লেখক: Daily BD Times

  • দুপচাঁচিয়ায় আ.লীগ নেতা জিল্লুর গ্রেপ্তার

    দুপচাঁচিয়ায় আ.লীগ নেতা জিল্লুর গ্রেপ্তার

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমানকে (৪৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলার পশ্চিম আলোহালী গ্রামের মৃত হাসেন আলী আকন্দের ছেলে।

    মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

    তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণসহ জুলাই যোদ্ধা শহীদ মনির হত্যার মামলার আসামি হিসেবে অভিযোগ রয়েছে।

    দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত জিল্লুর রহমানকে বগুড়া বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এআর/নিই

  • সারিয়াকান্দিতে বিএনপির মনোনয়ন: আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মিছিল, যুবদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি

    সারিয়াকান্দিতে বিএনপির মনোনয়ন: আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মিছিল, যুবদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে তাঁকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে মিছিল সমাবেশ করার অভিযোগে সোনাতলা উপজেলায় দুই যুবদল নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    যাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম।

    জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালামকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা দলীয় সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

    জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান বলেন, ৮ নভেম্বর বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপি থেকে ঘোষিত সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্লোগান ও মিছিল সমাবেশ করা হয় শামিম হোসেন ও আব্দুস সালামের নেতৃত্বে। এ বিষয়ে প্রমাণসহ অভিযোগ উঠলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    জানতে চাইলে অব্যাহতি পাওয়া যুবদল নেতা শামিম হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সে বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার আগে কৈফিয়ত তলব করা হয়নি।’

    শামিম আরও বলেন, ‘আমার নামে ১২ থেকে ১৪টি মামলা। গত বছরের পাঁচ আগস্টের পর বিএনপিতে নতুন নতুন নেতার আবির্ভাব হয়েছে। আমাকে যুবদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও আমি ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদে আছি। এ কারণে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধা নেই।’

    এআর/নিই

  • কাহালুতে স্ত্রী ও ছেলের লাঠির আঘাতে সন্ত্রাসী নিহত

    কাহালুতে স্ত্রী ও ছেলের লাঠির আঘাতে সন্ত্রাসী নিহত

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    বগুড়ার কাহালুতে স্ত্রী ও ছেলের লাঠির আঘাতে মিলন রহমান ওরফে টাইগার মিলন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

    তিনি এক সপ্তাহ আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন।

    ঘটনার পরপরই পুলিশ স্ত্রী মেঘনা বেগম ও তাঁর ছেলে শামিমকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে কাহালু উপজেলার পালপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, তিন বছর আগে মিলন ও মেঘনা বিয়ের মাধ্যমে উভয়েই তৃতীয়বারের মতো সংসার শুরু করেন। বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। মিলন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি মারামারির এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি এক সপ্তাহ আগে জামিনে মুক্তি পান।

    বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মিলন ও মেঘনার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে মেঘনার প্রথম পক্ষের ছেলে শামিম সেখানে গিয়ে মা মেঘনার পক্ষ নিয়ে লাঠি দিয়ে মিলনের মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ মেঘনা ও তাঁর ছেলে শামিমকে গ্রেপ্তার করে।

    কাহালু থানার ওসি নিতাই চন্দ্র সরকার বলেন, এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে মেঘনা ও তাঁর ছেলে শামিমের নামে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদেরকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • বগুড়ার গাবতলী-শাহাজানপুরের সাবেক এমপি বাবলু ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    বগুড়ার গাবতলী-শাহাজানপুরের সাবেক এমপি বাবলু ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সাবেক স্বতন্ত্র (রাতের ভোটের) সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

    তথ্য গোপন করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমতি দেয়।

    বুধবার (২৪ডিসেম্বর) বিকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম জানান, আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

    দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সূত্র জানায়, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (২০১৮ সালের রাতের ভোটের) রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে। এর প্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে ওই দম্পতিকে পৃথক নোটিশে তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়।

    ওই নোটিশ পাওয়ার পর রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুন গত ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়া কার্যালয়ে পৃথকভাবে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সম্পদ বিবরণী দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে যাচাই ও অনুসন্ধান করা হয়। তদন্তে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে দুদক বগুড়া কার্যালয়ের তৎকালীন উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ওই দম্পতির বিরুদ্ধে নিজ কার্যালয়ে মামলা করেন।

    তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলামকে। তদন্ত করে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে এক কোটি দুই লাখ ছয় হাজার ২৯৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পান। এরপর দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে সাবেক এমপি রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে দুদক আইনের বিভিন্ন ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এর প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক সম্প্রতি আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

    বিডি/এআর/নিই

  • বগুড়ার শিবগঞ্জে ফুলকপির কেজি দেড় টাকা

    বগুড়ার শিবগঞ্জে ফুলকপির কেজি দেড় টাকা

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    প্রচন্ড শীত আর ঘন কুয়াশায় কারণে বগুড়ার মহাস্থানে হাটে ফুলকপির দরপতন হয়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে দেড় টাকায়। শীতের প্রকোপে হাটে এ সবজির আমদানি বাড়লেও পাইকার কম থাকায় এই মূল্য পতন হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

    রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সবজির মোকাম মহাস্থানহাট ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াশার চাঁদর ভেদে করে কৃষকরা ভোর থেকেই ভ্যানে করে ফুলকপি মহাস্থান মোকামে আনতে শুরু করেন। প্রথম দিকে ক্রেতা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানি বেশি হওয়ায় ব্যাপারিরা হারিয়ে যায়।

    সেই সময় ১০০ থেকে ১৩০ টাকা মণ দরে ফুলকপি বিক্রি কলেও পরে তা নেমে যায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা মণ দরে।

    ঘন কুয়াশার কারণে দুপুর ২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেনি। আর এ কারণে মোকামে পাইকারদের আগমন কম হয়েছে। এতে করেই দরপতন হয়েছে।

    রোববার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে, শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সামনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

    মহাস্থান হাটে দেখা গেছে, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সবখানেই সবজিতে ঠাসা। সকাল থেকে দূরদূরান্তের কৃষকরা অটোভ্যান, ইজিবাইক, ভটভটি, সিএনজি যোগে তাদের জমিতে উৎপাদিত সবজি হাটে আনেন ভাল দাম পাওয়ার আশায়। ক্রেতা-বিক্রেতা আর আড়তদারদের ভিড় ছিল নিত্যদিনের মতো। কিন্তু ছিল না কপির কাঙ্ক্ষিত দাম। শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুমে প্রতিদিনই বাজার নিন্মমুখী হওয়ায় লোকসানে পড়ছেন কৃষকরা।

    চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি, স্টক সুবিধা না থাকা ও ক্রেতা সংকট হওয়ায় জমিতে চাষ করা টাটকা সবজি বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছেন তারা। যার ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক, উৎপাদন খরচ নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ।

    মহাস্থান মোকামে ফুলকপি বিক্রি করতে আসা শিবগঞ্জ উপজেলার বালুয়া গ্রামের ফারুক ইসলাম বলেন, ১০ মণ ফুলকপি এনেছিলাম বিক্রির জন্য। কিন্তু আমদানি বেশি। ক্রেতা নেই। তাই বাধ্য হয়ে ৪৫০ টাকায় ১০ মণ কপি বিক্রি করে ভ্যান ভাড়া তুলেছি। প্রতি কেজির দাম পড়েছে ১ টাকা ১৫ পয়সা।

    একই কথা জানালেন উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক হেলাল প্রামাণিক। তিনি ১৭ মণ ফুলকপি বিক্রি করেছেন ৫০ টাকা মণ দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়েছে এক টাকা পঁচিশ পয়সা।

    নারায়ণগঞ্জ থেকে সবজি কিনতে আসা ব্যাপারি এমদাদদুল হক জানান, তিনি মহাস্থানের গিয়াস উদ্দিনের আড়ত থেকে সবজি কিনেন। রোববার ফুলকপির দাম কমে যাওয়ায় তিনি ৫০ টাকা মণ দরে এক টন কিনেছেন। আরও কিনবেন।

    ঢাকার মিরপুরের ব্যবসায়ী মিলন রহমান কামাল হাাজর আড়তে সবজি কিনেন। কপির দাম কম পাওয়ায় তিনি তিন টন কপি কিনেছেন। যার মণ ছিল গড়ে ৫০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

    মহাস্থানের ব্যবসায়ী বিশাল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী তাহেরুল ইসলাম বলেন, মহাস্থানে ছোটবড় আড়ত প্রায় ৪০টি। এখন প্রতিদিন মাল ডেলিভারি হচ্ছে প্রায় ৪০ ট্রাক। বাজারে আমদানি বেশি, বাহির থেকে ব্যাপারি না আসায় সবজির দাম প্রতিদিন নিম্নমুখী। আমরা কৃষকের কষ্টের কথা চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়ে মালামাল ক্রয় করছি, এতে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমরা ব্যবসায়ীরাও হচ্ছি।

    শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, আবহাওয়াজনিত কারণে হঠাৎ করেই ফুলকপি দাম কমে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে দাম আবার বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

    বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে এবং রোগবালাই না থাকায় এবার প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়েছে। তাছাড়া একই সময় সব শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে এসেছে। নেমে গেছে কিছু সবজির দাম। কদিনে মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হবে। সূত্রঃ কালবেলা

    বিডি/এআর/এনই

  • পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

    পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

    জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’। কালের বির্বতনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই খেলাটি। তাই এই খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এমন আয়োজন।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ) বিকালে উপজেলার পীরপাল গ্রামে এই খেলাটির উদ্বোধন করা হয়। খেলায় ৫ জন পাতা অংশ নেন এবং ৪টি গ্রুপের ২০ জন তান্ত্রিক দল অংশ নেয়।ঐতিহ্যবাহী খেলাটি দেখতে আশপাশ থেকে ছুটে আসেন সব বয়সের মানুষ। তবে খেলাটি প্রতি বছর ও বড় পরিসরে করার দাবী দর্শনার্থীদের। তবে আগামীতে সহযোগিতা পেলে বড় পরিসরে খেলাটি করার ইচ্ছে আয়োজকদের।

    কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে প্রাচীন বাংলার খেলাধুলা। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছিত পাতা খেলা নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অচেনা। তাই তাদের নতুন করে পরিচয় করে দেবার জন্য আয়োজন করেছে পীরপাল গ্রামের যুবসমাজ। খেলাটি চলে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।

    মাঠের চারপাশে মন্ত্র পড়ছে কিছু মানুষ। তান্ত্রিক দল মন্ত্র দিয়ে মানুষরূপী পাতাকে মাঠের মাঝখান থেকে নিজের দিকে টানার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। যে দল তাদের মন্ত্রের মাধ্যমে পাতাকে নিজের জায়গার মধ্যে নিয়ে আসতে পারবে সেই বিজয়ী। প্রতিযোগিতায় যাদের পয়েন্ট বেশি সেই দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

    খেলোয়াড়রা বলেন, এই খেলায় মন্ত্রবিদরা যেমন আনন্দিত তেমনি আনন্দিত খেলোয়াড়রা যা ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখাতে পেরে উচ্ছ্বসিত দর্শকরা। তারা চান মাঝে মধ্যেই যেন এ বিনোদন খেলাটি মানুষেরা উপভোগ করতে পারেন। কোনো পুরস্কারের আশায় নয় খেলাটি খেলতে এসেছের দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য।এদিকে আয়োজকরা বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরা ও নতুনদেরকে এই খেলার সাথে পরিচয় করার জন্য এই খেলার আয়োজন। খেলাটি নিজেদের অর্থায়নে করা। যদি সরকার কিংবা জনপতিনিধিরা একটু সাহায্য করেন তাহলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করা যেতে পারে।খেলায় ৩ টি টিমকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন উপজেলার আটটুল গ্রামের তান্ত্রিক দল । খেলা শেষে চ্যাম্পিয়নকে রাজহাঁস ও রার্নাস আপকে পাতী হাঁস পুরস্কৃত করা হয়।

    M

  • জয়পুরহাটে বিএনপির গণসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য, নেতৃত্বে আমিনুর ইসলাম

    জয়পুরহাটে বিএনপির গণসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য, নেতৃত্বে আমিনুর ইসলাম

    বিডিনিউজ ডেক্স :আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠে নেমেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি।

     জয়পুরহাটের কালাই বাসস্ট্যান্ড, নিশ্চিন্তা, বটতলি, ইটাখোলা বাজার, গোপিনাথপুর, জামালগঞ্জ বাজার, মুঞ্জাহার বাজার, পাঁচগ্রাম ও পুনট বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যান তিনি।এ সময় কয়েকশ মোটরসাইকেলের বিশাল শোভাযাত্রা, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি এবং নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়। নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বাজার ও আশপাশের এলাকা। স্থানীয় জনসাধারণও বিএনপির এই গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া দেয়।

    গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কালাই থানা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব ইব্রাহিম ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজউদ্দীন, সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান তালুকদার, পুনট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহীন, কালাই থানা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ কাফি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনজুমসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    গণসংযোগ চলাকালে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি বলেন, “বিএনপি জনগণের দল, এ দলের রাজনীতি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ৩১ দফা কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো রাষ্ট্র মেরামত ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। দল যাকেই মনোনয়ন দিক, আমি তার পক্ষেই কাজ করব।”

    M

  • কুমড়ার মাচায় ঝুলছে হাসান আলীর স্বপ্ন

    কুমড়ার মাচায় ঝুলছে হাসান আলীর স্বপ্ন

    বিডিনিউজ ডেক্স : জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থুপসারা মহল্লার কৃষক হাসান আলী এবার চাল কুমড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন।

    মাত্র ৮ শতাংশ পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে তিনি তৈরি করেছেন চাল কুমড়ার মাচা। এখন সেই মাচায় ঝুলছে সতেজ সবুজ চাল কুমড়া আর তার সঙ্গে দুলছে তাঁর স্বপ্নও।হাসান আলী জানান, জমিতে চাল কুমড়া চাষে তাঁর প্রথম পর্যায়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। মৌসুম শেষে এই ব্যয় গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭ হাজারে। ইতোমধ্যেই প্রথম দফায় ৫০টি চাল কুমড়া তুলেছেন তিনি।

    তাঁর আশা, আগামী তিন মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি চাল কুমড়া তুলতে পারবেন তিনি। সব মিলিয়ে মৌসুম শেষে চাল কুমড়ার সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭০০টিতে।

    তিনি আরও জানান, এখন প্রতিটি চাল কুমড়া পাইকারিতে গড়ে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি চাল কুমড়া থেকে ১০ টাকা করে লাভ থাকছে তাঁর। সে হিসাবে মৌসুম শেষে তাঁর সম্ভাব্য লাভ হবে প্রায় ৭ হাজার টাকা।

    তাঁর এই সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। একই এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম, আব্দুল মোমিন এবং রেজওয়ান বলেন, ‘ধান আর আলু ছাড়া আমরা আর কিছু চাষ করতাম না।

    হাসান আলীর চাল কুমড়া চাষ দেখে বুঝছি, এতে পরিশ্রম ও খরচ কম—কিন্তু লাভ বেশি। তাই আগামীতে আমরাও চাল কুমড়া চাষ শুরু করতে চাই।’

    কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘চাল কুমড়া চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম, লাভ দ্বিগুণ—কিন্তু এ এলাকার কৃষকেরা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেন না। হাসান আলীর এই উদ্যোগ অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাহেলা পারভীন বলেন, ‘উদ্যোমী কৃষক হাসান আলী খরিপ-২ মৌসুম শুরুর আগেই চাল কুমড়ার মতো ফসল বাজারজাত করতে পেরেছেন, যা খুবই ইতিবাচক।

    প্রতিটি উপজেলায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ চলছে। হাসান আলীর মতো উদ্যোগী চাষিদের নিয়মিত প্রণোদনা দেওয়ার জন্য আমরা কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

    M

  • আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

    আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

    বিডিনিউজ ডেক্স : এক সময় শহর ও গ্রামের অলিগলিতে মানুষের যাতায়াতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন ছিল প্যাডেল চালিত রিকশা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রিকশাচালকরা ঘুরিয়ে যেতেন জীবনের চাকা, আর তাদের ঘণ্টির ‘ক্রিং ক্রিং’ শব্দে মুখর থাকত পথঘাট। এই রিকশাই ছিল নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবারের জীবিকার উৎস।

    কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ সেই প্যাডেল রিকশা হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোর দখলে। নিঃশব্দে বিলীন হচ্ছে এক সময়ের প্রাণচঞ্চল ঐতিহ্য, রেখে যাচ্ছে কেবল স্মৃতির শব্দ—‘ক্রিং… ক্রিং…’জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের অলিগলিতে একসময় সকাল-বিকেল ভেসে আসত রিকশার ঘণ্টির সুর। কিন্তু এখন সে দৃশ্য প্রায় বিরল। ব্যাটারিচালিত অটোর দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন সেই বাহন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি পাল্টেছে পরিবহন সংস্কৃতিও।

    প্যাডেল রিকশায় পরিশ্রম বেশি হলেও আয় তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কম শ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় চালকদের বড় একটি অংশ পেশা বদলেছেন। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই এখন দেখা যায় অটোরিকশার সারি, যা যাত্রীদের কাছেও দ্রুত ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    ৬৫ বছর বয়সী রিকশাচালক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘বাবা, অটো কিনতে টাকা লাগে, আমি গরিব মানুষ। এই রিকশাটাই আমার ভরসা। আগে যাত্রী তুলতাম, এখন আইসক্রিম বেচে খাই। দিনে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে। এখন মানুষ হাঁটতেও চায় না, সবাই অটোতে ওঠে।’

    চোখের কোণে বিষাদ লুকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘণ্টির শব্দেই কেটেছে আমার জীবন। এখন সবাই বলে, ‘দাদু, এইটা চালাও কেন?’ কিন্তু আমি ফেলে দিতে পারি না, এটা তো আমার সঙ্গী।’

    একই কণ্ঠে আক্ষেপ করলেন প্যাডেল রিকশার চালক আজিজার রহমান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন আর প্যাডেল রিকশায় উঠতে চায় না। তাই বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়। আগে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতো, এখন সেটা ৮০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এত অল্প আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর।’

    অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মোহন আলী জানান, ‘রিকশায় খাটুনি অনেক, আয় কম। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। কিস্তিতে পাওয়া যায় বলেও অনেকে সহজেই নিচ্ছে।’

    জয়পুরহাটে বর্তমানে প্রায় ২৩টি কারখানায় প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। রড, শিট ও ব্যাটারির দাম দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    স্থানীয় কারখানা মালিক আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘একটি অটোরিকশার বডি তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। ব্যাটারি ও মোটরসহ সম্পূর্ণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও ঋণ নিয়ে কাজ করেন, কারণ ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন।’

    জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাহিদা বাড়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা দিতে বিসিক উদ্যোগ নিচ্ছে।’

    কয়েক বছর আগেও আক্কেলপুর শহরে ৫০টির বেশি কারখানায় রিকশা তৈরি হতো। মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার রিকশা বিক্রি হতো। এখন হাতে গোনা মাত্র তিনটি প্যাডেল রিকশা দেখা যায়, আর তাদের চালকরাও বয়সে প্রবীণ।

    যে বাহন একসময় শহর ও গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরতা ছিল, তা এখন অতীত হতে চলেছে। প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে এক প্রজন্মের ঘাম-ঝরা শ্রমের স্মৃতি।

    সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যাডেল রিকশা একদিন হারিয়ে যাবে পুরোপুরি, রয়ে যাবে শুধু ইতিহাসের পাতায় কিংবা জাদুঘরের প্রদর্শনীতে—যেখানে কেউ থমকে দাঁড়িয়ে হয়তো আবার শুনতে পাবে সেই চেনা সুর,‘ক্রিং… ক্রিং…’

    একই কণ্ঠে আক্ষেপ করলেন প্যাডেল রিকশার চালক আজিজার রহমান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন আর প্যাডেল রিকশায় উঠতে চায় না। তাই বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়। আগে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতো, এখন সেটা ৮০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এত অল্প আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর।’

    অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মোহন আলী জানান, ‘রিকশায় খাটুনি অনেক, আয় কম। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। কিস্তিতে পাওয়া যায় বলেও অনেকে সহজেই নিচ্ছে।’

    জয়পুরহাটে বর্তমানে প্রায় ২৩টি কারখানায় প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। রড, শিট ও ব্যাটারির দাম দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    স্থানীয় কারখানা মালিক আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘একটি অটোরিকশার বডি তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। ব্যাটারি ও মোটরসহ সম্পূর্ণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও ঋণ নিয়ে কাজ করেন, কারণ ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন।’

    জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাহিদা বাড়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা দিতে বিসিক উদ্যোগ নিচ্ছে।’

    কয়েক বছর আগেও আক্কেলপুর শহরে ৫০টির বেশি কারখানায় রিকশা তৈরি হতো। মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার রিকশা বিক্রি হতো। এখন হাতে গোনা মাত্র তিনটি প্যাডেল রিকশা দেখা যায়, আর তাদের চালকরাও বয়সে প্রবীণ।

    যে বাহন একসময় শহর ও গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরতা ছিল, তা এখন অতীত হতে চলেছে। প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে এক প্রজন্মের ঘাম-ঝরা শ্রমের স্মৃতি।

    সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যাডেল রিকশা একদিন হারিয়ে যাবে পুরোপুরি, রয়ে যাবে শুধু ইতিহাসের পাতায় কিংবা জাদুঘরের প্রদর্শনীতে—যেখানে কেউ থমকে দাঁড়িয়ে হয়তো আবার শুনতে পাবে সেই চেনা সুর,‘ক্রিং… ক্রিং…’

    M

  • ক্ষেতলালে ফ্রি চক্ষু সেবা প্রদান

    ক্ষেতলালে ফ্রি চক্ষু সেবা প্রদান

    বিডিনিউজ ডেক্স : জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা প্রদান করেছে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তরুণ মানবকল্যাণ যুব সংস্থার আয়োজনে সকালে পৌর সদরে থানা বাজার খোশবদন জি ইউ আলিম মাদ্রাসায় এ চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন করেন,উপজেলা নিবার্হী অফিসার জনাব সানজিদা চৌধুরী।

    এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজ্জাদ পারভেজ। তিনি বলেন, বিনামূল্যে এই চক্ষু সেবা স্থানীয় মানুষের মাঝে স্বস্তি এনে দেয়। ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছি।দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে চোখের সমস্যা নির্ণয়,দৃষ্টি পরীক্ষা,পাওয়ার মাপা,ছানি রোগ সনাক্তকরণসহ বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি যেসব রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন তাদের জন্য পৃথকভাবে রেফারেল করা হয়। সেবা নিতে আসা রোগী ছামছূল সহ একাধিক রোগী জানান,ফ্রি সেবা পাওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। গ্রামের মানুষ এমন সুযোগ খুব কম পায়।তরুণ মানবকল্যাণ যুব সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম বলেন,শীতকালকে সামনে রেখে পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে এই সেবা পৌঁছে দিতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। আগামীতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

     

    M