লেখক: Daily BD Times

  • টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

    টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

    বিডিনিউজ ডেক্স : আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কালিহাতী উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমকে বিএনপির সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারী) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানানো হয়েছে।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। একইসাথে ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম কালিহাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির হাই কমান্ড এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিনকে মনোনয়ন দেয়। দলের এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত প্রচারনা চালাচ্ছেন। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পরেছেন।

    M

  • মির্জাপুরের তরফপুরে পাহাড়ের মাটি বিক্রির মহোৎসব

    মির্জাপুরের তরফপুরে পাহাড়ের মাটি বিক্রির মহোৎসব

    বিডিনিউজ ডেক্স :টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলছে পাহাড়ের টিলা কেটে লাল মাটি বিক্রির মহোৎসব। পাহাড় ধ্বংস করে মাটি বিক্রি করায় একদিকে হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য ও ফলজবৃক্ষসহ উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল। এই লাল মাটি বিক্রির উৎসব মাসব্যাপি ধরে চললেও প্রশাসন শক্ত হাতে দমনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। লালমাটি বহনকারি ড্রাম্প ট্রাকের চাকার দাপটে খানাখন্দক হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা।
    জানা গেছে, ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে মির্জাপুর উপজেলা গঠিত। এর মধ্যে আজগানা, বাঁশতৈল, তরফপুর, লতিফপুর ও গোড়াই ইউনিয়ন হলো পাহাড়বেষ্টিত। এই পাহাড়ের বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চলে ছিল শত শত উঁচু টিলা। পাহাড়বেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর বনে এক সময় বাঘসহ নানা জাতের পশু-পাখির বসবাস ছিল। এছাড়া এই বনাঞ্চল শাল ও গজারিসহ নানান জাতের ফলজ এবং ওষুধি গাছে ভরপুর ছিল।

    প্রতিবছর এই অঞ্চলে মাটি ব্যবসায়িরা অবৈধভাবে পাহাড়ের টিলা কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্য বছরের মতো টিলা কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব এবারও থেমে নেই। প্রতিবছর টিলা কেটে মাটি বিক্রি করায় পাহাড়ি অঞ্চলটির টিলার সংখ্যা দিনকে দিন কমে আসেছে। সরেজমিনে তরফপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে এই এলাকায় পাহাড়ের কমপক্ষে ১০টি বড় বড় টিলা কেটে মাটি বিক্রি করেছে। ইউনিয়নটির রাখেরচালায় গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি বড় বড় টিলার মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে মাটি বিক্রি করা হয়েছে। পাশের অন্য আরও একটি টিলার মাটি কাটার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। টিলাটির ওপরের আকাশমনি, কাঠাল ও আমসহ সকল গাছ-গাছালি কেটে ফেলছেন কয়েকজন শ্রমিক।

    তরফপুর গ্রামের হযরত আলী, মাসুম ও শহিদ জানান বাঁশতৈল এলাকার রোকন নামে এক ব্যক্তি মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে টাকিয়া কদমা গ্রামের রাধারচালায় দুইটি টিলার মাটি একইভাবে কেটে নিচ্ছে অবৈধ এই লাল মাটিখেকোর দল। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন বাঁশতৈল এলাকার শহিদুল নামে এক মাটি ব্যবসায়ি এই টিলার মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
    এদিকে টিলার লালমাটি বহনকারি বড় বড় ড্রাম্প ট্রাক অনবরত চলাচল করায় ওই এলাকার গ্রামীণ রাস্তা খানাখন্দক হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন। মাটি ব্যবসায়িরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ টু শব্দ করতে পারেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। মাটি ব্যবসায়ি রোকনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মাটি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। এখন অন্যরা করছে বলে তিনি জানান।এ বিষয়ে তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজ রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাহাড়ের টিলা কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই।
    এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া ইয়াসমিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি থামাতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা রাতেও অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু ওরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তবে আমাদের অভিযান থেমে থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    M

  • বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

    বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত থেকে রাশেদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক রাশেদুল ইসলাম (২৫) পাটগ্রাম উপজেলা বাউড়া এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ডাংগাটারী বিওপি ক্যাম্পের অধীন ৮০১/১১ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে রাশেদুল ইসলাম। এ সময় ভারতীয় ৩০ বিএসএফের নিউ কুচলিবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

    রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) বর্ডার গার্ড অধিনায়ক সেলিম আল দীন বলেন, আটক বাংলাদেশিকে ফেরত আনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এম কে

  • ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক দুলু, আয় বেশি কৃষি খাতে

    ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক দুলু, আয় বেশি কৃষি খাতে

    ডেস্ক নিউজঃ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। তার বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তার হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    হলফনামা অনুযায়ী, এক সময়ের কলেজ অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বর্তমানে তার পেশা হিসেবে ‘কৃষি ও ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন।  তার স্ত্রী লায়লা হাবিব পেশায় একজন ব্যবসায়ী, বিশেষ করে পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ​দুলুর দুই সন্তানের মধ্যে আহনাফ হাবিব ইনতেসার বর্তমানে বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত এবং ছোট ছেলে আহমিক হাবিব ইয়ারদান ছাত্র। দুই ছেলের নামে কোনো সম্পদ বা ব্যাংক জমার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ নেই।

    ​আসাদুল হাবিব দুলুর বার্ষিক আয়ের বড় অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। ​কৃষি খাতে বাৎসরিক আয় ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭০ টাকা। ​বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান ভাড়া থেকে ১৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ​ব্যবসা থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৫৫ টাকা। ​অন্যান্য উৎস থেকে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৭০২ টাকা। ​শেয়ার ও ব্যাংক আমানত রয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩৪ টাকা।

    নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৮২০ টাকাসহ তার হাতে ও বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ​সোনালী ব্যাংকে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং ৩৮ হাজার ৭৬৯ টাকা (দুটি পৃথক হিসাব)। ব্যাংক এশিয়ায় ২৬ হাজার ৬৭৭ টাকা, এবি ব্যাংকে ৪৭ হাজার ৬৭৭ টাকা, প্রাইম ব্যাংকে ৩৫ হাজার ৬০৬ টাকা , ডাচ-বাংলা ব্যাংক ৩৮ হাজার ৭৬৯ টাকা, সিটি ব্যাংকে ২ হাজার ১৫৬ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকে নামমাত্র স্থিতি ২৬ টাকা রয়েছে।

    বিনিয়োগ ও বাহন হিসেবে দুলুর রয়েছে তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোল্ড স্টোরেজ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার এবং  ব্যাংকের শেয়ার, যার ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪০ টাকা।  ​যানবাহন হিসেবে তার মালিকানায় রয়েছে দুটি মাইক্রোবাস, দুটি বাস, একটি ট্রাক এবং একটি নতুন গাড়ি। এর মধ্যে মাইক্রোবাস দুটির বর্তমান বাজারমূল্য ৬২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং বাস দুটির বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ​ইলেকট্রনিক্স পণ্য, আসবাবপত্র ও একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯৯ হাজার ১২০ টাকা।

    আসাদুল হাবিব দুলুর স্থাবর সম্পদের মধ্যে জমির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। ​এর মধ্যে কৃষি জমি ৩৬.৫১২ একর (সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৮৭ লাখ ১২ হাজার ৮৫৯ টাকা)। ​অকৃষি জমি ৪.৫৮৫৭ একর (সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯১ টাকা)। ​ঢাকার বনানীতে ৩ কোটি টাকা মূল্যের একটি ভবন, লালমনিরহাটে ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার সম্পদ এবং চা বাগান, রাবার বাগান ও মৎস্য খামার বাবদ ৩ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার ৫০ টাকার সম্পদ রয়েছে। ​সব মিলিয়ে তার স্থাবর

    স্ত্রী লায়লা হাবিবের নামে পরিবহন ব্যবসা, টিনশেড বাড়ি ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। তার মোট সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৮৭ টাকা।

    আসাদুল হাবিব দুলু ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর বাঁধ নির্মাণ, আন্তঃনগর ট্রেন চালু, টিটিসি ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন এবং ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের মতো উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

    এম কে

  • ‘আপু’ সম্বোধন করায় আয়োজকের সঙ্গে ইউএনওর বাগবিতণ্ডার অভিযোগ

    ‘আপু’ সম্বোধন করায় আয়োজকের সঙ্গে ইউএনওর বাগবিতণ্ডার অভিযোগ

    ডেস্ক নিউজঃ

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘রয়েল ফুটবল একাডেমি’র ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি একটি চড়ুইভাতি (পিকনিক) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি শেষ হতে রাত প্রায় ১২টা বেজে গেলে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করে অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চান।

    ফোনালাপে মেহেরবান মিঠু জানান, রয়েল ফুটবল একাডেমির একজন সদস্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) সুযোগ পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছিল, সে কারণেই অনুষ্ঠান শেষ হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনি শেষ হয়ে যাবে, আপু।’ এ সময় ‘আপু’ সম্বোধন শুনে ইউএনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে অভিযোগ ওঠে।

    ফোনালাপের একটি অংশে ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনার আপু নই—ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন। অনুমতি নেওয়ার সময় তো এত রাত হওয়ার কথা ছিল না। আপনি কি এই অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে এসেছিলেন?’ মিঠু জানান, এ সময় তিনি নিজে অনুমতি নিতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে ইউএনওর কঠোর মনোভাবের কারণে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

    অনেকেই মন্তব্য করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাম’ বলে সম্বোধনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই এবং ‘আপু’ একটি সম্মানসূচক সম্বোধন। আবার কেউ কেউ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে রয়েল ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি হওয়ায় আমি বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে ‘আপু’ বলেছিলাম। কিন্তু এতে তিনি ক্ষুব্ধ হবেন, তা ভাবিনি। বিষয়টি আমাদের সবাইকে কষ্ট দিয়েছে।’

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘আপু বলার কারণে আমি রাগ করিনি। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলছিল, তাই সেটি বন্ধ করতে বলেছি। বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’

    এম কে

  • লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

    লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

    ডেস্ক নিউজঃ

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করেছে দুই দল।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিকেল মোড়-সংলগ্ন কসাইটারী এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান রাজীব প্রধান। একই আসনে রোববার বিকেলে ওই এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের পৃথক গণসংযোগ চলাকালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু জানান, সংঘর্ষের কারণ এবং আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান।

    সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজীব প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধির আওতায় পড়ায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এম কে

  • শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা, দুই আসামির বাড়িতে পুলিশের অভিযান

    শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা, দুই আসামির বাড়িতে পুলিশের অভিযান

    শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে তিনজনের নামে মামলাটি করেন। এখন পর্যন্ত তাঁদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

    ভুক্তভোগী খোকন চন্দ্র দাস হামলায় অংশ নেওয়া দুজনের নাম বলেছেন। এ ছাড়া পুলিশের তদন্তে আরও একজনের নাম উঠে এসেছে। ওই তিনজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ডামুড্যার কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান (২৭), রাব্বি মোল্যা (২১) ও পলাশ সরদার (২৫)। ঘটনার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে আছেন। পুলিশ দুজনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের বাবাদের আটক করে থানায় আনলেও পরে ছেড়ে দেয়।

    ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা তাঁকে প্রথমে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় এখন তাঁকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউয়ে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে আহত খোকন হামলাকারী হিসেবে কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান ও সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যার নাম বলেছেন। ঘটনার পর কেউরভাঙা বাজারের ব্যবসায়ী ও তিলই গ্রামের বাসিন্দারা অভিযুক্ত দুজনকে আটকের দাবি জানালে তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের না পেয়ে তাঁদের বাবাদের থানায় নেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় অংশ নেওয়া পলাশ সরদার নামের আরেকজনের নাম জানতে পেরেছে। গতকাল গভীর রাতে থানায় তাঁদের তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস। এরপর সোহাগ ও রাব্বির বাবাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

    খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা তার (খোকন) কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করার পর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় সে প্রাণে বেঁচে গেছে। জানি না কত দিনে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি। আমরা চাই, পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনু

  • গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ আটক প্রকৌশলীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ আটক প্রকৌশলীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ সড়ক বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীসহ তিনজনকে আটকের ১৮ দিন পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন মামলাটি করেন। তবে বিষয়টি আজ মঙ্গলবার জানাজানি হয়।

    মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিয়ন মোশারফ হোসেন (৬০) ও চালক মনির হোসেন বেপারী (৪০) এবং গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৩)।

    গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ সড়ক বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীসহ তিনজনকে আটকের ১৮ দিন পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন মামলাটি করেন। তবে বিষয়টি আজ মঙ্গলবার জানাজানি হয়।

    মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিয়ন মোশারফ হোসেন (৬০) ও চালক মনির হোসেন বেপারী (৪০) এবং গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৩)।

  • শরীয়তপুরে একই অ্যাম্বুলেন্স চক্র, একই ‘কৌশলে’ জিম্মি, আবার রোগীর মৃত্যু

    শরীয়তপুরে একই অ্যাম্বুলেন্স চক্র, একই ‘কৌশলে’ জিম্মি, আবার রোগীর মৃত্যু

    শরীয়তপুরে একটি অ্যাম্বুলেন্স চক্রের কাছে জিম্মি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। গত বছরের আগস্টে অ্যাম্বুলেন্স ‘আটকে’ রাখায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরে চক্রের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলেও রোগী জিম্মি করার ঘটনা বন্ধ হয়নি।

    নবজাতক মৃত্যুর ওই ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় গত মঙ্গলবার সদর হাসপাতাল থেকে এক রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুই দফায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। এতে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ওই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

    গত বছরের ১৪ আগস্ট ওই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের ও শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক গাড়িচালক আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ। এবার একই চক্রের সদস্য ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি সুমন খানের নেতৃত্বে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ঘটনা ঘটল

    তৎপর অ্যাম্বুলেন্স চক্র

    শরীয়তপুরে ৫০ শয্যার ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ২০ শয্যার ১টি থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১০০ শয্যার ১টি জেলা সদর হাসপাতাল রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার হাসপাতালগুলো থেকে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। জেলায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ৭টি।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ জনের বেশি রোগী জেলার বাইরে বহন করা হয় না। অন্য রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হয়।

    রোগীর স্বজন, চালক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকার ও হাসপাতালের রোগীদের ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নেওয়ার কাজ করছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চক্র। এ চক্রের ২৭টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছে শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক গাড়িচালক আবদুল হাই মোল্যা ও সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের দেওয়ান। আবু তাহেরের ছেলে রহিম দেওয়ান বাবার হয়ে কাজ করেন। এই তিনজনই নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

    চার হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। আর ওই চক্রের অ্যাম্বুলেন্স নিলে ভাড়া দিতে হচ্ছে সাত–আট হাজার টাকা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের একজন চালক প্রথম আলোকে বলেন, আগে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চক্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মী ও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এক সংসদ সদস্যের চাচাতো ভাইয়ের হাতে। ২০২৫ সালের পর সেটি চলে যায় স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক গাড়িচালকের হাতে।

    ওই চালক আরও বলেন, শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক কল্যাণ সমিতির নামে ওই চক্র অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই ঠিক করে দেয় কোন গাড়ি কখন রোগী তুলবে, কত ভাড়া নেওয়া হবে। এটার অন্যথা হলেই বিপত্তি।

    অভিযোগপত্রে পাঁচজনের নাম

    সিভিল সার্জনের গাড়িচালক তাহেরের একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সেটি চালান তাঁর ছেলে রহিম।

    ঘটনায় তাহের, রহিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নবজাতকের বাবা নূর হোসেন সরদার। অন্য দুই আসামি হলেন স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক গাড়িচালক আবদুল হাই ও অ্যাম্বুলেন্সচালক বিল্লাল মুন্সি। পুলিশ তদন্ত শেষে গত ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এতে ওই চার আসামি ছাড়াও চক্রের সদস্য সুমন খানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    নূর হোসেন সরদার ঢাকায় থাকেন। তিনি  বলেন, ‘আমি ছোটখাটো কাজ করি। মামলা পরিচালনা করার মতো আর্থিক সঙ্গতিও নেই। যদি সরকার মামলাটি চালায়, তাহলে হয়তো অপরাধীরা শাস্তি পাবে। আমিও চাই আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি হোক।’

    নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মীর সংশ্লিষ্টতা পায়নি কমিটি।

    সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের বলেন, ‘গত বছর যে মামলা হয়েছিল, তাতে আমরা জামিনে আছি। আর ওই ঘটনায় আমার সম্পৃক্ততা নেই, তা স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটির কাছে জানিয়েছিলাম।’ তিনি কোনো অ্যাম্বুলেন্স চক্রের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

  • পদ্মা সেতুর টোল থেকে তিন হাজার কোটি টাকা আয়

    পদ্মা সেতুর টোল থেকে তিন হাজার কোটি টাকা আয়

    ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু থেকে ৪৩ মাসে টোল বাবদ আয় ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত এই টাকা আয় হয়েছে।

    সব ধরনের যানবাহনের পদ্মা সেতু পারাপার করতে হলে টোল দিতে হয়। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন টোল হার নির্ধারিত আছে।

    সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২২ হাজারের মতো যানবাহন চলাচল করে। প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হয় আড়াই কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৮২ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে।

    মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর সংযোগকারী দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করেছে। ওই অঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ এই সেতুর সুবিধা পাচ্ছেন।

    প্রায় চার বছর আগে চালুর পর থেকে সেতুটি দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা এবং আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

    তারা বলছে, সেতুটি চালু হওয়ার ফলে যাতায়াতের সময় সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে এসেছে বিশাল পরিবর্তন।

    পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে (মাওয়া ও জাজিরা) টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল আদায় (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু আছে। এই পদ্ধতিতে যানবাহন দাঁড় না করিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ করা যায়। এর ফলে যানবাহনকে টোল প্লাজায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায়ের ফলে যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজতর হয়েছে।

    সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের ‘মাইলফলক’ অর্জনের জন্য যানবাহনের মালিক, চালক, শ্রমিক, সেতুর দুই পারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

    পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় হয় ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ২০০৭ সালে যখন পদ্মা সেতু