ক্যাটাগরি সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • যুদ্ধের খেসারতে খাদের কিনারে ইসরাইলের অর্থনীতি

    যুদ্ধের খেসারতে খাদের কিনারে ইসরাইলের অর্থনীতি

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গত তিন বছরের যুদ্ধংদেহী নীতির কারণে ইসরাইল এখন এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান এই যুদ্ধের আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বা ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইরানের সাথে সাম্প্রতিক ৪০ দিনের লড়াইয়ে ইসরাইলের অর্থনীতিতে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের সামরিক বাজেট বাড়িয়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই বাজেট মূলত ইরানের সাথে সম্ভাব্য পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি এবং বিগত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ব্যয় করা হবে।

     ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিনা উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত এই আগ্রাসীযুদ্ধ অভিযানে শুধু সামরিক খাতই নয়, বরং দেশটির বেসামরিক অর্থনীতিও পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

    ইসরাইলের কর প্রশাসনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ২৬ হাজারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতির দাবিনামা জমা পড়েছে। এসব দাবিনামার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার।

    ইহুদিবাদী ইসরাইলের অর্থনৈতিক ওয়েবসাইট ‘ক্যালক্লিস্ট’ বলছে, সব বেসামরিক খরচ মেলালে এই অঙ্ক ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যা তেল আবিবের বর্তমান বাজেটের ওপর এক প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

    ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ খোদ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে লেখা এক চিঠিতে সতর্ক করেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধের সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩২০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তেল আবিবের অর্থনীতিকে অসহনীয় দশার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলের ঋণের বোঝা জিডিপির ৭২ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে, ধারণা করছে সংবাদ ইহুদিবাদী মাধ্যম ‘মাআরিভ’।

    তেল আবিকের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

    ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানের সামরিক ও বেসামরিক খরচ অন্তত ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর বাইরেও ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে ইসরাইলের দৈনিক খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার।

    এমন এক সঙ্কটময় মুহূর্তেও সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত ৪৮০ কোটি ডলারের বাজেট বরাদ্দের দাবি তুলেছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে ইসরাইলি মন্ত্রিসভাকে হয় সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপাতে হবে, নয়তো মেট্রোরেল ও নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো স্থগিত করতে হবে।

    ইসরাইলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ করের পরিমাণ ব্যাপকভাবে না বাড়ালে এই বিপুল ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। ফলে নেতানিয়াহুর যুদ্ধের খেসারত হিসেবে আগামী বছরগুলোতে ইসরাইলিদের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও সেবা খাতের বাজেট কমানোর মতো ভয়াবহ ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
  • চৌগাছায় পরিত্যক্ত মর্টারশেল উদ্ধার

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    • উদ্ধার হওয়া মর্টারশেলটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুদের ব্যবহার করা একটি শক্তিশালী মর্টারশেল। তবে বহুকাল মাটির মধ্যে থাকায় সেটি জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।’

      যশোরের চৌগাছায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি পরিত্যক্ত মর্টারশেল উদ্ধার করেছে চৌগাছা থানা পুলিশ।

      ধবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরের কপোতাক্ষ ব্রিজঘাট এলাকা থেকে থেকে পরিত্যক্ত মর্টারশেলটি উদ্ধার করা হয়
    • পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রচণ্ড গরমে কয়েকজন ব্রিজের নিচে গাছের ছায়ায় বসেছিলেন। এ সময় লোহার একটি বস্তু তাদের চোখে পড়ে। পরে তারা সেটি মাটির ভেতর থেকে বের করেন। বস্তুটি মর্টারশেল বুঝতে পেরে তারা থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মর্টারশেলটি উদ্ধার করে এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

      স্থানীয় ব্যবসায়ী কান্ত সরকার বলেন, ‘আমি ব্রিজঘাট এলাকায় পারবাজারে মাটির হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করি। দুপুরের দিকে আমরা কয়েকজন বসে কথা বলছিলাম। হঠাৎ লোহার এই জিনিসটি আমাদের চোখে পড়ে। আমরা সেটি মাটির ভেতর থেকে বের করি। পুলিশ খবর পেয়ে সেটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’

    • উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রুহুল আমিন বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া মর্টারশেলটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুদের ব্যবহার করা একটি শক্তিশালী মর্টারশেল। তবে বহুকাল মাটির মধ্যে থাকায় সেটি জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।’

      চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আমিন শিকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সেটি উদ্ধার করেছে। এটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুদের ব্যবহার করা একটি শক্তিশালী মর্টারশেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাটির ভেতরে থাকায় সেটি নষ্ট হয়ে গেছে।

    • এ/ আর

  • ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি ইরানের

    ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি ইরানের

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

     

    ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় সহায়তা করার অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া এবং বেআইনি আগ্রাসনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে এই পত্র পাঠানো হয়।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণ রয়েছে যে উল্লিখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব তথ্য আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    আমির সাঈদ ইরাভানি তার চিঠিতে বলেন, ইরান পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে আগ্রাসীরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অবৈধ হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে।

    চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, এই পাঁচটি দেশ তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। তাই ইরানের ওপর সংঘটিত সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

    চিঠিতে জানানো হয়, ওই পাঁচটি দেশ আগ্রাসনকারীদের সামরিক সুবিধা দিয়ে অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ১৪ ডিসেম্বরের সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী এই ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি তারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র হামলায় ইন্ধন যুগিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে বলে জানান ইরানের এই কর্মকর্তা। এর ফলে ইরানের যে ব্যাপক বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার তাদের নিতে হবে।

    একইসঙ্গে এই ধরনের অন্যায় তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো আহ্বানও জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

  • আবারও বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

    আবারও বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

     

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন আশা দেখা যাচ্ছে। আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আর সেটি বৃহস্পতিবারের মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

    মার্কিন কর্মকর্তা এবং মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বৈঠকের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    কর্মকর্তারা বলছেন, দুই পক্ষই আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। ইসলামাবাদ বৈঠকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তান এক্ষেত্রে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান করছে।

    সূত্র বলছে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিকল্প স্থান নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে। নয়তো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই ফের বৈঠক হতে পারে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী সংলাপ হবে কি না, তা এখন পুরোপুরি তেহরানের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ‘বল এখন ইরানের কোর্টে।’

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি চায়।

    তিনি বলেন, ইরান যদি এ বিষয়ে সম্মত হয়, তাহলে দুই দেশের জন্যই একটি ভালো চুক্তি সম্ভব।

  • ইসরাইলের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

    ইসরাইলের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেই একটি ব্রেকিং নিউজ জানাচ্ছে ইতালির সংবাদ মাধ্যমগুলো।

    সেখানে বলা হয়েছে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইসরাইলের সাথে দেশটির প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার ভেরোনায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো উচিত।

    ইসরাইলের সাথে ইতালির চুক্তিটি ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ইতালির রাজনৈতিক সরকারগুলো প্রতি পাঁচ বছর পরপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন করে আসছিল

  • চৌগাছায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি

    1. বিডি ডেস্ক নিউজ

    যশোরের চৌগাছায় ব্যবসায়ীরা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ভোক্তা ও সাধারণ পর্যায়ে যার মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।

    যশোরের চৌগাছায় ব্যবসায়ীরা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ভোক্তা ও সাধারণ পর্যায়ে যার মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।

    এক হাজার ৩৪১ টাকার সিলিন্ডার বেড়ে এক হাজার ৭২৮ টাকা হয়েছে এবং বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২০০ টাকায়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ছোট-বড় ৩০টি হাট-বাজারে নির্ধারিত নতুন দামের চেয়েও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতাদের অভিযোগ, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি করছেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।

    রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলার সলুয়া, সিংহঝুলী, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, চৌগাছা, পাতিবিলিা, হাকিমপুর, নারায়নপুর, পুড়াপাড়া, মাশিলা ও চাদপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৭২৮ টাকা। গত মাসে এর দাম ছিল এক হাজার ৩৪১ টাকা। তার মানে ১২ কেজিতে দাম বেড়েছিল ৩৮৭ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭২৮ টাকায় বিক্রির কথা ছিল।

    Oil & Gas

    তবে ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলিন্ডারের কৃত্রিম সঙ্কটের অজুহাতে বেশি দাম রাখা হচ্ছে। এতে প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম সর্বোচ্চ ৮১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে।

    রোববার বিকেলে উপজেলার চৌগাছা বাজারে খুচরা এক বিক্রেতা বলেন, ‘ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আমি প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করছি।’

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে ডিলাররা ১০ থেকে ১২টি করে সিলিন্ডার দিতেন। এখন তিন থেকে চারটি সিলিন্ডার দেন। দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নেন। আমরা খুচরা ব্যবসায়ী অল্প লাভে ব্যবসা করি।’

    বাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড

    চৌগাছা বাজারের আম্রকানন পাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক এম এ মান্নান বলেন, ‘ক্রেতাদের জিম্মি করে অবৈধভাবে এই গ্যাসের দাম বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।’

    যশোর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘ভোক্তাদের একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো ধরনের মজুতদারি ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যদি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    এ/ আর

  • নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন:  ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ২০ বছর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

    নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ২০ বছর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

     

     

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ২০ বছর পর্যন্ত স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান এ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে, ৫ বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখার পাল্টা প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে ইসলামাবাদের আলোচনার একপর্যায়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাক্য বিনিময়ও চলে বলে জানা গেছে।

    ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে একে অপরের কাছে প্রস্তাব বিনিময় করেছে, কিন্তু কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এখনো বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে।

    তবে আলোচনার ধারা ইঙ্গিত দিচ্ছে, একটি শান্তি চুক্তির পথ এখনো খোলা থাকতে পারে এবং সম্ভবত দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনার সুযোগ রয়েছে।জানা গেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এই সংঘাতের একটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয়।

    এ বিষয়ে সতর্ক করে ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে—যেন ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

    নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মূল বাধাই ছিল তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধ।

    ওয়াশিংটন তাদের প্রস্তাবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর ২০ বছরের স্থগিতাদেশের কথা বললেও, নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী—তেহরান জানিয়েছিল, তারা কেবল ৫ বছরের জন্য এটি করতে প্রস্তুত।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদ বৈঠকে দুই দেশ পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়ে প্রস্তাব বিনিময় করলেও চুক্তির মেয়াদের ব্যাপারে তারা অনেক দূরে অবস্থান করছে।

    দুজন ইরানি ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তেহরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন ২০ বছরের জন্য জেদ ধরে ছিল।

    এই প্রস্তাব ইঙ্গিত দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তার আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। এর আগে তারা দাবি করে আসছিল, তেহরানকে স্থায়ীভাবে তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমারের মতে, মতবিরোধের মাঝেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হয়তো শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।

    গত দশকের মধ্যে এটিই ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।

    তবে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে অচলাবস্থার কারণে ইসলামাবাদ বৈঠক শেষ হলেও কর্মকর্তারা বলছেন, সংলাপ এখনো চলমান রয়েছে। এমনকি সোমবার থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করা সত্ত্বেও একটি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আলোচনার ভেতরের চিত্র

    রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলের দুটি আলাদা কক্ষ এবং একটি কমনরুমে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে মূল কক্ষে ফোন ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। ফলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে বিরতির সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজ দেশে বার্তা পাঠাতে দেখা যায়।

    পাকিস্তানি সরকারের একটি সূত্র জানায়, ‘আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে একটি বড় অগ্রগতির জোরালো আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়।’

    প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনায় যখন গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার প্রসঙ্গ আসে—বিশেষ করে হামলা না চালানো এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়—তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেশ কড়া ভাষায় কথা বলেন।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করতে পারি যখন গত জেনেভা বৈঠকেও আপনারা বলেছিলেন— কূটনীতি চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করবে না?’

    উল্লেখ্য, জেনেভা আলোচনার দুই দিন পরেই ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ ছিল। ওয়াশিংটন শুধু পারমাণবিক ফাইল ও হরমুজ প্রণালির ওপর গুরুত্ব দিলেও তেহরান আরও বিস্তৃত একটি সমঝোতা চেয়েছিল।

    একপর্যায়ে আলোচনা কক্ষে উচ্চকণ্ঠ শোনা গেলে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানি কর্মকর্তারা টি-ব্রেকের কথা বলে দুই পক্ষকে আলাদা ঘরে নিয়ে যান।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচনা প্রায় ‘৮০ শতাংশ’ সফল হয়েছিল, কিন্তু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় এমন কিছু বিষয়ে আটকে গিয়ে তা থমকে দাঁড়ায়।

    এদিকে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সকালে ফোন করেছিল এবং ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়।’

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না, এবং ট্রাম্পের দল এই ‘রেড লাইনের’ ব্যাপারে অনড় রয়েছে। তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

  • হরমুজ প্রণালী অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই ন্যাটো

    হরমুজ প্রণালী অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই ন্যাটো

    কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী অবরোধের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে না সামরিক জোট ন্যাটো।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) জোটভুক্ত দেশগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়।

    ন্যাটো সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপে জড়াতে চায় না সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তারা পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পক্ষে মত দিয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ন্যাটোর এমন অবস্থানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হতে পারেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী অবরোধের উদ্যোগে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা এই অবরোধকে সমর্থন করছি না। যত চাপই আসুক, আমরা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াব না।”

    জার্মানি, স্পেন, ইতালি, পোল্যান্ড ও গ্রিসসহ ন্যাটোর আরো কয়েকটি দেশও হরমুজ প্রণালীতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি নাকচ করেছে।

    অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি আন্তর্জাতিক মিশন গঠনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ন্যাটোর এ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    বিডি ডেস্ক নিউজ:

    কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাকের উল্টে খাদে পড়ে ৭ জন নিহত এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকায় তাসফিন পাম্পের উল্টো পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫), বিরাপুর উপজেলার ভাইঘর উপজেলার উপজেলার পলাশের ছেলে সুমন (২১), একই গ্রামের বিষ্ণু (৩৫), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০) ও রাকিবুল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৫)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চাল বোঝাই একটি ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের উপর অবস্থানরত ১৩ যাত্রী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন।

    দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। আহত হন আরো ৬ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো থানায় রাখা আছে। স্বজনরা এলে তাদের কাছ লাশ বুঝিয়ে দেয়া হবে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • ইরান যুদ্ধের কারণে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

    ইরান যুদ্ধের কারণে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

     

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন। এর মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

    একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা কাটছে না, ঠিক তখনই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্ব এখন জ্বালানি, খাদ্য এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি- এই তিন ধাক্কার মুখোমুখি।

    দারিদ্র্য বিমোচনে নিয়োজিত এই সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের পথে অর্জিত সাফল্যগুলোকে উল্টো দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় অনুভূত হবে। বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সংস্থাটির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, যুদ্ধ থামলেও (যুদ্ধবিরতি) ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

    ইউএনডিপির এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ওয়াশিংটনে আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। সংস্থাটি বলছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করতে একটি বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    সংস্থাটি যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখেছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে অর্থাৎ, যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদনে ছয় সপ্তাহ বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং পরের আট মাস ধরে উচ্চমূল্যের প্রভাব বজায় থাকে- তাহলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়বেন।

    প্রতিবেদনটি তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত ‘আপার-মিডল-ইনকাম’ বা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা অনুসরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই মানদণ্ড অনুযায়ী, যাদের দৈনিক আয় ৮ দশমিক ৩০ ডলারের কম, তাদের এই সীমায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই হারের অর্ধেকই দেখা যাবে জ্বালানি আমদানিকারক ৩৭টি দেশে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে