ক্যাটাগরি চট্টগ্রাম

Chattogram district

  • মনজুর আলমকে টানতে পারল না এনসিপি, দুদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    ডেক্স নিউজ : চট্টগ্রামে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমকে শেষপর্যন্ত  টানতে পারল না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাকে নগর শাখার আহ্বায়ক করা এবং পরবর্তীতে দলের পক্ষ থেকে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

    এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি স্বয়ং চট্টগ্রাম এসে তার বাসভবনে গিয়ে এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার ওপর ভরসা করে এনসিপি চট্টগ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বৃহস্পতিবার।

    চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে থেকেই মনজুর আলমের সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাদের বিরক্তির যন্ত্রণায় মনজুর আলম প্রথমে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকেন। একপর্যায়ে উত্তর কাট্টলীর বাসা থেকেই তিনি সরে যান। পরে পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার লোকজন বাসায় গিয়েও মনজুর আলমকে খুঁজে পাননি এবং তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি।

    শেষপর্যন্ত মনজুর আলমকে ছাড়াই এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। কেবল মনজুর আলমই নন; ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত বা অন্য কোনো দলের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতাকর্মীকেও যোগ দিতে দেখা যায়নি।

    বেশ কিছু লোককে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হলেও এদের কেউই পরিচিত মুখ নন। ফলে চট্টগ্রামে এনসিপির এই যোগদান অনুষ্ঠানটিই এক ধরনের হতাশায় ভরা ও ফ্লপ ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

    শুক্রবার বিকালেও মনজুর আলমের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করেন এই প্রতিবেদক। তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার পরিবারের একজন সদস্য জানান, মনজুর আলম এনসিপির বিরক্তির যন্ত্রণায় ফোন বন্ধ রেখেছেন। বাসা থেকেও সরেছিলেন। ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তো কেউ কাউকে কোনো দলে ভেড়াতে পারেন না।

    আরেকটি পক্ষ মনজুর আলমকে এনসিপিতে ঠেলে দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান বলেও দাবি করেন মনজুর পরিবারের ওই সদস্য।

    এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি গত পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) এম মনজুর আলমের উত্তর কাট্টলীর বাসভবনে এসেছিলেন। তাকে এনসিপির নগর কমিটির আহ্বায়ক হওয়া এবং সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে তাকে মেয়র পদে মনোনয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়; কিন্তু ওই প্রস্তাবে তিনি তখনও রাজি হননি। যদিও দুইপক্ষই হাসনাত আবদুল্লাহর ওই সফরকে ব্যক্তিগত সফর এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেন তখন; কিন্তু সেই সফরটি যে রাজনৈতিক এবং মনজুরকে দলে টানা সংক্রান্ত ছিল- সেটি এখন এসে অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে।

    ওই সময় মনজুর আলমের বাসায় এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন হাসনাত আবদুল্লাহ। ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ফ্যাসিস্টের পৃষ্ঠপোষক’ মনজুর আলমের বাসায় এসে হাসনাত আবদুল্লাহ জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করছেন বলে অভিযোগ তোলেন তারা।

    পরে বিএনপির অপর একটি পক্ষ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বিমানবন্দরে পৌঁছার ব্যবস্থা করে দেন। স্বয়ং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনও মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহর গমন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘সংসদে বড় বড় কথা বললেও হাসনাতরা ফ্যাসিস্টদেরই পৃষ্ঠপোষকতা করছেন’ বলে মন্তব্য করেন মেয়র শাহাদাত।

    সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠান’ এর আয়োজন করে সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। এ অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে থেকেই মনজুর আলমের সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে নানাভাবে যোগাযোগ করা হয়। মনজুর আলম ফোন বন্ধ করে দিলে তার আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

    কেবল এনসিপি নয়; যোগদান অনুষ্ঠানের একদিন আগে পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও তাকে হন্যে হয়ে বাসা-বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন। মূলত তাকে এনসিপির অনুষ্ঠানে উপস্থিত করানো এবং এনসিপিতে যোগ দেওয়ানোর জন্যই এমন তৎপরতা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    মনজুর আলম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগের এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শিষ্য ও অনুসারী ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড থেকে তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর আনুকূল্যে বহুবার প্যানেল মেয়র ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন ওয়ান ইলেভেনের প্রায় দুই বছর। ওয়ান ইলেভেনে মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হওয়ার পর তার পরিবারের সঙ্গে মনজুর আলমের দূরত্ব তৈরি হয়। সেই দূরত্বের সুযোগ নেয় বিএনপি।

    ২০১০ সালে বিএনপির দুঃসময়ে প্রার্থী সংকটের মুহূর্তে মনজুর আলমকে বেছে নেওয়া হয়। বিএনিপর প্রয়াত মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান ও বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাকে টেনে নেন এবং বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    বিএনপির মনোনয়নে মনজুর আলম তার গুরু মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। এর পর স্বতন্ত্র থেকে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে  দুইবার এমপি নির্বাচন করেন মনজুর আলম। তবে দুটি নির্বাচনেই তিনি হেরে যান।

    ৫ আগস্টের পর এনসিপির ইফতার মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্পন্সর করেন মনজুর আলম। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সীতাকুণ্ডে বিএনপি প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপির বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সরব ছিলেন।  ক্ষমতা বা কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও সবসময় আলোচনায় ছিলেন মনজুর আলম।

    চট্টগ্রামের আদি ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হিসেবে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম না থাকলেও পারিবারিক বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন তিনি। তার মতো একজন আলোচিত ও ধনাঢ্য ব্যক্তিকে দলে টেনে নিয়ে চমক দেখাবে এনসিপি- এমন ইচ্ছা বা আশা ছিল। সেই লক্ষ্যে তাকে অনুষ্ঠানে হাজির করাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছে এনসিপি।

    কিন্তু সেই ‘আশায় গুঁড়েবালি’ দিয়ে মনজুর আলম যোগদান অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে থেকে নিজেকেই আড়াল করে ফেলেন। তার এই অঘোষিত প্রস্থান আবারও আলোচনার জন্ম দেয়।

    তবে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়কারী ও মিডিয়া সেলের প্রধান রিদুয়ান হৃদয় বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম এনসিপিতে যোগদান করবেন বা করার কথা ছিল- এমন কোনো খবর আমার জানা নেই। তিনি যোগদান না করায় আমরা হতাশও নই।তবে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এনসিপিতে যোগদান করেছেন। এদের মধ্যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূসের একজন কাজিনও রয়েছেন। ড. মালেকা আফরোজ নামে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও যোগ দিয়েছেন। এছাড়া লাভ বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মী যোগদান করেছেন। আমাদের অনুষ্ঠান সফল হয়েছে।

    A M

  • সরকারি জমিতে দেশের প্রথম পিপিপি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে ফেনীতে

    সরকারি জমিতে দেশের প্রথম পিপিপি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে ফেনীতে

    বিডিডেস্ক নিউজ,

    গাইডলাইন অনুযায়ী, সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ‘কন্ট্র্যাক্টিং অথরিটি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, জমির মালিক সংস্থা হিসেবে থাকবে বেজা। চট্টগ্রামের মীরসরাই ও ফেনী অঞ্চলে গড়ে ওঠা জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরকারি জমিতে দেশের প্রথম পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এ লক্ষ্যে বেজা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে আজ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বেজার নির্বাহী বোর্ডের সচিব ও সরকারের যুগ্ম সচিব ড. জুলিয়া মঈন এবং বিপিডিবির সচিব আফরোজা সুলতানা।

    বেজা বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে বেজার মালিকানাধীন প্রায় ৪১২ একর জমিতে এই বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকারি অব্যবহৃত জমিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটিকে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ‘গাইডলাইনস ফর ডেভেলপমেন্ট অব রিনিউএবল এনার্জি প্রজেক্টস ইউজিং ল্যান্ড ওনড বাই গভর্নমেন্ট এজেন্সিজ আন্ডার পিপিপি মডালিটি, ২০২৬’-এর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। গত ৭ এপ্রিল নতুন এ গাইডলাইন অনুমোদন দেয় সরকার।

    এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। পরে চলতি বছরের ২ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ফেনীর সোনাগাজীতে বেজার জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটিকে নতুন গাইডলাইনের আওতায় একটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    গাইডলাইন অনুযায়ী, সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ‘কন্ট্র্যাক্টিং অথরিটি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, জমির মালিক সংস্থা হিসেবে থাকবে বেজা।

    বেজার মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। একইসাথে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাবনা, বিনিয়োগ আগ্রহ ও অংশীদারত্বের সুযোগ নিয়ে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে শিগগিরই একটি ‘মার্কেট সাউন্ডিং’ কর্মশালা আয়োজন করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বেজা, বিপিডিবি ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
    এ,আর
  • কাঁচা তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে, পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

    কাঁচা তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে, পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

    নিউজ ডেস্কঃ

    কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর এক লাখ টন কাঁচা তেলবাহী একটি জাহাজ বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, ফলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পূর্ণ উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।‘

    এমটি নাইনেমিয়া’ নামের জাহাজটি বুধবার দুপুরে বন্দরে ভিড়ে।

    ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শরীফ হাসনাত বলেন, ‘আজ দুপুরে জাহাজটি বন্দরে এসেছে। আনলোডিং শেষ হলে আমরা পরিশোধন কার্যক্রম শুরু করে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করব।’

    ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, আনলোডিং প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী ৮ বা ৯ মে’র মধ্যে রিফাইনারিটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে জাহাজ চলাচলের সূচি ব্যাহত হওয়ায় রিফাইনারিটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    নির্ধারিত জাহাজগুলো না আসায় কাঁচা তেলের মজুত দ্রুত কমে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রথমে উৎপাদন কমাতে এবং পরে পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, চালানটি মূলত সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে সঙ্ঘাতজনিত ঝুঁকির কারণে জাহাজটি ২৪ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়।

    বিকল্প এই রুট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    চালানটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় এক হাজার ৮৪ কোটি টাকা), যেখানে প্রতি ব্যারেলের দাম ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার। পাশাপাশি লজিস্টিক পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

    দেশীয় জ্বালানি বাজারের জন্য রিফাইনারিটির পুনরায় চালু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাঁচা তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির মাধ্যমে ইআরএল দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে।অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

    এম কে

  • কোরবানির ঈদের আগে ব্যস্ত লবণ কারখানা

    কোরবানির ঈদের আগে ব্যস্ত লবণ কারখানা

    পশুর চামড়া সংরক্ষণে লবণের প্রয়োজন হয়। তাই কোরবানির ঈদের আগে এর চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। চাহিদা মেটাতে কর্মব্যস্ততা বাড়ে লবণ তৈরির কারখানায়। প্রতিবছরের মতো এবারও এর ব্যতিক্রম নেই। ট্রলার থেকে লবণ নামাতে এবং সেই লবণ পরিষ্কার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। চট্টগ্রাম নগরের আনু মাঝির ঘাট এলাকায় লবণ তৈরির ব্যস্ততায় লবণ চাষীরা।

  • আরও ৩,৭৩৬ শিক্ষক পাচ্ছেন এমপিও স্বীকৃতি

    আরও ৩,৭৩৬ শিক্ষক পাচ্ছেন এমপিও স্বীকৃতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

     

    বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজে নতুন নিয়োগ পাওয়া তিন হাজার ৭৩৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও কমিটি। তাদের মধ্যে স্কুলের দুই হাজার ৮২১ জন এবং কলেজের ৯১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়াও বিএড স্কেল দেয়া হচ্ছে ৬৫৬ জনকে এবং উচ্চতর স্কেল দুই হাজার এক জনকে।

    গতকাল শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মার্চ মাসের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পদাধিকার বলে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, মাউশি অধিদপ্তরের নয়জন করে আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালক অংশ নেন।

    কোন অঞ্চলের কতোজন এমপিওভুক্ত: সভায় অংশ নেয়া একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক আমাদের বার্তাকে জানান, স্কুলের দুই হাজার ৮২১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ২৮২, চট্টগ্রামের ২৯৭, কুমিল্লার ২৪০, ঢাকার ৩৬৭, খুলনার ৩৯৯, ময়মনসিংহের ২৮০, রাজশাহীর ৪৬৩, রংপুরের এক হাজার ৩৮৩ এবং সিলেটের ১১০ জন।

    কলেজের ৯১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ৬৮, চট্টগ্রামের ৩৬, কুমিল্লার ৭২, ঢাকার ৯১, খুলনার ১৫১, ময়মনসিংহের ৬৮, রাজশাহীর ১৬৯, রংপুরের ২২৯ এবং সিলেটের ৩১ জন রয়েছেন।

    বি/ এ

     

  • গণভোট বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি

    গণভোট বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় বিভিন্ন দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

    বৈঠক শেষে নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী সাতটি বিভাগীয় শহরে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোকে নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। আমাদের মূল দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও দাবির মধ্যে রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় দুর্নীতি ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা- যা গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য অপরিহার্য।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার দলীয়করণ এত বেশি করছে যে, নিয়োগবাণিজ্য, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে একচেটিয়া নিজেদের দলের লোকদের নিয়োগ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব কিছুর বিরুদ্ধে আমরা জনমত গঠনের কর্মসূচি নিয়েছি এবং রাজপথে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করবো।’

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে শুরুতেই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের প্রদত্ত রায়কে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ১৮০ দিনের মধ্যে সকল সংস্কার প্রস্তাব, বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার কথা। সরকারি দল সেই প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। এখন তারা সংসদে ছলচাতুরী করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দেশবাসীকে সজাগ করছি। এটার বিরুদ্ধে আরো জনমত তৈরি করতে হবে। আন্দোলনকে আরো বেগবান ও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য জনগণের সমস্যাগুলো সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আমরা ১১ দল রাজপথে আন্দোলন আরো জোরদার করতে চাই। সে লক্ষ্যে সাতটি বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

    পরে তিনি নতুন কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন। নতুন কর্মসূচিগুলো হলো :

    ১৬ মে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ

    ১৩ জুন চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ

    ২০ জুন খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ

    ২৭ জুন ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ

    ১১ জুলাই রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ

    ১৮ জুলাই বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ

    ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ

    সবশেষ অক্টোবরে মহাসমাবেশ করা হবে।

    নতুন কর্মসূচির বিষয়ে হামিদুর আযাদ বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন মহানগরীতে সেমিনার কর্মসূচি চলমান আছে যা পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আমরা প্রতিমাসেই কর্মসূচি রেখেছি। ঈদের আগে একটি কর্মসূচি পালিত হবে। এসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন ও আশপাশের জেলাগুলোকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক লোক সমাগম করা হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আরো কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা যাবেন। নির্বাচনী কার্যক্রমকে আরো কার্যকরী করার জন্য জেলাভিত্তিক একটি সফর কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যেকটি মহানগরী ও বিভিন্ন জেলায় পেশাজীবী, সিভিল সোসাইটির সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধির সাথে মতবিনিময় করা হবে। ঢাকায় বাজেট প্রতিক্রিয়ার কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ঢাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করবে ১১ দলীয় ঐক্য।’

    ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারো দখলদারিত্ব ও নৈরাজ্য হচ্ছে, অশুভ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসগুলো থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্ররা ৫ আগস্টে এসব মুক্ত করেছিল। এখন ছাত্রলীগের শূন্যতা পূরণ করতে ছাত্রদলকে প্রতিস্থাপিত করার জন্য সরকারি উপায়-উপকরণ, বিভিন্ন অ্যাজেন্সি ও পক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অশুভ পাঁয়তারা রুখে দিতে হলে ছাত্রসমাজকে সজাগ থাকতে হবে- এজন্য ছাত্রদের সাথে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান করা হবে। পাশাপাশি দলীয় ব্যানারে প্রত্যেক দল গোলটেবিল বৈঠক, সমাবেশ, বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

    এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজার রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন প্রমুখ।

    এ, আর

  • আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল ভয়াবহ সেই জলোচ্ছ্বাসে উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর স্মৃতি এখনো মুছে যায়নি

    আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল ভয়াবহ সেই জলোচ্ছ্বাসে উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর স্মৃতি এখনো মুছে যায়নি

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    আজ থেকে ৩৫ বছর পূর্বে ‘৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ইতিহাসের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডবে কক্সবাজার জেলা সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকা লাণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।আজ থেকে ৩৫ বছর পূর্বে ‘৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ইতিহাসের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডবে কক্সবাজার জেলা সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকা লাণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। সে সময় হাজার হাজার ঘরবাড়ি, গবাদি পশু সহ কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আজও সে দুঃসহ স্মৃতি ও স্বজন হারানোর বেদনা এখনো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।বুধবার (২৯ এপ্রিল) কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলবাসী তাদের স্মরণে মসজিদে দোয়া মাহফিল, খতমে কোরআন সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে তাদের স্মরণ করছে স্বজনেরা।

    ইতিহাসের এ ভয়াবহ প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল কক্সবাজার জেলা সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল। সে সময়ে নর-নারী, শিশুসহ অসংখ্য গবাদী পশু এ দুর্যোগে প্রাণ হারান। মানুষের লাশের সাথে পশুর মৃতদেহ একাকার হয়ে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায়। এ সময় উপকূলীয় বেড়ীবাঁধ, চিংড়ীঘের সহ বসতবাড়ি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল।

    ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রয়লঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মধ্যে রাতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে আঘাত আনে। সে সময়ে সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারেরও উপরে এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসের ঢেউ উঠেছিল।

    আজ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকার স্মৃতি কক্সবাজার জেলা সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। সে দিনকে স্মরণ করে প্রতি বছর স্বজন হারানোর কান্নার আওয়াজে এখনো ভারী হয়ে উঠে চারদিকের পরিবেশ ।

    কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, পতেঙ্গা, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, হাতিয়া ও কক্সবাজার জেলার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, রামুসহ পুরো উপূলজুড়ে নির্মিত হয়নি টেকসই বেড়ীবাঁধ গুলো। এ সময় অধিকাংশ বেড়ীবাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। এ উপকূলীয় এলাকা বেড়ীবাঁধগুলো স্থানীয়ভাবে নির্মাণ না করায় এখনো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। যার ফলে সমন্বয় ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস হলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    এ,আর

  • বাস ভাড়া বাড়ল প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা

    বাস ভাড়া বাড়ল প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১১ পয়সা বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন এই ভাড়া আজ থেকেই কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে শ্রমিক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    তিনি বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃজেলার প্রতি কিলোমিটারেও বাড়ানো হবে ১১ পয়সা।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের দূরপাল্লার রুটের জন্য সরকার নির্ধারিত বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা।’

    ভাড়া বাড়নোর সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হবে জানিয়ে রবিউল আলম বলেন, ডিজেল চালিত বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এ সময় জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে বাস ভাড়া আবার কমবে বলেও জানান তিনি।

    বৈঠকে রেল ও নৌ পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।

    এর আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়ে। জ্বালানি তেলের নতুন দাম ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়।

    এর পরই গণপরিবহনের ভাড়া বাড়াতে তৎপর হয়ে ওঠেন মালিক ও শ্রমিকরা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে এর আগে ২০২২ সালে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরো পাঁচজনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরো পাঁচজনের মৃত্যু

    বিডি টাইমস ডেস্কঃ

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এ সময় নতুন করে আরো ১ হাজার ১৭০ জন শিশুর মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে দুজন ছাড়াও চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে একজন করে মোট দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১২৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরো ১ হাজার ১৭০ শিশুর মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ২৮ হাজার ৩৩৪ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৪ হাজার ৫৯ জন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৮ হাজার ৮৪৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৫ হাজার ৭২৮ জন শিশু।

    এআরি/এনআর

  • কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    বিডি ডেস্ক নিউজ:

    কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাকের উল্টে খাদে পড়ে ৭ জন নিহত এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকায় তাসফিন পাম্পের উল্টো পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫), বিরাপুর উপজেলার ভাইঘর উপজেলার উপজেলার পলাশের ছেলে সুমন (২১), একই গ্রামের বিষ্ণু (৩৫), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০) ও রাকিবুল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৫)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চাল বোঝাই একটি ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের উপর অবস্থানরত ১৩ যাত্রী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন।

    দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। আহত হন আরো ৬ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো থানায় রাখা আছে। স্বজনরা এলে তাদের কাছ লাশ বুঝিয়ে দেয়া হবে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।