লেখক: Daily BD Times

  • চৌগাছায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিবাদ মিছিল

    চৌগাছায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিবাদ মিছিল

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে যশোরের চৌগাছায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিবাদ মিছিল করেছে।

    ১৬ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় চৌগাছা উপজেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা রাশেদুল ইসলাম রিতম এর নেতৃতে চৌগাছা প্রেসক্লাব মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    মিছিলে অংশগ্রহণ করেন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের চৌগাছা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি শিহাব উদ্দিন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হুরাইরা বিন লাম, মাহিন, সাকিনুর রহমান শুভ, ফজলুর রহমান রাব্বি, ইসরাত হামদা কুয়াশা, রিফাত আহমেদ, নিহাল আহমেদ, সম্রাট শাকিল হোসেন, সাগর আহমেদ, আজিজুর রহমান, মাহাফুজ আলম, ইয়াসিন আরাফাতসহ সাধারণ ছাত্ররা।

    মিছিল শেষে প্রেসক্লাব মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

    উল্লেখ্য সারা দেশে পথযাত্রার অংশ হিসেবে ১৬ জুলাই দুপুরে গোপালগঞ্জ থেকে মাদারীপুরে রওয়ানা দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে তাঁদের ওপর হামলা চালায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বেলা ৩টায় মাদারীপুরে এনসিপির সমাবেশের কথা থাকলেও হামলার কারণে তাদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি।

  • কালীগঞ্জের রিজুর জিপিএ-৫ অর্জন , চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

    কালীগঞ্জের রিজুর জিপিএ-৫ অর্জন , চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

    কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ চিনিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (বিজ্ঞান) পরীক্ষায় অংগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে রিজু আহমেদ। সে কালীগঞ্জ থানা আড়মুখী গ্রামের  মোঃ মামুন বিশ্বাস ও হ্যাপি খাতুন দম্পতির ছোট ছেলে। সে সকলের দোয়া প্রার্থী। রিজু ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়।
    রিজুর এই সাফল্যের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দসহ সকলের প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
  • চৌগাছায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ আলামিনের পরিবারের সাথে জামায়াত নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    চৌগাছায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ আলামিনের পরিবারের সাথে জামায়াত নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ আলামিনের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন যশোর জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সকালে সাক্ষাৎ শেষে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে আলামিনের কবর জিয়ারত করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

    জানাযায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদ আলামিনের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন,
    শহীদ আলামিনের গর্বিত পিতা আনোয়ার হোসেন বাবু, যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও. গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাও নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক প্যানেল মেয়র মাষ্টার কামাল আহমেদ, শুরা সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান মাও আব্দুল লতিফ, ফুলসারা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাও. শরিফুল ইসলাম,সেক্রেটারি মাষ্টার এনামুল হক, সাবেক সভাপতি ও ইউপি সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন জামায়াত নেতা মাসুদ, মাসুম,হাবিবুর রহমান,মাও ফকরুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ আলী, আলমগীর কামাল, সাইফুল ইসলামসহ আলামিনের পরিবারে সদস্য ও স্থানীয়রা।

    উল্লেখ্য, চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়নের আফরা গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাবুর ছেলে আল আমিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দাবি আদায়ে বরিশালের রাজপথে তিনিও ছিলেন সরব। ১৮ জুলাই রাতে আল আমিনের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় দূবত্তিরা। আগুনে ঝলসে মারাত্মক আহত হন তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল মেডিকেল এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন। অবশেষে ১৫ আগস্ট মৃত্যু বরণ করেন।

  • সেই আদমপুর বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে মোদি, পাকিস্তানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি

    সেই আদমপুর বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে মোদি, পাকিস্তানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি

    এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পেছনে রেখে পাঞ্জাবের আদমপুর বিমানঘাঁটি থেকে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, পাকিস্তান শুধু ভারতের কোনো সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে ব্যর্থই হয়নি, যদি তাদের মাটি থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তাহলে তাদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে এটিই ছিল নরেন্দ্র মোদির প্রথম ভাষণ। তিনি চার দিনের অভিযানে নয়টি ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ ধ্বংস এবং পাকিস্তানের আটটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানায় সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    প্রায় ২৭ মিনিট দীর্ঘ ওই ভাষণে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আপনারা যা করেছেন, তা অভূতপূর্ব, অকল্পনীয় ও বিস্ময়কর।’ তাঁর এই বক্তব্যে কার্যত সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া মোদির ভাষণের বার্তাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

    তবে মোদির এই ভাষণের তাৎপর্য অনেক। ভাষণটি পাঞ্জাবের আদমপুর বিমানঘাঁটি থেকে দেওয়া হয়। এটি পাকিস্তান সীমান্ত থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পাকিস্তান দাবি করেছিল, তারা এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ–ব্যবস্থাসহ ঘাঁটিটি ধ্বংস করেছে। ভারত এসব দাবি সরাসরি উড়িয়ে দেয়।

    নরেন্দ্র মোদি বলেন, অপারেশন সিঁদুর এখন পাকিস্তানের জন্য একটি স্পষ্ট ‘লক্ষ্মণরেখা (চূড়ান্তসীমা)’ টেনে দিয়েছে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই মঙ্গলবার ভোরে তিনি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান এবং ইউনিফর্মে থাকা বিমানবাহিনীর সেনাদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় সেনারা ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি দেন।

    সেনাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর নরেন্দ্র মোদি ভাষণ দেন। এ সময় পেছনে দৃশ্যমান ছিল এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা আর তাঁর মাথায় ছিল ‘ত্রিশূল’ চিহ্ন–সংবলিত দেশটির বিমান বাহিনীর ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের টুপি।

    সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকরা এখন বুঝে গেছে, ভারতের দিকে দৃষ্টি দেওয়া মানেই তাদের নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।’

    উল্লেখ্য, আদমপুর ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানঘাঁটি। এখানে রাফাল ও মিগ-২৯ স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে। ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে এই বিমানঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

    সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন (১৪ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের অস্ত্র চুক্তি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রিয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে এসব চুক্তি হয়। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার এই চুক্তি ছাড়াও দেশটিতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের চুক্তি করেছে সৌদি আরব।

    সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে এসব চুক্তি সইয়ের পর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশ সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আজ ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে তা বেড়ে ১ ট্রিলিয়ন (এক হাজার বিলিয়ন) ডলারে উন্নীত হবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে তিন দিনের সফরের প্রথম দিনে আজ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। এরপর দুজন প্রাথমিক বৈঠক করেন। পরে সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। হোয়াইট হাউস বলছে, এদিন সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তি’ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি চুক্তির আওতায় মোট পাঁচটি খাত রয়েছে। সেগুলো হলো বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও মহাকাশ সক্ষমতা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থলবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশটির সেনাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামরিক চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে কাজ করা হবে। অস্ত্র চুক্তি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্যাস টারবাইন, উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।

    চুক্তি স্বাক্ষরের পর মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘অসাধারণ একজন মানুষ’ অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সৌদি আরব একটি ‘চমৎকার জায়গা’। এখানে ‘চমৎকার মানুষ’ বসবাস করেন।

    সৌদি আরব সফর শেষে আগামীকাল বুধবার কাতার যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) যাবেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এ সফরের সময় ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ইসরায়েল ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা নেই ট্রাম্পের। এমন সিদ্ধান্তের কারণে ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ইসরায়েলে না গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ সফরের সময় বৃহস্পতিবার তুরস্কে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দেশটির ইস্তাম্বুল শহরে অনুষ্ঠিত মস্কো ও কিয়েভের বৈঠকে অংশ নিতে পারেন তিনি। গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই এই যুদ্ধ থামাতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। গত শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। কূটনৈতিক এই আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি আগে থেকেই দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

  • আট বছর পর নেমেসিসের অ্যালবাম

    আট বছর পর নেমেসিসের অ্যালবাম

    আট বছর পর অ্যালবাম আনার ঘোষণা দিল নেমেসিস। ২৩ মে প্রকাশ পাবে ব্যান্ডটির চতুর্থ অ্যালবাম ভিআইপি। ব্যান্ডের ভোকালিস্ট ও গিটারিস্ট জোহাদ রেজা চৌধুরী জানান, অ্যালবামে ‘ভিআইপি’, ‘ঘুম’, ‘ডাক’, ‘মায়া’, ‘তোমার চেহারা’সহ ১০টি গান থাকবে। অ্যালবামের ‘ঘোর’ ও ‘ভাঙা আয়না’ শিরোনামের দুটি গান আগেই প্রকাশিত হয়েছে।

    স্পটিফাই, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১০টি গান একসঙ্গে প্রকাশ করবে নেমেসিস। অ্যালবামটি নিয়ে জোহাদ রেজা চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রায়ই ভিআইপি কালচার দেখি, রাস্তাঘাটে বের হলে ভিআইপিদের জন্য অপেক্ষা করতে হয়; ট্রাফিকে আটকে থাকতে হয়। প্রতিদিন কেউ না কেউ ভুক্তভোগী হন। ভিআইপি কালচার নিয়েই “ভিআইপি” গানটি করেছি।’

    অ্যালবামের ধরন নিয়ে জোহাদ বলেন, ‘সাউন্ডওয়াইজ আরেকটু নিরীক্ষা করার চেষ্টা করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি ইলেকট্রনিক মিউজিক খুব পছন্দ করি। তাই সেই সাউন্ডগুলো নতুন গানে যুক্ত করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটা গান লিরিক অনুযায়ী আরও বেশি আপন মনে হয়েছে। কারণ, এসব গানের বেশির ভাগই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বানানো। ২৫ বছর ধরে নেমেসিস আছে, তাই আরেকটু নিরীক্ষাধর্মী কাজ না করলে নিজেদের মধ্যে অনুতাপ থেকে যাবে ভেবেছি।’

    ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে নেমেসিস। ২০০৫ সালে আসে তাদের প্রথম একক অ্যালবাম অন্বেষণ। ২০১১ সালে দ্বিতীয় অ্যালবাম তৃতীয় যাত্রা। ২০১৭ সালে গণজোয়ার। ‘বীর’, ‘নির্বাসন’, ‘তৃতীয় যাত্রা’, ‘এগিয়ে যাও’, ‘গণজোয়ার’সহ বেশ কয়েকটি গানের জন্য শ্রোতাদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে নেমেসিস।

    বর্তমানে নেমেসিসের সদস্য পাঁচজন। লাইনআপ হচ্ছে জোহাদ রেজা চৌধুরী (ভোকাল ও গিটার), রাফসান (গিটার), ইফাজ (গিটার), রাতুল (বেজ গিটার) ও জেফ্রি (ড্রামস)।

  • সেই আদমপুর বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে মোদি, পাকিস্তানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি

    সেই আদমপুর বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে মোদি, পাকিস্তানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি

    এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পেছনে রেখে পাঞ্জাবের আদমপুর বিমানঘাঁটি থেকে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, পাকিস্তান শুধু ভারতের কোনো সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে ব্যর্থই হয়নি, যদি তাদের মাটি থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তাহলে তাদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে এটিই ছিল নরেন্দ্র মোদির প্রথম ভাষণ। তিনি চার দিনের অভিযানে নয়টি ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ ধ্বংস এবং পাকিস্তানের আটটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানায় সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    প্রায় ২৭ মিনিট দীর্ঘ ওই ভাষণে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আপনারা যা করেছেন, তা অভূতপূর্ব, অকল্পনীয় ও বিস্ময়কর।’ তাঁর এই বক্তব্যে কার্যত সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া মোদির ভাষণের বার্তাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

    তবে মোদির এই ভাষণের তাৎপর্য অনেক। ভাষণটি পাঞ্জাবের আদমপুর বিমানঘাঁটি থেকে দেওয়া হয়। এটি পাকিস্তান সীমান্ত থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পাকিস্তান দাবি করেছিল, তারা এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ–ব্যবস্থাসহ ঘাঁটিটি ধ্বংস করেছে। ভারত এসব দাবি সরাসরি উড়িয়ে দেয়।

    নরেন্দ্র মোদি বলেন, অপারেশন সিঁদুর এখন পাকিস্তানের জন্য একটি স্পষ্ট ‘লক্ষ্মণরেখা (চূড়ান্তসীমা)’ টেনে দিয়েছে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই মঙ্গলবার ভোরে তিনি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান এবং ইউনিফর্মে থাকা বিমানবাহিনীর সেনাদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় সেনারা ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি দেন।

    সেনাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর নরেন্দ্র মোদি ভাষণ দেন। এ সময় পেছনে দৃশ্যমান ছিল এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা আর তাঁর মাথায় ছিল ‘ত্রিশূল’ চিহ্ন–সংবলিত দেশটির বিমান বাহিনীর ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের টুপি।

    সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকরা এখন বুঝে গেছে, ভারতের দিকে দৃষ্টি দেওয়া মানেই তাদের নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।’

    উল্লেখ্য, আদমপুর ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানঘাঁটি। এখানে রাফাল ও মিগ-২৯ স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে। ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে এই বিমানঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • জিপিও ভবন ‘সচিবালয়ে যুক্ত করার প্রস্তাবের’ প্রতিবাদ

    জিপিও ভবন ‘সচিবালয়ে যুক্ত করার প্রস্তাবের’ প্রতিবাদ

    রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও) ভবন ও ডাক বিভাগের সাবেক প্রধান কার্যালয়কে পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত উল্লেখ করে তা সচিবালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তার প্রতিবাদ করেছেন বিভাগের কর্মীরা। পাশাপাশি এই প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    সম্প্রতি বিসিএস পোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ও ডাক বিভাগের (ডাক জীবন বীমা, পূর্বাঞ্চল, ঢাকা) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আতিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ‘জিপিও ভবন পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত’ দাবি করে তা সচিবালয়ের এক্সটেনশন হিসেবে সচিবালয়ের মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্তি ও হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    এ প্রস্তাবে উল্লিখিত তথ্যকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, জিপিও কম্পাউন্ড সরকারঘোষিত একটি কেপিআইভুক্ত স্থাপনা। এখানে ডাক বিভাগের ১৪টি অপারেশনাল অফিস সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখান থেকে ডাকসেবা গ্রহণ করছে। ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার এই কেন্দ্র কখনোই পরিত্যক্ত ছিল না।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ডাক ভবনে স্থানান্তরিত হলেও অন্যান্য অপারেশনাল অফিস আগের মতো জিপিও কম্পাউন্ডেই চলমান।

    ডাক বিভাগের মতামত ছাড়াই এ ধরনের চিঠি দেওয়া এবং তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করায় নিন্দা জানিয়ে বিসিএস পোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, জিপিও ভবন শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি ডাক বিভাগের প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাণের জায়গা, তাদের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই ভবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো উদ্যোগকে তারা সরাসরি দেশের ডাকসেবার ওপর আঘাত হিসেবেই বিবেচনা করে।

  • সাবেক সংসদ সদস্য রুবিনা আক্তার ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের পৃথক মামলা

    সাবেক সংসদ সদস্য রুবিনা আক্তার ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের পৃথক মামলা

    জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই অভিযোগে তাঁর স্বামী মো. মোশারফ হোসাইন সরদারের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক রেজাউল করিম বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।

    রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা নিজের নামে ১ কোটি ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৪ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন, যার বৈধ কোনো উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাঁর নামে থাকা ১০টি ব্যাংক হিসাবে ১৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৯৬৪ টাকা জমা এবং ১৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬৬৮ টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

    দুদক জানায়, এসব লেনদেন সন্দেহজনক এবং তা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    একই ধরনের অভিযোগে সৈয়দা রুবিনা আক্তারের স্বামী মো. মোশারফ হোসাইন সরদারের বিরুদ্ধেও একটি মামলা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি নিজের নামে ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে থাকা তিনটি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ১৮৪ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৪০৪ টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ১৮২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৮ টাকা। এ হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

    এ মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন। মো. মোশারফ হোসাইন সরদারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্ত্রী রুবিনা আক্তারের সহায়তায় তিনি এসব করেছেন।

  • মাছের বাজারে চেরি ব্লসম

    মাছের বাজারে চেরি ব্লসম

    টকটকে লাল ট্রেনটা অন্তত দুবার ঘুরে গেল আমাদের সামনে দিয়ে। ট্রেনের জন‍্য অপেক্ষা করতে করতে আমাদের একটা আইসক্রিম খাওয়া শেষ। আরেকটি খাব? এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গরমও লাগছে। আইসক্রিমের লাইনে বিরাট লম্বা ভিড়। ট্রেনে চড়ার লাইনেও। কোনটা ধরব? টরন্টো শহরে লাইনে না দাঁড়িয়ে কোনো কিছু করার মতো অর্বাচীন আছে কে?

    তৃতীয়বারও ট্রেনটা একদম যাত্রীভর্তি হয়ে আমাদের স্টপেজে এল, আর এখান থেকে কোনো যাত্রীই নিল না। টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে আছে এক জেন-জি। ‘আমি কী করব’-জাতীয় ভাব ধরে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে সে।

    আমার বন্ধু ফারজানা শাহরিনের জেদ চেপে গেল। ‘তুই এইখানে দাঁড়া, কাহিনি কী দেখে আসি,’ বলে আমি তার পিছু নেওয়ার আগেই জ‍্যাকেট, ব‍্যাগসহ ছুট দিলাম সামনে। ওখান থেকে ফোনে জানাল আসল কাহিনি। ওটা প্রথম স্টপেজ। সেখান থেকেই একদম ভরে পরের স্টপেজগুলোয় আসছে। এটাও কি সম্ভব! ওরা সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী তুলবে না! মতিঝিল কিংবা ফার্মগেটের কন্ডাক্টর হলে এমনটা করতে পারত! আর আমাদের এত কষ্ট করে ট্রেনে ওঠার কী দরকার! চেরি তো আমরা দেখেই ফেলেছি। আর ট্রেনে কি জীবনে উঠিসনি। আমরা তো ট্রেনে যমুনা ব্রিজ পার করেছি, কতবার আমার মা-খালারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পার করেছে…আর কানাডার এই খেলনা ট্রেন… ‘দৌড় দিয়ে এই স্টপে আয়। ট্রেন প্রায় চলে এসেছে,’ শাহরিনের শীতল কণ্ঠ শুনে আমি আর তর্ক করার সাহস পেলাম না।

    গিয়ে শুনি ওখানেও এতক্ষণ ছিল এক জেন-জি। এই স্টপেজেই ট্রেন ভরে গেলে পরের স্টপেজে মানুষ উঠবে কীভাবে, এ নিয়ে তার হেলদোল নেই। যাক, বুদ্ধি করে প্রথম স্টপেজে এসে ট্রেন ধরব আর পরের স্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর দিকে ‘কানাডিয়ান নাইসনেস’ দেখিয়ে বেশ একটা সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকাব, একটু মাথা নেড়ে ‘সরি’ বলার ভঙ্গি করব, এসব ভেবে ভালো লাগছে। এর মধ্যে জেন-জির শিফট শেষ হলো। এলেন বুমার আর মিলেনিয়ালের মাঝামাঝি এক নারী। ট্রেন এলে কয়েকটা সিট ভরলে তিনি রীতিমতো দরজা আগলে ‘নো, নো, নেক্সট ট্রেন’ করতে থাকলেন।

    আমরা এসেছি টরন্টোর হাই পার্কে চেরি ব্লসম দেখার মৌসুমে। সকালে-বিকেলে জ্যাকেট লাগে, আবার দুপুরে কটকটে রোদ। কানাডার আবহাওয়ার মুড সুইংয়ের সময় এটা। অবশ্য তৈরি হয়েই এসেছি আমরা। জ‍্যাকেটের নিচে পছন্দের পোশাক, ব‍্যাকপ‍্যাকে পানি।

    লাল টুকটুকে ছোট্ট একটা ট্রেন। বড়জোর ১৫-২০ জন বসতে পারে। লাল লাল বেঞ্চ। ট্রেন বলাও যায় না বোধ হয় একে। ট্র্যাক নেই কোনো। চারপাশ খোলা। টরন্টো শহরের মধ্যে হাই পার্কটা এত বিশাল, ট্রেনে চড়ে একবারে ঘুরে দেখার জন্যই রয়েছে এটা। এটুকু ট্রেনে ওঠার জন্য এত পাগল হওয়ার কী আছে! এ তো শিশুপার্কের ট্রেনের চেয়েও ছোট! আমরা আন্তনগর ভেজে খেয়ে ফেলার দেশের মানুষ। আমার বন্ধুর এই ট্রেন ব‍্যাকুলতার কোনো ব‍্যাখ‍্যা নেই।

    তবে সিটি বাজিয়ে সত্যিই যখন ট্রেনটা চলা শুরু করল, মুখে লাগল হাই পার্কের ঘাস-মাটি আর দূর থেকে আসা কোনো ফুলের মিষ্টি গন্ধ—আমি আমার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে হাসলাম যার অর্থ, ‘ইটস টোটালি ওয়ার্থ ইট।’ পাল্টা হাসিতে সে-ও বুঝিয়ে দিল, ‘জানতাম।’ স্কুলজীবনের বন্ধুদের তো আর সব মুখে বলে বোঝাতে হয় না!

    দুই-তিন স্টপেজ পরেই আমরা নেমে গেলাম। ছবি তুলতে হবে তো! ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বড় ক‍্যামেরা, ট্রাইপড, বিরাট বিরাট লাইট নিয়ে ছবি তুলতে এসেছে মানুষ। বড় গাছগুলোর সামনে বেজায় ভিড়। আমরা ধারেকাছেই যেতে পারছি না। এরপর ঠিক করলাম আমাদের তো গাছ দরকার নেই। লাগবে চেরি ফুলের বড়সড় কয়েকটা ছড়া। একটু ফাঁকা দেখে ছোট একটা গাছ খুঁজে বের করে জ‍্যাকেট-ব্যাগ মাটিতে রেখে ছবি তোলা শুরু করলাম। পরে দেখি অনেকেই এই বাঙালি বুদ্ধি খাটানো শুরু করল। ছোট গাছের সামনেও ভিড় জমতে থাকল। আমরা ফোন চেক করলাম। অন্তত পাঁচটা ছবি হয়েছে না পোস্ট করার মতো! আবার চোখাচোখিতে যোগাযোগ, ‘ডান! চল এবার খেতে যাই।’

    ওগো বিদেশিনী/ তোমার চেরি ফুল দাও/ আমার শিউলি নাও

    চেরি ফুলের ছবি পোস্ট করেছি আর এই কথাটুকু কেউ মন্তব্যে লেখেনি, আজ পর্যন্ত তা ঘটেনি। এই গান আমার আগে শোনা হয়নি। ব‍্যাপারটা কী। একবার ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখলাম। লাল মেমসাহেব সিনেমার গান। প্রয়াত শিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরের গাওয়া গান। অভিনয়ে অলিভিয়া ও ওয়াসিম।

    পুরো গানটা শুনে বুঝলাম চতুর্থ লাইনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
    ওগো বিদেশিনী
    তোমার চেরি ফুল দাও
    আমার শিউলি নাও
    দু’জনে প্রেমে হই ঋণী

    চেরি ফুল নিয়ে এত সুন্দর গান কি জাপানেও হয়েছে? আমি হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় ক‍্যাটাগরিতে পড়ি। একদল আছে না, যাদের বিদেশের সবকিছুই ভালো লাগে। আরেক দল যা-ই দেখে মুখ বাঁকা করে বলে এ তো আমাদের দেশেই আরও ভালো পাওয়া যায়!

    শিউলির সঙ্গে চেরির অদলবদল? নাহ আমি মনে হয় রাজি হতাম না। এক, চেরি ফুলের স্থায়িত্ব খুব কম। মার্চ-এপ্রিল-মে বলা হলেও গোটা বছরে বড়জোর সপ্তাহ চারেক থাকে এই ফুল। আর তার চেয়েও বড় কথা, আমি আসলে আজ অবধি বুঝিইনি এর হালকা গোলাপি থেকে সাদার মাঝের নরম, খুব সূক্ষ্ম সৌন্দর্য। আমরা তো আগুনরঙা ফুলের দেশের মানুষ—কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, জবা, রক্তকরবী, জারুল। আমাদের হালকা রঙের ফুলগুলোও তীব্র সুগন্ধে জানান দেয় তার উপস্থিতি—শিউলি, বকুল, হাসনাহেনা, কামিনী। অত নরম, পলকা, ‘এসেই বলে যাই যাই’ চেরিতে আমাদের পোষায় নাকি!

    ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইছবি: রুহিনা তাসকিন

    তবে কানাডার সরকার কিন্তু এই গানের কপিরাইট নিয়ে অনুবাদ করে কাজে লাগাতে পারে। কানাডার চেরি ফুল সব জাপানের উপহার দেওয়া। বন্ধুত্ব-সৌহার্দ‍্যের প্রতীক হিসেবে। এর বদলে কানাডাও কিন্তু গান গেয়ে ধন্যবান জানাতে পারে।
    কানাডার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গাইছেন—ওগো বিদেশিনী তোমার চেরি ফুল দাও/ আমার মেপল নাও।
    দারুণ না ব‍্যাপারটা!

    শহরের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা

    ‘ছয় টাকা ভাড়া। যাবেন?’
    ‘ওঠেন।’
    রিকশাওয়ালার এই কথা শুনলেই আমার খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করত। তার মানে আমরা বড় খালার বাসায় যাচ্ছি। আর খালার বাসায় যাওয়ার পথেই পড়বে সেই রাস্তাটা। জানি, তা-ও জিজ্ঞেস করতাম, ‘আমরা কি ওই রাস্তাটা দিয়ে যাব?’ অনেক পরে জেনেছি, ওই রাস্তাটা হলো শহীদ মিনার থেকে নীলক্ষেত। লাল কৃষ্ণচূড়া কিংবা রাধাচূড়ায় ভরা। আমি আজও এই দুই ফুলের পার্থক্য মনে রাখতে পারি না।

    শহীদ মিনারের দিকে এগোতে থাকলেই আমরা রিকশার হুড ফেলে দেব। আম্মা শক্ত করে ধরে রাখবেন চার-পাঁচ বছরের আমাকে। আমাদের মাথার ওপর ছাউনি হয়ে থাকবে অজস্র লাল কৃষ্ণচূড়া কিংবা রাধাচূড়া। আমার মাথার ওপর টুপটুপ করে ঝরবে কিছু পাপড়ি। আম্মা সাবধানে সরিয়ে দিয়ে আমার ক্লিপ দিয়ে চুল ঠিক করে দেবেন।
    এরপর ওই রাস্তাই একরকম আমার ঘরবাড়ি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে পড়ার সময়। কতবার হেঁটে, রিকশায় পার করেছি শৈশবের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তাটা। তখন আর তা সবচেয়ে সুন্দর মনে হতো না। জ্যাম পড়লে বিরক্ত হতাম, ক্লাস ধরার তাড়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার বিরক্তি। আম্মাকেও কোনো দিন বলিনি, মা চলো তোমাকে হুডখোলা রিকশায় আমার ক‍্যাম্পাস দেখিয়ে আনি।

    প্রতিবছর কানাডায় আমি আর শাহরিন চেরি ব্লসম দেখতে যাই। ওর ডাকনাম তিসি, আর আমার শামা। সময় অনুযায়ী চেরি ফুলের রং বুঝে একই রকম কাপড় পরে তিসি আর শামা চেরি ব্লসম দেখতে যাবেই। এ বছর চেরি ব্লসমের সময়টা আমি কানাডায় নেই। তিসি অনেকবার টেক্সট দিয়েছে, ‘তুই আসলি না, আমরা চেরি দেখতে যাব না?’

    অন‍্য সময় হলে হয়তো আমার খারাপ লাগত। কিন্তু এবার ওর সঙ্গে আছে ছোট্ট আরিশা। স্ট্রলারে করে আরিশাকে নিয়ে ও ঠিকই যাবে হাই পার্ক। আরিশা ফুল দেখার চেয়ে রঙিন আইসক্রিমের দিকেই তাকিয়ে থাকবে। ওর কপালে এসে পড়বে চেরির পাতলা পাপড়ি। তিসি আলতো হাতে তুলে নিয়ে ক্লিপ দিয়ে ওর চুলটা ঠিক করে দেবে। ওরা হয়তো পার্ক থেকে ভিডিও কল দেবে আমাকে। আমি না থাকলেও আরিশার সঙ্গে লাল টুকটুকে ট্রেনে চড়ে মা-মেয়ে এবার চেরি ব্লসম দেখবে। 

    আরও পড়ুন