লেখক: Daily BD Times

  • চৌগাছায় জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ

    চৌগাছায় জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ

    চৌগাছা প্রতিনধি

    যশোরের চৌগাছায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে গতকাল মঙ্গলবার শহরের প্রেসক্লাব চত্তরে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে দলটি। সমাবেশ শেষে শহরে একটি মিছিলে করে।


    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. গোলাম মোরশেদ।

    উপিজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক নুরুজ্জামানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাও নুরুল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আমিন উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি রহিদুল খান, সাবেক প্যানেল মেয়র মাষ্টার কামাল আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন, শ্রমিক নেতা তুহিনুর রহমান, যুব বিভাগের নেতা শাহ আলম প্রমুখ।

    সমাবেশ শেষে হাজার হাজার নেতা কর্মীর অংশ গ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল শরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

  • চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কিশোরের মৃত্যু

    চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কিশোরের মৃত্যু

     

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কিশোর নিহত হয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার ২৪ অক্টোবর সকাল ১০ টার দিকে চৌগাছা – কোটচাঁদপুর সড়কের জাহাঙ্গীরপুর এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।

    এসময় দুইজন কিশোর নিহত হয়। আহত হয় আরও দুইজন।

    নিহতরা হলেন উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের কালিয়াকুন্ডি গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে ইমন (১৬) এবং একই এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল (১৬)। তারা রানিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র ছিল।

     

    আহতরা হলেন ব্রাক ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কেশবপুর উপজেলার বাসিন্দা মিজানুর রহমান এবং ট্রলি চালক রুবেল হোসেন।
    আহত মিজানুর রহমানকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, ইমন ও আশরাফুল দুজন বন্ধু। তারা মোটরসাইকেল যোগে চৌগাছা যাচ্ছিলেন। তাদের চৌগাছাগামী এপাচি আরটিআর মোটরসাইকেল বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ডিসকভারি মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সামনে থাকা বালু ভর্তি ট্রলির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত হয়।

    এ ঘটনায় অপর মোটরসাইকেল চালক মিজানুর রহমান ও ট্রলির চালক রুবেল আহত হন।

    খবর পেয়ে৷ দশপাখিয়া পুলিশ ক্যাম্প ও চৌগাছা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • শিরোনামহীন পোস্ট 2021

     

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় শখের মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় সাগর (১৭) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চৌগাছা-যশোর সড়কের তারিনিবাস মাঝের পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সাগর উপজেলার মাশিলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে সাগর হেলমেট পরিহিত অবস্থায় নিজ বাড়ি থেকে যশোরমুখী যাচ্ছিলেন।

    তারিনিবাস মাঝের পাড়া এলাকায় পৌঁছালে এপাচি আরটিআর মোটরসাইকেলটি (নম্বর: যশোর-ল-১২-২৮০৮) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি কাঁঠাল গাছে ধাক্কা দেয়। এতে সাগর গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • নাটোরের সফল  উদ্যোক্তা আড়াই বিঘা থেকে এখন ২০০বিঘা চাষ, রিক্ত-বিত্ত

    নাটোরের সফল উদ্যোক্তা আড়াই বিঘা থেকে এখন ২০০বিঘা চাষ, রিক্ত-বিত্ত

    নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার একটি সাধারণ গ্রাম খন্দকার মালঞ্চি, যেখানে কৃষিভিত্তিক জীবনযাপনই অধিকাংশ মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। এই গ্রামেই বাবা আশরাফ আলী ও মা আতেজান বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল বারী বাকিবিল্লাহ, যিনি এখন স্থানীয়ভাবে একজন প্রখ্যাত ফলচাষী, উদ্যোক্তা এবং শতাধিক পরিবারের জীবিকার ভরসা।
    প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পেরিয়ে ১৯৯৫ সালে কলেজে ভর্তি হলেও সংসারের অভাব-অনটনে থমকে যায় তার পড়ালেখা। পরিবারের হাল ধরতে বাধ্য হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ বদলানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। চাকরি নয়, নিজেই উদ্যোক্তা হবেন-এই ভাবনা থেকেই যাত্রা শুরু তার।
    শুরুটা হয়েছিল মাত্র আড়াই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ দিয়ে। বাবা-মায়ের দেয়া জমিকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যান তিনি। ২০০৭ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ‘তন্ময় দাস’ ও কৃষি কর্মকর্তা ‘সুভ্রত বাবু’ তার পাশে দাঁড়ান এবং ফল বাগান করার পরামর্শ দেন। সেই উৎসাহে শুরু করেন মাল্টা ও ড্রাগনের মতো উচ্চমূল্যের ফলের চাষ।
    বর্তমানে তার ‘রিক্ত-বিত্ত কৃষি খামার’ এ পেয়ারা, ড্রাগন, বারমাসি আম, মাল্টা, কলা, কমলা, আনারস সহ নানা জাতের ফল উৎপাদিত হচ্ছে। খামারে এখন প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে। তার প্রজেক্ট শুধু বাগাতিপড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি রাজশাহীর-গোদাগাড়ী, নাটোরের লালপুর ও নিজ উপজেলা বাগাতিপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে বিস্তার করেছেন। শুধু মাল্টা চাষেই রয়েছে ৪৫ বিঘা, যেখানে চলতি মৌসুমে তার প্রত্যাশিত আয় প্রায় কোটি টাকা। এই খামারে কাজ করেন প্রায় ১০০ জন শ্রমিক।
    শ্রমিক ইমরান আলী বলেন, আমি ১৬ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। খামার মালিক অত্যন্ত মানবিক। আমাদের অসুস্থতায় কাজ না করলেও তিনি মজুরী দেন, এমনকি চিকিৎসার খরচও বহন করেন। আমাদের পরিবারগুলো এই খামারের আয়ে চলে।”
    শুধু শ্রমিকদের জীবনমান নয়, এই খামারী নিজ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনেরও রোল মডেল হয়ে উঠেছে।
    আব্দুল বারী বাকিবিল্লাহ ফলের মিষ্টতা ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে অর্গানিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। নাইট্রোজেনের ব্যবহার সীমিত রেখে তিনি স্বাস্থ্যসম্মত ফল উৎপাদনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার উৎপাদিত ফল ঢাকা, রাজশাহী সহ দেশের নানা বাজারে পাঠানো হয়।
    মাসিদুল ইসলাম শিপন নামের একজন ফল ব্যবসায়ী জানান, এই বাগানের ফল ভেজালমুক্ত। আমি প্রতিদিন প্রায় ১০০ মন পেয়ারা, ৬০-৭০ মন মাল্টা ঢাকার মোকামে পাঠাই।”
    নাটোর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, বাকিবিল্লাহর মাল্টা বাগান পরিদর্শন করেছি। তার উৎপাদিত মাল্টা খুবই মিষ্টি এবং চাহিদাসম্পন্ন। আমরা তাকে সবধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।”
    খামার পরিদর্শেনে আসা সাবেক এ্যাডিশনাল ডাইরেক্টর মনজুর-উল হক বলেন, আমি একসময় নাটোরের ডিডি ছিলাম। আমরা ২০১৭ সাল থেকে মাল্টা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করলেও সবাই সফল হননি। কিন্তু বাকিবিল্লাহর চাষপদ্ধতি প্রশংসনীয়। তার বাগান রিসার্চ ও লার্নিং সেন্টার হিসেবে কাজ করতে পারে।”
    বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ড. ভবসিন্ধু রায় বলেন, তিনি শুধু একজন সফল চাষী নন, বরং তিনি একটি ফল হাব-গড়ে তুলেছেন। তার খামার পুষ্টি নিরাপত্তা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে দারুণ একটি উদাহরণ। তাকে নিয়ে কৃষি দপ্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য, আমরা লিখেছি আশা করছি তিনি স্বীকৃতি পাবেন।”
    নিজের সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে বাকিবিল্লাহ বলেন, ‘চাকরির আশায় বসে থাকলে আজ আমি এখানে পৌঁছাতে পারতাম না। নাটোরের সাবেক ডিডি খামার বাড়ীর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক থাকা অবস্থায় আব্দুল আওয়াল মহোদয় আমার খামারে এসেছেন এবং তিনি প্রজেক্টের উন্নয়নে ও ফলের গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য নিয়মতি পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি কৃষি অধিদপ্তরের এ্যাডিশনাল ডাইক্টের হযরত আলী স্যার সম্প্রতি আগষ্ট মাসে এসে খামার পরিদর্শন করে স্থানীয় কৃষি দপ্তরকে আরো বেশী নজরদারী রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।’ তিনি এরা বলেন- ‘উদ্যোক্তা হতে হলে ঝুঁকি নিতে হয়, সাহস রাখতে হয়। সৃষ্টিকর্তার উপরে ভরশা রেখে আমি সেই ঝুঁকি নিয়েছিলাম।’
    স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, আব্দুল বারী বাকিবিল্লাহর মতো কৃষি উদ্যোক্তারা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার। কারণ,  আমদানিনির্ভর ফল তিনি উৎপাদন করে দেশের চাহিদা পূরণ করছেন।
    অভাবের তাড়না থেকে উঠে আসা একজন মানুষ এখন একটি বৃহৎ কৃষি উদ্যোগের সফল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রিক্ত-বিত্ত কৃষি খামার আজ শতাধিক পরিবারের জীবিকা, দেশের পুষ্টির উৎস, এবং নতুন উদ্যোক্তাদের প্রেরণার উৎস।
    এমন মানুষদের নিয়ে পরিকল্পিত গবেষণা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহযোগিতা দেওয়া গেলে বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তার সংখ্যা বহুগুণে বাড়বে-যা কর্মসংস্থান ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্কত গুরুত্বপূর্ণ।

  • চৌগাছায় ভোক্ত অধিকারের অভিযানে লাখ টাকা জরিমানা

    চৌগাছায় ভোক্ত অধিকারের অভিযানে লাখ টাকা জরিমানা

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে আইসক্রিম ফ্যাক্টাারিতে এক লাখ টাকা জরিমানা করে আদায় করেছে।
    বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ঝিকরগাছা রোডের ছুটিপুর স্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান। অভিযানে সহযোগিতা করেন চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, জেলা পুলিশের সদস্যরা।
    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয় এই ফ্যাক্টারিতে। অভিযানের সময় দেখা যায় ‘কমলা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি’তে প্রাণ কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে আইসক্রিম, রোবো এবং কোল্ড ড্রিংকস প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল।
    তিরি আরো জানান, “ফ্যাক্টরিটি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনবিহীনভাবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তাছাড়া ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। এসব পণ্য শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং কিডনি পর্যন্ত নষ্ট করতে পারে।”
    এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অবৈধভাবে উৎপাদনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করার অপরাধে আরও ৫০ হাজার টাকা—মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ফ্যাক্টরি মালিককে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছেন।

  • সুন্দরবনে ফুট ট্রেইলে বাঘ

    সুন্দরবনে ফুট ট্রেইলে বাঘ

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

     

    বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের হাড়বাড়িয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে ঘটেছে এক বিরল ঘটনা। কাঠের তৈরি উঁচু হাঁটার পথ অর্থাৎ ফুট ট্রেইলে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে এক প্রাপ্তবয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে।

    সম্প্রতি  নিয়মিত টহলের সময় বনরক্ষীরা বাঘটিকে ফুট ট্রেইলের ওপর দেখতে পান। সৌভাগ্যবশত তখন সেখানে দেশি-বিদেশি কোনো পর্যটক ছিলেন না। এতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

    বনরক্ষীরা বাঘটিকে দেখে আতঙ্কিত না হয়ে চিৎকার ও হাঁকডাক শুরু করেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর বাঘটি ধীরে ধীরে ফুট ট্রেইল থেকে নেমে সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে প্রবেশ করে।

    এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, শনিবার সকালে হাড়বাড়িয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বনরক্ষীরা ফুট ট্রেইলে একটি প্রাপ্তবয়স্ক বাঘ দেখতে পান। পরে তাদের হাঁকডাকের কারণে বাঘটি বনের ভেতরে চলে যায়। এটি সত্যিই বিরল দৃশ্য, কারণ সুন্দরবনের কোনো ফুট ট্রেইলে এর আগে কখনও বাঘ দেখা যায়নি।

    তিনি আরও বলেন, হাড়বাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বাঘের অবাধ বিচরণ রয়েছে। কেন্দ্রের দিঘির পাড়েও প্রায়ই বাঘের দেখা মেলে। তবে এই প্রথমবারের মতো কোনো ফুট ট্রেইলে বাঘ উঠতে দেখা গেল।

    স্থানীয় বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে বাঘের দেখা মেলার ঘটনা বেড়েছে, যা ইকোসিস্টেমের জন্য ইতিবাচক হলেও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

  • যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মামার বদলে ভাগনে !

    যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মামার বদলে ভাগনে !

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

    যশোরে ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার মতো মামার পক্ষে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে গেছেন ভাগনে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে এ ঘটনা ঘটেছে। কারা অভ্যন্তরে আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাইকালে এটি ধরা পড়ে। পরে কারাগারে যাওয়া আসামিও বিষয়টি স্বীকার করেন।

    কারাগারে যাওয়া আসামি মো. শামীম আহম্মেদ (২৭) যশোর সদর উপজেলা ভেকুটিয়া গ্রামের জামশেদ আলীর ছেলে। শামীম তার আপন ছোট মামা হাসানের পক্ষে প্রক্সি দিতে কারাগারে গেছেন। হাসান বড় ভেকুটিয়া গ্রামের মন্টুর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার আবিদ আহম্মেদ।
    যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলা বড় ভেকুটিয়া গ্রামের হাসানের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে গত ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর মামলা দায়ের হয়। কোতোয়ালি থানার মামলা নং-২৪, তারিখ-০৯.১১.২০২৪, জি, আর-৯৩১/২৪ ধারা-৪৪৮/৩২৩/ ৩৫৪/৩৮৪/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬ দ. বি.। এই মামলায় আসামি হাসানের বিরুদ্ধে ৩/৪ বার আদালতে হাজিরাও দেন হাসানের ভাগনে শামীম। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শামীম আদালতে হাজিরা দিতে গেলে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ফলে আসামি হাসানের পরিবর্তে কারাগারে প্রেরণ করা হয় শামীমকে।

    এদিকে, শামীম কারাগারে যাওয়ার পর আদালত হতে প্রাপ্ত তথ্য এবং আসামির নাম, পিতার নাম, ঠিকানা যাচাইয়ের সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফলে কারাগারের চৎরংড়হ ও সিস্টেমের মাধ্যমে তার ফিঙ্গার প্রিন্টে (এন আইডি নং-১৯৫৫১৪৭৪৪০) প্রকৃত নাম মো. শামীম আহম্মেদ সনাক্ত হয়।

    কারা সূত্র আরও জানিয়েছে, আসামি হাসানের পরিবর্তে কারাগারে যাওয়া শামীম জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে হাসান তার আপন ছোট মামা। মামার পরিবর্তে সে ৩/৪ বার আদালতে হাজিরাও দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে আদালতে প্রেরণ করেছে। এখন আদালতের নির্দেশে শামীমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং মূল আসামি হাসানের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

    খুলনার পাইকগাছায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন একটি ভাস্কর্য অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। পাইকগাছা–কয়রার তৌহিদী জনতার ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হয়।

    আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সদরে এই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটি ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তাঁরা আরও বলেন, ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ দেশে ভাস্কর্যের রাজনীতির অবসান ঘটেছে। এখন থেকে আর কোনো ভাস্কর্যের রাজনীতি এই দেশে স্থান পাবে না।

    বক্তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণ না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার বিকল্প থাকবে না। তখন সব দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

    মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আবদুল আজিজ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন হাফেজ মাওলানা আবদুর রব, মুফতি ওয়াইস কুরনী, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা শামসুদ্দিন, মাওলানা রইসুল ইসলাম, মাওলানা সাঈদুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, আসাদুল্লাহ, আতাউল গণি, ইলিয়াস আমিন, ফরহাদ হুসাইন প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, পাইকগাছা–কয়রা সড়কের পাশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর আলোচনা করে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখে। বর্তমানে ভাস্কর্যটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

  • চৌগাছায়  ভূয়া চিকিৎসক!

    চৌগাছায় ভূয়া চিকিৎসক!

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
    যশোরের চৌগাছায় এক ভূয়া চিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।  বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসমিন জাহান।
    অভিযানে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন যশোর সদর উপজেলার শংকরপুর এলাকার মরহুম আবু বক্কর বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল আলীম (৫০)। তিনি চৌগাছা-যশোর রোডের পাওয়ার হাউস মোড়ের উত্তর পাশে ছালেহা মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত ‘আদর্শ মেডিকেল হল’-এ কথিত চিকিৎসক হিসেবে চেম্বার পরিচালনা করছিলেন।
    ভ্রাম্যমাণ আদালতসুত্রে জানা যায়, আব্দুল আলীম দীর্ঘদিন নিজেকে সহকারী ই.এন.টি. ফিজিশিয়ান মেডিকেল প্র্যাকটিশনার পরিচয়ে রোগী দেখছিলেন এবং প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলেন। অথচ তাঁর কাছে চিকিৎসা সেবার জন্য প্রয়োজনীয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) অনুমোদিত কোনো নিবন্ধন নেই।
     আরও জানা যায়, তিনি প্রায় ৬-৭ মাস ধরে এই চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন এবং একই সঙ্গে যশোর সদর উপজেলার শংকরপুর এলাকার গফুরের মোড়ে অবস্থিত ‘মেসার্স আলীম ফার্মেসি’তে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখতেন।
    অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, ভুয়া ডাক্তারদের কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হচ্ছেন। এ ধরনের প্রতারণা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান থাকবে।
  • কালীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি, জরিমানা

    কালীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি, জরিমানা

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

     

    কালীগঞ্জে মাংস বিক্রির দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বুধবার সকালে পৌরসভার হাটচাঁদনী ও খাদ্য অফিসের সামনে মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) শাহিন আলম।

    এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরু ও ছাগলের মাংস বিক্রি করার অপরাধে ২ মাংস ব্যবসায়ীকে দেড় হাজার টাকা করে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়াও নলডাঙ্গা রোডে পচা মাংস বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীর মাংস মাটিতে পুতে ফেলা হয়।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম জানান, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে মাংস বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থায় জেল জরিমানা হতে পারে।

    অভিযানকালে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জিল্লু রাইন, পৌর স্যানিটারী ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেনসহ কালিগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।