ক্যাটাগরি ঢাকা বিভাগ

  • জুলাই সনদ নিয়ে সময়সীমা শেষ; এখন কি করবে সরকার

    জুলাই সনদ নিয়ে সময়সীমা শেষ; এখন কি করবে সরকার

    ডেস্ক নিউজ

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারের দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। কিন্তু দলগুলো এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতায় আসতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী বলছে, তারা বিএনপিকে আলোচনার আহ্বান জানালেও দলটি তাতে সাড়া দেয়নি। আর বিএনপি বলছে, আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।

    এদিকে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সমঝোতার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উদ্যোগ নিয়েছিল; কিন্তু তা সফল হয়নি। এ কারণে জামায়াত ও এনসিপিও চায় সরকার উদ্যোগ নিক। ফলে সব মিলিয়ে সংকট নিরসনের এই বল এখন সরকারের কোর্টে। তাই গণভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অবশ্য সরকার বলছে, দলগুলো সিদ্ধান্তে আসতে না পারলে দ্রুতই সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে এখন দুটি অপশন। প্রথমত, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবার কথা বলতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোনো আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে।

    এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সরকারের দেওয়া সময়সীমা রোববার শেষ হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো কোনো সিদ্ধান্ত আসতে না পারলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সিদ্ধান্ত কবে নাগাদ আসতে পারে-এ প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, সময় শেষ হওয়ার পর নিশ্চয়ই উপদেষ্টারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার জন্য আবারও বসবেন। এরপর দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো আশাবাদী। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলো দেশের অনেক বড় সমস্যার সমাধান করেছে। ফলে তারা একটি সিদ্ধান্তে আসবেন। যেহেতু এখনো সময় শেষ হয়নি, তাই সরকারের পক্ষ থেকে আগাম কোনো কিছু বলা ঠিক হবে না। আমরা শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তার মতে, রাজনীতিতে একদিন অনেক বেশি সময়। একদিনের মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলো যদি বলে, তাদের আরও দু-একদিন সময় লাগবে, তবে সরকার তা বিবেচনা করবে। তিনি আরও বলেন, দলগুলোর মধ্যে দ্বিমত থাকবেই। এরপরও আমাদের ঐকমত্যে পৌঁছে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটা দ্রুতই হবে। কারণ, নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকুক, সরকার তা চায় না। শফিকুল আলম বলেন, জুলাই সনদে সব বিষয় উঠে এসেছে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সুচিন্তিত মতামত দিয়েছে। মোট চার হাজার পাতার অডিও-ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে। এই আলোচনা নির্বাচনের পরও আবার শুরু হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে। এরপর ২৮ অক্টোবর সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার একটি আদেশ জারি করবে। কিন্তু আদেশ জারির আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার আহ্বান করা হয়। বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, দীর্ঘদিন আলোচনার পরও গণভোটের সময় এবং বিষয়বস্তু কী হবে-এসব প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এটি উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে।

    সরকার ডাকলে সাড়া দেবে বিএনপি : সরকারের আহ্বানের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বৃহস্পতিবার ফোন করে আলোচনার জন্য আহ্বান জানান জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বিএনপি মহাসচিব ওইসময়ে দলের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করে জানানোর কথা বলেন। পরদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নেতারা অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, জামায়াত তো সরকার না। ফলে রাষ্ট্রীয় কোনো বিষয়ে তারা আমাদের ডাকতে পারে না। ব্যক্তিগত বা দুই দলের কোনো দাওয়াতে ডাকতে পারে। সুতরাং এ ইস্যুতে জামায়াতের আহ্বান ‘সঠিক পন্থা’ নয়। তাই জামায়াতের আহ্বানে বিএনপি সাড়া দেবে না। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সনদ সই হয়েছে। ফলে ভিন্নমতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। কিন্তু সেই ঐকমত্য ভেঙে নতুন ইস্যু তোলা হয়েছে। এর মানে হলো সেই ঐক্যের প্রতি অসম্মান। তিনি বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল জোর করে নিজেদের দাবি সবার ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। শেখ হাসিনার শাসনে আমাদের মধ্যে একটা স্বৈরাচারী মনোভাব চলে আসছে। তাই আমি মনে করি, যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হবে। যেগুলোয় ঐকমত্য হয়নি, তা নিয়ে যেতে হবে জনগণের কাছে। ঐকমত্যের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ সূত্র বলছে, বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অভিমত, সরকার এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন মিলে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। কারণ, সনদ বাস্তবায়নে কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে দলগুলোর ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত সনদের মিল নেই।

    জামায়াত যা বলছে : জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, আলোচনা বা সমঝোতার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। এ ব্যাপারে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি তাদের জায়গায় অটল। আমরাও আমাদের দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করেছি। ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছি। ১১ নভেম্বর জামায়াতসহ ৮ দলের বড় কর্মসূচি রয়েছে। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা বিএনপিকে আলোচনায় বসার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে আলোচনার উদ্যোগ এখন সরকারকেই নিতে হবে। না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।

    এনসিপি : বিদ্যমান সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিল এনসিপিসহ ৯টি দল। এজন্য বুধবার দলগুলো জরুরি বৈঠকে বসে। কিন্তু সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। নেতারা জানান, জুলাই সনদ নিয়ে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা জরুরি। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের পর বিভাজনের রাজনীতি তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয় কিনা, সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এখন সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

    সরকারের ভাবনা : সরকারি সূত্র বলছে, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রাথমিক একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে সরকার। সেক্ষেত্রে দলগুলোর দাবির মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে। এই গণভোটে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর ওপর বিভিন্ন দলের দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট উল্লেখ থাকবে না। তবে ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নে ২৭০ দিনের বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেটিও তুলে দেওয়া হবে। এছাড়াও পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে গঠিত হবে সংসদের উচ্চকক্ষ। অর্থাৎ জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত উভয় পক্ষের যে দাবি রয়েছে, সেসব দাবি মানার ক্ষেত্রে সরকার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।

    বিশ্লেষকদের অভিমত : জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, নাগরিক হিসাবে আমরা আশা করেছিলাম, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মতভিন্নতা, মতভেদ কিংবা দলীয় বিবেচনার বাইরে এসে প্রাধান্য দেবে দেশ ও মানুষের স্বার্থকে। অন্তর্বর্তী সরকারও নিরপেক্ষভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু তেমন লক্ষণ আমরা দেখছি না। এ অবস্থায় আমাদের প্রত্যাশা সরকার আরও দায়িত্বশীল আচরণ করবে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ড. একেএম শাহনওয়াজ বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিটাই এমন যে, এখানে সবাই একমত হবেন-এমন আশা করা এককথায় বোকামি। তবে কাছাকাছি আসবে-এমন প্রত্যাশা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় ১৫ মাস পার হয়েছে। কিন্তু সরকার জুলাই সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কোনো ধরনের সমঝোতায় আসতে পারেনি। রাজনৈতিক দলগুলোকেও সমঝোতায় আনতে পারেনি। এটা তাদের বড় ব্যর্থতা। এখনো সরকার যদি নিজের মতো করে জোড়াতালি দিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা হবে আত্মঘাতী।

    দুই দল মুখোমুখি : সরকারের আহ্বানের পর সমঝোতা দূরের কথা, উলটো বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ বাড়ছে। দল দুটি এখন মুখোমুখি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দুই দলই গণভোটের পক্ষে। কিন্তু বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট চায়। এছাড়াও সনদের যে বিষয়ে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেগুলো গণভোটের প্রস্তাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এ অবস্থায় সনদ বাস্তবায়নের আলোচনা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে সোমবার ২৩৭টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াত চায় জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট। আর গণভোটের প্রস্তাবে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকতে পারবে না। এই দাবি বাস্তবায়নে শুক্রবার পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছিল জামায়াতের নেতৃত্বে ৮টি ইসলামি দল। বৃহস্পতিবার তারা প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকায় জনস্রোত নামবে।
    বি/এ

  • অর্থ উপদেষ্টা নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার

    অর্থ উপদেষ্টা নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার

    সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত আগামী সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

    রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সালেহউদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন।

    মন্ত্রিপরিষদ ভবনে একাধিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘পে কমিশনের বিষয়ে আমরা এখন কিছু বলতে পারছি না। বিষয়টি আগামী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, প্রাথমিক কাজগুলো শুরু হয়েছে। পরবর্তী সরকার চাইলে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে।’

    গত ২৪ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের জন্য পে কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের প্রধান সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

    কমিশনটি সরকারি, অর্ধ-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সংস্থার কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা মূল্যায়ন করবে।

    বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুসারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পান। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন প্রায় ১৫ লাখ।

    দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। এতে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে নতুন পে কমিশন গঠন করা হয়।

  • অনিশ্চয়তার বেড়াজালে পে স্কেল

    অনিশ্চয়তার বেড়াজালে পে স্কেল

    ডেস্ক নিউজ :

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন পে স্কেল ঘোষণার জন্য জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছে। তবে এ সরকার পে স্কেলের সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, নতুন পে স্কেলের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার।

    রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এবং অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

    জানা গেছে, ইতোমধ্যে বেতন কমিশন বিভিন্ন সুপারিশও গঠন করেছে। তবে পে স্কেল নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে না। নির্বাচিত সরকারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে পে স্কেলের সিদ্ধান্ত।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, একটা কমিটি করেছি ট্যাক্সের ব্যাপারে কিছু ইকোনমিস্ট নিয়ে। তারা ইন্ডিপেন্ডেন্ট, কিছু রিকমেন্ডেশন দেবে। একটা পে কমিশনের ব্যাপার আছে। সেটা আমরা এখন কিছু বলতে পারি না। ওটা দেখা যাক কতদূর যায়। আগামী সরকার হয়তো সেটা এসে করতে পারে। আমরা যেহেতু ইনিশিয়েট করে ফেলেছি। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনি প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারই পে স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

    জাতীয় বেতন কমিশন আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিতে চাইছে। একটি সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে নির্বাচিত সরকার।
    বি/এ

  • সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না

    সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না

    ডেস্ক নিউজ :

    অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না।

    রোববার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না; এ সংক্রান্ত যা ছড়িয়েছে সেটা গুজব, এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, আওয়ামী লীগের লকডাউন বা শাটডাউনের যে কর্মসূচি রেখেছে সেই বিষয়ে সরকার শঙ্কিত নয়।
    সুত্র: আমার দেশ
    বি/এ

  • দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিন্ধান্ত

    দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিন্ধান্ত

    ডেস্ক নিউজ :

    বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না কমলে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পেঁয়াজের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে একথা বলেন।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কোনো সংকট নেই-যথেষ্ট মজুত রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। ফলে আগামী চার পাঁচ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক না হলে আমরা আমদানির অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিবো।

    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ২ হাজার ৮০০ আবেদন পড়েছে। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে বাজারের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসলে আমদানি অনুমোদন ইস্যু করা হবে।

    এ সময় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন , একাধিক কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। মৌসুমের শেষ, হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টি, পেঁয়াজ সংরক্ষণের সময় শুকিয়ে যাওয়ার পরে ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি দাম বেড়ে যাওয়ার কারন।

    হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে আমরা বাজারের নজর রাখছি। দেশে যথেষ্ট পেঁয়াজের মজুত রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। ফলে আগামী চার পাঁচ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক না হলে আমরা আমদানির অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি মজুতদার বা সিন্ডিকেটের কারণে হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে মজুমদারি বা সিন্ডিকেটের খবর নেই। সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। আশা করি দ্রুত সংকট কেটে যাবে।

    তিনি আরো বলেন, সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য পেঁয়াজ মজুত করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে।

    পেয়াজ আমদানির জন্য দুই হাজার ৮০০ আমদানির আবেদন পড়েছে এর ১০ শতাংশ যদি অনুমোদন দেওয়া হয় তাহলে বাজারে পেঁয়াজে সয়লাব হয়ে যাবে। কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এজন্য আমরা সামগ্রিক বিবেচনায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এসময় উপস্থিত ছিলেন।
    বি/এ

  • মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা

    মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত টেস্ট পরীক্ষা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

    বোর্ড থেকে জানানো হয়, নির্বাচনি পরীক্ষার তারিখ পরবর্তী সময় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। আপাতত নিয়মিত ক্লাশ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রোববার ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাশ চলমান থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি পরীক্ষা গ্রহণ না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

    নির্বাচনি পরীক্ষার তারিখ পরবর্তী সময় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি অতীব জরুরি বলে উল্লেখ করেছে বোর্ড।
    বি/এ

  • জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের প্রেরণা দেয় : মির্জা ফখরুল

    জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের প্রেরণা দেয় : মির্জা ফখরুল

    আজকের দিনটি শুধু বিএনপির নয়, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত মানুষের কাছেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের শেখায়— জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্নভাবে চক্রান্ত চলছে। গণতন্ত্রকে আবার ধ্বংস করার চেষ্টা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, সেই প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়— যে পথে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

    শুক্রবার সকালে (৭ নভেম্বর ) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা ২০ মিনিট থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত চলে এই কর্মসূচি।

    পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের দিনটি শুধু বিএনপির নয়, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত মানুষের কাছেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের শেখায়— জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।

    তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো, সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও বিএনপি এগিয়ে যাবে।

    গতকাল আপনাকে জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ফোন করেছিলেন— এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী?”

    জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন,গতকাল আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি। ঐটাই আমাদের বক্তব্য।

    কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন; চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান; সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও আব্দুস সালাম আজাদ; এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ/ আর

  • আইআরআইয়ের প্রতিবেদন; জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ ৮ সুপারিশ

    আইআরআইয়ের প্রতিবেদন; জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ ৮ সুপারিশ

    ডেস্ক নিউজ:

    ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক। নির্বাচনের আগে আরো সহিংসতার শঙ্কার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)।

    গত ২০-২৪ অক্টোবর সংস্থাটি বাংলাদেশের নির্বাচনি পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন করতে মিশন পরিচালনা করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

    নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আট দফা সুপারিশ প্রদান করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আইআরআই ।

    তাদের মিশনটি নির্বাচন কমিশন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য নির্বাচনি স্টেকহোল্ডারদের জন্য এসব সুপারিশ দিয়েছে।

    এই সুপারিশগুলো যদি নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়কাল এবং পরবর্তীতে কার্যকর করা হয়, তবে তা বিশ্বাসযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে বলে রিপোর্টে দাবি করেছে তারা।

    সুপারিশগুলো হলো- জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চূড়ান্ত করা, নাগরিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার সমর্থন করা, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা, প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সমন্বয় বৃদ্ধি, নাগরিক নির্বাচনি পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক তহবিলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের সময় স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পরিবেশ প্রচার করা।
    জুলাই চার্টারের বাস্তবায়ন চূড়ান্ত করা: রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই জাতীয় চার্টার চূড়ান্তকরণ এবং তা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেয়া উচিত। এর মধ্যে রয়েছে সময়সীমা নির্ধারণ, নির্দিষ্ট ধারার বিষয়ে বাকি থাকা মতবিরোধ সমাধান এবং গণপরিষদের সামনে তাদের উদ্দেশ্য ঘোষণা করা যে তারা গণতান্ত্রিক সংস্কারগুলোকে সমর্থন করবে। অস্থায়ী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে জুলাই চার্টারের গণভোট পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট এবং বৈধ কাঠামো স্থাপন করা উচিত। গণভোটের ক্রম এবং সময় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ আইনগত ব্যাখ্যা এবং বিস্তৃত রাজনৈতিক সম্মেলনের ভিত্তিতে গ্রহণ করা উচিত। গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া এবং প্রভাব সম্পর্কে জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করা অপরিহার্য, যা সংস্কার এজেন্ডা এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা নিশ্চিত করবে।

    নাগরিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার সমর্থন করা: জুলাই চার্টারের বিষয়বস্তু বোঝার জন্য দৃঢ় নাগরিক শিক্ষার উদ্যোগ অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, মিডিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় স্তরে ভোটারদের শিক্ষিত করার প্রচেষ্টা অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং প্রস্তাবিত সংস্কারের প্রভাবের ব্যাখ্যা। নাগরিক শিক্ষার প্রচেষ্টা সর্বজনীন, সহজলভ্য এবং প্রথমবার ভোটার, যুবক, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তৈরি হতে হবে।

    নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা: রাজনৈতিক জীবনের সব স্তরে নারীরা এখনও অপ্রতিনিধিত্বমূলক। রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নেতৃত্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-নারী প্রার্থী নিয়োগ, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সংরক্ষিত আসনের বাইরে অংশগ্রহণ সমর্থন করা। দলগুলোকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারী ভোটার এবং প্রার্থী উভয়ের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

    প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা: রাজনৈতিক দলগুলোকে অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন শক্তিশালী করতে হবে। প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিয়মিত এবং পক্ষপাত বা জোরপূর্বক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। প্রার্থী মনোনয়নকালে স্থানীয় স্তরের সহিংসতা কমানো এবং নারীদের প্রার্থী ও প্রচারক হিসাবে অংশগ্রহণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।

    নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সমন্বয় বৃদ্ধি: নির্বাচন কমিশনকে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে, স্থানীয় উত্তেজনা কমাতে এবং নির্বাচনের সময় সহিংসতা প্রতিরোধ করতে। যৌথ পরিকল্পনা,
    পরিষ্কার যোগাযোগ প্রোটোকল এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা জনসাধারণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ভোটার আস্থা শক্তিশালী করতে অপরিহার্য।
    সুত্র: আমার দেশ
    বি/এ

  • ১১ নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট দেওয়ার আল্টিমেটাম জামায়াতের

    ১১ নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট দেওয়ার আল্টিমেটাম জামায়াতের

    ডেস্ক নিউজ:

    বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় জামায়াতসহ আট দলের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।আগামী ১১ নভেম্বর রাজধানীতে আট দলের সমাবেশের আগে পাঁচ দফা মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ সময় দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তার আগে দাবি না মানলে ওই দিন ঢাকার চিত্র ভিন্ন হতে পারে।বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় জামায়াতসহ আট দলের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    এসময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টাকে ‘রেফারির ভূমিকায়’ থাকার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, ১১ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করবে জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দল। তার আগেই সরকারকে দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

    ‘পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাই সনদের প্রতি এই গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। তা না হলে ১১ তারিখে রাজধানী ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে,’ বলেন তিনি।
    এর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, আট দলের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন।

    সুত্র: নয়াদিগন্ত
    বি/এ

  • ঢাকা-ওয়াশিংটন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, ভারতের ঘুম হারাম

    ঢাকা-ওয়াশিংটন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, ভারতের ঘুম হারাম

    ডেস্ক নিউজ:

    সম্প্রতি এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সয়াবিন রপ্তানি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী এক বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করবে।

    ঢাকা-ওয়াশিংটনের এই বিশাল অর্থনৈতিক চুক্তি ভারতের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য হিন্দু জানায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের তেল ও সয়ামিল রপ্তানি এমনিতেই নিম্নমুখী ছিল। এর ওপর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি ভারতের সয়ামিল রপ্তানিকারকদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।

    ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সয়ামিল আমদানিকারক বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে দেশটি। গত অর্থবছরেই বাংলাদেশের বাজারে ভারতের সয়ামিল রপ্তানি ১.৬৩ লাখ টনে নেমে আসে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ কম।

    ভারতের সয়াবিন প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ডি.এন. পাঠক এ বিষয়ে বলেন,

    “বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বল্পমূল্যে প্রচুর সয়াবিন কিনছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ তেলবছরে আমাদের রপ্তানি তীব্রভাবে কমে গেছে। বাংলাদেশ মাত্রই এক বিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তি করেছে, যা আমাদের জন্য স্পষ্ট সংকেত—বাংলাদেশ আর ভারত থেকে এ পণ্য কিনবে না। এটি ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”

    এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন আমদানি করবে।

    এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু খাদ্যনিরাপত্তায় নয়, কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরো মজবুত করেছে, যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক প্রভাবের ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
    সুত্র আমার দেশ
    বি/এ