ক্যাটাগরি কান্ট্রি সাইড

  • হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৮৫ জন।

    শুক্রবার (১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। অন্যদিকে, সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩১।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৫ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৪৬।

    বি/ এ

  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন : তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন : তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    শুক্রবার (১ মে) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। ঘটনাটির পেছনে কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন মন্ত্রী।

    এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।

    বি/ এ

  • দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৬ (NHSPC)  নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা দিয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচার-প্রচারণা ও নিবন্ধন কার্যক্রম শনিবার (০২ মে) রাত ১২টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।

    আগামী ১৬ মে দেশব্যাপী আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে পারবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)- এর আয়োজনে হাইস্কুল, মাদরাসা, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানাতে চিঠিটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন শেষ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ার পীর হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ার পীর হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

    ডেস্ক নিউজ:

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে (৫৭) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা-পুলিশ। রোববার (২৭ এপ্রিল) রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ফিলিপনগর পশ্চিম দক্ষিণ এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম ও একই এলাকার নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আরিফুর ইসলাম। তিনি  বলেন, রোববার দিবাগত রাতে ফিলিপনগর এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপ্লব ও আলিফ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ফরজ আলী নামের একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফরজ আলী নামের ওই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা শামিম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণ পুলিশের হাতে এসে পৌঁছালে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আজ সোমবার বেলা ৩ টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত (১১ এপ্রিল) শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর নামের এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করে স্থানীয় মুসল্লী ও এলাকাবাসী। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করেন তারা। এই ঘটনায় পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেল ৪টায় মারা যান তিনি। এই হামলায় দরবার শরীফে তার আরও তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন। নিহত শামীম জাহাঙ্গীর ওই দরবার শরীফের প্রধান ছিলেন। পরদিন ১২ এপ্রিল রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

    পরে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানায় নিহত শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ দিন পর এই প্রথম দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করল দৌলতপুর থানাপুলিশ।

    বি /এ

  • পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক

    পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক

    ডেস্ক নিউজ:

    পটুয়াখালীর বাউফলে পরীক্ষাশেষে অস্ত্রসহ ছয় শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার ধানদী কামিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটককৃতরা হলেন, সিফাত (১৫), মো. মাসুম মৃধা, মো. সিহাব হোসেন, মো. মিয়াদ হোসেন, মো. হৃদয় হোসেন, ও নয়ন হোসেন।

    জানা যায়, অস্ত্রসহ আটক সিফাত উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় ছোটডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দাখিল পরীক্ষার্থী মো. মাসুম মৃধা ও মো. সিহাব হোসেন উপজেলার রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং মো. মিয়াদ হোসেন, মো. নয়ন হোসেন ও মো. হৃদয় হোসেন বড়ডালিমা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

    কেন্দ্রের সুপার মাওলানা মো. নুরুল আমিন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা মো. আ. রব জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আরবী দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় একজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীকে খাতা দেখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা শেষে রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বড়ডালিমা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনা ঘটে।

    তারা জানান, বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শুরুর পূর্বে দুই মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাধ্যমে সমঝোতাও হয়। তবে পরীক্ষা শেষে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পুনরায় বিবাদে জড়ানোর পরিস্থিতি তৈরী হয়।

    একপর্যায়ে পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার পথে কেন্দ্রে দায়িত্বরত এসআই সিহাবের সহযোগিতায় অস্ত্রসহ পাশের ছোটডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সিফাতকে ব্যাগে বহন করা একটি কুড়ালসহ আটক করা হয়। এসময় পালিয়ে যায় সুইচ গিয়ার ও দেশীয় অস্ত্রসহ তার আরো কয়েক সহযোগী। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

    তারা আরও জানান, আটক সিফাতের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে সে বড়ডালিমা মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী মিয়াদের ডাকে ব্যাগে কুড়াল নিয়ে এসেছে। মিয়াদ তার এলাকার বড় ভাই। পরীক্ষা শেষে অপ্রীতিকর কিছু ঘটার সম্ভাবনা ছিল। তারই প্রস্তুতিতে সে কুড়াল নিয়ে আসে ও তার কয়েক সহোযোগি নিয়ে জটলা সৃষ্টি করে।

    এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আছি। আটক সবাই শিশু আইনে পড়ে। থানায় নিয়ে প্রভিশন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি আসলে সিদ্ধান্ত হবে।

    বি/ এ

  • রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ

    রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ

    ডেস্ক নিউজ :

    বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব‌্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

    তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, তাঁর কিছু কুকীর্তির কথা হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং তিন নম্বর ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনও মেনে নিচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ‘ক্যাঙ্গারু আদালতের’ নির্দেশে এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১ হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যার জন্য বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাকে পাকাপোক্ত করেছিল। এই রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন। জুলাই গণহত্যার সময় তাঁর ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর এবং জুলাই গণহত্যার দোসর। এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন তাঁকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?

    বি /এ

     

  • দিবস আসে শ্রমিকদের ভাগ্য খোলে না

    দিবস আসে শ্রমিকদের ভাগ্য খোলে না

    ফিচার ডেস্ক:

    রমজানের ঈদের ঠিক ১০ দিন পর কুড়িগ্রামে যাই। সকালে অনেকের কথাবার্তায় ঘুম ভাঙে। উঠে দেখি পাশের ফ্ল্যাটে কাজ চলছে—নতুন ভবন তৈরি হবে। একই সঙ্গে কয়েকজন নারী ও পুরুষ কাজ করছেন। আমি এগিয়ে গিয়ে কাজ ও মজুরি সম্পর্কে জানতে চাই। দু-তিনজনকে জিজ্ঞেস করলেও তারা এড়িয়ে যান। একজন তো ইশারায় পাশের এক পুরুষকে দেখান। বুঝতে পারি, কথা বললে সমস্যা হতে পারে। আমিও সুযোগের অপেক্ষায় থাকি।

    অতঃপর মাথায় বোঝা নিয়েই একজন নারী চুপিচুপি বললেন, তাদের (নারীদের) দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা আর পুরুষদের ৫০০। তিনি আবার ইশারা করে বোঝালেন, কথা বললে তিনি বিষয়টি জানিয়ে দেবেন। ভাবলাম, পার্থক্যটা মাত্র ১০০ টাকা। অনেক জায়গায় নারীদের আরো কম মজুরি দেওয়া হয়। তাদের ধারণা, নারীরা কম কাজ করেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের কাজের পরিমাণ পুরুষদের চেয়েও বেশি।খালেদা একজন সেবিকা (নার্স)। তিনি কয়েকটি হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে সেবিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় তার দুই সন্তান তার কাছেই থাকে। কিছুদিন সন্তানরা গ্রামে নানাবাড়িতে থাকলেও পড়াশোনার কথা চিন্তা করে তিনি তাদের শহরে নিয়ে আসেন।

    খালেদা বর্তমানে একজন সিনিয়র সেবিকা। তিনি একটি নতুন ও নামকরা হাসপাতালে কর্মরত। নতুন হাসপাতাল হওয়ায় সেখানে অনেক সেবিকা নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নামকরা হাসপাতাল থেকে আসা সেবিকাদের বেতন তার বেতনের চেয়ে দ্বিগুণ। অথচ খালেদার অভিজ্ঞতাও আছে এবং তিনি সিনিয়র।

    অন্যদের বেতনের পরিমাণ শুনে তিনি অবাক হন। এ বিষয়ে অফিসে কথা বললে তাকে বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। দুই মাস পর তার বেতন বাড়ানো হলেও, সেই নামকরা হাসপাতাল থেকে আসা সেবিকাদের বেতন আরো দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি করা হয়।

    পরে অফিসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খালেদা নিজের চাকরি হারান। খালেদার অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকের সিভি রয়েছে; তাকে যে বেতন দেওয়া হয়, সেই বেতনে তারা নতুন দুজন কর্মী নিয়োগ দিতে পারবে।

    নন-এমপিওভুক্ত একটি স্কুলে চার বছর ধরে চাকরি করেন দিলারা। এরই মধ্যে তার বিয়ে হয়। সন্তান জন্মের সময় ঘনিয়ে এলে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েন—ছুটিতে গেলে চাকরিটি থাকবে তো? পরে তিনি জানতে পারেন, স্কুল থেকে তিনি তিন মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। তবে ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে পারলেও সেই সময়ের কোনো বেতন পাবেন না; আগের বেতনে চাকরি চালিয়ে যেতে হবে।

    সব দিক বিবেচনা করে তিনি ভাবলেন, খারাপের মধ্যেও কিছুটা ভালো আছে। সেই অনুযায়ী তিনি ছুটিতে যান এবং তিন মাস পর আবার কাজে যোগ দেন। ঘরে মা থাকায় সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্ব মায়ের ওপর দিয়ে তিনি চাকরিতে ফিরতে সক্ষম হন।

    তবে দিলারার মতো সুযোগ তামান্না পাননি। তিন মাসের সন্তান রেখে কাজে ফেরার মতো পরিস্থিতি তার ছিল না। ফলে তিনি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। পরে দুই বছর পর নতুন বেতনে (অর্থাৎ, শুরুতে যে বেতন দেওয়া হয়) তিনি একই স্কুলে আবার যোগ দেন।

    একজন নিয়োগদাতার অধীনে যারা শ্রম দেন, তারা শ্রম আইনের আওতাভুক্ত। অথচ আমাদের দেশে বেশির ভাগ নিয়োগদাতাই এই শ্রম আইনের অনেক কিছুই মানেন না। শ্রমিকদের একটি বড় অংশও তাদের শ্রম ও মজুরি-সংক্রান্ত অধিকার সম্পর্কে অবগত নন।

    বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, ‘শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ, মজুরি পরিশোধ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের আঘাতের জন্য ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্পবিরোধ সৃষ্টি ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ, চাকরির পরিবেশ এবং শিক্ষানবিসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়—সবই শ্রম আইনের অন্তর্ভুক্ত।’

    প্রতিবছর মে দিবস পালিত হয়। তিনশ পঁয়ষট্টি-ছেষট্টি দিনের মধ্যে মাত্র এক দিনই মে দিবস, কিন্তু যাদের দাবি আদায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলতে এই দিবস পালিত হয়, তারা প্রতিদিনই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। কারখানার মালিক, বিলাসবহুল কোম্পানির শিল্পপতি এবং রাজনৈতিক নেতারা মে দিবসে সমাবেশে দীর্ঘ ভাষণ দিয়ে শ্রমিকদের দাবি পূরণের কথা বলে হাততালি পান; কিন্তু সারা বছর শ্রমিকদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য দিতে গিয়ে তারা নানা অজুহাত তুলে ধরেন।

    আইন থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ১৮০০ শতকে বিশ্বে একটি বড় পরিবর্তন ঘটে। সে সময়ের আগে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে নামমাত্র পারিশ্রমিকে দৈনিক ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করাত। এতে শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে মালিকরা বিদ্রোহী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন শুরু করে। এই শ্রমিক আন্দোলনে অনেক শ্রমিক প্রাণ হারান। তাদের মূল দাবি ছিল—একজন শ্রমিক দিনে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা কাজ করবেন। মালিকরা এই দাবি উপেক্ষা করায় ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকায় শ্রমজীবী মানুষ ধর্মঘটের ডাক দেয়, যার প্রাণকেন্দ্র ছিল শিকাগো শহর।

    ১৮৮৪-৮৫ সালের দিকে মন্দাভাবের কারণে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে অসংখ্য শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। শিকাগো শহরের আন্দোলনে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শ্রমিক যোগ দেন। ৩ মে আন্দোলনটি আরো ব্যাপক আকার ধারণ করে। সে সময় পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়, এতে ছয়জন শ্রমিক নিহত হন।

    শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে ৪ মে বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। ওইদিন শিকাগো শহরে আরো চার শ্রমিক নিহত হন এবং ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ৯ অক্টোবর আরো ছয়জনকে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে শ্রমিকদের আন্দোলন আরো তীব্র হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে মালিক পক্ষ নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

    ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হয়, শিকাগোর আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া শ্রমিকদের স্মরণে প্রতিবছর ১ মে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। এরপর থেকেই দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে।

    শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন শ্রম আইন প্রণয়ন করা হলেও, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে; বাস্তবে শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা তেমনভাবে ঘোরে না।

    বি/ এ

  • কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে

    কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে

    ইসলামী ডেস্ক:

    ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান ইবাদত কোরবানি। কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং কোরবানির সঙ্গে মিশে আছে আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, আত্মত্যাগের চেতনা এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর অনুপম ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মৃতি।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। (সুরা কাওসার, আয়াত : ২)

    এ থেকে বোঝা যায়, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো ইখলাস ও আল্লাহভীতি অর্জন।

    হাদিস শরীফেও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১২৩)

    অন্য হাদিসে এসেছে , আদম সন্তানের জন্য কোরবানির দিনের আমলসমূহের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো কোরবানি করা। (তিরমিজি)

    ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। এখানে সামর্থ্যবান বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে।

    কোরবানির জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ কতটুকু

    ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেই প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক মুকিম মুসলিম নারী ও পুরুষের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
    নেসাব হল,  স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি। রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ।

    স্বর্ণ বা রুপার কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না হয় তবে স্বর্ণ-রুপা উভয়টি মিলে কিংবা এর সাথে প্রয়োজন-অতিরিক্ত অন্য বস্তুর মূল্য মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের হয়ে যায়, তাহলে কোরবানী ওয়াজিব হবে।

    স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয় না এমন জমি এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্র—সবই কোবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য। ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব আল মুহিতুল বুরহানিতেও এই মাসআলা উল্লেখ রয়েছে।

    সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব। তবে যাকাতের মতো এখানে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া (হাওল) শর্ত নয়; বরং কোরবানির দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

    বি/ এ

  • বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে কেন?

    বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে কেন?

    লাইফস্টাইল:

    জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দে বৃষ্টি পড়ে। আকাশ ধূসর হয়ে আসে। দূরের গাছগুলো ঝাপসা লাগে। বাতাসে একটা ভেজা গন্ধ। মাটির গন্ধ। সেই গন্ধ নাকে ঢুকতেই মনটা একটু নরম হয়ে যায়। ব্যস্ততা থেমে যায়। সময় ধীর হয়। এই ধীর হয়ে যাওয়ার মুহূর্তেই কোথা থেকে যেন মাথায় আসে এখন যদি এক প্লেট গরম খিচুড়ি পাওয়া যেত!

    এই অনুভূতিটা এত পরিচিত ও গভীর যে, এ নিয়ে আমরা কেউই খুব একটা প্রশ্ন তুলি না। বরং স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিই, বৃষ্টি মানেই খিচুড়ি। যেন এই সমীকরণটা আমাদের ভেতরে কোথাও চুপচাপ লিখে রাখা আছে।

    খিচুড়ি আসলে কেবল একটি খাবার নয়। এটি এক ধরনের অনুভূতি, যা আমাদের ভেতরে জমে থাকা বহু দিনের স্মৃতি আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিশে আছে। ছোটবেলার বৃষ্টিভেজা দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই এই সম্পর্কটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন বৃষ্টি মানেই ছিল ছুটি, ছিল অলস দুপুর, ছিল রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা পেঁয়াজ-হলুদের গন্ধ। হাঁড়িতে ধীরে ধীরে ফুটতে থাকা চাল আর ডালের সঙ্গে যেন জমে উঠত এক অদৃশ্য উত্তেজনা কখন খেতে ডাকবে!

    সেই গরম খিচুড়ির প্লেট, পাশে ডিম ভাজি বা বেগুন ভাজা, বাইরে ঝরতে থাকা বৃষ্টি এই দৃশ্যটা শুধু খাবারের নয়, এটি নিরাপত্তা আর স্বস্তির এক নিখুঁত ছবি। মনে হতো, পৃথিবীর সব অস্থিরতা দরজার বাইরে থেমে আছে। এই যে শান্তি, এই যে ঘরের উষ্ণতা এসবই খিচুড়ির স্বাদের সঙ্গে মিশে আমাদের স্মৃতিতে স্থায়ী হয়ে গেছে।

     

    তবে এই অভ্যাসের শেকড় আরও গভীরে। আমাদের কৃষিভিত্তিক জীবন, বিশেষ করে গ্রামবাংলার বাস্তবতায় বর্ষা মানেই ছিল একদিকে কাজের সময়, আবার অন্যদিকে থেমে যাওয়ার সময়ও। টানা বৃষ্টিতে যখন বাইরে যাওয়া কঠিন হতো, তখন ঘরে যা আছে তা দিয়েই রান্না করতে হতো। চাল আর ডাল এই দুটো উপকরণ প্রায় সব ঘরেই থাকত। সেখান থেকেই তৈরি হতো খিচুড়ি, যা সহজ, পুষ্টিকর এবং পেট ভরানো। ধীরে ধীরে এই বাস্তব প্রয়োজনই পরিণত হয়েছে সংস্কৃতিতে।

    গ্রামের টিনের চালের ওপর বৃষ্টির শব্দ, উঠানে জমে থাকা পানি, কাদায় ডোবা পা এসবের মাঝেও এক হাঁড়ি খিচুড়ি ঘিরে বসে খাওয়ার যে অভ্যাস, তা শুধু ক্ষুধা মেটানোর নয়, এটি একসঙ্গে থাকার আনন্দও তৈরি করে। এই মিলেমিশে থাকা, এই ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস খিচুড়িকে একধরনের সামাজিক প্রতীকে পরিণত করেছে।

    শহর বদলেছে, জীবনযাত্রা বদলেছে, কিন্তু বৃষ্টির দিনের অনুভূতি খুব একটা বদলায়নি। বরং ব্যস্ত শহুরে জীবনে বৃষ্টি যেন একটু বিরতি এনে দেয়। রাস্তা ফাঁকা লাগে, সময় ধীর হয়, মানুষ ঘরে ফিরতে চায়। সেই থেমে যাওয়া সময়টায় সহজ, উষ্ণ, ঝামেলাহীন কিছু খেতে ইচ্ছে করে খিচুড়ি ঠিক সেই জায়গাটায় গিয়ে মিলে যায়।

    আবহাওয়ার প্রভাবও কম নয়। বৃষ্টির দিনে শরীর গরম ও আরামদায়ক খাবার চায়, কিন্তু ভারী কিছু নয়। খিচুড়ির নরম, উষ্ণ স্বভাব শরীরকে যেমন আরাম দেয়, তেমনি মনকেও শান্ত করে। এই শারীরিক আর মানসিক আরামের মিলনই খিচুড়ির প্রতি টানকে আরও গভীর করে তোলে।

    মজার বিষয় হলো, খিচুড়ি আমরা অন্য সময়েও খাই, কিন্তু তখন সেটা কেবল ‘খাওয়া’। আর বৃষ্টির দিনে? সেটি হয়ে ওঠে ‘অনুভব’। একই স্বাদ, একই উপকরণ তবু অন্যরকম লাগে। কারণ তখন চারপাশের আবহাওয়া, স্মৃতি আর মন সব একসঙ্গে মিশে যায়।

    এই মিশে যাওয়ার জায়গাটাই আসল। খিচুড়ি তখন আর শুধু খাবার থাকে না, হয়ে ওঠে ঘরের প্রতীক, মাটির প্রতীক, আপনজনের প্রতীক। তাই বৃষ্টি নামলেই আমরা খিচুড়ির কথা ভাবি শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং একটু ফিরে যাওয়ার জন্য, একটু থেমে থাকার জন্য, নিজের ভেতরে একটু আশ্রয় খুঁজে নেওয়ার জন্য।

    শেষ পর্যন্ত, এক প্লেট গরম খিচুড়ির ভেতরেই আমরা খুঁজে পাই আমাদের জীবনের সহজ ছন্দ, শিকড়ের টান আর সেই নির্ভেজাল শান্তি, যা হয়তো ব্যস্ত জীবনে খুব কমই পাওয়া যায়।

    বি/ এ

  • গণভোট বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি

    গণভোট বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় বিভিন্ন দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

    বৈঠক শেষে নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী সাতটি বিভাগীয় শহরে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোকে নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। আমাদের মূল দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও দাবির মধ্যে রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় দুর্নীতি ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা- যা গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য অপরিহার্য।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার দলীয়করণ এত বেশি করছে যে, নিয়োগবাণিজ্য, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে একচেটিয়া নিজেদের দলের লোকদের নিয়োগ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব কিছুর বিরুদ্ধে আমরা জনমত গঠনের কর্মসূচি নিয়েছি এবং রাজপথে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করবো।’

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে শুরুতেই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের প্রদত্ত রায়কে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ১৮০ দিনের মধ্যে সকল সংস্কার প্রস্তাব, বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার কথা। সরকারি দল সেই প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। এখন তারা সংসদে ছলচাতুরী করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দেশবাসীকে সজাগ করছি। এটার বিরুদ্ধে আরো জনমত তৈরি করতে হবে। আন্দোলনকে আরো বেগবান ও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য জনগণের সমস্যাগুলো সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আমরা ১১ দল রাজপথে আন্দোলন আরো জোরদার করতে চাই। সে লক্ষ্যে সাতটি বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

    পরে তিনি নতুন কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন। নতুন কর্মসূচিগুলো হলো :

    ১৬ মে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ

    ১৩ জুন চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ

    ২০ জুন খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ

    ২৭ জুন ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ

    ১১ জুলাই রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ

    ১৮ জুলাই বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ

    ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ

    সবশেষ অক্টোবরে মহাসমাবেশ করা হবে।

    নতুন কর্মসূচির বিষয়ে হামিদুর আযাদ বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন মহানগরীতে সেমিনার কর্মসূচি চলমান আছে যা পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আমরা প্রতিমাসেই কর্মসূচি রেখেছি। ঈদের আগে একটি কর্মসূচি পালিত হবে। এসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন ও আশপাশের জেলাগুলোকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক লোক সমাগম করা হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আরো কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা যাবেন। নির্বাচনী কার্যক্রমকে আরো কার্যকরী করার জন্য জেলাভিত্তিক একটি সফর কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যেকটি মহানগরী ও বিভিন্ন জেলায় পেশাজীবী, সিভিল সোসাইটির সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধির সাথে মতবিনিময় করা হবে। ঢাকায় বাজেট প্রতিক্রিয়ার কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ঢাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করবে ১১ দলীয় ঐক্য।’

    ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারো দখলদারিত্ব ও নৈরাজ্য হচ্ছে, অশুভ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসগুলো থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্ররা ৫ আগস্টে এসব মুক্ত করেছিল। এখন ছাত্রলীগের শূন্যতা পূরণ করতে ছাত্রদলকে প্রতিস্থাপিত করার জন্য সরকারি উপায়-উপকরণ, বিভিন্ন অ্যাজেন্সি ও পক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অশুভ পাঁয়তারা রুখে দিতে হলে ছাত্রসমাজকে সজাগ থাকতে হবে- এজন্য ছাত্রদের সাথে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান করা হবে। পাশাপাশি দলীয় ব্যানারে প্রত্যেক দল গোলটেবিল বৈঠক, সমাবেশ, বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

    এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজার রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন প্রমুখ।

    এ, আর