ক্যাটাগরি চাঁদপুর

Chandpur district

  • চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে

    চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরেরচৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলেই সড়কের বুকে খানা-খন্দে জমে হাঁটু পানি। কাঁদা পানিতে পথচারীদের চলাফেরায় ব্যাপক সমস্যা হয়। ফলে, জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। যশোরের চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলেই সড়কের বুকে খানা-খন্দে জমে হাঁটু পানি। কাঁদা পানিতে পথচারীদের চলাফেরায় ব্যাপক সমস্যা হয়। ফলে, জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

    জানা যায়, ২০০৪ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে চৌগাছা শহরকে পৌরসভায় উন্নিত করা হয়। নতুন হলেও খুব দ্রুত পৌরসভার সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২২ সালের পর থেকে এ শহরের সড়কসহ সকল উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে অন্তবর্তী সরকারের সময় ও পৌরসভার সকল উন্নয়ন কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের মেয়াদ কয়েক মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত পৌরসভার উন্নয়ন কাজে কোনো গতি আসেনি।

    চৌগাছা পৌরসভায় মূলত চারটি বড় ও ব্যস্ত সড়ক রয়েছে। এ সড়ক গুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এগুলো হলো চৌগাছা কোটচাঁদপুর সড়ক, চৌগাছা মহেশপুর সড়ক, চৌগাছা শার্শা সড়ক ও চৌগাছা ঝিকরগাছা সড়ক। এ সব সড়কের পৌরসভার বাইরের অংশটুকু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সংস্কার করলেও পৌরসভার অংশটুকু চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন আর প্রতিদিন ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

    পৌরবাসী সড়ক সংস্কারের দাবি নিয়ে পৌরকর্তৃপক্ষের নিকট বার বার ধর্ণা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। এ চারটি সড়ক ছাড়াও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সড়ক, বেড়বাড়ি পাঁচনামনা সড়ক, বাকপাড়া সড়ক, বিশ্বাসপাড়া সড়ক, কারিগর পাড়া সড়কসহ পৌর এলাকার প্রায় ৯৫ শতাংশ সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক।

    পৌর শহরের বাসিন্দা পাশাপোল কলেজের ইংরেজী প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন, ‘পৌর শহরের রাস্তাঘাটের এই বেহাল অবস্থার কারণে পৌরবাসীর চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছোট-বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।’

    স্থানীয় সাংবাদিক এম এ মান্নান বলেন, ‘এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে অনেক রিপোর্ট করা হয়েছে, যেখানে পৌরবাসীর ক্ষোভ ও অসুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, ‘পৌরসভার রাস্তাগুলো নিয়ে আমরা খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। কি কারণে এসব রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। আমার বাসায় যাওয়ার রাস্তাটাও একেবারে ভেঙেচুরে গেছে।

    উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, ‘পৌরসভার সড়কগুলো চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে গেছে। আমাদের দাবি অতি দ্রুত সড়কগুলো মেরামত করা হোক।’

    পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার বলেন, ‘চৌগাছা পৌরসভার সড়কগুলো

    কোন সময়ই এত খারাপ ছিল না বর্তমানে পৌরবাসী চলাচলে চরম সমস্যার মধ্যে আছে। রাস্তাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার হওয়া দরকার।’

    সাবেক প্যানেল মেয়র মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস বলেন, ‘চৌগাছা পৌরসভায় এখন নির্বাচিত মেয়র না থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। যেকারণে রাস্তাঘাটসহ কোনো সেক্টরই ঠিকঠাকমতো চলছে না।’

    তিনি অতিদ্রুত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানান।

    এ ব্যাপারে চৌগাছা পৌরসভার প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, পৌর প্রশাসক মহোদয় দীর্ঘদিন যাবত না থাকায় আমরা কোনো কাজ করতে পারছি না। সম্প্রতি প্রশাসক যোগদান করেছেন এবার রাস্তাগুলো সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌরসভার নয়া প্রশাসক জি এম এ মুনীব বলেন, ‘আমি সবেমাত্র এ উপজেলায় যোগদান করেছি। আশা করছি পর্যায়ক্রমে অতিদ্রুত পৌর শহরের সড়কসহ সকল উন্নয় কাজ শুরু করা হবে।’

    সকল উন্নয়ন কাজে পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এ, আর

  • বরিশালে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি

    বরিশালে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    ‘অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ছয় দিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বরিশাল বিভাগের কৃষি খাতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। অতি বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে এক লক্ষাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মুগডাল চাষিরা।বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে বিভাগের প্রায় ১৯ লাখ ২২২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এতে এক লাখ ৮৫৯ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    প্রচণ্ড বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাতাসে নুয়ে পড়েছে ৭৫ হাজার ৬১১ হেক্টর জমির ধান। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চার হাজার ৪৬৩ জন কৃষক। একইভাবে ৭৬ হাজার ৬৮৯ হেক্টর জমির মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন ৫৭ হাজার ৮৬৪ জন কৃষক।

    এছাড়া ৭৯০ হেক্টর জমির মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন চার হাজার ৫৭৪ জন কৃষক। ১০ হাজার ৫৯৪ হেক্টর জমির চীনা বাদাম নষ্ট হয়ে ছয় হাজার ৬০৬ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চার হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমির সয়াবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিন হাজার ৩৬৬ জন কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

    গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিন হাজার ১৯৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে ১৭ হাজার ২৩২ জন কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    এছাড়া আউশ বীজতলা, রোপা আউশ ধান, পাট, পেঁপে, কলা, পান, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, তিল ও সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। যে আশা নিয়ে চাষ করেছিলাম, তা এখন পানিতে ভেসে গেছে।

    বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের কৃষক রিয়াজ বলেন, ধান কাটার সময়ের আগেই ক্ষেত ডুবে গেছে। এখন আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন অনেক কমে যাবে।

    নবগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক ইউসুফ মোল্লা বলেন, ছয় দিনের বৃষ্টি আর বাতাসে বোরো ধান একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। নুয়ে পড়া ধান পরিপক্ক হওয়ার আগেই কাটতে হচ্ছে, এতে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

    বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে বিভাগে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

    এদিকে কৃষি খাতের এই ব্যাপক ক্ষতির কারণে খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও প্রণোদনা না দিলে আগামী মৌসুমে চাষাবাদে আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এ,আর

  • শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে দেশের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি নতুন ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যামান ৩০০টি ক্লাসরুমের মৌলিক সংস্কার, রেকর্ডিং রুম, মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি) কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছর থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক ধাপগুলো দ্রুততার সাথে শেষ করার কাজ চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল  বলেন, ‘দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীন সরকার ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনা অনুদানে নির্বাচিত সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা
    হয়েছে। নির্বাচিত স্কুলের ক্লাসরুমে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিশ্বমানের সব ধরনের সুবিধা থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছর থেকে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা রয়েছে।’

    মাউশির প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ (আইইপি) সরবরাহ করা হবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্লাসরুমগুলোতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা। এর ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে সংরক্ষিত হবে; ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা তা দেখার সুযোগ পাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে মুহূর্তেই ক্লাসের নোট ও কোর্সওয়্যার সংগ্রহ করতে পারবে।

    দেশের শিক্ষা খাতের ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন।

    তিনি  বলেন, ‘চীন সরকারের অনুদানে প্রস্তাবিত ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে একটি অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। ডাটা সেন্টারের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) পত্র দিয়েছি।’

    তিনি আরও জানান, ডাটা সেন্টারের জন্য জায়গা চূড়ান্ত হলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে। প্রকল্পটি ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করা যাবে।

    প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি মাল্টিমিডিয়া স্মার্ট ক্লাসরুম ছাড়াও ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি সরকারি শিক্ষা দপ্তরের জন্য বিশেষ মিটিং রুম স্থাপন করা হবে। মাউশি প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক নেটওয়ার্কিং ও ক্লাউড বেইজড ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে, যা সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করবে।

    প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের গবেষণা ও উদ্ভাবন শাখার গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম  বলেন, ‘প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয় শেষে এখন চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। এরপর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা টিএপিপি তৈরির কাজ শুরু করা হবে। এটি বাংলাদেশ সরকার এবং চীনা পক্ষ যৌথভাবে প্রণয়ন করবে।’

    সিফাতুল ইসলাম আরও জানান, টিএপিপি প্রণয়নের পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখানে পিইসি (প্রজেক্ট ইভালুয়েশন কমিটি) সভায় অনুমোদিত হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু করবে।

    এর আগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চীন সরকার একটি বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আর এ বিষয়ে সার্বিক তদারকি করে বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ ছাড়াও মাউশি থেকে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই তদারকির জন্য একজন কন্টাক্ট পারসন মনোনীত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের সাথে চীনা পর্যবেক্ষক দলের প্রাথমিক কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়।

    এদিকে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে বগুড়ার বেতগাড়ী মীর শাহ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে হুয়াওয়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চাঁদপুর সফর করেছেন বলে জানিয়েছেন গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (পরিকল্পনা) তানজিনা শাহরীন বলেন, ‘আগামী অর্থবছর অর্থাৎ জুলাই থেকেই এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির এই সংযোজন প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর শিক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে উৎসাহিত করবে, যা ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

    বি/ এ

  • তরুণ প্রজন্মই নতুন বিশ্ব দেখাবে; শিক্ষামন্ত্রী

    তরুণ প্রজন্মই নতুন বিশ্ব দেখাবে; শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমরা চাই বছরজুড়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা ও পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকুক। এর ফলে তাদের মেধা ও মননের সংস্কার হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নতুন জাতি হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে আমাদেরকে তুলে ধরবে এই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে।

    শনিবার (২ মে) বিকেলে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে এভাবে সারা দেশে অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন। সেখান থেকে অনেক প্রতিভা বের হয়ে আসছিল। তারই জ্যেষ্ঠপুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে মেধাবীদের খুঁজে বের করছেন। বিশ্বের খেলাধুলার ন্যায্য হিস্যা আমরা পাইনি। সে জায়গায় যেন আগামী দিনে আমাদের হিস্যা বুঝে পাই, আমাদের সন্তানেরা যাতে বিশ্বের মানের খেলাধুলায় অংশ নিতে পারে, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে তিনি এই অনুষ্ঠান শুরু করেছেন।তিনি বলেন, আমরা দেখেছি বিগত দিনে সামাজিকভাবে আমাদের তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয় ঘটেছিল। তারা মাদকাসক্ত হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা

    অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) নাজমুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান ও চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হক।

    বক্তব্য শেষে মন্ত্রী বেলুন উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বি / এ

  • চৌগাছায় মাদক সেবন করায় চারজনের জেল-জরিমানা

    চৌগাছায় মাদক সেবন করায় চারজনের জেল-জরিমানা

    চৌগাছা প্রতিনিধি :

    যশোরের চৌগাছায় মাদক সেবনের অপরাধে চারজনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে প্রত্যেককে ১শ’ টাকা করে জরিমানা করে আদায় করা হয় এবং ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

    বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ইসলামের নেতৃত্বে শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চৌগাছা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড চাঁদপুর গ্রামের মুনতাজ আলীর ছেলে মোমিনুর রহমান, দাউদ আলীর ছেলে ইজাজুল ইসলাম, ইউসুফ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম এবং সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম।

    নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম জানান, গাঁজা সেবনের অপরাধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮/ ৩৬(১) এর ৫ উপধারা মোতাবেক ৪ জনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই অপরাধে তাদের কাছ থেকে ১শ’ টাকা করে ৪শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।

  • নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

    নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

    ডেস্ক নিউজ:

    চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল মোবিন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

    বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল মোবিন।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    ডা. আব্দুল মোবিন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মাঠে নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ী যাদের ভাবনায় আমি শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক তাদের সবার জন্য সশ্রদ্ধ সালাম, কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা। মতলবের মাটি ও মানুষ তার সন্তানের প্রতি যা কিছু উজাড় করে দিল তা জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।’

    তিনি বলেন, নমিনেশন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে জানিয়েছে। আমি শপথের কর্মী। আমার কাছে দ্বিতীয় কিছু নেই। মতলব তথা দেশকে দেওয়ার ক্ষুধা আছে। যখনই যে পরিসরে যতটুকু সুযোগ আল্লাহ দান করেন মতলববাসীর সঙ্গে থাকব।

    জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর পর চাঁদপুর-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এলডিপির (ছাতা প্রতীক) মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীকে মনোনীত করা হয়েছে।

    ডা. আব্দুল মোবিন বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।

    জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী (এলডিপি) বলেন, ১০ দলীয় জোট থেকে আমাকে চাঁদপুর-২ আসনে মনোনীত করছেন। সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

  • শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি রক্ষায় অভিযান

    শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি রক্ষায় অভিযান

    ডেস্ক নিউজ:

    চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি কাটায় মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। স্থানীয় অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রাগৈ এলাকায় অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে আজ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ফসলি জমি নষ্ট করে গভীরভাবে মাটি কাটায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

    উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার স্থান পরিদর্শন করেন এবং অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ সময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি তল্লাশি করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    অভিযানে শাহরাস্তি থানা পুলিশের একটি টিম এবং উপজেলা আনসার সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।

    স্থানীয়রা জানান, ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি কাটার কারণে কৃষির ক্ষতি হচ্ছিল এবং তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছিল। মোবাইল কোর্টের এ অভিযান তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে বলে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

  • হাইমচরে ৫০ কোটি টাকার পান বিক্রি

    হাইমচরে ৫০ কোটি টাকার পান বিক্রি

    ডেস্ক নিউজঃ

     

    চাঁদপুরের উপকূলীয় উপজেলা হাইমচরের অর্থকরী ফসলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পান। প্রতিবছর এখানকার পান বিক্রি হয় প্রায় ৫০ থেকে ৫২ কোটি টাকায়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই পান সরবরাহ করা হয় পাশের উপজেলা ও জেলার বাজারেও। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগবালাইয়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পানচাষিরা সরকারের কাছ থেকে কখনো কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা পাননি—এমনটাই বলছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

    ভৌগোলিকভাবে হাইমচরবাসী মেঘনা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম দুই পাড়ে বিভক্ত। পূর্বপাড়ের লোকজন মূলত কৃষিকাজ এবং পশ্চিমের চরাঞ্চলের বাসিন্দারা মাছ ধরা ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলে মহানলী, চালতা কোঠা, নল ডোগ, সাচি জাতের পান চাষ করে পরিবার চালাচ্ছেন হাজারো মানুষ। অনেকেই বংশপরম্পরায় যুক্ত এই আবাদে।

    উপজেলা ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীত মৌসুম ছাড়া বছরের বাকি সময়জুড়ে প্রতিদিনই চলে পান সংগ্রহ ও বিক্রি। আগে পানের বাজার ছিল জেলা শহরের বাইরে, এখন হাইমচর উপজেলা সদরের কাছেই গড়ে উঠেছে পানের আড়ত, যেখানে প্রতিদিন চলে পাইকারি বেচাকেনা।

    উত্তর আলগী ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের চাষি ফারুকুল ইসলাম গাজী দেড় একর জমিতে পান চাষ করেন। প্রতিদিন তাঁর বরজে কাজ করেন তিন-চারজন শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। তবে যখন দাম ভালো থাকে, তখন ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে আসে। কিন্তু কোনো দুর্যোগে কখনো সরকারি সহায়তা পাইনি।’

    বরজের একাধিক শ্রমিক জানান, অল্প বয়সেই তাঁরা পান চাষের কাজ শিখেছেন এবং এ কাজ দিয়েই চলে তাঁদের সংসার।

    একই গ্রামের আরেক চাষি মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘আমাদের বাবারা এই বরজ রেখে গেছেন। এখন আমরাই আবাদ করছি। পানে রোগ দেখা দিলে উৎপাদন কমে যায়, শিকড় পচে নষ্ট হয়, আবার নতুন করে শিকড় লাগাতে হয়। কোনো প্রশিক্ষণ পাই না, আগেরদের দেখে কাজ শিখে নিচ্ছি।’

    হাইমচরের পান ব্যাপারী মো. রাসেল দুই দশক ধরে এই ব্যবসায় যুক্ত। তিনি বলেন, ‘হাইমচরের বরজ থেকে পান কিনে স্থানীয় বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করি। বাবুরহাট, মহামায়া, চান্দ্রা বাজারসহ আশপাশের শতাধিক ব্যবসায়ী এ পেশায় যুক্ত।’

    চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্রামের চেরাগ আলী ৩০ বছর ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, ‘প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার আমি বিভিন্ন বাজারে পান বিক্রি করি। হাইমচর থেকে প্রতিবার অর্ধলাখ টাকার পান কিনি। এই ব্যবসার ওপরই আমার সংসার চলে।’

    হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকার জানান, ‘চলতি বছর হাইমচরে ২৩৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় বরজের সংখ্যা ১ হাজার ৭২। প্রতিবছর প্রায় ৫০–৫২ কোটি টাকার পান বিক্রি হয়। দুর্যোগ বা রোগ দেখা দিলে কৃষকদের পাশে থাকি, পরামর্শ দিই। প্রণোদনার প্রয়োজন হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত পান চাষে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।’

  • মেসি হতে চায় চাদপুরের ক্ষুদে বালক

    মেসি হতে চায় চাদপুরের ক্ষুদে বালক

    ডেস্ক নিউজঃ

    পায়ে বল, গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি। বলের ওপর অসম্ভব নিয়ন্ত্রণ। তার পায়ে যখন বল থাকে, মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে থাকেন দর্শকেরা। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই এমন ফুটবল প্রতিভা শিশু সোহানের!

    প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যায় অনেকটা লিওনেল মেসির মতো করে, আর তার রেইনবো ফ্লিক ঠিক নেইমারের মতো। মিনিটের পর মিনিট পায়ের ওপর বল রাখতে পারে যেকোনো তারকা ফুটবলারের মতোই। সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তার ভিডিও যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই বিস্মিত—বড় হয়ে কী হবে এই ছেলে!

    লিওনেল মেসির মতো ফুটবলার হতে চায় খুদে ফুটবলার সোহান। এই বয়সেই তার ফুটবল কসরত এবং মেসির মতো ফুটবলার হতে চাওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, যা নজর এড়ায়নি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও। খুদে সোহানের ফুটবল প্রতিভায় মুগ্ধ তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সোহান ও তার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।

    প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে অনুশীলন করে সোহান। তাকে সাহায্য করেন বাবা সোহেল প্রধানিয়া। পেশায় সাইকেল মেকানিক। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাড়ে পাঁচআনি গ্রামে বসবাস তাঁদের। প্রধানিয়া জানান, তাঁর ছেলের নির্দিষ্ট কোনো কোচ নেই। সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে নিজেই ছেলেকে শেখান ফুটবল খেলার নানান কৌশল। পাস দেওয়া, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া কিংবা রেইনবো ফ্লিক এতই চমৎকার হয় যে তা দেখে মুগ্ধ হয় মানুষ। সোহানের বয়স, বয়স অনুযায়ী খেলার ধরন, সাহস নিয়ে কথা বলা ছড়ায় মুগ্ধতার রেশ। বড় হয়ে বড় ফুটবলার হতে হবে, এমন স্বপ্নের বীজ ছেলের মধ্যে বপন করেছেন সোহেল প্রধানিয়া।

  • একটি সড়কের অপেক্ষায়

    একটি সড়কের অপেক্ষায়

    ডেস্ক নিউজঃ

     

    গ্রামের নাম কাঠালিয়া। চাঁদপুরের কচুয়া ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গ্রামটির অবস্থান। কচুয়া উপজেলার ৫ নম্বর পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ গ্রামে প্রায় এক হাজার ২শ জনসংখ্যা। অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী ও কৃষি শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

    কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৎস্য ব্যবসায়ী মাধব সরকার বলেন, আমার বয়স ৫৮। সেই শৈশব কাল থেকে দেখে আসা যাতায়াতের কষ্ট যেন শেষ হয়নি আজও। শেষ বয়সে এসেও আধুনিক যুগে এমন দুর্বিষহ কষ্ট আমাদের গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

    দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা পায়নি কাঠালিয়া গ্রামের মানুষজন। গ্রামটিতে রাস্তা না থাকার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদেরকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। গ্রামবাসী বর্ষা মৌসুমে কখনও নৌকায়, আবার কখনও হাঁটু বা কোমর পানিতে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে ইরি ক্ষেতের কর্দমাক্ত আইল দিয়ে যাতায়াত করছে।

    ওই গ্রামের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের গ্রামে যাতায়াতের জন্য কোনও রাস্তা না থাকায় সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছি না। এতে পড়ালেখায় আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়।
    দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান তারা।

    কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের গ্রামটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় আমরা অবহেলিত। দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে চলাচলে পথ। একটি পক্ষ আদালতে মামলা করলে সেখানে রাস্তার নির্মাণ কাজ থমকে যায়। আধুনিক যুগেও একরকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদের নাম কাঠালিয়া গ্রাম। অনেকেই জনপ্রতিনিধি হয়ে আসেন কিন্তু আমাদের দুঃখ ও দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, অনেক বছর ধরে ওই গ্রামে রাস্তা নেই। কিছুদিন আগে আমি ওই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের জন্য পরিদর্শন করি। কিন্তু যে স্থানে রাস্তা নির্মাণ করা হবে তার দু পাশে কৃষকের মালিকানা জমি থাকায় এবং মামলা থাকায় রাস্তা নির্মাণে সমস্যা হচ্ছে। তবে মতলব ও কচুয়া জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণে চেষ্টা চলছে।

    উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলিম লিটন বলেন, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের রাস্তা নির্মাণ কাজের বরাদ্দের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কাঠালিয়া গ্রামের রাস্তাটি বরাদ্দের আওতায় বাদ পড়লে তালিকা তৈরি করে পুনরায় পাঠানো হবে।

    উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান শিশির বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি দুবার কাঠালিয়া গ্রাম পরিদর্শন করি। রাস্তা না থাকায় আমি ও আমার সঙ্গের লোকজনকে ওই গ্রামে যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাতে গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪টি সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। কাঠালিয়া গ্রামের মানুষ অনেক কষ্টে যাতায়াত করেন এবং দুর্ভোগ নিরসনের জন্য আমরা জোরালো চেষ্টা করছি।