ক্যাটাগরি বিএনপি

  • শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ

    শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ছাউনি ভেঙে ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার পথচারী, যাত্রীসহ স্থানীয় সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া।

    অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন,পাথারিয়া এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মমিন তার বাড়ির সামনের পূর্বদিকে বড় মার্কেটে যাতায়াতের রাস্তার জন্য পাথারিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার পথচারী ও শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল যাত্রী ছাউনি গত ডিসেম্বর থেকে দখলে নিয়েছেন। ছাউনি দখলের পর পর্যায়ক্রমে ছাউনি  ভেঙে তার ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী ও যাত্রীরা। এই ঘটনায় পাথারিয়া বাজারের অনেকেই বাধা আপত্তি দিলেও তার তোয়াক্কা করেননি আব্দুল মমিন। ফলে রোদ-বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়া এবং গাড়ীতে উঠার জন্য অপেক্ষা করা যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পথচারী, যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা।

    এই অবস্থায় ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করে যাত্রী ছাউনি পুনরুদ্ধার করে সেটি জনগণের জন্য পুনরায় স্থাপনের অনুরোধ জানান অভিযোগকারী আঙ্গুর মিয়া।

    স্থানীয় পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মিয়া বলেন, ‘পাথারিয়া বাসস্ট্যান্ডে সরকারী যাত্রী ছাউনি ছিল। সেখানে এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী, দুরপথের যাত্রী বসে সেখানে বসতেন। কিন্তু মমিন মিয়া সেটি দখল করে ভেঙ্গে শেষ করে দিয়েছেন।

    গাজীনগর গ্রামের জিয়াউদ্দিন তুহিন বলেন, ‘পাথারিয়া বাজারের একমাত্র যাত্রী ছাউনি বাজারের যাত্রী, পথচারী ও সুরমা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা দখলমুক্ত করে পুনরায় নির্মান করা জরুরী।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল মমিন। তিনি বলেন, ‘যাত্রী ছাউনি ভাঙার বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যাত্রী ছাউনি সরকারীভাবে স্থাপন করা হলেও জায়গাটি আমার নিজের। কে বা কারা ছাউনিটি ভেঙেছে তা আমি জানি না। দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিত্যক্ত ছিল।’

    এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ/আর

  • নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

    নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামে ঘটে যাওয়া ব্যতিক্রমী ‘মহিষ বাজি’ এবার পেল এক মানবিক পরিণতি। মানবিক বিবেচনায় বাজিতে জেতা মহিষটি শেষ পর্যন্ত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক মো. আব্দুল মান্নান।

    শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেন কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ। মহিষের মালিকের কষ্ট দেখে হৃদয়ে আঘাত অনুভূত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    নির্বাচনের আগে উত্তর নাকশী গ্রামের আব্দুল মান্নান ও বালুঘাটা গ্রামের আমির হোসেনের মধ্যে অভিনব এক বাজি ধরা হয়। শর্ত ছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়ী হলে আব্দুল মান্নান দেবেন ৬টি মহিষ, আর ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে আমির হোসেন দেবেন ১টি মহিষ।

    ভোট গণনা শেষে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হওয়ায় বাজিতে পরাজিত হন আমির হোসেন। পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে মহিষটি বুঝে নেন আব্দুল মান্নান। মহিষ নিয়ে বিজয় মিছিলের আদলে গ্রামে প্রবেশ করলে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কৌতূহলী ভিড় জমে সেই দৃশ্য দেখতে। তবে আনন্দের সেই মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহিষটি ছিল আমির হোসেনের পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। মহিষ হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের আর্থিক কষ্ট ও জীবিকার অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে আসতেই বদলে যায় পরিস্থিতি।

    এলাকাবাসী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আব্দুল মান্নান ও আমির হোসেন সম্পর্কে ওরা আত্মীয়, নির্বাচনের আগে তারা মহিষ নিয়ে বাজি ধরেছিল। আমির হোসেন বাজিতে হেরে যাওয়ার পর আব্দুল মান্নান বিএনপির সমর্থক লোকজন নিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মহিষটি নিয়ে আসেন এরপর তিনি মানবিক বিবেচনা করে ফেরত দিয়ে দেন। এতে করে আমরা এলাকাবাসী ব্যাপক খুশি হয়েছি।

    আব্দুল মান্নান বলেন, বাজি ছিল নিছক আনন্দের জন্য, কিন্তু কারও জীবিকা বিপন্ন হোক তা তিনি চান না। এরপর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটি আমির হোসেনের হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তে উপস্থিত সবাই সাধুবাদ জানান।

    আমির হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দুজন মাঠে মহিষ চড়াইতে গিয়ে কথার এক পর্যায়ে বাজি ধরি। নির্বাচনের পর বাজিতে আমি হেরে গেলে আমার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাকে একটি মহিষ দিয়ে দেই। পরবর্তীতে উনি আমার প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করে, উনার মনোবল বড় বিদায় আমার প্রতি খুব ভালোবেসে মহিষটি ফেরত দেন, এতে করে আমি তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

    উল্লেখ্য, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেও এমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত এলাকাবাসীর কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আনন্দের বাজি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবতার অনন্য উদাহরণ।

  • প্রটোকল ভেঙে মরদেহ দাফন, প্রশংসায় ভাসছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    প্রটোকল ভেঙে মরদেহ দাফন, প্রশংসায় ভাসছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) উপজেলার ১২ নং জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে দুটি উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন শেষে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন তিনি। ফেরার পথে হঠাৎ তার নজরে আসে সড়কের পাশেই একটি কবরস্থানে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। বিষয়টি দেখার সাথে সাথেই তিনি তার গাড়ি বহর থামিয়ে মানবিক কাজে অংশ নেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. এনামুল কাদির জানান, ‘সরকারি প্রটোকল উপেক্ষা করে গাড়ি থেকে নেমে সোজা কবরস্থানে চলে যান তিনি। কোনো দ্বিধা বা সংকোচ না করে তিনি নিজেই কবরে নেমে পড়েন এবং মরদেহ খাটিয়া থেকে নামিয়ে কবরে শায়িত করার কাজে সরাসরি শরিক হন। একজন মন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাফন কাজে অংশ নিতে দেখে আমরা অভিভূত হই।’

    উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন বলেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে সাধারণ মানুষের লাশের খাটিয়া ধরবেন এবং কবরে নেমে দাফন করবেন, এটা কল্পনাও করা যায় না। তার এই সাদামাটা জীবন আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাদের মুগ্ধ করেছে।’

    জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ‘পদের অহংকার ভুলে মাটির মানুষের কাছে ফিরে আসার এই দৃশ্য বর্তমান সময়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত। একজন জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক আচরণ সমাজের অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’

    দাফন শেষে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় উপস্থিত সবার সাথে মোনাজাতে অংশ নেন তিনি । এরপর তিনি পুনরায় তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিক কাজের ছবি ও সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন।

  • জলমহাল নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ

    জলমহাল নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জলমহাল নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের লাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলায় আহতরা হলেন— উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল (৩৫), তাকবীর (২৮), মীর রাফি (২৩) ও রিমন (৩৫)।

    ‎স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিল মাকসা নামক একটি জলমহালের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে টানাপোড়ন চলছিল। জলমহালের মালিকানা ছিল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন ও ছাত্রদল নেতা তিতুমীরসহ কয়েকজনের। অন্যদিকে বিএনপি সভাপতি সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে মঙ্গলবার বিকেলে তার লোকজন বিল মাকসা নদীর মাছ লুট করে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার দিয়ে বিক্রি করতে নিয়ে যায়। এ সময় মাছ উদ্ধারের জন্য উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলসহ কয়েকজন মাছ বহনকারী ট্রলারটি আটক করে। ট্রলার আটকের খবর পেয়ে বিএনপি সভাপতি সাঈদ আহমেদ মুঠোফোনে তার সমর্থক বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের মুঠোফোনে বিষয়টি জানায়।

    পরে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মুর্শেদী কামাল, সাবেক ইউপি সদস্য রাশেদ মিয়া এবং আক্কাস আলী আকাশসহ ৪০-৫০ জনের একটি দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার সঙ্গে থাকা তিনজনকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। আহতদের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ‎

    পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় গুরুতর আহতদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    আহতদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে এ ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এই বিএনপি সভাপতি সাঈদ আহমেদ ও তার সহযোগী আকসার মিয়াসহ তার লোকজন বিভিন্ন সময়ে উপজেলার বিভিন্ন জলমহাল, বালুমহাল বেআইনিভাবে দখলসহ চাঁদাবাজি মামলা বাণিজ্য করে আসছে। এসবের প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা, হামলা দিয়ে সাধারণ মানুষদের হয়রানি করে বলেও অভিযোগ তাদের।

    ‎আহত ছাত্রদল আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল বলেন, বিল মাকসা জলমহাল দখল নিয়ে আমাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। আমরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

    উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সাঈদ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তার বাহিনী দিয়েই ছাত্রদল আহ্বায়কসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদ সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শাহিনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শহিদুল হকসহ দুজনের ওপর হামলা করে তাদের নৌকার মাছ নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রদল নেতা তিতুমীর হোসেন সোহেলের সঙ্গে নোয়াগাঁও-নজিরপুর এলাকার গ্রামবাসীর ঝামেলা হয়। এ ঘটনায় আমাকে অযথা জড়ানো হচ্ছে।

    ‎অষ্টগ্রাম থানার ওসি সোহেব খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

  • খাল খনন নিছক লোক দেখানো নয়

    খাল খনন নিছক লোক দেখানো নয়

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, খাল খনন শুধু লোক দেখানোর জন্য নয়, বরং নদী-বিলের সঙ্গে সংযোগ রেখে প্রকৃত অর্থে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে কিশোরগঞ্জের নিকলি উপজেলার আড়িবিল খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা কোনো নিছক কর্মসূচি নয় বা লোক দেখানোর উদ্যোগও নয়। প্রকৃত অর্থে খাল খননের মাধ্যমে এলাকার মানুষের কৃষিকাজ, মৎস্যসম্পদ এবং খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।

    তিনি আরও বলেন, অনেক জায়গায় খালের জমি সরকারি হলেও পানি না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা সেখানে সাময়িকভাবে ফসল ফলান। তবে খাল খননের সময় কৃষকদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়,সেদিকেও সরকার লক্ষ্য রাখবে ও গুরুত্ব দেবে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ  অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।

    এছাড়াও  জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এবং স্থানীয়রা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • কৃষকের জমি তলিয়ে গেলে কাউকে ছাড় দেব না- ফজলুর রহমান এমপি

    কৃষকের জমি তলিয়ে গেলে কাউকে ছাড় দেব না- ফজলুর রহমান এমপি

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়মের কারণে কৃষকের জমি তলিয়ে গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ ( ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।

    তিনি বলেন, বাঁধের কাজের অবহেলার কারণে যদি একটি জমিও তলিয়ে যায়, তবে আমি কাউকে ছাড় দেব না। কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষায় যা-যা করণীয়, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর নিজ নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন ও তদারকি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ সভার আয়োজন করা হয়।

    এ সময় অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান আরও বলেন, হাওড়াঞ্চলের মানুষের জীবিকা সম্পূর্ণভাবে বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তাই বাঁধ নির্মাণে নিম্নমানের কাজ বা গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে এবং কাজের মান বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে। কোথাও কোনো অনিয়মের প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন তিনি।

    ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা।

  • মিঠামাইনে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৩০

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের হেমন্তগঞ্জ এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেওয়ারজোড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত কাশেমের সমর্থকদের সঙ্গে একই গ্রামের বিএনপির সমর্থক নজিরের অনুসারীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে সোমবার সকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    মিঠামইন থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান, খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ি ও মিঠামইন থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

  • বিএনপি নেতাদের ছবি ভাঙচুরের প্রতিবাদে সমাবেশ

    বিএনপি নেতাদের ছবি ভাঙচুরের প্রতিবাদে সমাবেশ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুরের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে বিএনপি।

    শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় বাজিতপুরে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিকলী বাজিতপুর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা।

    এ সময় তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে আওয়ামী লীগের ভোট পেয়ে আমাকে পরাজিত করেছে। তার হুকুমে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে বাজিতপুর-নিকলীর ধানের শীষের কর্মী,সমর্থক ও ভোটারদের হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে।

  • মিঠামাইনে গাছকাণ্ডে সেই বিএনপি নেতার পদ স্থগিত

    মিঠামাইনে গাছকাণ্ডে সেই বিএনপি নেতার পদ স্থগিত

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ধাপে ধাপে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় বিভিন্ন প্রত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের জেলা কমিটির এক বজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

  • গোপালগঞ্জে বিএনপির রেকর্ড

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    সাড়ে পাঁচ দশক ধরে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য চলে আসলেও সেখানে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি ভিআইপি আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বিএনপি রেকর্ড গড়েছে। এ তিনটি আসনে বরাবর আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এ কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। এ তিনটি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তিনটি আসনে মোট ৪০ শতাংশ ভোট পড়ে।

    গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) সেলিমুজ্জামান মোল­া জয়ী হয়েছেন। তিনি ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা ছয়বার নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মো. ফারুক খান।

    গোপালগঞ্জ-২ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. কে এম বাবর আলী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসন থেকে টানা নয়বার নির্বাচিত হয়েছেন আরেক হেভিওয়েট নেতা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফজলুল করিম সেলিম।

    গোপালগঞ্জ-৩ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম জিলানী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়েছেন। এ আসনটিও ছিল ভিভিআইপি আসন। এ আসন থেকে শেখ হাসিনা টানা সাতবার নির্বাচিত হয়েছেন।

    গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়রা তাবাসুম বলেন, প্রথমবার আমি ভোট দিয়েছি। পছন্দের দল ও প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে আমি খুশি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবু সালেহ যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গোপালগঞ্জের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের যে আকাক্সক্ষা সৃষ্টি হয়েছে এটি তারই প্রতিফলন।