ওঠে রুপা। ধুরন্ধর রুপা নিজেকে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার বিশস্ত ভৃত্যে পরিণত করে। রুপার মতো ড্রাগ এডিক্টেড-অসৎ-লোভীদের দিয়ে শেখ হাসিনাও গঠন করে তার গোয়েবলস বাহিনী। হাসিনার এই গোয়েবলস বাহিনীর অন্যতম সদস্য রুপা।

এই রুপাকে শেখ হাসিনা তার সফরসঙ্গী হিসেবে ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল লন্ডনে নিয়ে যায়। শাকিলকে দেশে রেখে লন্ডনে গিয়েই রুপা আবারো মেতে ওঠে উশৃঙ্খল জীবনে। লন্ডনে গিয়ে রুপা আশ্রয় নেয় ঢাকা থেকে পালিয়ে লন্ডনে আশ্রয় নেয়া ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল সিদ্দিকীর ফ্ল্যাটে। জানা যায়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের দুইশ কোটি টাকা পাচারে ভাগ বসাতে গিয়ে শেখ হাসিনার রোষানলে পরে নাজমুল সিদ্দিকী। ফলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও নাজমুল দেশে থাকতে পারছেনা।

লন্ডনে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী-সিদ্দিকী নাজমুল বিরোধী ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, সিদ্দিকী নাজমুল এবং ফারজানা প্রতি রাতেই বেসামাল হয়ে পড়তো। শেখ হাসিনা ২২ এপ্রিল লন্ডন ত্যাগ করে ঢাকায় চলে যাওয়ার পরও নাজমুলকে সঙ্গে দিতে আরো কয়েকদিন লন্ডনে থাকেন ফারজানা রুপা। তবে লন্ডনে ৭১ এর টিভি ক্যামেরা ছিনতাইয়ের নাটক সাজানোর ঘটনা তদন্তের একপর্যায়ে লন্ডন মেট পুলিশ ফারজানা রুপাকে গ্রেফতারের জন্য খুঁজতে থাকে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডন ছাড়ে ফারজানা রুপা।

লন্ডনে’র একাধিক সূত্র বলেছে, ফারজানা রুপার উশৃঙ্খল আচরনে ভিডিও এবং লন্ডনের আইনকানুন না জেনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঢাকায় ফিরে মনগড়া রিপোর্ট তৈরী করার যাবতীয় তথ্য লন্ডন পুলিশের কাছে দিয়েছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী। এদিকে ৭১ টিভির কমপক্ষে দুটি সূত্র বলছে, লন্ডনে রুপা নিজের কেলেঙ্কারি ঢাকতে ঢাকায় ফিরে উল্টাপাল্টা রিপোর্ট করছে। একপেশে এইসব মনগড়া সংবাদ প্রচারের আগে শেখ হাসিনার দোহাই দেয়ায় এনিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করার সাহস পায়নি।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: