ক্যাটাগরি সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে দেশের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি নতুন ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যামান ৩০০টি ক্লাসরুমের মৌলিক সংস্কার, রেকর্ডিং রুম, মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি) কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছর থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক ধাপগুলো দ্রুততার সাথে শেষ করার কাজ চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল  বলেন, ‘দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীন সরকার ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনা অনুদানে নির্বাচিত সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা
    হয়েছে। নির্বাচিত স্কুলের ক্লাসরুমে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিশ্বমানের সব ধরনের সুবিধা থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছর থেকে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা রয়েছে।’

    মাউশির প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ (আইইপি) সরবরাহ করা হবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্লাসরুমগুলোতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা। এর ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে সংরক্ষিত হবে; ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা তা দেখার সুযোগ পাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে মুহূর্তেই ক্লাসের নোট ও কোর্সওয়্যার সংগ্রহ করতে পারবে।

    দেশের শিক্ষা খাতের ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন।

    তিনি  বলেন, ‘চীন সরকারের অনুদানে প্রস্তাবিত ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে একটি অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। ডাটা সেন্টারের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) পত্র দিয়েছি।’

    তিনি আরও জানান, ডাটা সেন্টারের জন্য জায়গা চূড়ান্ত হলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে। প্রকল্পটি ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করা যাবে।

    প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি মাল্টিমিডিয়া স্মার্ট ক্লাসরুম ছাড়াও ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি সরকারি শিক্ষা দপ্তরের জন্য বিশেষ মিটিং রুম স্থাপন করা হবে। মাউশি প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক নেটওয়ার্কিং ও ক্লাউড বেইজড ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে, যা সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করবে।

    প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের গবেষণা ও উদ্ভাবন শাখার গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম  বলেন, ‘প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয় শেষে এখন চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। এরপর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা টিএপিপি তৈরির কাজ শুরু করা হবে। এটি বাংলাদেশ সরকার এবং চীনা পক্ষ যৌথভাবে প্রণয়ন করবে।’

    সিফাতুল ইসলাম আরও জানান, টিএপিপি প্রণয়নের পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখানে পিইসি (প্রজেক্ট ইভালুয়েশন কমিটি) সভায় অনুমোদিত হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু করবে।

    এর আগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চীন সরকার একটি বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আর এ বিষয়ে সার্বিক তদারকি করে বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ ছাড়াও মাউশি থেকে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই তদারকির জন্য একজন কন্টাক্ট পারসন মনোনীত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের সাথে চীনা পর্যবেক্ষক দলের প্রাথমিক কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়।

    এদিকে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে বগুড়ার বেতগাড়ী মীর শাহ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে হুয়াওয়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চাঁদপুর সফর করেছেন বলে জানিয়েছেন গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (পরিকল্পনা) তানজিনা শাহরীন বলেন, ‘আগামী অর্থবছর অর্থাৎ জুলাই থেকেই এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির এই সংযোজন প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর শিক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে উৎসাহিত করবে, যা ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

    বি/ এ

  • সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ এমপির শফথ

    সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ এমপির শফথ

    বিডি ডেস্ক:

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন।

    রোববার (৩ মে) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    সংসদ সচিবালয় জানায়, রাত ৯টায় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১ এ অবস্থিত শপথ কক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত এই নারী জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।

    এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ করে।

    বিএনপির ৩৬ নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য (এমপি) হলেন- সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জিবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবীবা, মোসা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

    জামায়াত জোটের ১২ এমপি হলেন- নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম।

    এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের সুলতানা জেসমিনকে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

    এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র শনিবার বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম আইনি প্রক্রিয়া ও আপিলের সময় সংরক্ষণের কারণে গে

    জেট আকারে প্রকাশ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। ফলে আজ রাতে জাতীয় সংসদে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

    বি/ এ

  • গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার’-বাচ্চু এমপি

    গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার’-বাচ্চু এমপি

    নড়াইল প্রতিনিধি

    অবিলম্বে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নড়াইলে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২ মে) বিকেলে পুরাতন বাসটার্মিনাল চত্বরে মুক্তমঞ্চে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চু।

    তিনি বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। ভোটের পরে গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার। বিএনপির চেয়ারম্যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময় জনসভায় গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে কথা বললেও এখন বাস্তবায়নে টালবাহানা করছেন। আমরা আবার কোনো স্বৈরাচার সরকার দেখতে চাই না। জনগণ আর কোনো বৈষম্য দেখতে চায় না। জনগণ আজ হতাশ।

    জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন-জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আয়ুব হোসেন খান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আলমগীর হোসাইন, জামিরুল হক টুটুল, হেমায়েতুল হক হিমু, ড. খান আব্দুস সোবহান, আকিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ আল আমিন, পৌর আমির জাকির হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা আমির মাওলানা হাদিউজ্জামান, কালিয়া উপজেলা আমির মাওলানা তরিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা।

    সমাবেশ শেষে গণমিছিল পুরাতন বাস টার্মিনাল চত্বর থেকে শুরু হয়ে রূপগঞ্জসহ শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    এআর/এনআর

  • শিক্ষার মানোন্নয়ন কেন জরুরি

    শিক্ষার মানোন্নয়ন কেন জরুরি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা উদ্বেগজনক সংকটের আবর্তে নিপতিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশেষত বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসমূহ আমাদের চোখে আঙুল দিয়া দেখাইয়া দিতেছে এক রূঢ় ও অপ্রিয় সত্য। তাহাদের মতে, বাংলাদেশে শিক্ষার হার কাগজে কলমে বৃদ্ধি পাইলেও গুণমানের দিক হইতে পশ্চাৎপদ। ইহা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একজন উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর লব্ধ জ্ঞান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মাত্র সপ্তম শ্রেণির সমতুল্য বলিয়া বিবেচিত হইতেছে। এই যে বিশাল ‘শিক্ষণ ঘাটতি’, ইহাতে জাতির মেরুদণ্ড ভাঙিয়া পড়িবার উপক্রম বলিলে কি অত্যুক্তি হইবে?

    শিক্ষার মানে এই অধোগতির মূলে রহিয়াছে বহুবিধ কারণ। প্রথমত, মানসম্মত শিক্ষার প্রধান অন্তরায় হইল দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকের অভাব। ইউনেস্কোর এক তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় মাধ্যমিক স্তরে দক্ষ শিক্ষকের হারে বাংলাদেশ অবস্থান করিতেছে সর্বনিম্নে। কারণ এই স্তরে ৫৫ শতাংশ শিক্ষক পূরণ করিতে পারিতেছেন না ন্যূনতম দক্ষতার মান। তাহা ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এই সংকটকে করিয়াছে আরও ঘনীভূত। দ্বিতীয়ত, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আজ কেবল ‘সার্টিফিকেট’-সর্বস্ব হইয়া পড়িয়াছে। পরীক্ষার জন্য পড়া নাকি পড়ার জন্য পরীক্ষা-ইহাই হইয়া উঠিয়াছে বড় প্রশ্ন। একমুখী শিক্ষার অভাবে তৈরি হইয়াছে বিশৃঙ্খলা। বেসরকারিকরণের মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুধাবন করিতে না পারিবার কারণে বৃদ্ধি পাইয়াছে ইহার বাণিজ্যিকীকরণ। সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় তৈরি হইয়াছে অব্যবস্থাপনা। বেসিক শিক্ষা বলিতে গেলে আজ খুবই অবহেলিত। আগের মতো শিক্ষকদের শিখানোর প্রতি আগ্রহ ও আন্তরিকতা তেমন নাই। বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপর চাপ ক্রমবর্ধমান। কোচিং, প্রাইভেট টিউটর দিয়াও কুলানো যায় না; কিন্তু কেন, সেই প্রশ্ন কি কেহ করিতেছেন? শিক্ষাবাণিজ্যের কদর্য রূপ লক্ষণীয়। আদর্শ শিক্ষকের সংকট সর্বত্র। ইহা ছাড়া জীবনমুখী ও বাস্তবধর্মী শিক্ষা অনেকটাই অনুপস্থিত। শিক্ষার্থীরা ঘুরপাক খাইতেছে জিপিএ-৫ লাভের গোলকধাঁধায়। ফলে উচ্চশিক্ষিত বেকারগোষ্ঠী গড়িয়া উঠিলেও কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি হইতেছে না দক্ষ জনশক্তি।

    শিক্ষাব্যবস্থার এই কাঠামোগত ও দৃষ্টিভঙ্গিগত ব্যর্থতা হইতে উত্তরণ আজ সময়ের দাবি। প্রথমত, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করিয়া মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হইবে। নিশ্চিত করিতে হইবে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। শিক্ষাব্যবস্থাকে একমুখী ও ৯০ শতাংশ সরকারি করা উচিত। মাত্র ১০ শতাংশ থাকিতে পারে বেসরকারি ও দাতব্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমরা মনে করি, শিক্ষকের মানোন্নয়নই শিক্ষার মানোন্নয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ পথ। তাই তাহাদের মানসম্মত বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাব্যবস্থাকে রাজনীতির সংকীর্ণ গণ্ডি হইতে মুক্ত করিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিক্ষানীতির অধীনে আনিতে হইবে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যেন শিক্ষানীতি বা পাঠ্যসূচির আমূল পরিবর্তন না ঘটে, তাহা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্যদক্ষতার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করিতে হইবে।

    চতুর্থত, শিক্ষা ও শ্রমবাজারের মধ্যে একটি সুদৃঢ় সংযোগ স্থাপন করিতে হইবে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো এখন অনিবার্য হইয়া পড়িয়াছে। গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মান তদারকির মাধ্যমে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান সুসংহত করিতে হইবে।সত্যি বলিতে কি-বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়াইয়া আছে। কেবল পাশের হারের ‘সস্তা পরিসংখ্যান’ দিয়া জাতির প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নহে। আমাদের এই কথা অনুধাবন করিতে হইবে যে, একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গুণগত শিক্ষার কোনো বিকল্প নাই। মূলত আমাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা হইতে হইবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সংগত ও জীবনব্যাপী শেখার সুযোগ প্রদানকারী। কারিকুলামকে আউটকাম ও কমপিটেন্সি বেজড করিয়া শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনে সহায়ক করিয়া তুলিতে হইবে।

    বি /এ

  • ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে আরও ১০ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে আরও ১০ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া সবাই শিশু বলে জানা গেছে। আজ রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে একজনের নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে। আর বাকি নয়জন মারা গেছে হামজনিত উপসর্গ নিয়ে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৯৫ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৬৬ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৪৪ জন।

    এই সময় পর্যন্ত সারাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৪৯১ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৩১৩ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে যারা মারা যাওয়া চারজন ঢাকায় মারা গেছে।

    বি/ এ

  • জেলা ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে উত্তাল রাঙামাটি

    জেলা ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে উত্তাল রাঙামাটি

    ডেস্ক নিউজ:

    রাঙ্গামাটিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নবঘোষিত জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একাংশ। তারা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে কমিটিতে পদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন।

    শনিবার রাতে ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীদের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। তারা অভিযোগ করেন, কমিটিতে বিবাহিত, অছাত্র এবং রাঙ্গামাটি শহরের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ককে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে শহরের পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাঠালতলী বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ‘টাকা লাগলে টাকা নে, নতুন করে কমিটি

    দে’-এমন স্লোগান দেন। তাদের অবরোধের কারণে জেলা বিএনপির কার্যালয় সংলগ্ন সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    বিক্ষোভে ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি নূর তালুকদার মুন্না, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শাকুর জাভেদ, যুগ্ম সম্পাদক মোখতার আহমেদ ও পারভেজ হোসেন সুমন, এবং প্রচার সম্পাদক আব্দুল আহাদকে উপস্থিত দেখা গেছে।

    সহসভাপতি নূর তালুকদার মুন্না বলেন, যাকে রাজস্থলী থেকে এনে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তিনি রাঙ্গামাটি শহরের নেতাকর্মীদেরই চেনেন না। তাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

    যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ হোসেন সুমন বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, টাকা ও আইফোনের বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই কমিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। ছাত্রদলকে শক্তিশালী করতে হলে নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।

    এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সভাপতি অলি আহাদ বলেন, “ছাত্রদল একটি বড় সংগঠন। এখানে সবারই ত্যাগ আছে, কিন্তু সবাইকে একসঙ্গে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। যারা পদ পাননি, তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন -এটি স্বাভাবিক। তবে সবাইকে সংগঠনের শৃঙ্খলা মেনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।

    জানা যায়, ২০১৮ সালের মে মাসে ফারুক আহমেদ সাব্বিরকে সভাপতি ও আলী আকবর সুমনকে সাধারণ সম্পাদক করে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

    বি/ এ

  • চৌগাছায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্য দিবস পালন

    চৌগাছায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্য দিবস পালন

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করা হয়েছে।
    দিবসটি উপলক্ষে ৩ মার্চ রোববার বিকেলে প্রেসক্লাব চৌগাছার উদ্যোগে শহরের প্রেসক্লাব ভবনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
    আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবুজাফর।
    ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তারের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন চৌগাছা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মাষ্টার কামাল আহমেদ, প্রেসক্লাব চৌগাছার সিনিয়র সহ সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম,  কবি ও সাংবাদিক আবুজাফর সাংবাদিক   প্রভাষক আজিজুর রহমান,  শ্যামল দত্ত, এম এ মান্নান প্রমুখ।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান, রায়হান হোসেন,  আবু হানিফ, কালিমুল্লাহ সিদ্দিক, ফখরুল ইসলাম, আজম আশরাফুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
     আলোচনা সভায় সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ, বিনা বিচারে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
    বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কার্যকর কোনো আইন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। দেশজুড়ে হলুদ সাংবাদিকতা ও অপসংবাদিকতার ভিড়ে প্রকৃত সাংবাদিকরা নানা ধরনের আক্রমণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
    সাংবাদিকতা পেশার মানোন্নয়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা প্রকৃত সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন ও একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
    বি/ এ
  • হাসপাতালেই হাম সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

    হাসপাতালেই হাম সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    শিশু মো. সানি, বয়স ৯ মাস। শরীরজুড়ে ছোপ ছোপ দাগ ও ফুসকুড়ি। চলছে স্যালাইন। কখনো কখনো শ্বাসকষ্টের জন্য দিতে হচ্ছে অক্সিজেন। এমনকি ক্যানুলা করার জন্য শিশুর মাথার অর্ধেক চুল ফেলে দিতে হয়েছে। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে। শিশুটির মা মারুফা আক্তার নানাভাবে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কিন্তু কোনোভাবেই কান্না থামছে না। পাশেই দাঁড়ানো বাবা শিশুটির কান্না দেখে নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। মাঝেমধ্যে তিনিও কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন, তবু থামানো যাচ্ছে না শিশুটিকে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের (শিশু হাসপাতাল) বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

    শিশুটির বাবা ইলিয়াস হোসেন আমার দেশকে জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরে। এক মাস আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশুটিকে প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশু হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ১৫ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এরপর থেকে আমরা এক অন্যরকম যুদ্ধের মধ্যে আছি। এত ছোট বাচ্চা, আবার গুরুতর অসুস্থ। বুকের দুধ পর্যন্ত খাচ্ছে না। যখন কাঁদে, তখন বাবা হিসেবে নিজেকে খুব অসহায় লাগে।

    শুধু এ একটি ঘটনা নয়, শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্তত ১০ শিশুর অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা প্রথমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্য রোগীর সংস্পর্শে এসে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা। এছাড়া আরো অনেক শিশু অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসে হামের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে, ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৬৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ শিশু। জানুয়ারিতে ভর্তি হয়েছিল মাত্র দুই শিশু, ফেব্রুয়ারিতে ছয়, মার্চে ১৩০ শিশু এবং এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৮-এ। অর্থাৎ মার্চের তুলনায় এপ্রিলে রোগী ভর্তির হার বেড়েছে ১৫২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

    আক্রান্ত শিশুদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছয় থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুÑসংখ্যা ১৫৮, যা মোট আক্রান্তের ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ৯ মাস থেকে দুই বছর বয়সি শিশু ১২৩, ছয় মাসের কম বয়সি শিশু ১০৭, দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশু ৫৩ এবং পাঁচ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ২৬। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮১ শিশু।

    সরেজমিন দেখা যায়, শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ‘বিশেষায়িত হাম’ ইউনিট চালু করা হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) মোট ৮০টি শয্যার একটিও খালি নেই। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অধিকাংশ শিশুর বয়স দুই বছরের নিচে। কারো শরীরে স্যালাইন চলছে, কারো নাকে নল, আবার কেউ অক্সিজেন সহায়তায় রয়েছে।

    প্রচণ্ড জ্বর ও ব্যথায় শিশুদের অবিরাম কান্না যেন থামছেই না। পাশে বসে থাকা মা-বাবার চোখে অশ্রু, সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে কিংবা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আইসিইউ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গতকাল দুপুরে আইসিইউয়ের সামনে অপেক্ষা করেও অন্তত পাঁচজন রোগীর স্বজনকে শয্যা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তারা জানান, বাধ্য হয়ে শিশুদের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি করাতে হয়েছে।

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, তার সাত মাসের শিশুকে ১৫ দিন আগে ভর্তি করা হয়। তিনদিন পর অবস্থার অবনতি হয়। মনে হচ্ছিল বাচ্চার প্রাণ বের হয়ে যাবে। চিকিৎসক আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন, কিন্তু সিট খালি ছিল না। অনেক তদবিরের পর তিনদিন পর আইসিইউতে জায়গা পাই। এখনো সেখানে চিকিৎসা চলছে, কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

    মাদারীপুর থেকে আসা আয়েশা বেগম জানান, তার আট মাসের শিশু আবু রায়হান প্রথমে ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়, পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে শিশু হাসপাতালে আনা হয়। এখানে ১৫ দিন পর শরীরে লাল র‍্যাশ ওঠে। চিকিৎসকরা জানান, এটা হাম। এরপর থেকেই হামের চিকিৎসা চলছে। এখন কিছুটা ভালো হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। তার অভিযোগ, অন্য হামের রোগীর সংস্পর্শ থেকেই তার শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

    হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, হাম যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ, তাই শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক রোগী থেকে অন্য রোগীর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ার কারণে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টির ঘাটতির কারণেই হামের সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে বলেও জানান তারা।

    অন্যদিকে যেসব শিশু হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা জন্মগত হৃদরোগে ভুগছে, তাদেরই বেশি মৃত্যু হচ্ছে বলেও জানান চিকিৎসকরা।

    এ বিষয়ে শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে শয্যা বাড়ানো হয়েছে এবং আইসিইউ সুবিধাও রাখা হয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসায় চাপ বেড়েছে, ফলে সবাইকে শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৪ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭২ জনের। তাতে সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী এক হাজার ৯৬ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম সন্দেহে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫। আর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ শিশুর। ফলে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৮৪। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বি/ এ

  • আরও ৩,৭৩৬ শিক্ষক পাচ্ছেন এমপিও স্বীকৃতি

    আরও ৩,৭৩৬ শিক্ষক পাচ্ছেন এমপিও স্বীকৃতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

     

    বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজে নতুন নিয়োগ পাওয়া তিন হাজার ৭৩৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও কমিটি। তাদের মধ্যে স্কুলের দুই হাজার ৮২১ জন এবং কলেজের ৯১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়াও বিএড স্কেল দেয়া হচ্ছে ৬৫৬ জনকে এবং উচ্চতর স্কেল দুই হাজার এক জনকে।

    গতকাল শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মার্চ মাসের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পদাধিকার বলে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, মাউশি অধিদপ্তরের নয়জন করে আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালক অংশ নেন।

    কোন অঞ্চলের কতোজন এমপিওভুক্ত: সভায় অংশ নেয়া একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক আমাদের বার্তাকে জানান, স্কুলের দুই হাজার ৮২১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ২৮২, চট্টগ্রামের ২৯৭, কুমিল্লার ২৪০, ঢাকার ৩৬৭, খুলনার ৩৯৯, ময়মনসিংহের ২৮০, রাজশাহীর ৪৬৩, রংপুরের এক হাজার ৩৮৩ এবং সিলেটের ১১০ জন।

    কলেজের ৯১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ৬৮, চট্টগ্রামের ৩৬, কুমিল্লার ৭২, ঢাকার ৯১, খুলনার ১৫১, ময়মনসিংহের ৬৮, রাজশাহীর ১৬৯, রংপুরের ২২৯ এবং সিলেটের ৩১ জন রয়েছেন।

    বি/ এ

     

  • হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    স্বাস্থ ডেস্ক:

     

    হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আরও ১ হাজার ৯৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকাতেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৬ হাজার ৯১১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৩ হাজার ২২৫ জন শিশু।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৪ জন শিশুর মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৩২৫ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৫ হাজার ২১৮ জন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।

    বি / এ