ক্যাটাগরি বিদেশে

  • মামদানির বিজয়: গাজায় নীরবতার বিরুদ্ধে সত্যের জয়

    মামদানির বিজয়: গাজায় নীরবতার বিরুদ্ধে সত্যের জয়

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় লিখেছে। এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং ‘গাজায় নীরবতার উপর সত্যের বিজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ইসরাইলি নীতির সমালোচনা করায় তাকে ইহুদি-বিরোধী বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। ভোটাররা বুঝেছেন, গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো বিদ্বেষ নয়, বরং ন্যায়বিচারের আহ্বান। মামদানি বলেছেন, “ন্যায়বিচার কখনো নির্বাচনী হতে পারে না।”

    এর বিপরীতে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুওমো ইসরাইলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখিয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, যদি গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বিচার করা হয়, তবে তিনি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন। তার এই অবস্থান যে নৈতিক অন্ধত্বকে প্রকাশ করছে, নাগরিকরা তা বুঝতে পেরেছেন।

    হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক জিয়াদ মোতালা আল জাজিরায় এক মন্তব্যে বলেন, “মামদানিকে বেছে নিয়ে ভোটাররা, দাতাদের আনুগত্যের উপর জনস্বার্থ এবং গাজায় নীরবতার উপর সত্যকে সমর্থন করেছেন।”

    মামদানি তার প্রচারণায় সাহসিকতার সঙ্গে প্রচলিত রাজনীতির দ্বন্দ্ব তুলে ধরেছেন। তিনি শহরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান দিতে চেয়েছেন। কে এই শহরে টিকে থাকতে পারবে? এই প্রশ্নের জবাবে তার নীতিনিষ্ঠ স্পষ্টতা ফুটে উঠেছে। তিনি জনসাধারণের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, ভাড়াটেদের অধিকার, সর্বজনীন শিশু যত্ন ও বিনামূল্যে গণপরিবহন পাশাপাশি, ধনীদের ন্যায্য কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি ও জনস্বার্থে মুদি দোকানের সরকারি মালিকানা প্রস্তাব করেছেন।

    মামদানির বিরোধীরা তাকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ বলে আক্রমণ করলেও, ভোটাররা এই পুরনো ভয় দেখানোর কৌশল প্রত্যাখ্যান করেছেন। মামদানি ট্রাম্পের মতো বিভাজনের রাজনীতির নয়, বরং জনসাধারণের কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    নিউইয়র্কের তরুণ ভোটাররা এবার একটু অন্যরকম ছিলেন। তারা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে গাজার বাস্তব চিত্র দেখেছেন। আর তাই ‘ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র’ এই তত্ত্বকে তারা গ্রহণ করেননি। এমনকি অনেকেই প্রকাশ্যে ইসরাইলকে ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ বলতেও ভয় পাননি।

    অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতাও ভোটারদেরকে চরম হতাশ করেছে। সিনেটর চাক শুমার ও প্রতিনিধি হাকিম জেফ্রিস শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সমর্থন দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের এই দ্বিধা-দ্বন্দ ‍ছিল দাতা শ্রেণীর প্রতি নির্ভরতার প্রতিফলন।

    জোহরান মামদানির বিজয় আজ এক প্রজন্মের ক্ষোভ ও আশার প্রতীক। তরুণরা আর ‘ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ হলেও মেনে নিতে হবে’ এই তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়। তারা এমন রাজনীতি চায় যা সত্য বলে এবং তার ওপর কাজ করে।

    সূত্র: আমার দেশ

    বি/এ

  • ইয়েমেন উপকূলে ৬৮ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু

    ইয়েমেন উপকূলে ৬৮ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু

     

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

    ইয়েমেন উপকূলে আফ্রিকান অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ায় কমপক্ষে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৭৪ জন। ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সবাই আফ্রিকান নাগরিক।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার (৩ আগস্ট) এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা জানায় জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, নৌকাটিতে ১৫৪ জন ইথিওপীয় নাগরিক ছিলেন। এটি ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে ডুবে যায়।

    তিনি জানান, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫৪ জনের মরদেহ খানফার জেলায় এবং আরও ১৪ জনের মরদেহ আশপাশের এলাকা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, মৃতের সংখ্যা অন্তত ৫৪। তবে পরে আইওএম নিশ্চিত করে, মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৭৪ জন।

    এদিকে জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানান, নিহতদের দাফনের জন্য শহরের শাকরা এলাকার কাছে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং ইয়েমেনের মধ্যকার সমুদ্রপথ অভিবাসীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইয়েমেনে ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোতে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা আরও বেড়েছে।

    আইওএম-এর মতে, ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের ৯৭ হাজার ২০০ জনের তুলনায় অনেক কম।

    আইওএম আরও জানায়, এই রুটে ২০২৩ সালে ৫৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত এক দশকে নিখোঁজ হয়েছেন কমপক্ষে ২ হাজার ৮২ জন। যাদের মধ্যে ডুবে মারা গেছেন ৬৯৩ জন। বর্তমানে ইয়েমেনে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন।

  • কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে ইসরায়েল: জার্মানি

    কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে ইসরায়েল: জার্মানি

    নিউজ ডেস্ক:

    গাজায় মানবিক সংকট এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ইউরোপীয় দেশগুলোর পদক্ষেপ নিয়ে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাডেফুল বলেছেন, এসব ইস্যুতে ইসরায়েল ক্রমেই কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জাতিসংঘের ‘দ্বি-রাষ্ট্র’ সমাধান সংক্রান্ত সম্মেলন বয়কট করেছে। এ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে ইসরায়েল সফরের আগে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে জোহান ভাডেফুল এ কথা বলেন।

    ভাডেফুল আরও বলেন, ইসরায়েলি সরকারের কিছু সদস্য যেভাবে প্রকাশ্যে দখলদার ভূখণ্ড সংযুক্ত করার হুমকি দিচ্ছেন, তা বিবেচনায় রেখে এখন ইউরোপের অনেক দেশ আলোচনার আগেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত।

    গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের কয়েকজন সদস্যসহ ৭০ জনের বেশি ইসরায়েলি আইনপ্রণেতা একটি প্রস্তাব পাস করে। এতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব’ আরোপের আহ্বান জানানো হয়।

    বার্লিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ওয়াডেফুল কড়া ভাষায় বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি আলোচনার প্রক্রিয়া শেষ হওয়া উচিত। এখন স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে হবে এবং যে কোনো একতরফা পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় জার্মানিকেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

    গাজা উপত্যকার অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, সেখানে দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলকে ‘তাৎক্ষণিক, ব্যাপক ও স্থায়ী’ মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে যাতে ‘নাটকীয়’ পরিস্থিতি কিছুটা উপশম হয়।

    তিনি বলেন, ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে বিমান পরিবহনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে জার্মানিও অংশ নেবে। তবে এসব স্থলপথে সহায়তা পৌঁছানোর বিকল্প হতে পারে না। প্রয়োজনীয় পরিমাণে সাহায্য শুধু স্থলপথেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। জার্মানি এই স্থলপথ পুনঃস্থাপনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তিচ্ছু লাদেশি শিক্ষার্থীদের দ্রুত আবেদনের পরামর্শ

    যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তিচ্ছু লাদেশি শিক্ষার্থীদের দ্রুত আবেদনের পরামর্শ

    নিউজ ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

    বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট শেয়ার করে এ নির্দেশনার কথা তুলে ধরা হয়।

    এতে বলা হয়েছে, যোগ্যতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দ্রুত তাদের ‍স্টুডেন্ট ভিসার জন্য অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করুন। যাতে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।

    মূলত, সময়মতো ভিসার জন্য আবেদন করলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব এড়ানোর জন্য দূতাবাস থেকে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রতি বছর বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে থাকে।

    শিক্ষার্থীদের যেকোনো তথ্যের জন্য মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিষয়ক সেবাদানকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

    দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল করতে ক্লিক করুন।

  • পদত্যাগ করেছেন লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    পদত্যাগ করেছেন লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্ক:

    আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী গিনতাউতাস পালুকাস। দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মাঝে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে পালুকাসের পদত্যাগের বিষয়ে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদা। খবর আলজাজিরা

    সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির এক বিবৃতিতে নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পালুকাস।গত বছর অক্টোবরে তিন দলীয় সংসদীয় জোট গঠনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। পালুকাসের পদত্যাগের মাধ্যমে গোটা সরকার ব্যবস্থার পতন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার মন্ত্রীসভাও পদত্যাগ করতে পারে। অন্যদিকে নতুন জোট সরকার গঠনের বিষয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। পালুকাস তার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কেলেঙ্কারির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি কমপক্ষে এক দশক আগে করা হয়েছে।

    ২০১২ সালে রাজধানী ভিলনিউসের ইঁদুর নিধন পরিষেবার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া ভুলভাবে পরিচালনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে পালুকাস কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে ১৬ হাজার ৫০০ ইউরোর জরিমানার কিছু অংশ পরিশোধ না করার অভিযোগ করা হয়েছে। পালুকাস ওই সময় ভিলনিয়াসের পৌর প্রশাসনের পরিচালক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দর দেয়া কোম্পানিকে অবৈধভাবে সুযোগ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত জেলে যেতে হয়নি। লিথুয়ানিয়ার দুর্নীতিবিরোধী ও আইন প্রণোয়নকারী সংস্থাও পালুকাসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পালুকাস। তিনি এগুলোকে বিরোধী দলের কারসাজি হিসেবে অভিযোগ করেছেন।

  • মিয়ানমারের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, ডিসেম্বরে নির্বাচনের প্রস্তুতি

    মিয়ানমারের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, ডিসেম্বরে নির্বাচনের প্রস্তুতি

     

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক

    জুররি অবস্থা তুলে নিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। সেইসঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে। যার ফলে বহুমুখী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই গৃহযুদ্ধ হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

    সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো একটি ভয়েস বার্তায় জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন বলেছেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আজ জরুরি অবস্থা বাতিল করা হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

    বিশ্লেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন যে নির্বাচনের পর জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট অথবা সশস্ত্র বাহিনী প্রধানের ভূমিকা বজায় রাখবেন। যার ফলে কার্যত শাসক হিসেবে তার মেয়াদ বাড়বে।

    বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মায়ানমারে প্রকাশিত এক বক্তব্যে মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে প্রথম অধ্যায়টি অতিক্রম করেছি। এখন, আমরা দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করছি।’

    প্রকাশিত বক্তব্যের আরেক অংশে বলা হয়েছে, ‘আসন্ন নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। সকল যোগ্য ভোটারকে তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

    তবে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক আইনপ্রণেতাসহ বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়েছে। যা জুনে জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ সামরিক বাহিনীর অব্যাহত শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য এই নির্বাচনকে একটি জালিয়াতি বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিডি/বিএ

     

  • গাজায় ত্রান শিবিরে ইসরাইলি হামলায় ৭১ জন নিহত

    গাজায় ত্রান শিবিরে ইসরাইলি হামলায় ৭১ জন নিহত

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক

    যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও গাজায় অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণ আনতে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। বুধবার ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

    গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিজনিত কারণে মারা গেছে আরো সাতজন।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার উত্তর গাজায় প্রবেশকারী ত্রাণ ট্রাকগুলো জিকিম ক্রসিং পয়েন্টের দিকে যাওয়ার সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৪৮ জনের বেশি মানুষ।

    নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে তথাকথিত মোরাগ করিডোরের কাছে সাহায্যের জন্য আসা আরো ২০ জন নিহত হয়েছেন।

    গত মে মাসের শেষের দিকে অভিযান শুরু করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল সমর্থিত জিএইচএফ পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ স্থান পরিণত হয়েছে মৃত্যু ফাঁদে। জিএইচএফ কেন্দ্রে ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

    পর্যাপ্ত সাহায্য প্রদানে ব্যর্থতার জন্য এবং এর সাহায্য বিতরণ স্থান এবং এর আশেপাশে ভয়াবহ নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবিক সংস্থাগুলি জিএইচএফ-এর তীব্র সমালোচনা করেছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপুষ্টিতে ৮৯ জন শিশুসহ ১৫৪ জন মারা গেছেন। যার বেশিরভাগই মারা গেছেন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে।

    ক্রমবর্ধমান চাহিদা সত্ত্বেও, গাজায় যে পরিমাণ ত্রাণ ইসরাইল ঢুকতে দিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

    জাতিসংঘ বলছে, মৌলিক মানবিক চাহিদা মেটাতে গাজায় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রয়োজন। গত চার দিনে মাত্র ২৬৯টি ট্রাক ত্রাণ নিয়ে গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে।

  • হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট; নিজ দেশের মুসলিমদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট; নিজ দেশের মুসলিমদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
    ভারত সরকার অবৈধভাবে নিজ দেশের মুসলিমদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ভারতজুড়ে হাজার হাজার মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করছে পুলিশ। তাদের অনেকেই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর ভারতীয় নাগরিক। এদেরকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জোর করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পুশ ইন করছে মোদি সরকার। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বরাত দিয়ে শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
    সংবাদমাধ্যমটি জানায়, হিউম্যান রাইটস এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে ভারত সরকারের প্রতি আহ্ববান জানিয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে বেআইনিভাবি লোকজনকে অন্য দেশে ঠেলে দেয়া অবশ্যই বন্ধ করতে হবে সরকারকে।
    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকার গোষ্ঠীটি অভিযোগ করেছে, নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার পূর্বাঞ্চলীয় দুটি রাজ্যে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক লাভের জন্য পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম থেকে বাংলাভাষী মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
    বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বরাত দিয়ে মানবাধিকার গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ভারত ৭ মে থেকে ১৫ জুনের মধ্যে ১ হাজার ৫’শ জনেরও বেশি মুসলিম পুরুষ, নারী এবং শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে। তবে নয়াদিল্লি প্রতিবেশী দেশে পুশ-ইন করা মানুষের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
    মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীরে ২৬ জন সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়ার পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যগুলোকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা ঘোষণা করেছে।
    সমালোচকরা বলেছেন, উত্তর প্রদেশ, ওড়িশা, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা এবং দিল্লি – এই সব রাজ্যগুলোতে ক্ষমতাসীন দল মোদির বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম থেকে যাওয়া বেশিরভাগ বাংলাভাষী অভিবাসী শ্রমিকদের আটক করেছে। বাংলা ভারতের ২২টি সরকারি ভাষার মধ্যে একটি।
    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক এলেন পিয়ারসন বলেছেন, “ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি বাঙালি মুসলিম, যাদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকরাও রয়েছেন, নির্বিচারে দেশ থেকে বহিষ্কার করে বৈষম্যকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। সরকার হাজার হাজার দুর্বল মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে- স্পষ্টতই অননুমোদিত অভিবাসীদের অনুসরণ করে। তাদের কর্মকান্ড মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর বৈষম্যমূলক নীতির প্রতিফলন ঘটায়।”
    ৫১ বছর বয়সী এক ভারতীয় মুসলিম শ্রমিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাকে ধাক্কা দিয়ে পার করে দেওয়ার পর তিনি ‘লাশের মতো বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন।’
    তিনি বলেন, “আমি সীমান্ত অতিক্রম করতে অস্বীকৃতি জানালে বিএসএফ অফিসার আমাকে মারধর করেন এবং চারবার ফাঁকা গুলি ছোড়েন’’।
    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, অভিবাসী শ্রমিকটিকে দুই সপ্তাহ পরে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
    পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল জানিয়েছে, মোদি সরকারের মাধ্যমে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানো কয়েক ডজন বাসিন্দাকে তারা ফিরিয়ে এনেছে।
    বাংলাদেশে পুশ-ইন করা ব্যক্তিদের মধ্যে কমপক্ষে ৩০০ জন আসামের বাসিন্দা। সেখানে ২০১৯ সালে বিতর্কিত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রায় ২০ লাখ লোককে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
    পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছর বয়সী একজন অভিবাসী শ্রমিক নাজিমুদ্দিন শেখকে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছিল। জুন মাসে তার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ‘তার পরিচয়পত্র ছিঁড়ে ফেলে।’ পরে তাকে বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
    নাজিমুদ্দিন শেখ হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, যখন তিনি এবং তার সহকর্মীরা নিজেদের ভারতীয় দাবি করে প্রতিবাদ করেছিলেন, তখন বিএসএফ তাদের কথা শোনেনি।
    এই ভারতীয় নাগরিক বলেন, “আমরা বারবার কথা বললে তারা আমাদের মারধর করতো। তারা আমার পিঠে এবং হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিল। তারা পেটানোর পর আমাদেরকে বাংলাদেশি বলে স্বীকার করতে বলেছিল।”
    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতাসীন দলকে এই দমন-পীডন বন্ধের আহ্ববান জানিয়ে বলেছেন, “বাংলা বলা কি অপরাধ?”
    মোদির উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনার লজ্জা হওয়া উচিত যে এর মাধ্যমে আপনি বাংলাভাষী সবাইকে বাংলাদেশি বলে দেখাচ্ছেন।”

  • সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

    সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন (১৪ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের অস্ত্র চুক্তি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রিয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে এসব চুক্তি হয়। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার এই চুক্তি ছাড়াও দেশটিতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের চুক্তি করেছে সৌদি আরব।

    সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে এসব চুক্তি সইয়ের পর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশ সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আজ ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে তা বেড়ে ১ ট্রিলিয়ন (এক হাজার বিলিয়ন) ডলারে উন্নীত হবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে তিন দিনের সফরের প্রথম দিনে আজ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। এরপর দুজন প্রাথমিক বৈঠক করেন। পরে সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। হোয়াইট হাউস বলছে, এদিন সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তি’ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি চুক্তির আওতায় মোট পাঁচটি খাত রয়েছে। সেগুলো হলো বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও মহাকাশ সক্ষমতা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থলবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশটির সেনাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামরিক চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে কাজ করা হবে। অস্ত্র চুক্তি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্যাস টারবাইন, উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।

    চুক্তি স্বাক্ষরের পর মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘অসাধারণ একজন মানুষ’ অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সৌদি আরব একটি ‘চমৎকার জায়গা’। এখানে ‘চমৎকার মানুষ’ বসবাস করেন।

    সৌদি আরব সফর শেষে আগামীকাল বুধবার কাতার যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) যাবেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এ সফরের সময় ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ইসরায়েল ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা নেই ট্রাম্পের। এমন সিদ্ধান্তের কারণে ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ইসরায়েলে না গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ সফরের সময় বৃহস্পতিবার তুরস্কে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দেশটির ইস্তাম্বুল শহরে অনুষ্ঠিত মস্কো ও কিয়েভের বৈঠকে অংশ নিতে পারেন তিনি। গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই এই যুদ্ধ থামাতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। গত শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। কূটনৈতিক এই আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি আগে থেকেই দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।