ক্যাটাগরি চট্টগ্রাম বিভাগ

  • বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

    বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

     

    কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম আকাশে রহস্যময় দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি ভারতের পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) দৃশ্য হতে পারে।

    শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এই বিরল আলোর রেখা দেখা যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে দীর্ঘ আলোর মতো একটি রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয়রা অবাক হয়ে যান।

    সৈকতে উপস্থিত আব্দুর রহিম বলেন, “হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। দেখতে অনেকটা ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মিসাইলের মতো।’’

    অন্য পর্যটক সাইফুর রহিম বলেন, “পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে এমন দৃশ্য দেখব ভাবিনি। তবে বিষয়টি বেশ অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় লেগেছে।”

    তবে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের এক আবহাওয়াবিদ জানান, এটি কোনো আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক ঘটনা নয়।

    এদিকে একটি বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, ভারত পূর্বেই বঙ্গোপসাগরে তাদের সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়ে রেখেছিল। সূত্র অনুযায়ী, ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

    গোয়েন্দা সূত্রটি আরও জানায়, “আমরা বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছি।” তবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষার জন্য ‘নোটাম’ (Notice to Airmen) জারি করা হয়েছিল। এতে ওড়িশার ড. এ পি জে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমায় বিধিনিষেধ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, এই দ্বীপ থেকেই ভারত নিয়মিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকে বলে জানা গেছে।

    বি/ এ

  • মনজুর আলমকে টানতে পারল না এনসিপি, দুদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    ডেক্স নিউজ : চট্টগ্রামে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমকে শেষপর্যন্ত  টানতে পারল না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাকে নগর শাখার আহ্বায়ক করা এবং পরবর্তীতে দলের পক্ষ থেকে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

    এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি স্বয়ং চট্টগ্রাম এসে তার বাসভবনে গিয়ে এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার ওপর ভরসা করে এনসিপি চট্টগ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বৃহস্পতিবার।

    চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে থেকেই মনজুর আলমের সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাদের বিরক্তির যন্ত্রণায় মনজুর আলম প্রথমে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকেন। একপর্যায়ে উত্তর কাট্টলীর বাসা থেকেই তিনি সরে যান। পরে পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার লোকজন বাসায় গিয়েও মনজুর আলমকে খুঁজে পাননি এবং তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি।

    শেষপর্যন্ত মনজুর আলমকে ছাড়াই এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। কেবল মনজুর আলমই নন; ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত বা অন্য কোনো দলের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতাকর্মীকেও যোগ দিতে দেখা যায়নি।

    বেশ কিছু লোককে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হলেও এদের কেউই পরিচিত মুখ নন। ফলে চট্টগ্রামে এনসিপির এই যোগদান অনুষ্ঠানটিই এক ধরনের হতাশায় ভরা ও ফ্লপ ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

    শুক্রবার বিকালেও মনজুর আলমের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করেন এই প্রতিবেদক। তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার পরিবারের একজন সদস্য জানান, মনজুর আলম এনসিপির বিরক্তির যন্ত্রণায় ফোন বন্ধ রেখেছেন। বাসা থেকেও সরেছিলেন। ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তো কেউ কাউকে কোনো দলে ভেড়াতে পারেন না।

    আরেকটি পক্ষ মনজুর আলমকে এনসিপিতে ঠেলে দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান বলেও দাবি করেন মনজুর পরিবারের ওই সদস্য।

    এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি গত পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) এম মনজুর আলমের উত্তর কাট্টলীর বাসভবনে এসেছিলেন। তাকে এনসিপির নগর কমিটির আহ্বায়ক হওয়া এবং সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে তাকে মেয়র পদে মনোনয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়; কিন্তু ওই প্রস্তাবে তিনি তখনও রাজি হননি। যদিও দুইপক্ষই হাসনাত আবদুল্লাহর ওই সফরকে ব্যক্তিগত সফর এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেন তখন; কিন্তু সেই সফরটি যে রাজনৈতিক এবং মনজুরকে দলে টানা সংক্রান্ত ছিল- সেটি এখন এসে অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে।

    ওই সময় মনজুর আলমের বাসায় এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন হাসনাত আবদুল্লাহ। ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ফ্যাসিস্টের পৃষ্ঠপোষক’ মনজুর আলমের বাসায় এসে হাসনাত আবদুল্লাহ জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করছেন বলে অভিযোগ তোলেন তারা।

    পরে বিএনপির অপর একটি পক্ষ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বিমানবন্দরে পৌঁছার ব্যবস্থা করে দেন। স্বয়ং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনও মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহর গমন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘সংসদে বড় বড় কথা বললেও হাসনাতরা ফ্যাসিস্টদেরই পৃষ্ঠপোষকতা করছেন’ বলে মন্তব্য করেন মেয়র শাহাদাত।

    সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠান’ এর আয়োজন করে সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। এ অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে থেকেই মনজুর আলমের সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে নানাভাবে যোগাযোগ করা হয়। মনজুর আলম ফোন বন্ধ করে দিলে তার আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

    কেবল এনসিপি নয়; যোগদান অনুষ্ঠানের একদিন আগে পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও তাকে হন্যে হয়ে বাসা-বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন। মূলত তাকে এনসিপির অনুষ্ঠানে উপস্থিত করানো এবং এনসিপিতে যোগ দেওয়ানোর জন্যই এমন তৎপরতা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    মনজুর আলম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগের এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শিষ্য ও অনুসারী ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড থেকে তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর আনুকূল্যে বহুবার প্যানেল মেয়র ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন ওয়ান ইলেভেনের প্রায় দুই বছর। ওয়ান ইলেভেনে মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হওয়ার পর তার পরিবারের সঙ্গে মনজুর আলমের দূরত্ব তৈরি হয়। সেই দূরত্বের সুযোগ নেয় বিএনপি।

    ২০১০ সালে বিএনপির দুঃসময়ে প্রার্থী সংকটের মুহূর্তে মনজুর আলমকে বেছে নেওয়া হয়। বিএনিপর প্রয়াত মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান ও বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাকে টেনে নেন এবং বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    বিএনপির মনোনয়নে মনজুর আলম তার গুরু মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। এর পর স্বতন্ত্র থেকে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে  দুইবার এমপি নির্বাচন করেন মনজুর আলম। তবে দুটি নির্বাচনেই তিনি হেরে যান।

    ৫ আগস্টের পর এনসিপির ইফতার মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্পন্সর করেন মনজুর আলম। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সীতাকুণ্ডে বিএনপি প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপির বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সরব ছিলেন।  ক্ষমতা বা কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও সবসময় আলোচনায় ছিলেন মনজুর আলম।

    চট্টগ্রামের আদি ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হিসেবে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম না থাকলেও পারিবারিক বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন তিনি। তার মতো একজন আলোচিত ও ধনাঢ্য ব্যক্তিকে দলে টেনে নিয়ে চমক দেখাবে এনসিপি- এমন ইচ্ছা বা আশা ছিল। সেই লক্ষ্যে তাকে অনুষ্ঠানে হাজির করাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছে এনসিপি।

    কিন্তু সেই ‘আশায় গুঁড়েবালি’ দিয়ে মনজুর আলম যোগদান অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে থেকে নিজেকেই আড়াল করে ফেলেন। তার এই অঘোষিত প্রস্থান আবারও আলোচনার জন্ম দেয়।

    তবে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়কারী ও মিডিয়া সেলের প্রধান রিদুয়ান হৃদয় বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম এনসিপিতে যোগদান করবেন বা করার কথা ছিল- এমন কোনো খবর আমার জানা নেই। তিনি যোগদান না করায় আমরা হতাশও নই।তবে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এনসিপিতে যোগদান করেছেন। এদের মধ্যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূসের একজন কাজিনও রয়েছেন। ড. মালেকা আফরোজ নামে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও যোগ দিয়েছেন। এছাড়া লাভ বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মী যোগদান করেছেন। আমাদের অনুষ্ঠান সফল হয়েছে।

    A M

  • চান্দিনায় নারী উদ্যোক্তাকে শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণ, আটক ২

    চান্দিনায় নারী উদ্যোক্তাকে শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণ, আটক ২

    বিডিডেস্ক নিউজ,

    বেশ কিছুদিন ধরে রুবেল ও জামাল তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্তসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কুমিল্লার চান্দিনায় এক নারী উদ্যোক্তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে মোবাইলফোনে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৮ মে) ভোরে চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

    আটকরা হলেন— চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল বাজার সংলগ্ন এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে গাড়ি চালক মো: রুবেল (২৮) ও একই এলাকার মরহুম ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো: জামাল (৪০)।

    ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তিনি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে পার্লারের কাজ শিখে মহিচাইল বাজারে পার্লারের ব্যবসা করছেন। বেশ কিছুদিন ধরে রুবেল ও জামাল তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্তসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

    তাতেও ওই নারী কর্ণপাত না করায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে তারা ওই নারী উদ্যোক্তার বিউটি পার্লারে গিয়ে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে এবং শ্লীলতাহানির ভিডিও মোবাইলফোনে ধারণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারী পুলিশের জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।

    চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আমরা মামলা গ্রহণ করে বিশেষ অভিযানে পর্ণোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও মর্যাদাহানির জন্য ভীতি প্রদর্শনসহ যৌন নিপীড়নের অপরাধে তাদের আটক করি। এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ,আর

  • মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক

    মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর সদস্যরা মহেশখালী থানার ধলঘাটা নাছিরডেল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

    শুক্রবার (৮ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর সদস্যরা মহেশখালী থানার ধলঘাটা নাছিরডেল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৯টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন মহেশখালী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে ফজল কাদের বাহিনীর চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা মহেশখালী থানার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফজল কাদের বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল।

    জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এ,আর

  • চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে

    চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরেরচৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলেই সড়কের বুকে খানা-খন্দে জমে হাঁটু পানি। কাঁদা পানিতে পথচারীদের চলাফেরায় ব্যাপক সমস্যা হয়। ফলে, জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। যশোরের চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলেই সড়কের বুকে খানা-খন্দে জমে হাঁটু পানি। কাঁদা পানিতে পথচারীদের চলাফেরায় ব্যাপক সমস্যা হয়। ফলে, জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

    জানা যায়, ২০০৪ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে চৌগাছা শহরকে পৌরসভায় উন্নিত করা হয়। নতুন হলেও খুব দ্রুত পৌরসভার সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২২ সালের পর থেকে এ শহরের সড়কসহ সকল উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে অন্তবর্তী সরকারের সময় ও পৌরসভার সকল উন্নয়ন কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের মেয়াদ কয়েক মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত পৌরসভার উন্নয়ন কাজে কোনো গতি আসেনি।

    চৌগাছা পৌরসভায় মূলত চারটি বড় ও ব্যস্ত সড়ক রয়েছে। এ সড়ক গুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এগুলো হলো চৌগাছা কোটচাঁদপুর সড়ক, চৌগাছা মহেশপুর সড়ক, চৌগাছা শার্শা সড়ক ও চৌগাছা ঝিকরগাছা সড়ক। এ সব সড়কের পৌরসভার বাইরের অংশটুকু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সংস্কার করলেও পৌরসভার অংশটুকু চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন আর প্রতিদিন ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

    পৌরবাসী সড়ক সংস্কারের দাবি নিয়ে পৌরকর্তৃপক্ষের নিকট বার বার ধর্ণা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। এ চারটি সড়ক ছাড়াও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সড়ক, বেড়বাড়ি পাঁচনামনা সড়ক, বাকপাড়া সড়ক, বিশ্বাসপাড়া সড়ক, কারিগর পাড়া সড়কসহ পৌর এলাকার প্রায় ৯৫ শতাংশ সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক।

    পৌর শহরের বাসিন্দা পাশাপোল কলেজের ইংরেজী প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন, ‘পৌর শহরের রাস্তাঘাটের এই বেহাল অবস্থার কারণে পৌরবাসীর চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছোট-বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।’

    স্থানীয় সাংবাদিক এম এ মান্নান বলেন, ‘এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে অনেক রিপোর্ট করা হয়েছে, যেখানে পৌরবাসীর ক্ষোভ ও অসুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, ‘পৌরসভার রাস্তাগুলো নিয়ে আমরা খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। কি কারণে এসব রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। আমার বাসায় যাওয়ার রাস্তাটাও একেবারে ভেঙেচুরে গেছে।

    উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, ‘পৌরসভার সড়কগুলো চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে গেছে। আমাদের দাবি অতি দ্রুত সড়কগুলো মেরামত করা হোক।’

    পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার বলেন, ‘চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলো

    কোন সময়ই এত খারাপ ছিল না বর্তমানে পৌরবাসী চলাচলে চরম সমস্যার মধ্যে আছে। রাস্তাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার হওয়া দরকার।’

    সাবেক প্যানেল মেয়র মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস বলেন, ‘চৌগাছা পৌরসভায় এখন নির্বাচিত মেয়র না থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। যেকারণে রাস্তাঘাটসহ কোনো সেক্টরই ঠিকঠাকমতো চলছে না।’

    তিনি অতিদ্রুত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানান।

    এ ব্যাপারে চৌগাছা পৌরসভার প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, পৌর প্রশাসক মহোদয় দীর্ঘদিন যাবত না থাকায় আমরা কোনো কাজ করতে পারছি না। সম্প্রতি প্রশাসক যোগদান করেছেন এবার রাস্তাগুলো সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌরসভার নয়া প্রশাসক জি এম এ মুনীব বলেন, ‘আমি সবেমাত্র এ উপজেলায় যোগদান করেছি। আশা করছি পর্যায়ক্রমে অতিদ্রুত পৌর শহরের সড়কসহ সকল উন্নয় কাজ শুরু করা হবে।’

    সকল উন্নয়ন কাজে পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এ, আর

  • নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে (এসআই) চোরাকারবারির ঘুষ নিয়ে দর-কষাকষির দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১০টার পর অডিও দুটি ফাঁস হয়। পরে রাতেই অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

    জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া অডিও আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিপুল ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর এলাকার মো. নাছিম (২৩) ও তাঁর সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে ওই দুই যুবক ও মূল হোতা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ (৩৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফ ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’ এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন ওসি।

    এআর/এনআর

  • সরকারি জমিতে দেশের প্রথম পিপিপি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে ফেনীতে

    সরকারি জমিতে দেশের প্রথম পিপিপি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে ফেনীতে

    বিডিডেস্ক নিউজ,

    গাইডলাইন অনুযায়ী, সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ‘কন্ট্র্যাক্টিং অথরিটি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, জমির মালিক সংস্থা হিসেবে থাকবে বেজা। চট্টগ্রামের মীরসরাই ও ফেনী অঞ্চলে গড়ে ওঠা জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরকারি জমিতে দেশের প্রথম পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এ লক্ষ্যে বেজা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে আজ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বেজার নির্বাহী বোর্ডের সচিব ও সরকারের যুগ্ম সচিব ড. জুলিয়া মঈন এবং বিপিডিবির সচিব আফরোজা সুলতানা।

    বেজা বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে বেজার মালিকানাধীন প্রায় ৪১২ একর জমিতে এই বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকারি অব্যবহৃত জমিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটিকে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ‘গাইডলাইনস ফর ডেভেলপমেন্ট অব রিনিউএবল এনার্জি প্রজেক্টস ইউজিং ল্যান্ড ওনড বাই গভর্নমেন্ট এজেন্সিজ আন্ডার পিপিপি মডালিটি, ২০২৬’-এর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। গত ৭ এপ্রিল নতুন এ গাইডলাইন অনুমোদন দেয় সরকার।

    এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। পরে চলতি বছরের ২ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ফেনীর সোনাগাজীতে বেজার জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটিকে নতুন গাইডলাইনের আওতায় একটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    গাইডলাইন অনুযায়ী, সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ‘কন্ট্র্যাক্টিং অথরিটি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, জমির মালিক সংস্থা হিসেবে থাকবে বেজা।

    বেজার মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। একইসাথে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাবনা, বিনিয়োগ আগ্রহ ও অংশীদারত্বের সুযোগ নিয়ে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে শিগগিরই একটি ‘মার্কেট সাউন্ডিং’ কর্মশালা আয়োজন করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বেজা, বিপিডিবি ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
    এ,আর
  • কাঁচা তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে, পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

    কাঁচা তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে, পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

    নিউজ ডেস্কঃ

    কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর এক লাখ টন কাঁচা তেলবাহী একটি জাহাজ বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, ফলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পূর্ণ উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।‘

    এমটি নাইনেমিয়া’ নামের জাহাজটি বুধবার দুপুরে বন্দরে ভিড়ে।

    ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শরীফ হাসনাত বলেন, ‘আজ দুপুরে জাহাজটি বন্দরে এসেছে। আনলোডিং শেষ হলে আমরা পরিশোধন কার্যক্রম শুরু করে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করব।’

    ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, আনলোডিং প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী ৮ বা ৯ মে’র মধ্যে রিফাইনারিটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে জাহাজ চলাচলের সূচি ব্যাহত হওয়ায় রিফাইনারিটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    নির্ধারিত জাহাজগুলো না আসায় কাঁচা তেলের মজুত দ্রুত কমে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রথমে উৎপাদন কমাতে এবং পরে পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, চালানটি মূলত সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে সঙ্ঘাতজনিত ঝুঁকির কারণে জাহাজটি ২৪ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়।

    বিকল্প এই রুট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    চালানটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় এক হাজার ৮৪ কোটি টাকা), যেখানে প্রতি ব্যারেলের দাম ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার। পাশাপাশি লজিস্টিক পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

    দেশীয় জ্বালানি বাজারের জন্য রিফাইনারিটির পুনরায় চালু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাঁচা তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির মাধ্যমে ইআরএল দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে।অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

    এম কে

  • বরিশালে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি

    বরিশালে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    ‘অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ছয় দিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বরিশাল বিভাগের কৃষি খাতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। অতি বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে এক লক্ষাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মুগডাল চাষিরা।বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে বিভাগের প্রায় ১৯ লাখ ২২২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এতে এক লাখ ৮৫৯ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    প্রচণ্ড বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাতাসে নুয়ে পড়েছে ৭৫ হাজার ৬১১ হেক্টর জমির ধান। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চার হাজার ৪৬৩ জন কৃষক। একইভাবে ৭৬ হাজার ৬৮৯ হেক্টর জমির মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন ৫৭ হাজার ৮৬৪ জন কৃষক।

    এছাড়া ৭৯০ হেক্টর জমির মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন চার হাজার ৫৭৪ জন কৃষক। ১০ হাজার ৫৯৪ হেক্টর জমির চীনা বাদাম নষ্ট হয়ে ছয় হাজার ৬০৬ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চার হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমির সয়াবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিন হাজার ৩৬৬ জন কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

    গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিন হাজার ১৯৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে ১৭ হাজার ২৩২ জন কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    এছাড়া আউশ বীজতলা, রোপা আউশ ধান, পাট, পেঁপে, কলা, পান, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, তিল ও সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। যে আশা নিয়ে চাষ করেছিলাম, তা এখন পানিতে ভেসে গেছে।

    বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের কৃষক রিয়াজ বলেন, ধান কাটার সময়ের আগেই ক্ষেত ডুবে গেছে। এখন আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন অনেক কমে যাবে।

    নবগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক ইউসুফ মোল্লা বলেন, ছয় দিনের বৃষ্টি আর বাতাসে বোরো ধান একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। নুয়ে পড়া ধান পরিপক্ক হওয়ার আগেই কাটতে হচ্ছে, এতে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

    বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে বিভাগে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

    এদিকে কৃষি খাতের এই ব্যাপক ক্ষতির কারণে খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও প্রণোদনা না দিলে আগামী মৌসুমে চাষাবাদে আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এ,আর

  • বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্ত্রীকে উদ্ধার করা স্বামীরই একই কারণে মৃত্যু

    বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্ত্রীকে উদ্ধার করা স্বামীরই একই কারণে মৃত্যু

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসায় ডিস লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইসমাইল হোসেন (৩২) নামের এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে।  তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।  এর কিছুক্ষণ আগে একইভাবে তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার আহত হন।

    সোমবার (৪ মে) রাত ৮টার দিকে পৌর এলাকার সেনেরখীল মোল্লা কোনায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন আবদুল হক নামে তাদের এক প্রতিবেশী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসমাইল তার স্ত্রী রাবেয়া ও সন্তানদের নিয়ে সেনেরখীল গ্রামের মোল্লা কোনায় আবুল হাশেমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সোমবার সন্ধ্যায় রাবেয়া ডিস লাইন মেরামত করছিলেন। এ সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তাৎক্ষণিক ইসমাইল তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

    এর কিছুক্ষণ পর ইসমাইল ওই ডিস লাইনটি মেরামতের কাজ শুরু করেন। এ সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    মঙ্গলবার দুপুরে  জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    এ ,আর