ক্যাটাগরি বরিশাল

Barishal district

  • আগৈলঝাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল ৪০০ টাকা

    আগৈলঝাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল ৪০০ টাকা

    বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ল ৪০০ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা যে গ্যাস গতকাল বুধবার সারা দিন ১ হাজার ৫৮০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছেন, এক দিনের ব্যবধানে তাঁরাই আজ বৃহস্পতিবার সেই গ্যাস ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন।

    উপজেলার গৈলা বাজারের ডেলটা গ্যাসের ডিলার জাকির হোসেন মানিক মোল্লা বলেন, ‘আমরা আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের গ্যাস কিনেছি ১ হাজার ৩৮০ টাকায়। সেই গ্যাস আজ ১ হাজার ৭৩০ টাকায় কোম্পানির কাছ থেকে আমাদের কিনতে হচ্ছে। কিন্তু খুচরা বাজারে কিছু বিক্রেতা অধিক মুনাফার লোভে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছে।’

    গ্যাস কিনতে আসা ক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, সরকার গ্যাসের দাম না বাড়ালেও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

    উপজেলা বাজারের ব্যবসায়ী মজনু মিয়া বলেন, ‘কোম্পানিগুলো হঠাৎ গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে আমাদেরও দাম বাড়িয়ে গ্যাস বিক্রি করতে হচ্ছে।’

    উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল দাস গুপ্ত বলেন, যেসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

  • মশা নিধনে উন্নত ওষুধ কেনার নির্দেশ বিসিসি প্রশাসকের

    মশা নিধনে উন্নত ওষুধ কেনার নির্দেশ বিসিসি প্রশাসকের

    মশা নিধনে উন্নতমানের ওষুধ কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

    বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, মহানগরীতে মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে ওষুধ কেনার পুরোনো টেন্ডার বাতিল করে উন্নতমানের ওষুধ কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার বরিশাল প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

    বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন গড়তে চাই। আগে যা হয়েছে তা আর দেখতে চাই না। সামনে আর না হোক সেটা চাই।’

    বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন আরও বলেন, মহানগরীর সড়কের চলাচল সহজ করতে কাউনিয়া বাঁশের হাটখোলা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    বিসিসি প্রশাসক আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নগর পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতিও জোর দেন তিনি।

    বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরুর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, প্রবীণ সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, মেহেরুননেছা বেগম, সৈয়দ দুলাল, মুরাদ আহমেদ প্রমুখ।

  • ১৮ মাসের কাজ ৪ বছরেও শেষ করতে পারেনি গণপূর্ত বিভাগ, দুর্ভোগে রোগীরা

    ১৮ মাসের কাজ ৪ বছরেও শেষ করতে পারেনি গণপূর্ত বিভাগ, দুর্ভোগে রোগীরা

    নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়েছে ৪ বছর আগে। ১৮ মাসের কাজ গড়িয়েছে ৪৮ মাসে। তবুও শেষ হয়নি বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই চরম ধীরগতিতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ। বর্তমানে শয্যা সংকটে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলা বিশিষ্ট বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল আড়াইশো শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ শুরু করে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তর। কথা ছিল আঠারো মাসের মধ্যেই শেষ হবে নির্মাণ কাজ।

    বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২৫০ শয্যার হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি। অথচ গণপূর্ত বিভাগের দাবি ভবনটি ৭০ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে।

    হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালটির মূল ভবন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। উপায় না থাকায় দুটি ভবনের একটিতে বহির্বিভাগ অপরটিতে চলছে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম। দিন দিন রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালের পরিসর বাড়ানোর দাবি সব মহলের। প্রায় শত বছরের পুরোনো বরিশাল জেনারেল হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয় ১৯১২ সালে। পরে ৯০ দশকে ৮০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হয়। সবশেষ ডায়রিয়া ওয়ার্ড নিয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয় বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল।

  • জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, প্রাণ গেলো কলেজ ছাত্রের

    জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, প্রাণ গেলো কলেজ ছাত্রের

    বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় সাইদুল ইসলাম সজিব (২৫) নামে এক কলেছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

    সজিব উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং সরকারি বরিশাল কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা।

    এর আগে রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার সকালে নিজেদের জমিতে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে একই এলাকার প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ৮-১০ জন ভাড়াটে হামলাকারী এসে তাদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর করে। হামলায় সজিব গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় সজিবের বাবা আবুল হোসেন খান, সজিবের মা পিয়ারা বেগমসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    ঘটনার পর সজিবের বাবা বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

  • বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বেতাগীর জুয়েলী

    বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বেতাগীর জুয়েলী

    ডেস্ক নিউজ:

    জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বরগুনার ‘বেতাগী গা‍র্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর সহকারী শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার মনিকা।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকায় জাতীয় প‍‍র্যায়ে দেশ সেরা বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন বেতাগী উপজেলার ওই শিক্ষক।

    এর আগে, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কা‍র্যালয়ে (সম্মেলন কক্ষে) বিভাগের সকল জেলা প‍‍র্যায়ে বিজয়ী শ্রেণি শিক্ষকদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণ করা শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, শিক্ষাগত একাডেমিক অ‍‍র্জন, প্রাতিষ্ঠানিক মনোভাব ও মূল্যায়ন পারদ‍‍র্শিতাসহ ১২টি গুণাবলি বিবেচনায় সৈয়দা জুয়েলীকে বিভাগের ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতে প্রথম হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

    শ্রেণি শিক্ষক ক্যাটাগরিতে বিজয়ী শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে গণিত বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষে ২০১৩ সালে বরগুনা জেলার ‘বেতাগী গা‍র্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে’ সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তার এমন অর্জনে সহক‍‍র্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার বলেন, একজন শিক্ষকের অ‍‍র্জিত সাফল্যের মূল্যায়ন তার ক‍‍র্মযজ্ঞকে গতিশীল করে, যার সুফল ক‍‍র্মস্থলসহ দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে বলে আমি মনে করি। এছাড়াও সরকারের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-এর মতো আয়োজনকে ‘গতিশীল উদ্যোগ’ হিসেবেও বলেন তিনি।

  • ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক

    উত্তরে ভোলা সদর। দক্ষিণে লালমোহন। মাঝখানে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা। যুগের পর যুগ ধরে যথাযথ চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ উপজেলার বাসিন্দারা। চিকিৎসক, নার্স, আধুনিক ভবনসহ রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি সংকটে ধুঁকছে বোরহানউদ্দিনের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা। রোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ এটি নামেমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মেলে না যথাযথ চিকিৎসা।

    সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়েই সেখানকার বাসিন্দাদের কেউ কেউ যাচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। এতে তিন থেকে চারগুণ বেশি টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। ফলে ক্ষুব্ধ তারা।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ভোলা জেলা অফিসের তথ্য মতে, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বসবাসকারী মানুষ রয়েছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৭ জন মানুষ। বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩০টি ও নার্সের পদ রয়েছে ৩৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন টিএসসহ মাত্র ৫ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের শুন্য পদ রয়েছে ২৫টি ও নার্সের ২৩টি।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসছেন আন্তঃবিভাগ ও বর্হিবিভাগ মিলিয়ে প্রায় ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন রোগী। অন্যদিকে, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে ৩০ শয্যা নিয়ে। গত ১৫ দিনে আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৪৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশু ও বহিঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার। যাদের অধিকাংশই নারী-শিশু,জ্বর ঠান্ডাসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের সামনে পুরোনো একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জরুরি বিভাগ, ভেতরে খসে পড়া অবস্থায় রয়েছে ছাদের প্লাস্টার, বেরিয়ে এসেছে রড। ভবনটির ভেতরে একপাশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষ, অপরপাশে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষসহ দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য কয়েকটি কক্ষ, সেখানেই অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত বসছেন তারা।

    পুরোনো ভবনটির পেছনে রয়েছে প্রায় ১ যুগ আগে নির্মিত আরেকটি ১৯ শয্যার ভবন। অতিরিক্ত রয়েছে আরও ১১টিসহ মোট ৩০টি বেড। ওপর তলায় চলছে আন্তঃবিভাগ ও নিচ তলায় বহিঃবিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম। আন্তঃবিভাগের অন্যান্য রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝেতে,নেই অপারেশন থিয়েটার। অন্যদিকে, ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন বেশি রোগীদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের।

    বাধ্য হয়েই চিকিৎসা নিতে হয়
    আমার স্বামী গাঙ্গে (নদীতে) মাছ ধরে। ছেলে-মেয়ে লইয়া (নিয়ে) ৫ জনের সংসার। স্বামী ছাড়া আর কেউ কামাই (আয়) করার নাই। ছোডো পোলাডার ৫ দিন ধইরা জ্বর-ঠান্ডা, বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আইন্না (এনে) ভর্তি করাইছি। হাসপাতালে ভর্তির পর একবার ডাক্তার আসছিল, এক নজর দেইখা গেছে, এরমধ্যে আর আসেনি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। নার্সদের ডাকলেও তারা আসতে চান না। আমরা গরিব মানুষ, অন্য কোথাও পোলারে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার সামর্থ্য নাই, কি করব? এভাবেই ঢাকা পোস্টের কাছে অভিযোগ করছিলেন চিকিৎসাধীন শিশু মো. ওসামার মা মাইমুনা।

    প্রায় একই অভিযোগ রোগী রাবেয়া বেগমের। তিনি বলেন, আমাদের টাকা থাকলে এখানে চিকিৎসার জন্য আসতাম না, বরিশাল বা ঢাকা যেতাম চিকিৎসার জন্য।

    হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য ষাটোর্ধ্ব মোতাহার হোসেনকে তার স্বজনরা এনেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্মরতরা রোগীর স্বজনদের রোগীর ইসিজি করানোর জন্য বলেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন নেই জানান তারা।

    মোতাহারের স্বজনরা বলেন, আমরা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যন্ত্রপাতি নেই। যদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন থাকতো তাহলে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হতো না। সরকারিভাবে স্বল্পমূল্যে পরীক্ষা করাতে পারলে কম টাকা লাগে। তাছাড়া পরীক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে এক্সরে মেশিনও নেই।

    ক্ষুব্ধ বোরহানউদ্দিনবাসী
    স্থানীয় বাসিন্দা মো.শফিউল্লাহ, মো. বশার ও আমজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা প্রায় পৌনে ৩ লাখ লোক বসবাস করি এ উপজেলায়। বেশিরভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে যে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও গিয়ে চিকিৎসা নেবে সেই সামর্থ্য অনেকের নেই। অনেকটা বাধ্য হয়েই বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হয়। অন্যদিকে, কথায় কথায় এখান থেকে রোগীদের ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়। এখানে চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকট। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও নেই। ৩ থেকে ৪ গুন বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে পরীক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নামেমাত্র চিকিৎসা সেবা চলে।

    নানা অসুবিধায় রোগীর স্বজনরা প্রায় সময়ই ক্ষিপ্ত হয়ে নার্সদের সাথে অসদাচরণ করে বলে আক্ষেপ করে জানান বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সম্পা বেপারি। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে নার্স সংকট, বেড সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। এসব সংকটের মধ্যেও আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ নার্স সংকটের সমাধান করলে আমরা আরও ভালোভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারতাম।

    বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিরুপম সরকার সোহাগ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে চিকিৎসক-নার্স ও রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। মাত্র ৪ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। আন্তঃবিভাগ বহিঃবিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। প্রচুর রোগীর চাপ থাকে। এটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে আন্তঃবিভাগের সকল রোগীকে বেড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি আধুনিক ভবনও প্রয়োজন। এসব সমস্যায় সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।

    যা বলছেন ভোলার সিভিল সার্জন
    আগামী ২ মাসের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্স সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা.মু.মনিরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুইমাসের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ হবে। নার্সদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তারা শুন্য পদে যোগদান করলে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-নার্স সংকট কেটে যাবে। যেহেতু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ তাই সেখানে বেড স্থাপন করা সম্ভব না। ১৯ বেডের ভবনে ৩০ বেড দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এক্সরে মেশিন অকেজো, টেকনোলজিস্ট নেই, সার্জন ও এনেস্থেসিওলজিস্ট না হলে অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয় জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং সেখানাকার বাসিন্দারা যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    এদিকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে অতিদ্রুত বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও বাসিন্দারা।

  • বরিশালে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে

    বরিশালে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে

    ডেস্ক নিউজঃ

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশালে জামায়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে। এমনকি দলটির ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটিও ছাড়তে হচ্ছে। বিজয়ের ক্ষেত্রে দলটির এ গ্রেডের তালিকায় ছিল আসনটি। পাশাপাশি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিও জামায়াতের এ গ্রেডের তালিকায় ছিল। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে আসনটি আগেই ছেড়ে দিয়েছিল দলটি, যে কারণে এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বরিশাল মহানগর দলের আমির জহির উদ্দীন বাবর প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

    এদিকে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনটিও জামায়াতের এ গ্রেডের তালিকায় রয়েছে। এ দুটি আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি।এদিকে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে বরিশাল-৫ আসন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে তার দেনদরবার চলছে। এ আসনে তার মনোনয়ন নিশ্চিত হলে জামায়াতকে ৬ আসনটি ছেড়ে দিতে পারেন বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।

    সূত্র জানায়, সদর আসনটিতে প্রার্থী হয়েছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এখানে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে আসছেন।

    জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পাড়ায়-মহল্লায় তাদের হাজার হাজার সক্রিয় কর্মী-সমর্থক রয়েছে। ইতোমধ্যেই দলের নির্বাচনি কেন্দ্র পাহারা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের কারণে এ আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছেড়ে দিতে হবে বলে শোনা যাচ্ছে।

    এদিকে সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে গত রোববার সকাল থেকেই নগরীতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর আসনটি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২০ জানুয়ারির আগেই জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    জানা যায়, সমঝোতার অংশ হিসেবেই জামায়াত সম্প্রতি তাদের সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করেছে। এতে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুমকে আহ্বায়ক এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলালকে।

     সদর আসনটিতে প্রার্থী হয়েছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এখানে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে আসছেন।

    জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পাড়ায়-মহল্লায় তাদের হাজার হাজার সক্রিয় কর্মী-সমর্থক রয়েছে। ইতোমধ্যেই দলের নির্বাচনি কেন্দ্র পাহারা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের কারণে এ আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছেড়ে দিতে হবে বলে শোনা যাচ্ছে।

    এদিকে সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে গত রোববার সকাল থেকেই নগরীতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর আসনটি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২০ জানুয়ারির আগেই জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    জানা যায়, সমঝোতার অংশ হিসেবেই জামায়াত সম্প্রতি তাদের সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করেছে। এতে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুমকে আহ্বায়ক এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলালকে।

    দলীয় সূত্র জানায়, সাধারণত সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা নির্বাচনে প্রার্থী থাকেন না। সে বিবেচনায় বরিশাল-৫ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পক্ষে জায়গা ছেড়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দীন মুহাম্মদ বাবর আমার দেশকে বলেন, জোটের স্বার্থে অনেক কিছুই ছাড় দিতে হয়। শুনেছি এ বিষয়ে দলীয় ঘোষণা আসতে পারে। তবে এখনও নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না।

    প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি হওয়ায় শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

    এম কে

     

  • বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

    বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

    ডেস্ক নিউজঃ

    বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা।শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় আগৈলঝাড়ার সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।এতে নির্বাচনি এলাকার বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এ এলাকার হাজার হাজার হিন্দু নারী-পুরুষের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা নবীন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে রবীন্দ্রনাথ গাইন বলেন, বিএনপির ঘোষিত খসড়া তালিকায় যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সময় জিয়াউর রহমানের পরিবার ও দলকে নিয়ে বিষোদগার করেন। এছাড়াও তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন এ আসনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।এ আসনে যাকে (জহির উদ্দিন স্বপন) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা বাতিল করে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেন তারা।বিক্ষোভ সমাবেশে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    এম কে

  • নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

    নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

    ডেস্ক নিউজ :

     

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, শাপলা প্রতীক কেন দেবে না তার ব্যাখ্যা দেয়নি নির্বাচন কমিশন। যার ফলে এই নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

    রোববার (২ নভেম্বর) বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এনসিপির জেলা ও মহানগর সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারী করতে হবে এবং সেটা ড. মুহাম্মদ ইউনুসকেই দিতে হবে। এখন এই আদেশ যদি চুপ্পুর কাছ থেকে নিতে হয় তাহলে তা বিপ্লবের কফিনে শেষ হবে।

    তিনি বলেন, তিনশ আসনেই সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যেন একটা গুণগত, কাঠামোগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে যেতে পারি, তার বড় দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর।

    সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন।

    সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা।

    সুত্র: ঢাকামেইল

  • ‘মাদকাসক্ত’ ছেলেকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ বাবা-মার

    ‘মাদকাসক্ত’ ছেলেকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ বাবা-মার

    নিউজ ডেস্ক:

    বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় হাসান গাজী (২০) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তার বাবা মা। এ ঘটনার পর ওই যুবকের মা-বাবা থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভরপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত হাসান গাজী (২০) বাকেরগঞ্জর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভরপাশা এলাকার বাসিন্দা জাফর গাজী (৪৮) ও নাজমা বেগম (৪০) দম্পতির একমাত্র ছেলে।  জানা যায়, জাফর ও নাজমার দুই মেয়ে, এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। ছেলে হাসান অনেক দিন ধরেই মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য মা–বাবাকে প্রায়ই মারধর করত হাসান।

    প্রতিবেশীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ৫ হাজার টাকার জন্য ঘরে ভাঙচুর শুরু করে হাসান। এ সময় বাধা দিলে বাবা জাফর গাজীকেও মারধর শুরু করে সে। এসময় জাফর গাজীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন স্ত্রী নাজমা। তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মা-বাবা মিলে ছেলেকে একটি পাইপ দিয়ে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই ছেলে হাসান মারা যান। পরে অসহায় স্বামী-স্ত্রী দুজন থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

    বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে জাফর গাজী ও তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম থানায় এসে জানান, তাঁরা ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিহত হাসানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।