ক্যাটাগরি কান্ট্রি সাইড

  • রাজধানীতে ফের ভূমিকম্প আতঙ্কে জনজীবন

    রাজধানীতে ফের ভূমিকম্প আতঙ্কে জনজীবন

    বিডিনিউজ ডেক্স : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) দিনের দ্বিতীয়বারের মতো বিকেল ৬টা ৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভূত হয়।

    প্রাথমিকভাবে ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) এ তথ্য জানালেও এর মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।এদিন এটি দ্বিতীয়বারের মতো কম্পন। এর আগে, আজ সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটেও একবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেবার রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৩, এবং উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলা।
    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা একটি অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। এই শক্তিশালী কম্পনে সারা দেশে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
  • বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে  ৪ জন নিহত

    বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

    বিডিনিউজ ডেক্স : দিনাজপুরে মিনিবাসের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে দিনাজপুর–দশমাইল হাইওয়ের নদিনাজপুরে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে একই পরিবারের ৪ জন নিহত। হাইওয়ের নশিপুরে গণগবেষণা কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি কোতয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুর–দশমাইল মহাসড়কের নশিপুর গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস ইজিবাইকটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চার যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

  • চৌগাছা সীমান্ত থেকে নারী শিশুসহ দশ জন আটক

    চৌগাছা সীমান্ত থেকে নারী শিশুসহ দশ জন আটক

    ডেস্ক নিউজ:

    যশোরের চৌগাছায় ভারতীয় সীমান্তের ইন্দ্রোপুর গ্রামের মাঠ থেকে নারী শিশুসহ দশ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার দিবাগত রাতে হিজলি বিওপির বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে আটক করেন। আটককৃতরা সবাই বাংলাদেশী নাগরিক বলে দাবি করেছেন।

    আটককৃতরা হলেন, যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুড়িহাটি গ্রামের আবু সাঈদ (৫০), তার স্ত্রী ছকিনা খাতুন (৪৩),সাতক্ষীরা জেলার বড় কুপুট গ্রামের মাছুরা খাতুন (৩৫), তার বড় ছেলে নুর জালাল (১৫), ছোট ছেলে ওমর ফারুক (১২), এবং মেয়ে মিনারা খাতুন (৭), খুলনার তেরখাদা উপজেলার রাব্বি হাসান (২২),তার স্ত্রী নাসিমা খাতুন (১৮), মেয়ে রাহেলা খাতুন (২) এবং নানি মেহেরুন বিবি (৭০)।

    হিজলি বিওপির বিজিবি কমান্ডার সুবেদার শহিদুল ইসলাম বলেন, আটককৃতরা ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার চেষ্টাকালে টহলদলের সদস্যরা তাদেরকে আটক করেন।
    তিনি আরো বলেন, আটককৃতদেরকে বেআইনি ভাবে প্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে চৌগাছা থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে আটককৃতরা এ প্রতিবদকের নিকট তাদের বাড়ি বাংলাদেশে বলে দাবি করেন।

    তারা বলেন, আমরা ভারতে বিভিন্ন পেশায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমরা দেশে বেড়াতে আসার সময় বিজিবি আমাদেরকে আটক করেছে। আটক নুর জালাল ভারতের একটি মাদ্রাসায়, ওমর ফারুক ও মিনারা খাতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে বলে জানান।

    আর আই খান

  • রাজধানীতে ২১ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ:  ‌‌’বড়’ ভূমিকম্পের আশঙ্কা

    রাজধানীতে ২১ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: ‌‌’বড়’ ভূমিকম্পের আশঙ্কা

    ডেস্ক নিউজ

    বড় ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকার কী পরিণতি হতে পারে, তারই যেন আভাস দিয়ে গেল সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সকালে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন। একশ বছরের মধ্যে দেশে বড় ভূমিকম্প না হলেও কম্পনের ইতিহাস রয়েছে। সেদিক থেকে গতকালের ভূমিকম্পটিকে ‘ফোরশক’ বলা যায়। একটি বড় ভূমিকম্পের সময় ঘনিয়ে আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, গতকালেরটি তার মধ্যে একটি। পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পকে ভবিষ্যতের বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ভূতত্ত্ব ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।

    তারা বলছেন, ঢাকার এত কাছে এত বেশি মাত্রার ভূমিকম্প এর আগে কখনো ঘটেনি। কম্পনের স্থায়িত্ব আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড বেশি হলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা ছিল। ভূমিকম্পে প্রাণক্ষয় কমাতে মহড়া বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতেব জোর দিতে হবে।

    আরো জানেত পড়ুন

    রাজধানীজুড়ে প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নগর সংস্থাগুলো। এসব ভবনের বেশিরভাগই নির্মাণ হয়েছে নিয়ম-কানুন না মেনে, পুরোনো নকশায় বা দুর্বল ভিত্তির ওপর। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে রাজধানীতে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুক্রবারের ভূমিকম্প ঢাকা থেকে খুব কাছে ও কয়েক দশকের মধ্যে মাত্রা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ কম্পন অনুভব করেছেন এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে ঢাকা এবং পুরান ঢাকা। তিনি বলেন, ‘এখনকার বিল্ডিংগুলো কোড মেনে চললেও রাজউকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রচুর বিল্ডিং হয়ে গেছে যেগুলোর ৯০ শতাংশেরই কোনো অনুমোদন নেই। এগুলোর কী হবে, যদি এরকম ভূমিকম্প রিপিট (পুনরাবৃত্তি) করতে থাকে?’

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ও জাইকার এক যৌথ জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে শহরের ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে। এ ছাড়া ১ লাখ ৩৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৈরি হবে সাত কোটি টন কনক্রিটের স্তূপ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থান ইন্ডিয়ান প্লেটে এবং এই প্লেট উত্তরপূর্ব দিকে এগোচ্ছে। সিলেটের উত্তরে আছে ইউরেশিয়ান প্লেট, যেটি দক্ষিণমুখী। এই দুই প্লেট একটি অন্যটিকে চাপ দিচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পূর্ব দিকে মিয়ানমার সাবপ্লেটেও সাবডাক্ট হয়েছে, উত্তরে ডাউকি ফল্ট আছে এবং পূর্বে মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট, মধুপুর ফল্ট থাকায় ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকার একেবারে কাছেই ছিল, ফলে অনুভূত হয়েছে অনেক বেশি। চট্টগ্রামের রাঙামাটি বা খাগড়াছড়িতে যদি ৭ মাত্রার ওপরেও ভূমিকম্প হয়, তাহলে আমরা ঢাকায় এতটা ঝাঁকুনি অনুভব করি না। তবে এই ভূমিকম্পের স্থায়িত্বকাল আর ৫-৭ সেকেন্ড বেশি হলেই ঢাকার অনেক ভবনই ধসে পড়ত। এ ধরনের ভূমিকম্পের সম্মুখীন ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আগে কখনো হয়নি।’

    তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে মনে হতে পারে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প থেকে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প মাত্র এক পয়েন্ট বেশি; কিন্তু বিষয়টি এমন না। ৫ মাত্রার চেয়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পনের প্রবণতা ১০ গুণ বেশি। এখানে প্রতিটি ভগ্নাংশ মানে এর তীব্রতা তত গুণ বেশি। ফলে এই ভূমিকম্পের প্রবণতা বা তীব্রতা অন্তত ১০০ কিলোমিটার রেডিয়াসে থাকে।’

    ঢাকা ও এর আশপাশে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থাকার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে, তবে মাত্রা ছিল কম। এর মধ্যে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ ৪ দশমিক ৫ মাত্রা, ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই ৪ দশমিক ৮ মাত্রা এবং ২০০১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ওই ঘটনাগুলোতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

    ঐতিহাসিকভাবেও এ অঞ্চল বড় ভূমিকম্পের সাক্ষী। ১৮৯৭ সালের ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ (৮ দশমিক ০ মাত্রা) তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় ১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। এ ছাড়া ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প (৭ দশমিক ৬ মাত্রা) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছিল।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভূমিকম্প হলে হতাহতের সংখ্যাও ভিন্ন হতে পারে: সকালে হলে মৃত্যু হতে পারে ২ দশমিক ১ লাখ থেকে ৩ দশমিক ১ লাখ মানুষের; বিকেলে হলে এই সংখ্যা ২ দশমিক ৭ লাখ থেকে ৪ লাখ হতে পারে এবং রাতে হলে নিহতের সংখ্যা ৩ দশমিক ২ লাখ থেকে ৫ লাখে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া সিলেটের লিনিয়ামেন্টে (ডাউকি ফল্ট লাইন) ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০ হাজার ৯৩৫টি থেকে ৩ লাখ ১৪ হাজার ভবন (১ দশমিক ৯১ শতাংশ থেকে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    মধুপুর ফল্টে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণও হবে ভয়াবহ। এতে প্রধান সড়কগুলোর ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং শহরের ভেতরের সড়কগুলোর ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ ধসে যেতে পারে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হলো, প্রধান সেতুগুলোর ৯৬ দশমিক ২২ শতাংশ এবং শহরের সেতুগুলোর ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আর্থিক ক্ষতির হিসাবে, পরিবহন খাতে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে ৮৮৭ মিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ২৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    রাজউকের আওতাধীন এলাকায় বর্তমানে ২১ দশমিক ৫ লাখের বেশি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ৫ দশমিক ১৪ লাখ কনক্রিটের স্থাপনা। সমীক্ষায় ৩ হাজার ২৫২টি ভবন পরীক্ষা করে ৪২টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়েছে।

    সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে এবং আরও দেড় লাখ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে দুর্বল মাটির ওপর গড়ে ওঠা বহু পুরোনো ভবন এবং বিল্ডিং কোড না মেনে তৈরি করা ছয়তলার বেশি উঁচু ভবনগুলোই হবে প্রধান শিকার।

    বিশেষজ্ঞরা ঢাকার ঝুঁকি বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন, বস্তি এবং সরু রাস্তাগুলো বড় বাধা। অনেক ভবনই ভূমিকম্প সুরক্ষা মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়নি, যা এগুলোকে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মাটির গঠনগত দুর্বলতাও একটি বড় কারণ। দেশের বড় অংশই আলগা ও জলাবদ্ধ পলিমাটির ওপর গঠিত। শক্তিশালী কম্পনে এই মাটি তরলীকৃত হয়ে যেতে পারে, যা ভবন ধসের কারণ হতে পারে।

    জাপান বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক জনসচেতনতা, জরুরি মহড়া এবং কার্যকর দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ‘ঢাকা শহরের ২১ লাখ ভবন এখনই পরীক্ষা করা দরকার। এখানে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না, রাজউককে দিয়ে সাধারণ মানুষকে জানান দেবে, সব ভবন চেক করে সার্টিফিকেট দিয়ে দেবে যে বিল্ডিংগুলো বিল্ডিং কোড অনুযায়ী হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শুক্রবারের (গতকাল) ভূমিকম্পটা বলতে পারি একটা ফোরশক। অর্থাৎ বড় ভূমিকম্প আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, তার অন্যতম। বড় ভূমিকম্পগুলো ১৫০ বছর পরপর ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। এদিক থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পগুলো ফেরত আসার সময় হয়ে গেছে। ১৯৩০ সালের পর এখানে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়নি; কিন্তু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা রয়েছে।’

    বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, ‘ভূমিকম্পে ঢাকা শহরের অনেক বিল্ডিংয়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, স্থাপনা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ভবন দেবে গেছে, ফাটল হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রায় যে ক্ষতি হয়েছে, ৭ মাত্রার হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে, ভেঙে যাবে ভবন, হতাহত হবে। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে এমন ভূমিকম্প হলে ২-৩ লাখ মানুষ হতাহত হবে, ঢাকা শহরের ৩৫ শতাংশ ভবন ভেঙে পড়ার শঙ্কা আছে, অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

    সামনে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে জানিয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘আজকের (গতকাল) এই ভূমিকম্প সেই সতর্কবাণী দিচ্ছে। প্লেট যেটা আটকে ছিল, সেটা আটকানো অবস্থা থেকে খুলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও বড় ভূমিকম্প হবে। আমরা সরকারকে বারবার বলে আসছি ভূমিকম্প মোকাবিলায় মহড়ার বিকল্প নেই। সরকার ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধারকাজের জন্য কোটি কোটি টাকার বাজেট রাখে, সেখান থেকে দুর্নীতি করতে পারে; কিন্তু যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।’

    আরো পড়ুন

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান কালবেলাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা শহরে জনসাধারণের আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ ও খোলা জায়গার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ যখন হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে একটু নিরাপদ বা খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন অধিকাংশ এলাকায়ই সেই খোলা জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। ঢাকা শহর এমনভাবে তৈরি ও সম্প্রসারিত হয়েছে যে, অধিকাংশ এলাকাতেই ফাঁকা জায়গা নেই। যেগুলো ছিল, সেগুলোও ধীরে ধীরে কনভার্ট (পরিবর্তিত) হয়ে গেছে। ফলে ভূমিকম্প বা বড় কোনো বিপর্যয়ের সময় যেখানে গিয়ে মানুষ দাঁড়াতে পারবে, তেমন জায়গা অধিকাংশ এলাকায়ই অনুপস্থিত।’

    এই নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘ঢাকায় শত শত খোলা জায়গা তৈরি করা দরকার ছিল, কিন্তু রাষ্ট্রের উদ্যোগ না থাকায় বেসরকারি উদ্যোগে কখনোই এটা করা হবে না। এই উদাসীনতা দুর্যোগের সময় ঢাকাবাসীর জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। খেলার মাঠগুলোকে শুধু খেলাধুলা নয়, দুর্যোগেও আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’

    বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেও আমাদের এখানে বড় ভূমিকম্প হওয়ার রেকর্ড আছে। ২০০৭ সাল থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে ঢাকার আশপাশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এটাই সর্বোচ্চ। সাধারণত একটি বড় ভূমিকম্পের পর আফটার শক বা পরাঘাতের শঙ্কা থাকে, যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি।’

    বি/এ

    (বিস্তারিত…)

  • পতাকা বৈঠকের পর বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ

    পতাকা বৈঠকের পর বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ

    চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে বাংলাদেশি এক নাগরিককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় দর্শনা বন্দরের চেকপোস্টের শূন্যরেখায় ৭৬ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    হস্তান্তর করা বাংলাদেশি নাগরিক নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার আশরাফপুর গ্রামের ফায়েজ উদ্দীনের ছেলে হানিফ খান (৪৭)।

    জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) দর্শনা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. আবুল হোসেনসহ ৫ জন এবং ভারতের ৩২ বিএসএফ গেদে ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার শিব শংকর সিংসহ ৫ জন বৈঠকে অংশ নেন।

    পতাকা বৈঠকে বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার বিজিবি কোম্পানি কমান্ডারের কাছে নাগরিকের নথি প্রদান করেন। এরপর নথি যাচাই-বাছাই সম্পূর্ণ করে তাকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে নিশ্চিত হন। পরবর্তীতে বিএসএফ কর্তৃক বিজিবির কাছে হস্তান্তর গ্রহণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করেন।

    বিজিবি জানায়, বাংলাদেশি এই নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, সে গত ৭ নভেম্বর সিলেট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করে। সে আজমীর গিয়েছিল খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি ( রহ). মাজার জিয়ারতে। পরবর্তীতে ২০ নভেম্বর বাংলাদেশে ফিরে আসতে গেলে ভারতের ৩২ গেদে বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্য কর্তৃক আটক হয়। এরপর বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির নিকট হস্তান্তর করে। হস্তান্তরের পরে তাকে দর্শনা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

    বি/এ

  • ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন দুই ভায়ই

    ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন দুই ভায়ই

    কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরু খান (৬০) ও ফজলু খান (৫৫) নামে আপন দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের গলাচিপা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই ভাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে গরুর জন্য খড় আনতে যান নুরু খান। এ সময় আগে থেকে ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের স্পৃষ্টে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ছোট ভাই ফজলু খানও একই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।হোসেনপুর উপজেলার ৫নং শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফিরুজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    এম কে

  • ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : সাদিক কায়েম

    ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : সাদিক কায়েম

    ডেস্ক নিউজ:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা তরুণ প্রজন্ম নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। গত ৫৪ বছরেও বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি হয়নি। যতদিন ইনসাফ কায়েম না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে। এদেশের তরুণ প্রজন্ম ভোট থেকে বঞ্চিত হয়েছে, এবার সময় এসেছে ভোটের মাধ্যমে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজিত গণজমায়েতে এসব কথা বলেন তিনি। উপজেলার বিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়।

    সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করে, তারা রাজনীতি নিয়ে ব্যাবসা করে। ক্ষমতায় বসলে আর সাধারণ মানুষের খোঁজ কেউ করে না। এমনকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান করার দৃষ্টান্তও রয়েছে। আমরা রাজনীতির নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চাই। যে রাজনীতি হবে গরিবের জন্য, সমতার জন্য, মুক্তির জন্য, ইসলামের জন্য। চিকিৎসা ব্যবস্থার আমল পরিবর্তন দরকার। হাসপাতালের সিন্ডিকেটমুক্ত করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, একটা রাজনীতিক দল নির্বাচন হওয়ার আগেই ঘোষণা দিয়েছে তারা ক্ষমতায় চলে এসেছে। কেউ যদি আবার নব্য ফ্যাসিস্ট হতে চান, আবার কেন্দ্র দখল করে ম্যাকানিজম করতে চান, তাহলে তাদের অবস্থাও ভয়াবহ হবে নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। এখনো শেখ হাসিনাকে দায়মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। খুনি হাসিনার রাজনীতি এই বাংলাদেশে আর হবে না। একইসঙ্গে খুনি হাসিনার দোসরদের বাংলাদেশে রাজনীতি করবে তারাই, যারা বাংলাদেশপন্থি।
    ডাকসুর ভিপি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকেই আমরা যুক্ত ছিলাম। আমরা যখন যৌক্তিক আন্দোলন করেছিলাম খুনি হাসিনা আমাদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করেছিল। এমনকি হাসপাতালে নেওয়ার পরও আমাদের উপর হামলা চালানো হয়, সেসময়ও সহযোগিতা করেছেন মসলেহ উদ্দিন ফরিদ। তিনি জুলাইয়ে যোদ্ধা। সত্যকে বিজয় করার জন্য, স্বপ্নের চৌগাছা ও ঝিকরগাছা করার জন্য আমাদের মসলেহ উদ্দিন ফরিদ ভাইকে দরকার। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

    ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজিত গণজমায়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মো. আরমান হোসেন, যশোর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী আব্দুল কাদের, যশোর-১ (শার্শা) আসনের প্রার্থী আজিজুর রহমান ও যশোর-৫ আসনের প্রার্থী গাজী এনামুল হক, জামায়াত নেতা গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ।

    সভাপতিত্ব করেন ঝিকরগাছা উপজেলা আমির আব্দুল আলিম। বক্তব্য দেন যশোর জেলা পশ্চিমের মো. ইসমাইল হোসেন। সঞ্চালনা করেন ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম ও শিবির নেতা খালিদ বিন খলিল।
    বি/এ

  • ভূমিকম্পের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

    ভূমিকম্পের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

    ডেস্ক নিউজ:

    ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানশুক্রবার (২১ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেন।

    ওই বিবৃতিতে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই ভূমিকম্পে ইতোমধ্যে ঢাকা ও নরসিংদীতে দু’ শিশুসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গাজীপুরে কারখানা শ্রমিক ও ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন শ’র কাছাকাছি মানুষের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমি এই মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনদের সবরে জামিল দান করুন।’

    তিনি বলেন, ‘আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত এবং নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি আহতদের শিগগিরই আরোগ্য কামনা করছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিল্ডিং কোড মেনে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনগণকে আরো সচেতন করা সরকারের দায়িত্ব। আমি আশা করি, জনগণ ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি অতিক্রম করতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ।’
    বি/এ

  • শীতের রোগ মোকাবিলায় পালংশাক

    শীতের রোগ মোকাবিলায় পালংশাক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    বাজারে এখন শীতের নানারকম শাকসবজি পাওয়া যাচ্ছে। এই সময় বিভিন্ন রকম রোগের প্রকোপও বাড়ে। শীতে সুস্থ থাকতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সেক্ষেত্রে ডায়েটে রাখতে পারেন পালং শাক। নিয়মিত এই শাক খেলে নানা ধরনের উপকারিতা মেলে। যেমন-

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: পালং শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং এ রয়েছে। এর ফলে সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকা সম্ভব। পালং শাকের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট দেহের প্রদাহ মোকাবিলায় বিশেষ উপকারী।

    হজমশক্তি বাড়ায়: পালং শাকের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকায় তা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পালংয়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ় এবং উদ্ভিজ্জ এনজ়াইম থাকায় খাবার সহজেই হজম হয়।

    ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে: পালং শাকে থাকা ভিটামিন ই এবং আয়রন ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এই শাকে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে। পালং শাকে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন চোখের নীচের ফোলা ভাব কমায়। সেই সঙ্গে ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

    ক্লান্তি দূর করে: পালং শাকে থাকা আয়রন, ফোলেট এবং ম্যাগনেশিয়াম দেহে শক্তি বাড়ায়। এর ফলে ক্লান্তি দূর হয়।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ করে : শীতের সময়ে বিভিন্ন নিমন্ত্রণ- অনুষ্ঠানে খাওয়াদাওয়া বেশি হতে পারে। এতে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে পালং শাক। কম ক্যালোরি এবং ফাইবারে পূর্ণ হওয়ায় এই শাক ওজন বৃদ্ধি করে না।

  • শীতে কিডনিতে পাথর জমা এড়াতে মানতে হবে যে নিয়ম

    শীতে কিডনিতে পাথর জমা এড়াতে মানতে হবে যে নিয়ম

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    শীতের সময় যতই আরামদায়ক মনে হোক, কিডনির জন্য কিন্তু এই মৌসুম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনিতে পাথর বা স্টোন হওয়ার প্রবণতা শীতেই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর মূল কারণ হলো শরীরের ডিহাইড্রেশন। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তেষ্টা কম লাগে, ফলে পানি গ্রহণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। এর ফলেই মূত্রের মধ্যে থাকা ক্যালশিয়াম, অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে ধীরে ধীরে পাথরের আকার ধারণ করে।

    এনভায়রনমেন্টাল হেলথ ইনসাইট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শীতকালে শরীর স্বাভাবিকভাবেই পানিশূন্যতার দিকে যায়। এর ফলে মূত্র গাঢ় হয়ে ওঠে, যা কিডনিতে পাথর তৈরির আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিডনিতে স্টোন হওয়ার হারও ওঠানামা করে।

    চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত সোডিয়াম, প্রাণিজ প্রোটিন এবং ডিহাইড্রেশন— এই তিনটি বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরির প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। একই কথা বলা হয়েছে ক্লিনিক্যাল জার্নাল অব দ্য আমেরিকান সোসাইটি অব নেফ্রোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রেও।
    তাহলে কিডনি সুরক্ষিত রাখতে কী কী নিয়ম মেনে চলবেন?

    ১) দিন অন্ততপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খেতে হবে। তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা করা যাবে না। জলের পাশাপাশি, ডিটক্স পানীয়, হার্বাল টি কিংবা ইনফিউসড ওয়াটার খেলেও উপকার মিলবে।

    ২) অতিরিক্ত সোডিয়াম রয়েছে এমন খাবার বা পানীয় খাওয়া চলবে না। কারণ, রক্তে সোডিয়ামের উপস্থিতি কিডনিতে স্টোন হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকলে তা-ও বাদ দিতে হবে।

    ৩) কিডনিতে পাথর জমার প্রবণতা রুখতে রোজ সাইট্রাস ফ্রুট বা লেবুজাতীয় ফল খেতে হবে। রক্তে থাকা অতিরিক্ত খনিজ শোষণ করে কিডনি সুরক্ষিত রাখবে ভিটামিন সি। পাশাপাশি মূত্রাশয়ের সংক্রমণও রুখে দিতে পারে।

    ৪) সামগ্রিকভাবে কিডনি সুস্থ রাখতে হলেও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। কারণ, স্থূলত্ব বা দেহের অতিরিক্ত ওজন কিডনির জন্য খারাপ। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকলেও কিন্তু কিডনির ওপর চাপ পড়ে।

    সূত্র : এই সময় অনলাইন
    বি/এ