ক্যাটাগরি সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে ভোটের প্রচারণা শুরু বিএনপি নেতার

    শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে ভোটের প্রচারণা শুরু বিএনপি নেতার

    ডেস্ক নিউজঃ

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের ভেতরে ঢুকে কবর জিয়ারত করতে পারেননি গোপালগঞ্জ-৩ আসনের (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। পরে সমাধিসৌধের গেটে দাঁড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করেন। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন এই প্রার্থী।

    বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শেখ মুজিবের সমাধিসৌধের ৩ নম্বর গেটে এমন ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই তার নির্বাচনি প্রতীক ফুটবল মার্কার প্রচার শুরু করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিব। পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ ও পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে গণসংযোগ এবং প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও সমর্থন চান।

    এর আগে গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারত করেন হাবিব।

    স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘গোপালগঞ্জ-৩ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনের মাটিতেই শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। এই দুই মহামানবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই আমি আমার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছি। আর প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ভেতরে গিয়ে তার কবর জিয়ারত করতে পারিনি। তাই গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছি।’

    হাবিব বলেন, ‘একসময় আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। টুঙ্গিপাড়া ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি এবং জেলা বিএনপির সদস্যও ছিলাম। তবে আমি অনেক আগেই বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব বরাবর আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

    দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে হাবিব বলেন, ‘আমাকে এখন বহিষ্কার করার বিষয়টি হাস্যকর, কারণ আমি দলে নেই। ৫ আগস্টের পর থেকে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ মামলা ও গ্রেফতারের আতঙ্কে রয়েছেন। হয়রানির শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যারা রাজনীতি করেন, তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না। কেবল নিজের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নেন। আমি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই, তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই।’

    এম কে

  • মায়ের কোল থেকে ছিটকে সড়কে প্রাণ গেল শিশুর

    মায়ের কোল থেকে ছিটকে সড়কে প্রাণ গেল শিশুর

    ডেস্ক নিউজঃ

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) ও মাহেন্দ্র অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে তিন মাস বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে সাতজন।

     বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চাপরাইল ব্রিজ-সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী।

    নিহত শিশু ঋষি মজুমদার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের জোয়ারিয়া গ্রামের রায়মোহন মজুমদারের ছেলে।

    ওসি আইয়ুব আলী বলেন, যাত্রীবাহী একটি মাহেন্দ্র কোটালীপাড়া থেকে টুঙ্গিপাড়া আসছিল। অন্যদিকে যাত্রীবাহী একটি ইজিবাইক জোয়ারিয়া থেকে কোটালীপাড়ার মাঝবাড়ি যাচ্ছিল। গাড়ি দুটি গোপালপুরের চাপড়াইল ব্রিজ-সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখন ইজিবাইকে থাকা মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তিন মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছে। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে নেয়।

    এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান ওসি।

    এম কে

  • একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় : মির্জা ফখরুল

    একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় : মির্জা ফখরুল

    বিডিটাইমস ডেস্ক

    একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা বিএনপির বিরুদ্ধে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা কি ভোট পাবে? তাদের কি জনগন ভোট দিবে?

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ধানের শীষের প্রথম জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর এদেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে, কিন্তু মাথা নত করেনি। আমাদের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এ যাত্রা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যাত্রা। এ কাজে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।

    তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে একটি বিশেষ দলের ব্যাপারে। যারা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, যারা স্বাধীনতার বিরোধী ছিল। তারা আমাদের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। এমনকি আমাদের নেতা তারেক রহমান সম্পর্কেও কুৎসা রটাচ্ছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

    সূত্রঃ কালবেলা

  • চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গরু চুরি করতে এসে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে দুই চোর নিহত হয়েছেন।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের সজের মোড়া তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন—পার্শ্ববর্তী দশানী গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে মজনু (২৭) এবং ছয়আনি গ্রামের বান্ধু মিয়ার ছেলে দীন ইসলাম (২২)।

    স্থানীয়রা জানান, রাতে পাশের ইমামনগর গ্রামের ইউনুস মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে তালা ভাঙার চেষ্টা করে পাঁচজনের একটি চোরচক্র। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পাঁচজন চোরের মধ্যে দুজনকে ধরে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মজনু ও দীন ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তারা দুজনই পুলিশের তালিকাভুক্ত চোর ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    এলাকাবাসীর দাবি, গত তিন বছর ধরে এই চক্র এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও কয়েকবার তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল।

    স্থানীয়রা আরও জানান, ধরা পড়ার পর নিহত দুই চোর তাদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

    এ বিষয়ে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

     

  • ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ডেস্ক নিউজ :

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ঢাকার ২০টি আসন থেকে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন সম্ভাব্য ১৬২ প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ২৭ প্রার্থী ভোটের মাঠ ছেড়েছেন। সে হিসেবে ঢাকার এই আসনগুলোতে ভোটের মাঠ লড়বেন ১৩৫ প্রার্থী।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সারাদিনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তিনটি কার্যালয়ে পৃথক পৃথকভাবে এসব মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন প্রার্থীরা।

    জানা যায়, সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, ঢাকা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় মিলে মোট ২৭ প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।

    এদের মধ্যে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত বিলকিস নাসিমা রহমান। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্য প্রধানকারী কর্মকর্তা তাহজীব হাসান হৃদম এ তথ্য জানান।

    এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের মধ্যে আছেন, ঢাকা-৫ আসনের বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মোখলেছুর রহমান কাছেমী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. লুৎফুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এস এম শাহরিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নায়ু মুন্সী।

    ঢাকা-৬ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) গাজী নাসির, ঢাকা-৭ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. ফয়েজ বখশ্ সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কবির আহমদ।

    এছাড়া ঢাকা-১০ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা-১৬ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহসানউল্লাহ, খেলাফত মজলিসের মো. রিফাত হোসেন মালিক, ঢাকা-১৭ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. এমদাদুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মফিজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ (আমীন)।

     

    ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুরাদ হোসেন ও ঢাকা-১৫ আসনে গণফোরামের এ কে এম শফিকুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    ঢাকা জেলা প্রশাসক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১ আসনে খেলাফত মজলিশের ফরহাদ হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনে খেলাফত মজলিশের এ কে এম এনামুল হক, জামায়েতে ইসলামীর আফজাল হোসাইন, ঢাকা-২০ আসনে জামায়েত ইসলামীর আব্দুর রউফ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    উল্লেখ্য, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পেরোনোর পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ পাবেন প্রার্থীরা। এর ফলে তারা পরদিন থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

    এদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১৬ অনুচ্ছেদে দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিধানে বলা হয়েছে, বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী তার সই যুক্ত কোনও লিখিত নোটিসের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত দিন বা তার আগে নিজে অথবা লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।

    কোনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকলে ওই দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী ব্যক্তিকে লিখিত পত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে এদিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।

    প্রসঙ্গত, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

  • একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    ডেস্ক নিউজ

    মশিউর রহমান সম্রাটের ছদ্মনামে সবুজ শেখ যেন হয়ে ওঠেছিলেন অপরাধের সম্রাট। একের পর এক ঘটিয়েছেন নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তার ভাষায় ‘থার্টি ফোর বা সানডে মানডে ক্লোজড’ মানেই হত্যা করা। 

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)  রাতে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি)  সন্ধ্যায় তাকে আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ছয় হত্যার দায় স্বীকার করেন সবুজ শেখ।

    মশিউর রহমান সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া মুছামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। ২০২৪ সাল থেকে সাভার মডেল মসজিদে থাকতেন তিনি। এরপর সাভার থানার  আশপাশে ভবঘুরেদের মতো থাকতেন।

    সর্বশেষ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার নাম তানিয়া আক্তার সোনিয়া। তিনি রাজধানীর উত্তরা এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

    সাভার মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে। মূলত তার নাম সবুজ শেখ। সে গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে ভবঘুরেদের মতো চলাফেরা করতো। ছদ্মনাম ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। তার পরিবারের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জে থাকেন। তবে তার বিস্তারিত আর কিছু পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের কাছ থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরে ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার  থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে নিহত ওই যুবকের এখনো পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরে ১১ অক্টোবর রাতে আবারও সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড়ে মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। তবে তিন খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। এরপর রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

  • হারলেও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় যাব : শিশির মনির

    হারলেও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় যাব : শিশির মনির

    ডেস্ক নিউজ:

    সুনামগঞ্জ–২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির বলেছেন, নির্বাচনে তিনি হারলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসায় একটি বড় ফুলের তোড়া নিয়ে যাবেন। একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হারলে যেন তার বাড়িতেও ফুলের তোড়া নিয়ে আসেন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে শিশির মনির বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি বিজয়ী হবেন, তাকেই তিনি অভিনন্দন জানাবেন। বর্তমান বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে পুরোনো পথেই হাঁটা হবে, এতে কোনো উপকার হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, আমি হেরে গেলেও বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আবার আমি জিতলেও অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। জনগণ যে রায় দেবে, আমরা তা সাদরে গ্রহণ করবো।

    নির্বাচনে গালিগালাজ ও বকাবকির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিশির মনির বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মার শান্তির জন্যও একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি জরুরি।

    এদিকে,  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের মোট ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সুনামগঞ্জের সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। পাঁচটি আসনে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, ঈগল, হাতপাখাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের সময় আচরণবিধি প্রতিপালন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ তুললেও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে সমান সুযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

    বি/এ

  • বরগুনায় জামায়াতসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    বরগুনায় জামায়াতসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ডেস্ক নিউজ :

    বরগুনার দুটি আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং খেলাফত মজলিসের দুই প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন তারা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট শজল চন্দ্র শীল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হলেন: বরগুনা-১ (বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহিব্বুল্যাহ এবং বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম।
    মনোনয়ন প্রত্যাহার করা বরগুনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মো. মহিব্বুল্যাহ বলেন, ‘১০ দলীয় জোট হওয়ায় এ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচনে অংশ নিতে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ কারণে দল আমাকে প্রত্যাহার করে তাকে এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আগামীর ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’
    বরগুনা-২ আসনের খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জোটের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসকে বরগুনা-১ আসন দেয়া হয়েছে। এবং বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। এ কারণেই ১০ দলীয় জেটের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরগুনা-২ আসন থেকে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’

    এ বিষয়ে বরগুনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শজল চন্দ্র শীল বলেন, ‘বরগুনা ১ ও ২ আসন থেকে দু’জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছে। বরগুনার এ দুটি আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এখন মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর বরগুনা-১ আস থেকে ৪ জন এবং বরগুনা-২ আসন থেকে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’
  • বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বেতাগীর জুয়েলী

    বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বেতাগীর জুয়েলী

    ডেস্ক নিউজ:

    জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বরগুনার ‘বেতাগী গা‍র্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর সহকারী শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার মনিকা।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকায় জাতীয় প‍‍র্যায়ে দেশ সেরা বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন বেতাগী উপজেলার ওই শিক্ষক।

    এর আগে, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কা‍র্যালয়ে (সম্মেলন কক্ষে) বিভাগের সকল জেলা প‍‍র্যায়ে বিজয়ী শ্রেণি শিক্ষকদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণ করা শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, শিক্ষাগত একাডেমিক অ‍‍র্জন, প্রাতিষ্ঠানিক মনোভাব ও মূল্যায়ন পারদ‍‍র্শিতাসহ ১২টি গুণাবলি বিবেচনায় সৈয়দা জুয়েলীকে বিভাগের ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতে প্রথম হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

    শ্রেণি শিক্ষক ক্যাটাগরিতে বিজয়ী শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে গণিত বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষে ২০১৩ সালে বরগুনা জেলার ‘বেতাগী গা‍র্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে’ সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তার এমন অর্জনে সহক‍‍র্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার বলেন, একজন শিক্ষকের অ‍‍র্জিত সাফল্যের মূল্যায়ন তার ক‍‍র্মযজ্ঞকে গতিশীল করে, যার সুফল ক‍‍র্মস্থলসহ দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে বলে আমি মনে করি। এছাড়াও সরকারের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-এর মতো আয়োজনকে ‘গতিশীল উদ্যোগ’ হিসেবেও বলেন তিনি।

  • ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ডেস্ক নিউজ

    শীতের চিরচেনা রূপ পাল্টে যাচ্ছে ভোলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে। এক সময় দিগন্তজোড়া জলরাশিতে হাজার হাজার অতিথি পাখির জলকেলি আর কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত যে চরগুলো, সেখানে এখন যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ আর মানুষের কোলাহল।

    বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা ভোলার উপকূলীয় বিচরণভূমিগুলো এখন পরিযায়ী পাখিদের জন্য হয়ে উঠেছে চরম অনিরাপদ। মানুষের সৃষ্ট এসব বহুমুখী সমস্যার কারণে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং পাখিরা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে তাদের আবাসস্থল। এতে একদিকে যেমন শীতকালীন উপকূলীয় পরিবেশ তার সহজাত সৌন্দর্য হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য হারাচ্ছে।

    ভোলার চর কুকরী মুকরী, ঢালচর ও মনপুরাসহ উপকূলের বিভিন্ন ডুবোচরগুলোতে হাজার হাজার অতিথি পাখির ডানা মেলে উড়ে চলা, দলবেঁধে খাবার সংগ্রহের প্রতিযোগিতা আর জলকেলি ছিল শীত মৌসুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমানে সেসব চরের দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।


    স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, চর কুকরী মুকরী, চর শাহজালাল, চর শাজাহান, চর পিয়াল, আইলউদ্দিন চর, চরনিজাম, দমার চর, ডেগরারচরসহ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী প্রায় অর্ধশত নতুন চর একসময় পাখিদের 
    নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ছিল। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে এবং খাবারের সন্ধানে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা এসব অতিথিদের কলতানে মুখর থাকত সাগরকূলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে মানুষের বসতি স্থাপন, কৃষি আবাদ বৃদ্ধি, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ঘোরাঘুরি এবং চরাঞ্চলগুলোকে গোচারণভূমি হিসেবে ব্যবহারের ফলে সেই মুখর পরিবেশ এখন স্তব্ধপ্রায়।
    চর কুকরী মুকরির নারিকেল বাগানের বাসিন্দা নিয়ামুল মাঝি ও তাড়ুয়ার ব্যবসায়ী মিজান খানসহ স্থানীয়রা জানান, দিনরাত যান্ত্রিক নৌযানের শব্দদূষণ এবং মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে পাখিরা এখন আর আগের মতো এসব চরে ভিড়ছে না।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিসার্চ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা আট দিন উপকূলীয় এলাকায় পাখি শুমারি পরিচালনা করেছেন। এই দলটির সদস্যরা ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর প্রায় ৫৩টি চরে পাখি গণনার কাজ করেন।

    ড. সায়ামের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এবারের জরিপে উপকূলীয় মেঘনা মোহনার ৫৩টি স্থানে ৬৩ প্রজাতির মোট ৪৭ হাজার ১৫৭টি জলপাখির অস্তিত্ব রেকর্ড করা হয়েছে। এবারের শুমারিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউরেশিয়ান উইজিয়ন প্রজাতির পাখি, যার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১২টি। এছাড়া ব্ল্যাক-টেইলড গডউইট ৪ হাজার ৪৩৪টি এবং লেসার স্যান্ড প্লোভার ৩ হাজার ৯৬২টি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ভোলার মনপুরার কাছে চর আতাউর, ভাসান চরের কাছে জৈজ্জার চর এবং আন্ডার চরে জলপাখির সর্বাধিক ঘনত্ব বজায় ছিল। এর মধ্যে চর আতাউরে ৬ হাজার ৪৭৯টি, জৈজ্জার চরে ৫ হাজার ৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪ হাজার ৯৮৭টি পাখি রেকর্ড করা হয়েছে। শুমারি দলটি বর্তমানে ঢাকায় ফিরে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এবং শীঘ্রই পাখি কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

    পাখি শুমারি দলের সদস্য ও বিশিষ্ট পর্বতারোহী এম এ মুহিত উপকূলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এক সময় ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলে বার-হেডেড গুজ বা রাজহাঁস জাতীয় পাখি হাজারেরও বেশি দেখা যেত, অথচ এ বছর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে। একইভাবে খয়রা চখাচখি ও গাঙচষা পাখির সংখ্যাও আগে হাজারের ঘরে থাকলেও এখন তা মাত্র শতকের ঘরে ঠেকেছে। সংখ্যায় কমে যাওয়া পাখিদের তালিকার মধ্যে আরও রয়েছে উত্তরে খুন্তেহাঁস, লেনজা হাঁস, ইউরেশিয়ান টিল, গ্যাডওয়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির সৈকত পাখি। এমনকি হাড়গিলা নামের পরিযায়ী পাখি যা আগে শত শত দেখা যেত, এ বছর শুমারি চলাকালে সেটির একটিরও দেখা মেলেনি। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান পাখিদের বসবাসের উপযোগীতা হারাচ্ছে।

    বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, স্কোপ ফাউন্ডেশন এবং বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শুমারিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান শুমারি দলের সদস্য নাজিম উদ্দিন প্রিন্স। তিনি বলেন, ভোলার পার্শ্ববর্তী চরগুলোতে পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার পেছনে পাখি শিকারিদের উপদ্রব যেমন দায়ী, তেমনি নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ। এই কৃষিকাজের ফলে পাখিদের বিচরণভূমি সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
    শুমারি দলের আরেক সদস্য মো. ফয়সাল জানান, তাদের এই কার্যক্রম মূলত জলচর ও পরিযায়ী পাখি কেন্দ্রিক ছিল এবং প্রতিবছরই তারা আবাসস্থল নষ্ট হওয়া ও পাখি শিকারের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছেন।

    শুমারি দলের সঙ্গে পুরো সময় চরের অভয়াশ্রমগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা। তিনি বলেন, পরিযায়ী পাখিদের আশ্রয়ের জন্য জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত কাদাজলের চরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এসব এলাকায় মানুষের আনাগোনা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পাখিরা ভীত হয়ে এলাকা ছাড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অতি গুরুত্বপূর্ণ এই চরগুলোতে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধ করার জন্য বন অধিদফতরের পক্ষ থেকে শীঘ্রই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।