Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /customers/4/a/c/dailybdtimes.com/httpd.www/wp-includes/post-template.php on line 284

৩০ ডিসেম্বর দলে দলে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটে কেন্দ্রে আসুন, ভোট দিন, সারাদিন ভোট কেন্দ্র পাহারা দিন, বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ

ডেইলিবিডিটাইমস : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,আসন্ন নির্বাচন আমাদের জন্য আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ। ৭১ সালে এ দেশের জনগণ যুদ্ধ করেছিলেন  মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য। আর ৩০ ডিসেম্বরের ভোট যুদ্ধ তথা মুক্তিযুদ্ধ মাতৃভূমিকে নিরাপদ করার জন্য। এই যুদ্ধের ময়দান, সারা দেশের ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোট কেন্দ্র। এ যুদ্ধে আমাদের অস্ত্র ব্যালট। এ ব্যালট যুদ্ধে জনগণকে জিততেই হবে। এ যুদ্ধে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণকে পরাধীনতার গ্লানি বয়ে বেড়াতে হবে। লন্ডন থেকে বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০১৮) এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক প্রহর বাকি। জনগণ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবে। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। এমনটিই হওয়ার কথা। কিন্তু দেশে নির্বাচনের পরিবেশ কতটুকু বিরাজমান তা পরিস্থিতিতে বলে দিচ্ছে। নির্বাচন আজ পরিণত হয়েছে নির্যাতনে, প্রহসনে।

বিরোধী দলের বহুপ্রার্থীকে নেতাকর্মীকে গুলি করা হয়েছে,  শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। গায়েবি কিংবা মিথ্যা মামলায় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে। এর কারণ একটাই, বিরোধী দল বিনা বাধায় প্রচারণার সুযোগ পেলে,  জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে জনগণ অবশ্যই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করবে,বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, বিএনপি আগেই বলেছিলো, ক্ষমতালোভী শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তারপরও বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণের শক্তির উপর বিশ্বাস রেখে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যাতে আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচনের সুযোগ না পায়।

তারেক রহমান বলেন, দেশ-বিদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ দেখেছে এবং দেখছে এ নির্বাচনে বিরোধী দলের আন্দোলনের কাছে ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। জনগণের সামনে বেরিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগের কুৎসিত, কদাকার, নির্লজ্জ ও স্বৈরতান্ত্রিক চেহারা।  দলীয় সন্ত্রাসী এবং প্রশাসনের অবৈধ সুবিধাভোগী একটি অংশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ জনগণের বিরুদ্ধে ভোটারদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সহ বিরোধী দলগুলো চায় ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসুক। আর আওয়ামী লীগ চায় সারা দেশে এমন একটি  পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে যাতে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসতে না পারেন।  তাই ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তার প্রধান দু’টি পক্ষ কেবল ধানের শীষ আর নৌকা নয়। বিএনপি আর আওয়ামী লীগ নয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আর মহাজোট নয়।  বরং এখন ভোটের দু’টি পক্ষ, গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্র। স্বাধীনতা বনাম পরাধীনতা। সাড়ে দশ কোটি ভোটার বনাম একটি জনবিচ্ছিন্ন দল। তাই এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের মুক্তির প্রতীক ‘ধানের শীষ’। বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ‘ধানের শীষ’। বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতীক ‘ধানের শীষ’।

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস ও রাজনীতির পালাবদল বিএনপিকে এক চরম সন্ধিক্ষণে নিয়ে এসেছে। সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন পরিণত হয়েছেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সেনানীতে। তাই বিএনপি শুধু নির্বাচনে জয়ের জন্য লড়ছেন। লড়ছে একটি অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বন্দি খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্র মুক্তির জন্য। গত দশ মাস ধরে শুধু একা খালেদা জিয়াই বন্দি নন, বন্দি দেশের গণতন্ত্র প্রিয় দেশের ১৮ কোটি মানুষ।

বারো মিনিটের বক্তৃতায় তারেক রহমান বাংলাদেশের বিজয়ের মাসে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন যাদের প্রাণের বিনিময়ে এসেছে বাংলাদেশের মহান বিজয়। একইসঙ্গে তিনি  বিজয়ের মাসে সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান দেশের সেইসব মানুষদের প্রতি যারা যারা গণতন্ত্র ভালোবাসেন, গণতন্ত্রের জন্য সহ্য করেছেন নির্যাতন, যারা আত্মত্যাগে উজ্জ্বল করেছেন দেশের ইতিহাস।

তারেক রহমান বলেন, ৩০ ডিসেম্বর আরেকটি ইতিহাস রচনার দিন। এ দিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অপশক্তির দাস নাকি মুক্তির ইতিহাস। তিনি বলেন, আওয়ামী  লীগের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই জনগণের নৈতিক বিজয় হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর হবে সেই বিজয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দিন।

এ দিন জনগণ সকল হুমকি-ধামকি, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দলে-দলে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। কারণ বাংলাদেশের জনগণ দুর্বার ও সাহসী, যার প্রমান জনগণ দিয়েছে বারবার, বহুবার, প্রতিবার।

তিনি ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সবার মনে রাখা দরকার, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোটার কয়েক হাজার। আর ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন।  এর মধ্যে সবাই সরকারের তাঁবেদার নন। তাই যত বেশিসংখ্যক  মানূষ দল বেঁধে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে আসবেন,  দুর্বৃত্তরা ততবেশি পিছিয়ে যাবে।  হাজারও ভোটারের ভিড়ে অবৈধ সরকারের তাবেদার কোনোভাবেই আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। তিনি বলেন, আত্নবিশ্বাস রাখুন, সাড়ে দশ কোটি ভোটারের এই শক্তিকে কেউ, কোনো কিছু, কোনো ভাবে রুখতে পারবে না, বলেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ভোট জনগণের আমানত।  আমানত যেভাবে রক্ষা করা হয় ভোটের আমানতকেও সেভাবেই রক্ষা করতে হবে। ভোট প্রদানের পাশাপাশি ভোটের দিন এবং ভোটের আগের দিন স্ব স্ব এলাকার ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষা করাও এলাকার সকল ভোটার ও এলাকাবাসীর দায়িত্ব।

তিনি ভোটারদেরকে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের ভোট প্রদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাউকে ভোট দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ না করার আহবান জানিয়ে বলেন, ভোটের ফল বুঝে নিয়ে বিজয়ীর বেশে ঘরে ফেরার আহবান জানান।

তারেক রহমান বলেন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের শক্তিতে আস্থা রেখে ধানের শীষে ভোট দিন কারণ জনগণের একেকটি ভোটই নিশ্চিত করতে পারে নিরাপদ বাংলাদেশ শান্তির বাংলাদেশ। ৩০ ডিসেম্বর উঠবে গণতন্ত্রের নতুন সূর্য। বিজয় হবে জনগণের, ইনশা আল্লাহ।

তারেক রহমান বলেন, লাখো কোটি নেতা-কর্মী নিয়ে গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে.বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট দেশ এবং জনগণের সঙ্গে রয়েছে। কারণ  বিএনপি বিশ্বাস করে, জনগণই সকল রাজনৈতিক শক্তির উৎস। সরকার হবে জনগণের সেবক ও রক্ষক। এ দেশ জনগণের। কোনো নির্দিষ্ট পরিবার গোষ্ঠী বা দলের নয়।  রাজনৈতিক দল হিসেবে সাড়ে দশ কোটি ভোটারের শক্তিতেই  বিএনপি জোট তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শক্তিমান।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা বিভাজনের এক ধ্বংসাত্মক রাজনীতি তৈরি করেছে। তারা নির্যাতক ও শোষক হিসেবে জনগণের উপর দমন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে, বলেন তারেক রহমান ।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আপনারা দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করছেন। অথচ হীন রাজনৈতিক স্বার্থে আপনারা কাউকে কিছু বলতে দিচ্ছেন না, লিখতে দিচ্ছেন না, বের হতে দিচ্ছেন না। প্রতিটি পেশা, ধর্ম ও বয়সের মানুষকে — আঘাত, আক্রমণ ও নির্যাতন করে সমাজের ঘৃণা, বিতৃষ্ণা ও অভিশাপ ছাড়া আপনারা আর কি অর্জন করেছেন? এভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখাই কি আপনাদের গণতান্ত্রিক চর্চার বৈশিষ্ট? এটাই কি আপনাদের রাজনৈতিক আদর্শ? এ কেমন রাজনৈতিক আদর্শ?

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুবিধাভোগী একটি অংশ জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। স্বৈরশাসকের দেশবিরোধী পরিকল্পনায় আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন না। আপনাদের উপর দেশবাসীর এখনো আস্থা আছে, আশা আছে।  জনগণ বিশ্বাস করে, আপনারা বিবেকবর্জিত কাজ করবেন না’।

প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ‘নিজের দেশের জনতার উপর অত্যাচারের অন্যায় সরকারি নির্দেশ মানতে আপনারা বাধ্য নন। আপনারা এ দেশেরই সন্তান। কারো স্বজন; কারো বন্ধু; কারো প্রতিবেশী। তাহলে কেন নিজের ভাইয়ের দিকে অস্ত্র তাক করছেন? নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন’।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন যা চলছে, এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয় স্রেফ সন্ত্রাস। তিনি বলেন,  সন্ত্রাস করে  মানুষকে কিছুদিন হয়তো দাবিয়ে রাখা যায়। কিন্তু সন্ত্রাসীদের চূড়ান্ত বিজয় হয়না। বিজয় হয় জনগণের।

তিনি বলেন, শত উস্কানি আর অপতৎপরতার মুখেও বিরোধীদল জেল জুলুম সহ্য করে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায় ভোটের লড়াইয়ের অংশ নিয়েছে। কারো পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। এভাবেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনকে চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট ।

তারেক রহমমন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণ যদি বৈধ উপায়ে  নিজ দেশে স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার হারিয়ে ফেলে সেটি কারো জন্যই মঙ্গলজনক হতে পারেনা।

 

Leave a Reply

Go Top
%d bloggers like this: