Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284

খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই, অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শিগগিরই আন্দোলনের ডাক আসছে, প্রস্তুত থাকুন : তারেক রহমান 

ডেইলী বিডিটাইমস রিপোর্ট : (লন্ডন) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শিগগিরই আন্দোলনের ডাক আসছে। গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, জেলা, পৌরসভাসহ সকল পর্যায়ে যার যার অবস্থান থেকে কঠোর আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) যুক্তরাজ্য যুবদলের অালোচনা সভায় তিনি সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি এই নির্দেশনা দেন । পূর্ব লন্ডনের দ্যা রয়েল রিজেন্সী অডিটোরিয়ামে ৪১ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি বাংলাদেশের চলমান দুঃসহ পরিস্থিতি,সরকারের দু:শাসন,লুটপাট,ব্যাংক ডাকাতি,গুম,খুন ,নিপীড়নসহ সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি রহিম উদ্দিন। সভা পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক আফজাল হোসেন।
তারেক রহমান বলেন, অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সফল করার মাধ্যমেই জনগণের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। পুনরুদ্ধার হবে আওয়ামী-বাকশালীদের ধ্বংস করে দেয়া গনতন্ত্রকে। তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের মাঠেই জনগণের সঙ্গে দেখা হবে। এবার গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ।
তারেক রহমান বাংলাদেশের সকল তরুণ ও যুব সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন,বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি আন্দোলন শুরু করবে এবং তরুণ ও যুব সমাজকে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে। তারেক রহমান তরুণ ও যুব সমাজের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, সম্প্রতি তরুণ ও যুব সমাজ যেভাবে কোটা এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিল আগামী দিনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনও সেভাবেই হবে।
এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। তবে আন্দোলনের সময় সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যাতে করে মানুষ পুড়িয়ে,লাশের ওপর রাজনীতি করা আওয়ামীলীগ গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে না পারে।
তারেক রহমান বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপির আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের একজন নেতা তার মালিকানাধীন বিহঙ্গ পরিবহনে পেট্রল বোমা মেরে কিভাবে বাসের মধ্যে আগুন দিয়ে ১১ জন মানুষকে হত্যা করেছে সেটি আওয়ামী লীগের আরেকজন নেতাই প্রেস কনফারেন্স করে প্রকাশ করে দিয়েছেন। জনগণ এখনো বলে যায়নি, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে লাশের উপর নেচে উপর নেচে উল্লাস করেছিল। তিনি বলেন, এটাই হলো আওয়ামী লীগের রাজনীতি। রং হেডেড শেখ হাসিনা বাসের উপর পেট্রোল বোমা মেরে লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করে। এমন একটি কিংবা দশটি নয় শত শত প্রমাণ আছে যে আওয়ামী লীগ মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে তারা রাজনীতি করে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা। বিএনপি আন্দোলনে বিশ্বাস করে, গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস করে, বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। বিএনপি ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা। বক্তৃতার শুরুতেই তারেক রহমান খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনের শ্লোগান তুলে ধরে বলেন, ‘ “যদি তুমি ভয় পাও/তবে তুমি শেষ যদি/তুমি রুখে দাড়াও/তবে তুমি বাংলাদেশ’।”

তারেক রহমান বলেন,আমি জানি শুধু আমার দলের নেতাকর্মীরা নয় একই সাথে বাংলাদেশের লক্ষ কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষ আছে, লক্ষ কোটি যুবক আছে, তরুণ আছে যারা বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার উদ্ধার করতে চায়, রুদ্ধ বাক স্বাধীনতা ফিরে পেতে চায়। হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে এই বর্তমানের অবৈধ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে সে সময় রং হেডেড শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রমান সহ ১৪ হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। ক্ষমতা দখলের পর দেখা গেলো শেখ হাসিনা নিজের নামে থাকা মামলাগুলো একটার পর একটা খারিজ করে দিলো। একটি মামলাও তাকে আদালতের মুখোমুখি হতে হলোনা।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এইসব মামলাগুলোর বিষয়ে এখন ভয়ে কেউ প্রশ্ন করার সাহস করছেনা। তারেক রহমান বলেন, কেমন করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির সকল মামলা খারিজ হয়ে গেলো এ নিয়ে কেন কেউ কিছু বলার সাহস করছেনা, দেশের তরুণ ও যুব সম্প্রদায়ের কাছে এ প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান আরো বলেন, সাংবাদিকরা শেখ হাসিনাকে কেন প্রশ্ন করতে পারছেনা যে কি কারণে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা গুলো খারিজ করে দেয়া হলো? তারেক রহমান বলেন, এর জবাব হচ্ছে, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, বাক স্বাধীনতা নেই, নিরাপত্তা নেই।

দেশে বিচার বিভাগের চিত্র তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের একজন প্রধান বিচারপতি যাকে এই অবৈধ সরকারের সময়ই নিয়োগ দেয়া হয়েছিল সেই প্রধান বিচারপতিকে দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ই বর্তমান অবৈধ সরকার জোর করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিল। কেন তাকে তারা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল? কারণ এই প্রধান বিচারপতি যখন দেখলেন তাকে দিয়ে হাসিনা একটির পর একটি ফরমায়েশি রায় বাস্তবায়ন করাচ্ছে একপর্যায়ে তিনি আর শেখ হাসিনার ডাকে সায় দিলেন না। ফরমায়েশি রায় পড়তে অস্বীকার করলেন তখন তাকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হলো।
এর আগেও নিম্ন আদালতের বিচারক মোতাহের হোসেন সাহেবকে মিথ্যা রায় পড়ার জন্য যখন বাধ্য করা হচ্ছিলো, তিনি অবৈধ সরকারের অন্যায় আবদার না শোনায় তাকেও গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়। নির্বাসিত এইসব বিচারপতিরাই এখন জনগণের সামনে প্রকাশ করছেন কিভাবে তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর সবার কাছে এটি এখন পরিষ্কার যে যারা সাধারণ মানুষের বিচার করবে তারাই যেখানে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত সেখানে কিভাবে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিচার পাওয়া সম্ভব? সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেখ হাসিনার চরম প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার বর্ননা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এক বিচারপতিকে ৩ দিন ঘরে আবদ্ধ করে রেখে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রায় দেয়ানো হয়েছে। এই তিনদিন গোয়েন্দা সংস্থা গৃহবন্দি বিচারকের পরিবারের সদস্যদের সাথেও দেখা করতে দেয়নি। বিচারককে জীবনের হুমকি দেখিয়ে বাধ্য করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা রায় দেয়ার জন্য। দেশে এই হচ্ছে বর্তমান বিচার ব্যবস্থার চিত্র। দেশের কোন বিচারপতি এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলতে পারেন না।

সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলার চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্তমান অবৈধ সরকার সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৯০ হাজার মিথ্যে মামলা দিয়েছে। এসব মামলায় ২৫ লাখের বেশি মানুষকে তারা আসামি করেছে। ১৫শ’র বেশি মানুষকে গুম করেছে। পাশাপাশি চলছে সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন। এদের অপরাধ, এরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে। এদের অপরাধ এই মানুষগুলো অবৈধ শেখ হাসিনার সরকারের মিথ্যা, লুটপাট, অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।

শুধু বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধেই নয়, অনেক সাধারণ মানুষ এমনকি ছাত্র তরুণ যুবক যারা কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছিল তাদেরকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হয়েছিল। তাদেরকে নির্মমভাবে, বর্বর জঙ্গিদের মতো হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। অথচ তারা চেয়েছিলো, কোটা সংস্কার। এটি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলন, একটি যৌক্তিক আন্দোলন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অনেকেই এখনো জেলখানায়। তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতাসীনরা একবার বলছে কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নিয়েছি অপরদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী কারো কারো লাশ পাওয়া যায় নদীতে।

দেশে এখন এক আজব কান্ড চলছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সরকারের কথিত একজন উপদেষ্টা যার বেতন মাসে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। ইউরোপে কিংবা আমেরিকা পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশেও কারো বেতন এই পরিমান নেই। তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, বেতন নেয়ার নামে জনগণের টাকা এভাবে খরচের বিষয়টি তারা প্রথমে কেন লুকিয়ে রেখেছিলো? কেন লুকিয়ে রাখতে হবে? তবে অবৈধ সরকারের একজন মন্ত্রী বিষয়টি ফাঁস করে দেয়ায় তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হলো, এমনকি তাকে কয়েক দিন জেলও খাটতে হলো।

জনগণের টাকার যথেচ্ছাচার ব্যবহারের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পত্রিকায় এসেছে রং হেডেড শেখ হাসিনার প্রতিদিনের আপ্যায়নের বিল ২ লাখ টাকা। একদিকে প্রতিদিন দুই লাখ টাকা আপ্যায়ণ বিল অপরদিকে একজনের বেতন ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা এসব হচ্ছে জনগণের ওপর স্টিমরোলার চালানোর নামান্তর।

তারেক রহমান বলেন , বর্তমান ব্যাংক ডাকাত সরকারের নেতামন্ত্ৰীরা লুটপাটে ব্যস্ত। একদিকে হলমার্ক, ডেসটিনির মত নানারকম কোম্পানি খুলে লুটপাট চলছে অপরদিকে খালি হয়ে যাচ্ছে একটার পর একটা ব্যাংক। এরইমধ্যে নতুন আরো একটি ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া হয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরো তিনটি। তারেক রহমান বলেন, এখন চলছে ক্ষমতাসীনদের আখেরি লুটপাট। তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ব্যাংক ডাকাত সরকারের লুটেরারা শুধু ব্যাংক খাত থেকেই গত কয়েক বছরে জনগণের ২ লক্ষ কোটি টাকা গায়েব করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা তছরুপ করছে।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেলো অথচ আজ পর্যন্ত একজনকেও ধরা যায়নি। তিনি বলেন দেশে চলছে এখন লুটপাটের মহোৎসব। জনগণের সম্পদ লুটের এক মহোৎসব। কারো কোন বিচার নেই, কোথাও কোন জবাবদিহিতা নেই।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণ তামা হয়ে যাচ্ছে। এ এক আশ্চর্য ব্যাপার। বিল্ডিং নির্মাণে লোহার রডের পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে বাঁশ। এমনকি রেললাইনেও স্লিপারের মাজখানে দেয়া হচ্ছে বাঁশ। এই বাঁশকে ডিজিটাল বাঁশ আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বেচ্ছারিতার সময় ফুরিয়ে আসছে। এই বাঁশ কোনদিক দিয়ে ঘুরে কোন দিকে যাবে সময়মতো তারা টের পাবে। দেশের জনগণ হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাইয়ে দেবে সেদিন আর বেশি দূরে নয়।

তারেক রহমান বলেন, যখন নিজ বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যা হলো তখন রং হেডেড শেখ হাসিনা বললেন, ঘরে ঘরে ঢুকে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। ঘরে যদি ঢোকা সম্ভব না হয়, তাহলে কেন কোটা সংস্কার আন্দোলন কিংবা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় পুলিশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ঘরে ঘরে ঢুকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ এমনকি ফেসবুক একাউন্ট চেক করলো? তারপর তাদেরকে ধরে এনে নির্যাতন করা হয়েছিল? তিনি বলেন, এই অবৈধ সরকারের সৃষ্ট হেলমেট লীগ কিংবা জাঙ্গিয়া লীগ জনগণের উপর যেভাবে নির্যাতন করছে এর পরিণতি ভালো নয়।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ, গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো যখন ঐক্যবদ্ধ তখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জনগণের ভোট ছাড়া কিভাবে কারচুপি করে আবার আওয়ামী লীগকে জিতিয়ে আনা যায় সেইজন্য নির্বাচন কমিশন এখন ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরির পরিকল্পনা করছে।

তারেক রহমান বলেন, একদিকে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরির পরিকল্পনা অপরদিকে ইভিএম কেনার নামে জনগণের যে চার হাজার কোটি টাকা লুট করার মহড়া চলছে এটি অতিসত্তর বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ভোট চুরি এবং জনগণের টাকা লুটের জন্য তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের তালা ভেঙ্গে বের করে নিয়ে আসতে প্রস্তুত। দলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে গণতন্ত্রের পক্ষের লাখো তরুণ যুবকও প্রস্তুত।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে সরকরের কূটচালের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, এখন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন নস্যাতের অপচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের বীর সন্তান, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের সাহসী প্রেরণা অথচ বর্তমান অবৈধ সরকার নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থে নতুন প্রজন্মের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কারণ দেশের তরুণ ও যুব সমাজকে বিপথগামী করে দেয়া গেলে এই সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে পারবে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের যুব শক্তিকে সংগঠিত করে কাজে লাগাতে ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গঠন করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুব দল। যুব শক্তিকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে ১৯৭৮ সালেই গঠন করেছিলেন যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। কারণ একটি দেশের তরুণ ও যুবশক্তিকে যদি সঠিক পথে পরিচালিত করা না যায়, যদি তারুণ্যের সামনে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তাহলে কাঙ্খিত গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি কোনোটিই সঠিকভাবে টেকসই হয়না।

বক্তৃতায় তারেক রহমান বর্তমান অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যুবদলের যেসব নেতাকর্মী যারা শহীদ হয়েছেন, কারা নির্যাতিত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন , জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন তাদের ত্যাগ ও কষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামাল উদ্দিন,
সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীর পুত্র আবরার ইলিয়াসসহ অনেকে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস আলী, ব্যারিষ্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদসহ অনেকে।

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: