লেখক: Daily BD Times

  • নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

    নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

    নীলফামারীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সাত দিনে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৩ জন। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিনে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়ে ৮০ শিশুসহ ২৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ২১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বাকিরা চিকিৎসাধীন। শয্যা সংকট থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। একইসঙ্গে মৌসুমি জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

    এ ছাড়া, হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের আলাদাভাবে আইসোলেশন বিভাগে রেখে শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    জোবায়ের নামে এক শিশুর মা বাবলি বেগম বলেন, আমার সন্তান জ্বর, পাতলা পায়খানা, ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছিল। গতকাল সকালে হাসপাতালে ভর্তি করাই। বিকেলের দিকে সারা শরীরে র‍্যাশ ও ফুসকুড়ি উঠেছে। ডাক্তাররা বলেছে এটা হামের উপসর্গ।

    আরেক রোগীর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, হঠাৎ করে আমার বাচ্চার পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে জানতে পারি সে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়েছে, চিকিৎসা চলছে।

    নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

    জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং খাবারের আগে হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, ডায়রিয়া ও জ্বর প্রতিরোধে ফুটানো পানি পান, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।

    এম কে

  • সাঁথিয়ায় ঋণের চাপে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা

     

    ডেক্স নিউজ : পাবনায় সাঁথিয়ায় ঋণের চাপে খয়বার আলী নামে এক ব্যক্তি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

    খয়বার আলী (৬০) উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ইকরজানা গ্রামের মৃত হারান উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি দিনমজুর ছিলেন।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খয়বার আলী বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় তিন-চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। একদিকে সংসারের খরচের চাপ অন্যদিকে ঋণের কিস্তির জন্য এনজিওর চাপ। তিনি কোনোভাবেই ঋণ দিতে পারছিলেন না।

    বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে খাবার খেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা ইকরজানা গ্রামের পাশে কানাবিলের মধ্যে পুকুরপাড়ে জামগাছে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁসি নেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানা পুলিশ ও তার পরিবারকে খবর দেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ বলেন, খয়বার আলী কৃষি ও দিনমজুরের কাজ করতেন। তিনি অভাবী ও ঋণগ্রস্ত ছিলেন। হতাশা থেকেই হয়তো রাতের যেকোনো সময় আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার ও থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    সাঁথিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অভাব ও ঋণগ্রস্তের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

    m
  • পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম

    ডেক্স নিউজ : দেশের ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাবনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম বিশু।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম বিশু একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পাবনা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, জহুরুল ইসলাম বিশু এরশাদের ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী ১৯৯১ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপির আমলে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য এবং পাবনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। জহুরুল ইসলাম বিশু পাবনা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পাবনা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদায় উন্নীত হয়।

    এদিকে জহুরুল ইসলাম বিশু জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ পাওয়ায় পাবনার বিভিন্ন মহল অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জহুরুল ইসলাম বিশুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশু ভাইসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলা পরিষদ এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন হবে।

    m

  • নারীসহ পুলিশ পাহারায় রাত কাটাতে চেয়ে ধরা ভুয়া জজ

    ডেক্স নিউজ : যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয় দিয়ে রাতে থানায় হাজির হন এক ব্যক্তি। ওসির কাছে বিশ্রামের জন্য রেস্ট হাউজের একটি রুম ও ট্রেন টিকেটের সুবিধা চান তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তার। ভুয়া পরিচয় দেওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে পাবনার ঈশ্বরদীতে এ ঘটনা ঘটে।

    গ্রেফতার ব্যক্তির নাম সৈয়দ জিয়া পীর মোহাম্মদ আলী। তিনি যশোরের কোতোয়ালী থানার বাগমারা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে।

    পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয়ে বিশেষ সুবিধা আদায়ে থানায় এসেছিলেন। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি তিনি যশোরে একটি নিম্নপদে চাকরি করতেন। বর্তমানে তার কোনো চাকরি নেই।

    পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি এক নারীসহ ঈশ্বরদী থানার ওসির কক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজেকে ঝিনাইদহ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি পুলিশি সহযোগিতায় রেস্ট হাউজে কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে বিশ্রামের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। একইসঙ্গে ট্রেনে যশোর যাওয়ার জন্য টিকিট সুবিধা প্রত্যাশা করেন। তবে কথাবার্তা ও আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করে সন্দেহ হলে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ। যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কোনো বিচারক নন, বরং ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

    এদিকে ঘটনার আকস্মিকতায় তার সঙ্গে থাকা নারী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত সটকে পড়েন। পরে তাকে আটক করে তদন্তের পর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

    ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে ভুয়া জজ পরিচয় দেওয়ায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

    m

  • বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ডেক্স নিউজ : পাবনার ফরিদপুরের বড়াল নদে গোসল করতে নেমে তিন্নি খাতুন (১১) ও জোবায়ের আহমেদ (৭) নামে দুই শিশু ডুবে মারা গেছে। শুক্রবার (২৬) দুপুরে উপজেলার উত্তর থানাপাড়া এলাকার গড়াল নদে ডুবে যায় শিশু দুজন। আর বিকালে নদ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত তিন্নি ওই এলাকার আবু সামা কাউন্সিলরের মেয়ে এবং জোবায়ের একই এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। সম্পর্কে দুজন চাচাতো ভাই-বোন।

    স্থানীয়রা জানান, পরিবারের অগোচরে দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে বড়াল নদে গোসল করতে নামে তিন্নি ও জোবায়ের। সাঁতার না জানার কারণে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    বিকেলে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গোপালনগর সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন্নি ও জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফরিদপুর থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, ‘কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

    m

  • পাবনায় ২৫০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ, আটক ২

    ডেক্স নিউজ : পাবনার চাটমোহরে অভিযান চালিয়ে ১২টি ব্যারেলে থাকা ২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ করেছে থানা পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।

    এ ঘটনায় কীটনাশক ও তেল ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন এবং নসিমন চালক শামসুলকে আটক করা হয়েছে।

    আটকদের বরাত দিয়ে চাটমোহর থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, তেলের মালিক উপজেলা সদরের জারদিস মোড় এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে লিটন ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে মুকুল হোসেন। তারা বাঘাবাড়ী এলাকা থেকে তেল ক্রয় করে এনেছিল বলে দাবি করলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

    পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জব্দকৃত তেল মথুরাপুর এলাকায় নিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেন।

    মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    m

  • ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি : প্রশাসকের ৩৭৭ ও দলীয় ১২০০

    ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি : প্রশাসকের ৩৭৭ ও দলীয় ১২০০

    রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির কার্ড বণ্টন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে অন্নদানগর ইউনিয়নে প্রশাসকের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনে প্রশাসকের নিজের জন্য ৩৭৭টি এবং ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য ১২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো।

    এর আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের গত ৫ মার্চের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনের কপি পাওয়া যায়। রেজুলেশনটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

    রেজুলেশনে দেখা যায়, ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত মোট ৪ হাজার ৭৯৭টি ভিজিএফ কার্ড বিভিন্ন খাতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন প্রশাসকের জন্য ৩৭৭টি কার্ড এবং দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য ১ হাজার ২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে।

    এ ছাড়া, ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭৫টি, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩০টি করে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি কার্ড বিতরণের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের জন্য পৃথকভাবে ২৭৫টি করে কার্ড বরাদ্দের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    তবে ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করে কার্ড বিতরণের কথা রয়েছে।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ৪৮ হাজার ৩৯৭টি কার্ডের বিপরীতে ৪৮৩.৯৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কল্যাণী ইউনিয়নে ৪,০৩৬টি, পারুল ইউনিয়নে ৫,৯৮৬টি, ইটাকুমারী ইউনিয়নে ৪,০৮৬টি, অন্নদানগর ইউনিয়নে ৪,৭৯৭টি, ছাওলা ইউনিয়নে ৬,৩৮৬টি, তাম্বুলপুর ইউনিয়নে ৬,৩৮৬টি, পীরগাছা ইউনিয়নে ৭,০৯৮টি, কৈকুড়ী ইউনিয়নে ৫,২৮৬টি ও কান্দি ইউনিয়নে ৪,০৩৬টি কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে।

    এদিকে ভাগাভাগির রেজুলেশনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভিজিএফের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা কর্মসূচির কার্ড বণ্টনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা আদৌ সেই সুবিধা পাচ্ছেন কি না।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য নির্দিষ্ট কার্ড সংরক্ষণের বিধান সরকারি নীতিমালায় নেই। ফলে এমন রেজুলেশন তৈরি করা হলে তা নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্য হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। কার্ড ভাগ বণ্টনের বিষয়টি প্রকাশ হলে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো।

    পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা চলে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান। এ সময় তিনি হারুন অর রশিদ বাবু নামে এক স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ হুমকি দেন।

    রেজুলেশনে উল্লেখিত কার্ড বরাদ্দের বিষয়ে জানতে অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কার মাধ্যমে বিতরণ হলো সেটা বিষয় না। তবে সবাই যাতে সঠিকভাবে কার্ড পায় সে লক্ষে কাজ করছি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পরে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করে বিতরণ করা হয়। এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই।

    পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির চাল অবশ্যই দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে। এভাবে কোনো ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো খাতে ভাগ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর প্রশাসককে পুনরায় সভা আহ্বান করে নীতিমালা অনুযায়ী উপকারভোগী নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এম কে

  • জামায়াতের আমির ছেলেদের সরিয়ে দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন

    জামায়াতের আমির ছেলেদের সরিয়ে দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন

    লালমনিরহাট-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। বিশেষ করে জামায়াত আমিরের নারী কর্মীদের সঙ্গে সেলফি তোলা এবং তাদের ‘বন্ধু’ সম্বোধন করার বিষয়টিকে তিনি ইসলামের আদর্শ পরিপন্থি ও ইমান বিধ্বংসী বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    ডেস্ক নিউজঃ

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান ও পর্দার বিধান দিয়েছে। আল্লাহ নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা দেখছি, জামায়াতের আমির ছেলেদের সরিয়ে দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। তিনি মুরব্বি মানুষ হয়ে বেপর্দা মেয়েদের বলছেন— ‘ছেলে বন্ধুরা সরে যাও, মেয়ে বন্ধুরা আসো’।

    চরমোনাই পীর বলেন, এই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে ইমান থাকবে না, এমন আচরণ নিয়ে কখনো আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলনের ৩৮ বছরের ইতিহাসে কোনো নেতা পরনারীর সাথে এমন সেলফি তোলেননি।

    তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা ইসলামী দলগুলোর সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়িত হবে না। জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আমেরিকা দূতাবাসে গিয়ে আমাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ বা বিএনপিও আমাদের জঙ্গি বলেনি, কিন্তু তারা ভারতের লক্ষ্য হাসিল করতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। এমনকি তারা এমন প্রার্থী দিয়েছে যিনি নিজেই বলছেন জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়।

    এলাকার উন্নয়ন ও মিথ্যাচারের জবাব দিতে হাতপাখা মার্কায় ভোট চেয়ে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, করোনাকালে যখন স্বজনরা মরদেহ ফেলে পালিয়েছিল, তখন হাতপাখার কর্মীরাই দাফন-কাফনের কাজ করেছে। ৫ আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের জানমাল রক্ষায় আমরা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছি। যাদের পা থেকে মাথা অবধি মিথ্যায় ভরা, তারা ইসলাম কায়েম করতে পারবে না। তাই এলাকার শান্তি ফেরাতে হাতপাখাকে বিজয়ী করুন।

    জনসভায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    এম কে

  • নামাজ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না খাদেমের

     

    ডেক্স নিউজ : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মসজিদে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় মন্টু মিয়া (৮০) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পৌরসভার কলেজপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও স্থানীয় বাইতুন নুর জামে মসজিদের খাদেম।সোমবার (৩০ মার্চ) রাত সোয়া ৯টার দিকে পৌর শহরের কলেজপাড়া মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা বলেন, এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কলেজপাড়া মোড়ে একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সোমবার রাত ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন মন্টু মিয়ার মৃত্যু হয়।

    মসজিদ কমিটির সভাপতি ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ভাঙ্গুড়া থানার ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ট্রাকটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    m

  • নগরবাড়ী নদীবন্দরে আধুনিক টার্মিনালের উদ্বোধন

    ডেক্স নিউজ : পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী নদীবন্দরে আধুনিক টার্মিনাল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই টার্মিনাল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করা হয়।বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগম; জেলা পরিষদ মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম।নগরবাড়ীতে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে নৌপরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে নগরবাড়ী এলাকায় উন্নত ও আধুনিক বন্দর অবকাঠামো সুবিধাদি নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ২০ জুন অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বছরের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা শেষ হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুনে। এ প্রকল্পে মোট হয়েছে ৫৫৬.৯০৭ কোটি টাকা।    যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত নগরবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী ঘাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে নৌপথে মূলত সার, সিমেন্ট, পাথর, বালি, কয়লাসহ অন্যান্য মালামাল উঠানামা করে সড়কপথে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পরিবাহিত হয়ে থাকে। ঘাটটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আরিচা নদীবন্দর দ্বারা পরিচালিত হতো। ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু প্রতিষ্ঠিত হবার পূর্বে বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, পদ্মা নদীর দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আরিচা-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-নগরবাড়ী নামে ফেরিঘাট ২টি যথাক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নৌ চলাচলে আরিচা নদীবন্দরের আওতায় পরিচালিত হতো।

    m