সেনাপ্রধান আজিজের ইউনিক পরিবার : ‘তিন ভাই তিনবাহিনী প্রধান’

ডেইলিবিডিটাইমস : নব্য সেনা প্রধান জেনারেল আজিজের পরিবার একটি ইউনিক পরিবার হিসেবে শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বের ইতিহাসে রেকর্ড করতে যাচ্ছে। কারণ সেনা প্রধান আজিজের পাঁচ ভাইর মধ্যে তিন ভাই তিনবাহিনী প্রধান। এই তিনবাহিনী হলো, মোহাম্মদপুরের কিলারবাহিনী, জোসেফ বাহিনী এবং সেনাবাহিনী। ৯০ এর দশকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিলারবাহিনী’র প্রধান ছিলেন সেনা প্রধান আজিজের বড় ভাই হারিস আহমেদ, জোসেফ বাহিনী প্রধান ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ এবং জেনারেল আজিজ হয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান। এই তিনবাহিনীর প্রধানের মধ্যে সরাসরি দুইজন বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের আনুকূল্য পেয়েছেন। আনুকূল্য পেয়ে জোসেফবাহিনী প্রধান শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ কারামুক্তি পেয়ে গোপনে বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন অপরদিকে জেনারেল আজিজ হয়েছেন সেনা প্রধান।

সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের বাবা বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ওয়াদুদ আহমেদ । মা রেনুজা বেগম। এই পরিবারের পাঁচ সন্তান। বাকি দুইভাই’রও রেকর্ড রয়েছে। এই দু’জন হলেন, সাঈদ আহমেদ এবং আনিস আহমেদ। এদের মধ্যে সাঈদ আহমেদ টিপু ১৯৯৯ সালের ১৩ই মার্চ এয়ারপোর্ট রোডে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন। আরেক ভাই আনিস আহমেদ একটি হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যাবজ্জীবন কারদন্ড প্রাপ্ত এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরের বর্তমান মিজান কমিশনারের ছোট ভাই কামাল হত্যা মামলার আসামী। নিম্ন আদালতের বিচারের ফাঁসির দন্ডাদেশ হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন।

তিনবাহিনী প্রধানের জীবনী :

সেনাবাহিনীর নব্য প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তার জন্ম ১৯৬১ সালের ১ জানুয়ারি। এইট লং কোর্সে ১৯৮৩ সালের ১০ জুন সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। কর্নেল আজিজ আহমেদ ২০০৫ সালে ৩০ আর্টিলারি রেজিমেন্টে থাকাকালে ২১ হাজার রাউন্ড গুলি খোয়া যাওয়ার কারনে শাস্তি প্রাপ্ত হন। কোর্ট অব ইনকোয়ারি তার চাকুরী ডিসমিস করার জন্য সুপারিশ করে। তারপর ভাগ্যগুনে তার সেনাবাহিনীর চাকুরী বহাল থাকে।

২০০৯ সালে ব্রিগেডিয়ার এবং ২০১২ সালে সেপ্টেম্বরে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ আহমেদকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে বিজিবি’র মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০১২ হইতে ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিজিবির মহাপরিচালক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

বিজিবির মহাপরিচালক হিসাবে থাকার সময় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় নির্বাচনের নামে প্রহসন। তখন সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে জনগণের উপর দেখামাত্র গুলির নির্দেশ তিনি শেখ হাসিনার কাছে আনুগত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০১৬ সালে লেঃ জেনারেল পদে উন্নীত হয়ে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি হন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তাকে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

হারিস আহমেদ

৯০ এর দশকে রাজধানী মোহাম্মদপুরে কিলারবাহিনী প্রধান হারিস আহমেদ নব্য সেনাবাহিনী প্রধান আজিজ আহমেদের বড় ভাই। হারিস দেশে নয় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। ইন্টারপোলের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় নাম রয়েছে হারিস আহমেদের।

১৯৯৬ সালের ৭ মে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে কিলারবাহিনী প্রধান হারিস। ওই খুনের ঘটনায় নিহত মোস্তফার স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় ২০০৪ সালের ২৫ এপ্রিল হারিস আহমেদ কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন নিম্ন আদালত।

হারিস বর্তমানে লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছে। মোহাম্মদপুরের কিলারবাহিনী প্রধান হারিস আহমেদ ছিলেন মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের নেতা হিসাবে। ঢাকার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে একবার কমিশনার পদে নির্বাচনও করেছিলেন।

জোসেফ বাহিনী প্রধান জোসেফ

তোফায়েল আহমেদ জোসেফ। নব্য সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের প্রিয় ছোট ভাই। জোসেফ দেশের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী। ১৯৯৬ সালের ৭ মে খুন হন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান। ওই হত্যা মামলায় ১৯ বছর আগে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন জোসেফ। এ ছাড়াও জোসেফের নামে ঢাকার বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, খুন, অবৈধ অস্ত্র বহনের অভিযোগে অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে ।তবে ব্যাবসায়ী হত্যা মামলায় ২০০৪ সালের ২৫ এপ্রিল যোসেফকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে কারাগারে থাকা আসামীরা জেল আপিল করে। ২০০৭ সালে ওই আপিল ও ডেথরেফারেন্সের শুনানি শেষে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এরপর মামলাটি যায় আপিল বিভাগে। নব্য সেনাপ্রধান আজিজ আহমদ তখন বিজিবি প্রধান। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। আপিলে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ২০১৫ সালের ৯ ই ডিসেম্বর জোসেফের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দেন। এ ছাড়া অস্ত্র মামলায় তাঁর ১২ বছরের কারাদণ্ড হয়।
২০ বছর যাবৎ কারাগারে থাকলেও জেনারেল আজিজ বিজিবি প্রধান হওয়ার পর কারাবন্দি জোসেফবাহিনী প্রধান জোসেফকে চিকিৎসার নামে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে থাকার সুযোগ করে দেয়া হয়। কারাকক্ষে ছিল তার আয়েশি জীবন। ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কারা কক্ষে ছিলেন মাসের পর মাস। যাঁকে খুশি কারাকক্ষে ডেকে নিয়েছেন, আড্ডা দিয়েছেন। আনন্দ ফুর্তি করেছেন। তবে জোসেফ বাহিনীর প্রতি সদয় হয়ে, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফকে গত ৩০ মে ক্ষমা করে দেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। অত্যন্ত গোপনে শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফকে মুক্তি দিয়ে একইদিন বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: