ক্যাটাগরি শিশু স্বাস্থ্য

  • বড়দের আচরণে ক্ষতি হয় শিশুর

    বড়দের আচরণে ক্ষতি হয় শিশুর

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    শিশুরা সবসময় নিজের চারপাশ থেকে শেখে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের আচরণই তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তারা বড়দের দেখেই অনেক কিছু রপ্ত করে ফেলে। তাই বাড়িতে ছোট সদস্য থাকলে বড়দের একটু বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। ছোটদের সামনে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা তাদের মনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।

    এখানে এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো, যেগুলো অভিভাবকদের এড়িয়ে চলা উচিত—বিশেষ করে যখন শিশুরা আশপাশে থাকে।

    অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করা নয়

    প্রতিটি শিশু আলাদা — তাদের ভাবনা, শেখার পদ্ধতি, আর গতি একেকরকম। তাই নিজের সন্তানের সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করা একেবারেই উচিত নয়। এতে তার আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং মনে চাপ তৈরি হয়। শিশুকে তার নিজের মতো বেড়ে উঠতে দিন, প্রশংসা করুন তার নিজস্বতা।

    আবেগ দমন করতে শেখানো ঠিক নয়

    অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা কষ্ট বা রাগ পেলে সেটা প্রকাশ করতে চায়, কিন্তু বড়রা সেটা আটকান। ‘এগুলো বলো না’ বা ‘এত আবেগ দেখিও না’—এমন কথা শিশুর মনে বাধা তৈরি করে। ফলে তারা ধীরে ধীরে মনের কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলে। বরং, সন্তানের আবেগকে বোঝার চেষ্টা করুন, তাকে ভালোভাবে শুনুন।

    সব সময় ব্যস্ত রাখা শিশুর জন্য ক্ষতিকর

    আজকাল শিশুরা পড়াশোনা ছাড়াও নানা কাজে ব্যস্ত থাকে—কোচিং, হোমওয়ার্ক, ক্লাস, প্রজেক্ট ইত্যাদি। কিন্তু খেলাধুলা, বিশ্রাম, বা একান্ত নিজের সময়ও তাদের দরকার। যদি সারাদিন তাকে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত রাখা হয়, তাহলে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তাই একটা ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন বানানো জরুরি।

    শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় তাদের চারপাশের পরিবেশ অনেক বড় ভূমিকা রাখে। বড়রা যেমন আচরণ করবেন, শিশুরাও তা দেখেই শিখবে। তাই নিজের আচরণে সচেতন হওয়া এবং ছোটদের বুঝে, ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তোলাই একজন অভিভাবকের আসল দায়িত্ব।

    বি/ এ

  • হাম রোগ কেন হয়, প্রতিকারের উপায়

    হাম রোগ কেন হয়, প্রতিকারের উপায়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    Measles (হাম) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একজন হাম রোগী গড়ে ১২–১৮ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন (R₀ 12–18)—এ কারণে একে “অত্যন্ত দ্রুত ছড়ানো রোগ” বা high contagious disease বলা হয়।

    সবচেয়ে দ্রুত ছড়ানো সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে Measles (হাম)। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২–১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন, যা অত্যন্ত উচ্চ সংক্রমণক্ষমতা নির্দেশ করে। হাম, COVID-19 (করোনা) ও Influenza (ইনফ্লুয়েঞ্জা) ভাইরাসের চেয়েও দ্রুত ছড়ায়।

    হাম কিভাবে ছড়ায়?

    এই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করার পরও কিছু সময় পরিবেশে সক্রিয় থাকতে পারে। তাই টিকা না থাকলে অল্প সময়েই বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে এবং ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।

    হামের টিকা কিভাবে তৈরি হয়

    হামের টিকা (MMR) অত্যন্ত কার্যকর। টিকা তৈরিতে Measles ভাইরাসকে ল্যাবরেটরিতে দুর্বল (attenuated) করা হয়। এই দুর্বল ভাইরাস শরীরে রোগ সৃষ্টি করতে পারে না, কিন্তু রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system)-কে সক্রিয় করে তোলে। ফলে শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভাইরাস আক্রমণ করলে তা দ্রুত প্রতিরোধ করতে পারে।

    এই পদ্ধতিকে “live attenuated vaccine” বলা হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী সুরক্ষা দেয়। দুই ডোজ নিলে প্রায় ৯৭% পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। টিকা না নিলে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    বড়দের কি হাম হয়?

    বড়দেরও Measles হতে পারে, বিশেষ করে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। বড়রাও MMR টিকা নিতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা ছোটবেলায় টিকা নেয়নি বা সম্পূর্ণ ডোজ নিশ্চিত নয়, তারা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেও টিকা নিতে পারেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষার্থী, বিদেশযাত্রী বা ভিড়ের মধ্যে কাজ করেন—এমন মানুষের জন্য এটি বেশি জরুরি। অনেকে মনে করেন হাম শুধু শিশুদের রোগ—এটি ভুল।

    হামের উপসর্গ

    হামের প্রধান উপসর্গ হলো—উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (Koplik spots)ও দেখা যেতে পারে।

    হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। সাধারণত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভিটামিন A অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।

    হামের জটিলতা সবচেয়ে ভয়ংকর জটিলতা হলো মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis)। Measles–এর জটিলতায় যখন মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়, বিশেষ করে এনসেফালাইটিস বা SSPE দেখা দেয়, তখন ব্রেইন কোষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন দেখা যায়—যেমন নিউরোইনফ্ল্যামেশন (Neuroinflammation), ডিমাইলিনেশন (Demyelination), অ্যাপোপটোসিস (Apoptosis), ব্লাড–ব্রেইন ব্যারিয়ার ডিসরাপশন (Blood–brain barrier disruption) এবং সিন্যাপটিক ডিসফাংশন (Synaptic dysfunction)।

    এতে খিঁচুনি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, অস্বাভাবিক আচরণ এবং বাচন সমস্যা দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। পরবর্তীতে আচরণগত সমস্যা, বুদ্ধিবিকাশে বিলম্ব বা অন্যান্য মানসিক ও স্নায়বিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

    হামের টিকা: এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের কাহিনি

    বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম (Measles) প্রতিরোধী টিকা নিয়মিত দেওয়া হয়—বাংলাদেশেও এটি শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুটিন টিকা। কিন্তু কীভাবে এল এই টিকা?

    টিকা আবিষ্কারের চাঞ্চল্যকর ইতিহাস:

    হামের টিকা উদ্ভাবনের কৃতিত্ব মূলত জন এফ. এন্ডার্স ও তাঁর সহকর্মীদের। ১৯৫৪ সালে তারা ডেভিড এডমনস্টন নামের এক অসুস্থ শিশুর রক্ত থেকে হাম ভাইরাস আলাদা করেন। এই হাম ভাইরাসটিকেই পরবর্তীতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় দুর্বল করে তৈরি করা হয় ‘এডমনস্টন-বি স্ট্রেইন’ নামের নমুনা, যা পরবর্তী টিকা উদ্ভাবনে ব্যবহার করা হয়।

    ১৯৬৩ সালে এন্ডার্স ও তাঁর সহকর্মী চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জিনগতভাবে দুর্বল হাম ভাইরাস (‘এটেনুয়েটেড ভাইরাস এডমনস্টন-বি স্ট্রেইন’) ব্যবহার করে প্রথম সফল টিকা তৈরি করেন। এই দুর্বল ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে কোনো রোগ না ঘটিয়েই এক ধরনের প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা পরবর্তীতে প্রকৃত (সবল) হাম ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করে।

    পরবর্তীতে হামের টিকাকে আরও উন্নত ও নিরাপদ করে এমএমআর টিকা (হাম-মাম্পস-রুবেলা) আবিষ্কার করা হয়। এন্ডার্স শুধু হামের টিকার জন্যই নয়—পোলিও টিকা আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান। এই আবিষ্কার সত্যিই বিশ্বস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এক মাইলফলক। হামের টিকা এখন পর্যন্ত কোটি কোটি শিশুকে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করেছে—এটাই বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি।

    উপসংহার

    সুতরাং, হামকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সময়মতো টিকা গ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর প্রতিরোধ। তবে মাস্ক ব্যবহার কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে, কিন্তু এটি টিকার বিকল্প নয়।

     

  • একসপ্তাহের মধ্যে সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    একসপ্তাহের মধ্যে সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    আগামী এক সপ্তাহে দেশের শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে টিবি হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন।

    আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ কাভার করেছি উল্লেখ করে মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী এক সপ্তাহে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ টিকাদানও শেষ হয়েছে।

    টিকা হাতে পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ মে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আমরা তা ১৪ দিন এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকেই শুরু করেছি।

    হাম প্রতিরোধে গত ছয়টা বছর শিশুদের কোনো টিকা দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকাদান শুরু করেছি। ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আমেরিকা যৌথভাবে যদি সাহায্য না করত, তাহলে দেশের এই চিত্র আজ ভিন্নরকম হতে পারত। হয়তো আরও অনেক বেশি ক্ষতি হতো।

    ওষুধ হস্তান্তরের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর করা হয়েছে। যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।

    এর আগে, এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জন্য জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধের ওষুধ হস্তান্তর করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে এ সময় সারাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলে ধরেন তিনি।

    বি/ এ

  • বরিশালে হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর  মৃত্যু

    বরিশালে হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু

    নিউজ ডেস্ক : বরিশালে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত দুই দিনে মোট চারজন এবং চলতি মৌসুমে বিভাগজুড়ে ১৪ শিশুর মৃত্যু হলো। শুক্রবার সকালে বরিশাল শেরে ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মুশিউল মুনির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃত শিশুরা হলো—সাদিয়া (২), বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজীবের মেয়ে এবং রাকিব (৯ মাস), বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৮ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শুক্রবার ভোরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। সাদিয়ার মৃত্যু হয় ভোর পৌনে ৪টায় এবং রাকিবের মৃত্যু হয় ভোর পৌনে ৫টায়।

    হাসপাতাল পরিচালক জানান, এ নিয়ে শুধুমাত্র এই হাসপাতালেই হাম উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বর্তমানে হাসপাতালে ৯২ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩১ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    এ পর্যন্ত বরিশাল শেরে ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ৩৪১ জন হাম উপসর্গের রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    আর আই খান

  • মারা যাওয়ার ২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি

    মারা যাওয়ার ২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি

    নিউজ ডেস্ক

    রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে একজনের পরীক্ষার পর হাম শনাক্ত করা গেছে। বাকি ২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।

    সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ বছর হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে পজিটিভ আছে একজন। বাকি ২৯ জনের নমুনা টেস্ট করে হাম পজিটিভ পাওয়া যায়নি।

    অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেন, আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত কর্নার এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুটি ওয়ার্ডের কর্নারে আলাদা করে আইসোলেশন করে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রোগী বাড়লে আমার সেটি দেখব।

    আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটি চিকিৎসকদের জন্য উদ্বেগজনক। তবে এক বছরের ওপরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুবই কম।

    রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান, ১ হাজার ২শ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • রায়পুরায় ২০০ এতিম শিক্ষার্থী পেলো খাদ্যসামগ্রী

    রায়পুরায় ২০০ এতিম শিক্ষার্থী পেলো খাদ্যসামগ্রী

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    রমজান মাসের পবিত্রতা ও মানবিক চেতনা সামনে রেখে তুরস্কের জনগণের পক্ষ থেকে নরসিংদীর রায়পুরায় ২০০ জন এতিম শিক্ষার্থীর মাঝে রমজানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার অরফান লাভ ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় এই খাদ্য উপহার দেওয়া হয়।

    রায়পুরা উপজেলার সিরাজনগর উম্মুলকুরা মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফুড প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত ছিল চাল, তেল, ডাল, চিনি, ছোলা, আটা, খেজুর ও বিস্কুট।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টার্কিস কো-অপারেশন অ্যান্ড কোর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা) এর ডেপুটি কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর আব্দুলকাদির বায়রাম। তিনি বলেন, এটি তুরস্কের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার একটি ছোট উপহার।

    কর্মসূচির আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান অরফান লাভ ফাউন্ডেশন এর অরফান ডিপার্টমেন্টের প্রধান আমিনুল ইহসান ইসলাম এতিম শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই উদ্যোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    অরফান লাভ ফাউন্ডেশন (www.orphan.love) একটি সরকার অনুমোদিত বেসরকারি অলাভজনক সংস্থা, যা বাংলাদেশের এতিম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করে আসছে।

  • ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্য
    নিউজ ডেস্ক
    পাবনার ফরিদপুরের বড়াল নদে গোসল করতে নেমে তিন্নি খাতুন (১১) ও জোবায়ের আহমেদ (৭) নামে দুই শিশু ডুবে মারা গেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উত্তর থানাপাড়া এলাকার গড়াল নদে ডুবে যায় শিশু দুজন। আর বিকালে নদ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত তিন্নি ওই এলাকার আবু সামা কাউন্সিলরের মেয়ে এবং জোবায়ের একই এলাকার আলমগীর হোসেনেরছেলে। স¤পর্কে দুজন চাচাতো ভাই-বোন।
    স্থানীয়রা জানান, পরিবারের অগোচরে দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে বড়াল নদে গোসল করতে নামে তিন্নি ও জোবায়ের। সাঁতার না জানার কারণে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    বিকেলে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গোপালনগর সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন্নি ও জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফরিদপুর থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
    এ/আর