ক্যাটাগরি সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৭

    নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৭

    ডেস্ক নিউজ:

    নড়াইলের লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়া-মঙ্গলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন, প্রিন্স শেখ (২৬), বিপুল মোল্যা (৪০), রানা মোল্যা (৩০), রাসেল মোল্যা (৩০), রাফিন (১৬), সৌরভ মোল্যা (১৪) ও মিল্টন মোল্যা (৩০)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয় বিপুল মোল্যা ও মিল্টন মোল্যার মধ্যে ধান মাড়াই করা ধুলোবালি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করা নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এ ঘটনা নিয়ে নওশের মোল্যা সমর্থিত বিপুল মোল্যা ও মজিবর মেম্বারের সমর্থিত মিল্টন মোল্যার মধ্যে দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা (কোচ) ও ছুরি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় সংঘর্ষে বিপুল মোল্যা মুখে টেঁটাবিদ্ধ হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিবেশ বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • ২৪০ টাকায় পেলন পুলিশের চাকরি!

    ২৪০ টাকায় পেলন পুলিশের চাকরি!

    ডেস্ক নিউজ:

    মেহেরপুরে পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়ে জেলার সাধারণ পরিবারে বয়ে যাচ্ছে খুশির জোয়ার। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে পুলিশে নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও এবারের নিয়োগ ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ।

    মাত্র ২৪০ টাকা খরচ করে ৯ জন যুবক চাকরি পেয়েছেন পুলিশের কনস্টেবল পদে। তাদের মধ্যে আছেন ভ্যানচালক, কৃষক, দিনমজুর পরিবারের সন্তানেরা। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রমাণ করেছে—সত্যিকারের যোগ্যতা থাকলেই সরকারি চাকরির স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
    মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের ভ্যানচালক মিন্টু মোল্লার পরিবারের খুশি এখন সবার মুখে মুখে। তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম পুলিশের চাকরি পেয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে মিন্টু মোল্লা অপেক্ষা করছিলেন পুলিশ লাইনের মূল ফটকের সামনে। কিছুক্ষণ পর ছেলে দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরলেন। দুজনের চোখে-মুখে ঝলমল করছিল গর্ব আর আনন্দ।

    মিন্টু মোল্লা জানান, তিনি সারাজীবন ভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন। সেই ভ্যানেই ছেলে মাজহারুলকে স্কুলে নিয়ে গেছেন। কখনো ভেবেও দেখেননি, তার ছেলে একদিন পুলিশের চাকরি পাবে। তিনি বলেন, আমার জীবনের কষ্ট বৃথা যায়নি। আজকের এই দিন দেখার জন্যই এতদিন পরিশ্রম করেছি।

    মাজহারুল বলেন, মাত্র ২৪০ টাকা খরচ করে চাকরি পেয়েছি। এখন থেকে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেব। প্রথম বেতন হাতে পেলে সেই টাকা বাবার হাতে তুলে দেব। বাবাই আমাকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে পড়াশোনা করিয়েছেন। তাই বাবার সাথে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে চাই সারাজীবন।
    মেহেরপুর শহরের দিঘীরপাড়ার কৃষক আক্কাস আলীর ছেলে রুমমানও চাকরি পেয়ে উচ্ছ্বসিত। রুমমান বলেন, তাদের পরিবার অভাব-অনটনে দিন কাটিয়েছে। বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালানোই কঠিন ছিল। এখন চাকরি পাওয়ার পর পরিবারের কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে।

    তিনি জানান, পুলিশে চাকরি করা আমার স্বপ্ন ছিল। পরিবারের কষ্ট কমাতে চাই। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবার সেই সুযোগ এসেছে। এখন কঠোর পরিশ্রম করে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করব।

    শুধু মাজহারুল বা রুমমান নয়, এবারের নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত ৯ জন যুবকের গল্প প্রায় একই রকম। কারো বাবা দিনমজুর, কারো বাবা কৃষক। অনটন, কষ্ট আর সংগ্রামের মাঝেই তারা বড় হয়েছেন। তাদের সবার অভিন্ন বক্তব্য—টাকা-পয়সা খরচ করতে হয়নি, যোগ্যতার মাধ্যমেই তারা চাকরি পেয়েছেন।

    আরেক সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল অমিত হাসান জানান, আগে চাকরি পেতে ঘুষ লাগত এমন অভিযোগ ছিল প্রচুর। এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। এতে যোগ্য তরুণরা উৎসাহিত হয়েছেন।

    মেহেরপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন ছাড়াই যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমরা কেবল যোগ্যতা আর মেধাকেই প্রাধান্য দিয়েছি। এজন্যই সাধারণ পরিবার থেকে আসা ছেলে-মেয়েরা চাকরি পেয়েছে। পুলিশের দায়িত্ব হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা। সেই আস্থা অর্জনের প্রথম শর্ত হলো স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া।
    মোট ৫৫৫ জন প্রার্থী এবারের কনস্টেবল পদে আবেদন করেছিলেন। লিখিত, মৌখিক, শারীরিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। সবশেষে যোগ্য বিবেচিত হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মাত্র ৯ জন। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই মেহেরপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা তরুণ।

  • শীতের সবজিতে ভরেগেছে মেহেরপুরে মাঠ

    শীতের সবজিতে ভরেগেছে মেহেরপুরে মাঠ

    ডেস্ক নিউজ:

    মেহেরপুরে শীতের সবজিতে ভরে উঠেছে কৃষকের মাঠ।  শীতের আগমনি বার্তার সাথে সাথে হরেক রকমের শীতের সবজিতে ভরে যাচ্ছে গ্রামীন বাজার গুলো।

    জেলার মাঠজুড়ে চাষ হচ্ছে ফুলকপি, বাধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, সিম, করলা, টমেটোসহ নানান আগাম জাতের সবজি। ভোর হলেই কৃষকরা ফসল পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আবার কেউ ফসল বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি নেন।

    জেলার সাহারবাটি মাঠের চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের বাধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছি। আগাম জাতের সবজি হওয়ায় বাজারে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি কেজি ফুলকপি ১২০ টাকা ও বাধাকপি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচের তুলনায় লাভ ভালো হবে। তাই এই সকল সবজি চাষে অনেক চাষিদের আগ্রহ বেশি।

    একই মাঠের লাউ চাষি সেলিম রেজা বলেন, এক বিঘা জমিতে লাউ লাগিয়েছি। ফলন ভালো হয়েছে। প্রতিদিনই জমি থেকে প্রায় চারশ পিস লাউ উত্তোলন করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি পিস লাউ ৩০-৩৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচের তুলনায় লাভ ভালো হচ্ছে।

    এছাড়া এই মাঠের বিভিন্ন সবজি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বাজারজাত করা হয়। তবে জেলার মটমুড়া মাঠের শিম চাষি রাকিব অভিযোগ করে বলেন, সার-বিষের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। আবহাওয়া অনূকুলে না থাকায় সবজিতে বেশি পরিমাণে সার ও বিষ স্প্রে করা হচ্ছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে ভালো দামে বিক্রয় হচ্ছে। প্রতি কেজি শিম বাজারে পাইকারি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

    মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, আমরা সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছি। এ বছর উৎপাদন খরচ বেশি হলেও আগাম শীতকালীন সবজির চাষ ভালো হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছর জেলাতে ২ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের সবজি চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এসব সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হবে।

  • গাংনী সমবায় দিবস পালন

    গাংনী সমবায় দিবস পালন

    ডেস্ক নিউজ:

    “সাম্য ও সমতায় দেশ গড়বে সমবায়” প্রতিপাদ্যে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পালন করা হয়েছে ৫৪ তম জাতীয় সমবায় দিবস।

    এ উপলক্ষে  শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ কের একটি র‌্যালী।

    পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা সমবায় অফিসার আবু হাসেমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন।

    বিশেষ অতিথি মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম সোনা। এসময় অন্যেদের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন, চাঁদপুর সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম, গাংনী উপজেলা বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক আব্দাল হক, ডিজিটাল বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি তোফায়েল হোসেন প্রমুখ।গ্রন্থনা:অধ্যক্ষ মহসীন আলী আঙ্গুঁর ,সম্পাদক ও প্রকাশক, মুজিবনগর খবর ডট কম,মেহেরপুর।

  • কাচ্চি ডাইনে সরবরাহের সময় পঁচা মাংসসহ আটক ১

    কাচ্চি ডাইনে সরবরাহের সময় পঁচা মাংসসহ আটক ১

    ডেস্ক নিউজ :

    সাতক্ষীরা শহরের কাচ্চি ডাইনসহ কয়েকটি হোটেলে বিক্রির উদ্দেশ্যে পচা মাংস আনার অভিযোগে এক মাংস ব্যবসায়ীকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    রোববার (২ নভেম্বর) সকালে শহরের লাবণী মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই দণ্ড দেন।

    অভিযুক্ত ব্যক্তি দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া বাজার এলাকার রুহুল কুদ্দুসের ছেলে আব্দুল কাদের। তিনি “কবির মিট” নামে সাতক্ষীরার কামালনগর বউ বাজারে একটি মাংসের দোকান পরিচালনা করতেন।

  • নিজের পাতা ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    নিজের পাতা ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজ :

     

    জমি ইজারা নিয়ে মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধে শাকসবজি চাষ করতেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জেলেখালী গ্রামের কৃষক রথীন্দ্রনাথ রপ্তান (৫২)। সবজিখেতে ইঁদুরের উপদ্রব ঠেকাতে পাতেন বৈদ্যুতিক ফাঁদ। কিন্তু সেই ফাঁদেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার জেলেখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিবেশী হরষিত রপ্তান জানান, রথীন্দ্রনাথ বাড়ির সামনের একটি ঘেরের বেড়িবাঁধে বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করতেন। খেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় তিনি চারপাশে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে না ফেরায় স্ত্রী তাঁকে খুঁজতে বের হন। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর স্ত্রী রথীন্দ্রনাথের লাশ ঘেরের পানিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার সকালে স্থানীয় শ্মশানে রথীন্দ্রনাথের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে

  • দেবহাটায় মাছের ঘেরে তরমুজ চাষ করে সফলতা

    দেবহাটায় মাছের ঘেরে তরমুজ চাষ করে সফলতা

    ডেস্ক নিউজ

    দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজ পাতার ছায়ায় ঝুলছে রঙিন ফলের মালা। কাছে গেলে বোঝা যায়, এগুলো অসময়ের তরমুজ। নিচে মিঠে ও লোনা পানির মিশ্র ঘেরে মাছের খেলা। ওপরে মাচায় ঝুলছে সুপ্রিম হানি, তৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন আর বাংলা লিংকের তরমুজ। এ মন ভোলানো দৃশ্য এখন সাতক্ষীরার দেবহাটার কৃষি মাঠে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    কয়েক বছর আগেও দেবহাটার মৎস্য ঘেরের ভেড়িগুলো ছিল অব্যবহৃত বা স্রেফ আগাছায় ভরা। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সেই ভেড়িগুলোতে শুরু হয় পরীক্ষামূলক তরমুজ চাষ। প্রথমে অনেকে সন্দিহান ছিলেন, লোনা পানির প্রভাবে কি তরমুজ হবে? তবে প্রথম ফসলেই মিললো সাফল্য। সেই সাফল্য ছড়িয়ে পড়লো আশপাশের গ্রামগুলোতে।

    দেবহাটা উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ৫০ জন কৃষক এ চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আলাদা জমির দরকার নেই। মাছের ঘেরের ভেড়ি আর সামান্য জমিই যথেষ্ট। ফলে বিনিয়োগ কম, ঝুঁকি কম আর লাভ অনেক।

    এখন বাজারে কেজিপ্রতি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। মৌসুমের বাইরে এত দাম পাওয়ায় কৃষকদের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। উপজেলার তিনটি প্রদর্শনী প্লটে এরই মধ্যে বাম্পার ফলন এসেছে। কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত জাতের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। যার মধ্যে সুপ্রিম হানি, তৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন ও বাংলা লিংক আছে।

    টিকেট গ্রামের চাষি বিশ্বনাথ টাপালী বলেন, ‘লোনা এলাকায় টিউবওয়েলের পানি বালতিতে করে এনে প্রতিদিন গাছে পানি দিই, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করি। কষ্ট অনেক কিন্তু ফল মিষ্টি। প্রথম চালানেই ৪০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। আরও দুই দফা তোলা বাকি।’

    কৃষক আবুল কাশেমের অভিজ্ঞতা আরও উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘তরমুজ দেখতে সুন্দর, খেতেও অসাধারণ মিষ্টি। বাজারে চাহিদা প্রচুর। আশা করছি প্রায় ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো।’

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘লোনাতে সোনার খোঁজে কাজ করছি আমরা। প্রথমে কৃষকদের আগ্রহ কম ছিল। এখন নিজেরাই এসে বীজ চাইছেন।’

    দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান বলেন, ‘যেখানে আগে ভেড়ি পতিত থাকতো; সেখানে এখন ফসল হচ্ছে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে। কৃষকের আয় বাড়ছে আর স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।’

  • জামায়াত দখলদারিত্বের রাজনীতি করেনা

    জামায়াত দখলদারিত্বের রাজনীতি করেনা

    ডেস্ক নিউজ

     

    জামায়াতে ইসলামী দেশের কোথাও ঘের দখল করে না, জমি দখল করে না, কিংবা বালু উত্তোলন করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে প্রস্তুত। নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে ঢেউ শুরু হয়েছে, তা আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।

    সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা মাঠে আয়োজিত ছাত্র-যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত সেক্রেটারি।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‌‘জামায়াতে ইসলামী গুম, খুন, লুটপাট ও দুর্নীতিমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। কোনো উসকানিতে উত্তেজিত না হয়ে তালা-কলারোয়ার মানুষকে শান্ত থাকতে হবে। একটি পক্ষ আমাদের গণজোয়ার রুখে দিতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আমরা সেই ফাঁদে পা দেবো না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে কেউ বেকার থাকবে না। দুর্নীতি থাকবে না, লুটপাট থাকবে না। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে এবার সবাইকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে।’

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তালা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মফিদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজায়েত আলী, সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি আল মামুন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের হোসেন প্রমুখ।

     

     

  • সসনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষির মুখে হাসি

    সসনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষির মুখে হাসি

    ডেস্ক নিউজ :

     

    সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন চাষিরা।

    মাছে মড়ক না লাগা, অতি দ্রুত বড় হওয়া এবং মাত্র তিন মাসে বিনিয়োগ করা অর্থের দ্বিগুণ ফিরে পাওয়ায় সংঘবদ্ধভাবে এই পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন তাঁরা। মৎস্য অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় বাগদা চিংড়ির এ চাষাবাদে উৎসাহ জোগাচ্ছে অন্যদের।

    জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলে ৫৫ হাজার ঘেরে সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ হয়। এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে প্রতিবছর লোকসানে জর্জরিত হতো সাতক্ষীরার চাষিরা। ভাইরাস ও দাবদাহে ঘেরে বাগদা চিংড়ি উজাড় হয়ে যাওয়ায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো তাঁদের। পরবর্তী সময়ে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করা হলেও তেমন সফলতা ছিল না। ফলে দিন দিন বাগদা চাষে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছিল চাষিদের।

    তবে এ বিপর্যয় থেকে চাষিদের রক্ষায় এগিয়ে আসে মৎস্য বিভাগ। ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ নামক একটি প্রকল্পের আওতায় উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করতে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পানির গভীরতা ঠিক রাখা ও বায়োসিকিউরিটি নির্বাহ করা এ চাষের প্রধান বৈশিষ্ট্য। নতুন এ পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করতে জেলার সব চাষিকে পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে কালীগঞ্জের শিবপুরে ১৩ একর জমিতে ২৩ জন চাষি ২৩টি ঘেরে উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করছেন।

    শিবপুরের বাগদাচাষি মোক্তাদির হোসেন বলেন, ‘আমরা ২৩ জন মিলে এই প্রজেক্টে চাষ করছি। কালিন্দি নদী থেকে এই খালে নোনাপানি আসে। প্রথমে ঘেরে পানি ভর্তি করি। তারপর পর্যায়ক্রমে চুন ও ব্লিসিং মারার পর ভাইরাসমুক্ত পোনা ছাড়ি। এরপর নির্দেশনামতো খাদ্য দিই। এতে ব্যাপক সফল আমরা। ৭২ শতাংশ জমিতে আমি ১৮৫ কেজি মাছ উত্তোলন করেছি। অথচ আগে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ কেজি মাছ তুলতে পেরেছি।’

    চাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পানির পিপিটি অনুযায়ী উৎপাদিত পোনা ছাড়া হয় বলে মড়ক নেই বললেই চলে। আগে পানির লবণাক্ততা ও ভাইরাস পরীক্ষা হতো না বলে ৪০ দিন যেতে না যেতে মাছ মারা যেত। আর এখন মাছ মরে না বললেই চলে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে আমরা মাছ চাষ করে শতকে তিন-চার কেজি মাছ উৎপাদন করতে পেরেছি।’

    এ বিষয়ে কালীগঞ্জের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের আওতায় শিবপুরের ২৩ জন চাষিকে নিয়ে কাজ শুরু করি। সেখানে সফলতা ব্যাপক। বায়োসিকিউরিটি ও ভাইরাসমুক্ত পোনা ব্যবহার করা হয় ঘেরে। আমরা খুব আনন্দিত, মাত্র ৩ মাসে ২০টি চিংড়িতে ১ কেজি ওজন হচ্ছে। চাষিদের এ পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করা উচিত।’

     

  • চৌহালীতে ৮০পিস ইয়াবাসহ আটক ১ জন

    চৌহালীতে ৮০পিস ইয়াবাসহ আটক ১ জন

     

    বিডিনিউজ ডেক্স :  রবিবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে কোদালিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত বেল্লাল( ৩৫) সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার মধ্য খাষকাউলিয়া গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে।

    এ বিষয়ে চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কোদালিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ বেল্লাল হোসেনকে আটক করা হয়।

    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলার পর আজ সকালে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।