ক্যাটাগরি সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন : তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন : তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    শুক্রবার (১ মে) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। ঘটনাটির পেছনে কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন মন্ত্রী।

    এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।

    বি/ এ

  • দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৬ (NHSPC)  নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা দিয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচার-প্রচারণা ও নিবন্ধন কার্যক্রম শনিবার (০২ মে) রাত ১২টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।

    আগামী ১৬ মে দেশব্যাপী আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে পারবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)- এর আয়োজনে হাইস্কুল, মাদরাসা, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানাতে চিঠিটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন শেষ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক

    পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক

    ডেস্ক নিউজ:

    পটুয়াখালীর বাউফলে পরীক্ষাশেষে অস্ত্রসহ ছয় শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার ধানদী কামিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটককৃতরা হলেন, সিফাত (১৫), মো. মাসুম মৃধা, মো. সিহাব হোসেন, মো. মিয়াদ হোসেন, মো. হৃদয় হোসেন, ও নয়ন হোসেন।

    জানা যায়, অস্ত্রসহ আটক সিফাত উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় ছোটডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দাখিল পরীক্ষার্থী মো. মাসুম মৃধা ও মো. সিহাব হোসেন উপজেলার রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং মো. মিয়াদ হোসেন, মো. নয়ন হোসেন ও মো. হৃদয় হোসেন বড়ডালিমা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

    কেন্দ্রের সুপার মাওলানা মো. নুরুল আমিন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা মো. আ. রব জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আরবী দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় একজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীকে খাতা দেখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা শেষে রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বড়ডালিমা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনা ঘটে।

    তারা জানান, বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শুরুর পূর্বে দুই মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাধ্যমে সমঝোতাও হয়। তবে পরীক্ষা শেষে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পুনরায় বিবাদে জড়ানোর পরিস্থিতি তৈরী হয়।

    একপর্যায়ে পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার পথে কেন্দ্রে দায়িত্বরত এসআই সিহাবের সহযোগিতায় অস্ত্রসহ পাশের ছোটডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সিফাতকে ব্যাগে বহন করা একটি কুড়ালসহ আটক করা হয়। এসময় পালিয়ে যায় সুইচ গিয়ার ও দেশীয় অস্ত্রসহ তার আরো কয়েক সহযোগী। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

    তারা আরও জানান, আটক সিফাতের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে সে বড়ডালিমা মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী মিয়াদের ডাকে ব্যাগে কুড়াল নিয়ে এসেছে। মিয়াদ তার এলাকার বড় ভাই। পরীক্ষা শেষে অপ্রীতিকর কিছু ঘটার সম্ভাবনা ছিল। তারই প্রস্তুতিতে সে কুড়াল নিয়ে আসে ও তার কয়েক সহোযোগি নিয়ে জটলা সৃষ্টি করে।

    এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আছি। আটক সবাই শিশু আইনে পড়ে। থানায় নিয়ে প্রভিশন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি আসলে সিদ্ধান্ত হবে।

    বি/ এ

  • কীভাবে ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করল ইরান

    কীভাবে ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করল ইরান

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    আট বছর আগে তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে ২২ হাজার পাউন্ড বা ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ শুরু করার দুই মাস পরেও, ইরানের এই মজুত কোন অবস্থায় আছে, তা নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে।

    ইউরেনিয়াম শহর আলোকিত বা ধ্বংস দুটোই করতে পারে। স্বল্প ঘনত্বের ইউরেনিয়াম পারমাণবিক চুল্লি চালাতে পারে। সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ ঘনত্বের ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা যায়।

    ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সমৃদ্ধকরণ ক্রমশ সহজ ও দ্রুত হয়ে ওঠে। ০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে পৌঁছানো যতটা কঠিন, ২০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে বা এমনকি ৯০ শতাংশে পৌঁছানো ততটা কঠিন নয়—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য কাঙ্ক্ষিত মাত্রা।

    ইরান ২০০৬ সালে শিল্প পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে এবং এর উদ্দেশ্যকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে, পরবর্তী কয়েক বছরে এই মজুদ বাড়তে থাকে।

    ২০১০ সালে, ইরান ঘোষণা করে যে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে, যার উদ্দেশ্য গবেষণা চুল্লির জন্য জ্বালানি তৈরি করা। বেসামরিক এবং সামরিক ব্যবহারের মধ্যে এই স্তরটিই হলো সরকারি বিভাজন রেখা। এই ২০ শতাংশ স্তরটি উদ্বেগজনক।

    মজুত ক্রমাগত বাড়তে থাকায়, তৎকালীন ওবামা প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলোচনা শুরু করে।

    ২০১৫ সালে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ছয়টি দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। এই চুক্তি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে এবং মজুদের পরিমাণ ১৫ বছরের জন্য সীমিত করে।

    এই চুক্তির অধীনে, তেহরান তাদের মজুতের পরিমাণ ৬৬০ পাউন্ডের নিচে সীমাবদ্ধ করে।

    ২০১৮ সালে ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা তৈরির উপযোগী একটি ইউরেনিয়ামও ছিল না, যখন ট্রাম্প চুক্তিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং পুনরায় একাধিক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

    এরপর ইরান চুক্তির নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে শুরু করে; প্রথমে পশ্চিমা বিশ্বকে চাপে রাখার জন্য স্বল্প মাত্রায় এবং তারপর ২০২১ সালের শুরুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে, ২০ শতাংশ পর্যন্ত।

    এরপর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসন পরিত্যক্ত চুক্তিটির কিছু দিক পুনরুদ্ধার করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। আলোচনা চলাকালীন, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে—যা পারমাণবিক বোমার জন্য কাঙ্ক্ষিত গ্রেড থেকে সামান্যই দূরে ছিল।

    ২০২৫ সালে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দ্রুততম হারে বৃদ্ধি পায়।

    ২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাতাঞ্জ ও ফোরদোতে অবস্থিত ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং ইস্পাহানে থাকা ইউরেনিয়াম মজুতের সুড়ঙ্গগুলোতে বোমা হামলা চালায়। এর এক মাস পর, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে, যার ফলে দেশটির সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোর ওপর নজরদারি বন্ধ হয়ে যায়।

    সরাসরি পরিদর্শন না হওয়ায় স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও, ১১ টন ইউরেনিয়ামের মজুতের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত।

    তেজস্ক্রিয় এবং রাসায়নিকভাবে বিপজ্জনক এই মজুতের কিছু অংশ যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের নিচে লুকানো বা চাপা পড়ে আছে, যার ফলে সেগুলোকে নাগালের বাইরে রাখা বা ধ্বংস করা কঠিন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি সেগুলোর অস্তিত্ব নিশ্চিত করাও একটি চ্যালেঞ্জ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি এই ইউরেনিয়াম খনন করে বেরও করে, তবে তা থেকে যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করতে অনেক মাস—সম্ভবত এক বছরেরও বেশি সময় লাগবে। তারা আরো বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় ইরান কোনো আসন্ন পারমাণবিক হুমকি ছিল না।

    ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দেখিয়েছে যে মার্কিন স্যাটেলাইটগুলো মাটির গভীরে পুঁতে রাখা ইউরেনিয়ামের ওপর নজর রাখছে। সেইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এই মজুত তাদের জন্য প্রায় কোনো কাজেই আসবে না।

    তবে বিশ্লেষকরা এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ইরান গত বছর তার ইস্পাহান কেন্দ্রের সংলগ্ন পাহাড়ি সুড়ঙ্গগুলোতে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপন করে থাকতে পারে। ধারণা করা হয়, তেহরান সেখানে তার ইউরেনিয়াম মজুতের সিংহভাগ মজুত করে রেখেছে। তাদের মতে, যদি এটা সত্যি হয়, তাহলে ইরানের একটি গোপন কেন্দ্র থাকার সম্ভাবনা বাড়ে, যেখানে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য নতুন করে জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া চালাতে পারে।

  • রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ

    রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ

    ডেস্ক নিউজ :

    বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব‌্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

    তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, তাঁর কিছু কুকীর্তির কথা হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং তিন নম্বর ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনও মেনে নিচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ‘ক্যাঙ্গারু আদালতের’ নির্দেশে এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১ হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যার জন্য বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাকে পাকাপোক্ত করেছিল। এই রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন। জুলাই গণহত্যার সময় তাঁর ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর এবং জুলাই গণহত্যার দোসর। এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন তাঁকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?

    বি /এ

     

  • বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিতে হুমকির মুখে ধানের ফলন

    বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিতে হুমকির মুখে ধানের ফলন

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    গ্রীষ্মকাল ধান কাটার মৌসুম৷ এ সময়ে অতি বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পানি বিস্তীর্ণ এলাকাকে বন্যার ঝুঁকিতে ফেলেছে৷

    অবিরাম বৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং বজ্রসহ ঝড় ও বৃষ্টি সত্ত্বেও কৃষকরা তাই ফসল রক্ষার জন্য ছুটে যাচ্ছেন ক্ষেতে৷ হাঁটু-সমান পানিতে হেঁটে আংশিকভাবে ডুবে যাওয়া ফসল কাটছেন তারা৷

    সুনামগঞ্জের এক কৃষক মোহাম্মদ আল আমিন ফসল রক্ষার এ লড়াইয়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘‘এখনও যতটুকু দাঁড়িয়ে আছে, সেইটুকুই বাঁচানোর চেষ্টা করছি আমরা৷”

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধান৷ হাওর অববাহিকায় বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে৷ বন্যা পরিস্থিতি হাওরসহ আরো কিছু এলাকার গ্রামীণ জীবনযাত্রা এবং জাতীয় খাদ্য সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে৷

    কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির সঙ্গে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চল থেকে আসা পানির প্রবাহ বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে আকস্মিকভাবে বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷

    স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের অনেক এলাকার ফসলের ক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে৷ বেশ কিছু জায়গায় পানির স্রোতে বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে বা বাঁধ উপচে বন্যার পানি ফসলের জমিতে ঢুকে পড়েছে৷ শাকসবজিসহ অনেক ধরনের ফসলের ক্ষতি করেছে ভারী বৃষ্টি৷ এতে খাদ্যের সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা বেড়েছে৷

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিন আরো বৃষ্টি হতে পারে৷ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, উজানের অতিরিক্ত পানির প্রবাহ হাওর অববাহিকা জুড়ে আরো ব্যাপক বন্যার শঙ্কা বাড়াতে পারে৷ কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, এই পর্যায়ে অল্প সময়ের জন্য জলমগ্ন থাকলেও ধানের ফলন অনেক কমতে পারে৷

    ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে৷ রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে৷

    বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ প্রায় নিয়মিতই বন্যার ঝুঁকিতে থাকে৷ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ইনস্টিটিউটের ২০১৫ সালের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ দেশে বছরে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ নদীর পানি বাড়ায় বন্যার ঝুঁকিতে পড়ে৷

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশটিতে উৎপাদিত চালের বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটায়৷ বন্যা বা খরার কারণে ঘাটতি দেখা দিলে সেই ঘাটতি ধান আমদানিও করে বাংলাদেশ৷

     

  • পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে- মোজতবা খামেনির বার্তা

    পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে- মোজতবা খামেনির বার্তা

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইরানের সঙ্গে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

    পার্সিয়ান গাল্ফ ডে বা পারস্য উপসাগরীয় দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, তেহরান ‘নৌপথের শত্রু’কে নির্মূল করবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত করবে। হরমুজ প্রণালিতে নতুন বিধি-বিধান ও ব্যবস্থাপনা ‘শান্তি ও অগ্রগতির’ পাশাপাশি সকল উপসাগরীয় রাষ্ট্রের জন্য ‘অর্থনৈতিক সুবিধাও’ বয়ে আনবে বলে মোজতবা খামেনির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি বিবৃতিতে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য মার্কিন পুতুল ঘাঁটি দায়ী: মোজতবা খামেনি

    মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য মার্কিন পুতুল ঘাঁটি দায়ী: মোজতবা খামেনি

    নিউজ ডেস্ক:

    মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান অস্থিরতার জন্য ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিকে দায়ী করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

    ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘এটি প্রমাণিত যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিদেশিদের উপস্থিতি এবং তাদের আস্তানা গেড়ে থাকাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।’

    মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আমেরিকার এই পুতুল ঘাঁটিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। সেখানে তারা এই অঞ্চলের তাদের ওপর নির্ভরশীল বা আমেরিকাপন্থীদের নিরাপত্তা দেবে-এমন আশা করা বৃথা।’

    তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপই মূলত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকে উসকে দিচ্ছে। মূলত আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর বার্তা দিতেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।

  • দিবস আসে শ্রমিকদের ভাগ্য খোলে না

    দিবস আসে শ্রমিকদের ভাগ্য খোলে না

    ফিচার ডেস্ক:

    রমজানের ঈদের ঠিক ১০ দিন পর কুড়িগ্রামে যাই। সকালে অনেকের কথাবার্তায় ঘুম ভাঙে। উঠে দেখি পাশের ফ্ল্যাটে কাজ চলছে—নতুন ভবন তৈরি হবে। একই সঙ্গে কয়েকজন নারী ও পুরুষ কাজ করছেন। আমি এগিয়ে গিয়ে কাজ ও মজুরি সম্পর্কে জানতে চাই। দু-তিনজনকে জিজ্ঞেস করলেও তারা এড়িয়ে যান। একজন তো ইশারায় পাশের এক পুরুষকে দেখান। বুঝতে পারি, কথা বললে সমস্যা হতে পারে। আমিও সুযোগের অপেক্ষায় থাকি।

    অতঃপর মাথায় বোঝা নিয়েই একজন নারী চুপিচুপি বললেন, তাদের (নারীদের) দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা আর পুরুষদের ৫০০। তিনি আবার ইশারা করে বোঝালেন, কথা বললে তিনি বিষয়টি জানিয়ে দেবেন। ভাবলাম, পার্থক্যটা মাত্র ১০০ টাকা। অনেক জায়গায় নারীদের আরো কম মজুরি দেওয়া হয়। তাদের ধারণা, নারীরা কম কাজ করেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের কাজের পরিমাণ পুরুষদের চেয়েও বেশি।খালেদা একজন সেবিকা (নার্স)। তিনি কয়েকটি হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে সেবিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় তার দুই সন্তান তার কাছেই থাকে। কিছুদিন সন্তানরা গ্রামে নানাবাড়িতে থাকলেও পড়াশোনার কথা চিন্তা করে তিনি তাদের শহরে নিয়ে আসেন।

    খালেদা বর্তমানে একজন সিনিয়র সেবিকা। তিনি একটি নতুন ও নামকরা হাসপাতালে কর্মরত। নতুন হাসপাতাল হওয়ায় সেখানে অনেক সেবিকা নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নামকরা হাসপাতাল থেকে আসা সেবিকাদের বেতন তার বেতনের চেয়ে দ্বিগুণ। অথচ খালেদার অভিজ্ঞতাও আছে এবং তিনি সিনিয়র।

    অন্যদের বেতনের পরিমাণ শুনে তিনি অবাক হন। এ বিষয়ে অফিসে কথা বললে তাকে বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। দুই মাস পর তার বেতন বাড়ানো হলেও, সেই নামকরা হাসপাতাল থেকে আসা সেবিকাদের বেতন আরো দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি করা হয়।

    পরে অফিসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খালেদা নিজের চাকরি হারান। খালেদার অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকের সিভি রয়েছে; তাকে যে বেতন দেওয়া হয়, সেই বেতনে তারা নতুন দুজন কর্মী নিয়োগ দিতে পারবে।

    নন-এমপিওভুক্ত একটি স্কুলে চার বছর ধরে চাকরি করেন দিলারা। এরই মধ্যে তার বিয়ে হয়। সন্তান জন্মের সময় ঘনিয়ে এলে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েন—ছুটিতে গেলে চাকরিটি থাকবে তো? পরে তিনি জানতে পারেন, স্কুল থেকে তিনি তিন মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। তবে ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে পারলেও সেই সময়ের কোনো বেতন পাবেন না; আগের বেতনে চাকরি চালিয়ে যেতে হবে।

    সব দিক বিবেচনা করে তিনি ভাবলেন, খারাপের মধ্যেও কিছুটা ভালো আছে। সেই অনুযায়ী তিনি ছুটিতে যান এবং তিন মাস পর আবার কাজে যোগ দেন। ঘরে মা থাকায় সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্ব মায়ের ওপর দিয়ে তিনি চাকরিতে ফিরতে সক্ষম হন।

    তবে দিলারার মতো সুযোগ তামান্না পাননি। তিন মাসের সন্তান রেখে কাজে ফেরার মতো পরিস্থিতি তার ছিল না। ফলে তিনি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। পরে দুই বছর পর নতুন বেতনে (অর্থাৎ, শুরুতে যে বেতন দেওয়া হয়) তিনি একই স্কুলে আবার যোগ দেন।

    একজন নিয়োগদাতার অধীনে যারা শ্রম দেন, তারা শ্রম আইনের আওতাভুক্ত। অথচ আমাদের দেশে বেশির ভাগ নিয়োগদাতাই এই শ্রম আইনের অনেক কিছুই মানেন না। শ্রমিকদের একটি বড় অংশও তাদের শ্রম ও মজুরি-সংক্রান্ত অধিকার সম্পর্কে অবগত নন।

    বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, ‘শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ, মজুরি পরিশোধ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের আঘাতের জন্য ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্পবিরোধ সৃষ্টি ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ, চাকরির পরিবেশ এবং শিক্ষানবিসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়—সবই শ্রম আইনের অন্তর্ভুক্ত।’

    প্রতিবছর মে দিবস পালিত হয়। তিনশ পঁয়ষট্টি-ছেষট্টি দিনের মধ্যে মাত্র এক দিনই মে দিবস, কিন্তু যাদের দাবি আদায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলতে এই দিবস পালিত হয়, তারা প্রতিদিনই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। কারখানার মালিক, বিলাসবহুল কোম্পানির শিল্পপতি এবং রাজনৈতিক নেতারা মে দিবসে সমাবেশে দীর্ঘ ভাষণ দিয়ে শ্রমিকদের দাবি পূরণের কথা বলে হাততালি পান; কিন্তু সারা বছর শ্রমিকদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য দিতে গিয়ে তারা নানা অজুহাত তুলে ধরেন।

    আইন থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ১৮০০ শতকে বিশ্বে একটি বড় পরিবর্তন ঘটে। সে সময়ের আগে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে নামমাত্র পারিশ্রমিকে দৈনিক ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করাত। এতে শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে মালিকরা বিদ্রোহী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন শুরু করে। এই শ্রমিক আন্দোলনে অনেক শ্রমিক প্রাণ হারান। তাদের মূল দাবি ছিল—একজন শ্রমিক দিনে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা কাজ করবেন। মালিকরা এই দাবি উপেক্ষা করায় ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকায় শ্রমজীবী মানুষ ধর্মঘটের ডাক দেয়, যার প্রাণকেন্দ্র ছিল শিকাগো শহর।

    ১৮৮৪-৮৫ সালের দিকে মন্দাভাবের কারণে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে অসংখ্য শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। শিকাগো শহরের আন্দোলনে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শ্রমিক যোগ দেন। ৩ মে আন্দোলনটি আরো ব্যাপক আকার ধারণ করে। সে সময় পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়, এতে ছয়জন শ্রমিক নিহত হন।

    শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে ৪ মে বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। ওইদিন শিকাগো শহরে আরো চার শ্রমিক নিহত হন এবং ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ৯ অক্টোবর আরো ছয়জনকে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে শ্রমিকদের আন্দোলন আরো তীব্র হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে মালিক পক্ষ নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

    ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হয়, শিকাগোর আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া শ্রমিকদের স্মরণে প্রতিবছর ১ মে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। এরপর থেকেই দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে।

    শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন শ্রম আইন প্রণয়ন করা হলেও, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে; বাস্তবে শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা তেমনভাবে ঘোরে না।

    বি/ এ

  • ইরানে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

     

    ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করবেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পায়নি।

    সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস বলছে, সেন্টকম ইরানের ওপর ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ দফায় দফায় হামলার একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
    রিপোর্টে বলা হয়েছে, নতুন অভিযানের পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য তা পুনরায় খুলে দেয়ার ওপর কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযানে স্থলবাহিনীও জড়িত থাকতে পারে।

    এ ছাড়া ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ বাহিনীর অভিযানও চালাতে পারে।

    টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ শুরু করে তেহরান।

    ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এবং লেবাননেও ইসরাইলের ব্যাপক হামলায় হাজার হাজার হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেই সঙ্গে ঘরছাড়া হয়েছে লাখ লাখ বাসিন্দা।