ক্যাটাগরি রোগব্যাধি

  • হাম ও উপসর্গে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রোগটি ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ১ হাজার ৪৯৪ শিশু।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ২১২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ৭১০ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২৮২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৪৯০ জন।

    এছাড়াও ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৮৬২ শিশু। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৫২ শিশু।

    বি/ এ

  • হাম উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ২ জন ছাড়াও বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৩৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ২০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩১ হাজার ৯১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    বি/ এ

  • হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু ও নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে এমন শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৫ জন।

    আজ (মঙ্গলবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ৩১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫৪ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৬৩ জন।

    প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৭২৬ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৪২ হাজার ৯৭৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৩৬০ জন।

    বি/ এ

  • গুটি বসন্তে শিক্ষকের মৃত্যু

    গুটি বসন্তে শিক্ষকের মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    গাইবান্ধা সদর উপজেলায় গুটি বসন্ত (পক্স) রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিশ চন্দ্র দাস (৪৫) নামে এক স্কুলশিক্ষক মৃত্যু হয়েছে।  ৪ এপ্রিল সোমবার রাত ১ টার দিকে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    ইতিশ চন্দ্র সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের বোডঘর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।  তিনি খোলাহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ আগে ইতিশ চন্দ্রের ছেলে ঢাকা থেকে এসে গুটি বসন্তে আক্রান্ত হন। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে একে একে ইতিশ চন্দ্র দাস সহ তার স্ত্রী ও আরেক ছেলেও গুটি বসন্তে আক্রান্ত হন।

    আক্রান্ত হওয়ার পর পাশের গ্রামের এক কবিরাজের কাছ থেকে শিক্ষক ইতিশ চন্দ্র চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে গত রাতে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান।

    বি/ এ

     

  • হাম উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু!

    হাম উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু!

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম সন্দেহে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩০২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৩ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৬৭ জন।

    ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৪২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বি/ এ

  • হাম রোগ কেন হয়, প্রতিকারের উপায়

    হাম রোগ কেন হয়, প্রতিকারের উপায়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    Measles (হাম) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একজন হাম রোগী গড়ে ১২–১৮ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন (R₀ 12–18)—এ কারণে একে “অত্যন্ত দ্রুত ছড়ানো রোগ” বা high contagious disease বলা হয়।

    সবচেয়ে দ্রুত ছড়ানো সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে Measles (হাম)। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২–১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন, যা অত্যন্ত উচ্চ সংক্রমণক্ষমতা নির্দেশ করে। হাম, COVID-19 (করোনা) ও Influenza (ইনফ্লুয়েঞ্জা) ভাইরাসের চেয়েও দ্রুত ছড়ায়।

    হাম কিভাবে ছড়ায়?

    এই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করার পরও কিছু সময় পরিবেশে সক্রিয় থাকতে পারে। তাই টিকা না থাকলে অল্প সময়েই বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে এবং ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।

    হামের টিকা কিভাবে তৈরি হয়

    হামের টিকা (MMR) অত্যন্ত কার্যকর। টিকা তৈরিতে Measles ভাইরাসকে ল্যাবরেটরিতে দুর্বল (attenuated) করা হয়। এই দুর্বল ভাইরাস শরীরে রোগ সৃষ্টি করতে পারে না, কিন্তু রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system)-কে সক্রিয় করে তোলে। ফলে শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভাইরাস আক্রমণ করলে তা দ্রুত প্রতিরোধ করতে পারে।

    এই পদ্ধতিকে “live attenuated vaccine” বলা হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী সুরক্ষা দেয়। দুই ডোজ নিলে প্রায় ৯৭% পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। টিকা না নিলে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    বড়দের কি হাম হয়?

    বড়দেরও Measles হতে পারে, বিশেষ করে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। বড়রাও MMR টিকা নিতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা ছোটবেলায় টিকা নেয়নি বা সম্পূর্ণ ডোজ নিশ্চিত নয়, তারা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেও টিকা নিতে পারেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষার্থী, বিদেশযাত্রী বা ভিড়ের মধ্যে কাজ করেন—এমন মানুষের জন্য এটি বেশি জরুরি। অনেকে মনে করেন হাম শুধু শিশুদের রোগ—এটি ভুল।

    হামের উপসর্গ

    হামের প্রধান উপসর্গ হলো—উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (Koplik spots)ও দেখা যেতে পারে।

    হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। সাধারণত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভিটামিন A অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।

    হামের জটিলতা সবচেয়ে ভয়ংকর জটিলতা হলো মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis)। Measles–এর জটিলতায় যখন মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়, বিশেষ করে এনসেফালাইটিস বা SSPE দেখা দেয়, তখন ব্রেইন কোষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন দেখা যায়—যেমন নিউরোইনফ্ল্যামেশন (Neuroinflammation), ডিমাইলিনেশন (Demyelination), অ্যাপোপটোসিস (Apoptosis), ব্লাড–ব্রেইন ব্যারিয়ার ডিসরাপশন (Blood–brain barrier disruption) এবং সিন্যাপটিক ডিসফাংশন (Synaptic dysfunction)।

    এতে খিঁচুনি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, অস্বাভাবিক আচরণ এবং বাচন সমস্যা দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। পরবর্তীতে আচরণগত সমস্যা, বুদ্ধিবিকাশে বিলম্ব বা অন্যান্য মানসিক ও স্নায়বিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

    হামের টিকা: এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের কাহিনি

    বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম (Measles) প্রতিরোধী টিকা নিয়মিত দেওয়া হয়—বাংলাদেশেও এটি শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুটিন টিকা। কিন্তু কীভাবে এল এই টিকা?

    টিকা আবিষ্কারের চাঞ্চল্যকর ইতিহাস:

    হামের টিকা উদ্ভাবনের কৃতিত্ব মূলত জন এফ. এন্ডার্স ও তাঁর সহকর্মীদের। ১৯৫৪ সালে তারা ডেভিড এডমনস্টন নামের এক অসুস্থ শিশুর রক্ত থেকে হাম ভাইরাস আলাদা করেন। এই হাম ভাইরাসটিকেই পরবর্তীতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় দুর্বল করে তৈরি করা হয় ‘এডমনস্টন-বি স্ট্রেইন’ নামের নমুনা, যা পরবর্তী টিকা উদ্ভাবনে ব্যবহার করা হয়।

    ১৯৬৩ সালে এন্ডার্স ও তাঁর সহকর্মী চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জিনগতভাবে দুর্বল হাম ভাইরাস (‘এটেনুয়েটেড ভাইরাস এডমনস্টন-বি স্ট্রেইন’) ব্যবহার করে প্রথম সফল টিকা তৈরি করেন। এই দুর্বল ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে কোনো রোগ না ঘটিয়েই এক ধরনের প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা পরবর্তীতে প্রকৃত (সবল) হাম ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করে।

    পরবর্তীতে হামের টিকাকে আরও উন্নত ও নিরাপদ করে এমএমআর টিকা (হাম-মাম্পস-রুবেলা) আবিষ্কার করা হয়। এন্ডার্স শুধু হামের টিকার জন্যই নয়—পোলিও টিকা আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান। এই আবিষ্কার সত্যিই বিশ্বস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এক মাইলফলক। হামের টিকা এখন পর্যন্ত কোটি কোটি শিশুকে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করেছে—এটাই বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি।

    উপসংহার

    সুতরাং, হামকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সময়মতো টিকা গ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর প্রতিরোধ। তবে মাস্ক ব্যবহার কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে, কিন্তু এটি টিকার বিকল্প নয়।

     

  • ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে আরও ১০ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে আরও ১০ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া সবাই শিশু বলে জানা গেছে। আজ রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে একজনের নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে। আর বাকি নয়জন মারা গেছে হামজনিত উপসর্গ নিয়ে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৯৫ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৬৬ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৪৪ জন।

    এই সময় পর্যন্ত সারাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৪৯১ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৩১৩ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে যারা মারা যাওয়া চারজন ঢাকায় মারা গেছে।

    বি/ এ

  • হাসপাতালেই হাম সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

    হাসপাতালেই হাম সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    শিশু মো. সানি, বয়স ৯ মাস। শরীরজুড়ে ছোপ ছোপ দাগ ও ফুসকুড়ি। চলছে স্যালাইন। কখনো কখনো শ্বাসকষ্টের জন্য দিতে হচ্ছে অক্সিজেন। এমনকি ক্যানুলা করার জন্য শিশুর মাথার অর্ধেক চুল ফেলে দিতে হয়েছে। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে। শিশুটির মা মারুফা আক্তার নানাভাবে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কিন্তু কোনোভাবেই কান্না থামছে না। পাশেই দাঁড়ানো বাবা শিশুটির কান্না দেখে নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। মাঝেমধ্যে তিনিও কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন, তবু থামানো যাচ্ছে না শিশুটিকে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের (শিশু হাসপাতাল) বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

    শিশুটির বাবা ইলিয়াস হোসেন আমার দেশকে জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরে। এক মাস আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশুটিকে প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশু হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ১৫ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এরপর থেকে আমরা এক অন্যরকম যুদ্ধের মধ্যে আছি। এত ছোট বাচ্চা, আবার গুরুতর অসুস্থ। বুকের দুধ পর্যন্ত খাচ্ছে না। যখন কাঁদে, তখন বাবা হিসেবে নিজেকে খুব অসহায় লাগে।

    শুধু এ একটি ঘটনা নয়, শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্তত ১০ শিশুর অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা প্রথমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্য রোগীর সংস্পর্শে এসে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা। এছাড়া আরো অনেক শিশু অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসে হামের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে, ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৬৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ শিশু। জানুয়ারিতে ভর্তি হয়েছিল মাত্র দুই শিশু, ফেব্রুয়ারিতে ছয়, মার্চে ১৩০ শিশু এবং এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৮-এ। অর্থাৎ মার্চের তুলনায় এপ্রিলে রোগী ভর্তির হার বেড়েছে ১৫২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

    আক্রান্ত শিশুদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছয় থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুÑসংখ্যা ১৫৮, যা মোট আক্রান্তের ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ৯ মাস থেকে দুই বছর বয়সি শিশু ১২৩, ছয় মাসের কম বয়সি শিশু ১০৭, দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশু ৫৩ এবং পাঁচ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ২৬। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮১ শিশু।

    সরেজমিন দেখা যায়, শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ‘বিশেষায়িত হাম’ ইউনিট চালু করা হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) মোট ৮০টি শয্যার একটিও খালি নেই। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অধিকাংশ শিশুর বয়স দুই বছরের নিচে। কারো শরীরে স্যালাইন চলছে, কারো নাকে নল, আবার কেউ অক্সিজেন সহায়তায় রয়েছে।

    প্রচণ্ড জ্বর ও ব্যথায় শিশুদের অবিরাম কান্না যেন থামছেই না। পাশে বসে থাকা মা-বাবার চোখে অশ্রু, সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে কিংবা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আইসিইউ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গতকাল দুপুরে আইসিইউয়ের সামনে অপেক্ষা করেও অন্তত পাঁচজন রোগীর স্বজনকে শয্যা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তারা জানান, বাধ্য হয়ে শিশুদের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি করাতে হয়েছে।

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, তার সাত মাসের শিশুকে ১৫ দিন আগে ভর্তি করা হয়। তিনদিন পর অবস্থার অবনতি হয়। মনে হচ্ছিল বাচ্চার প্রাণ বের হয়ে যাবে। চিকিৎসক আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন, কিন্তু সিট খালি ছিল না। অনেক তদবিরের পর তিনদিন পর আইসিইউতে জায়গা পাই। এখনো সেখানে চিকিৎসা চলছে, কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

    মাদারীপুর থেকে আসা আয়েশা বেগম জানান, তার আট মাসের শিশু আবু রায়হান প্রথমে ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়, পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে শিশু হাসপাতালে আনা হয়। এখানে ১৫ দিন পর শরীরে লাল র‍্যাশ ওঠে। চিকিৎসকরা জানান, এটা হাম। এরপর থেকেই হামের চিকিৎসা চলছে। এখন কিছুটা ভালো হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। তার অভিযোগ, অন্য হামের রোগীর সংস্পর্শ থেকেই তার শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

    হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, হাম যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ, তাই শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক রোগী থেকে অন্য রোগীর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ার কারণে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টির ঘাটতির কারণেই হামের সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে বলেও জানান তারা।

    অন্যদিকে যেসব শিশু হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা জন্মগত হৃদরোগে ভুগছে, তাদেরই বেশি মৃত্যু হচ্ছে বলেও জানান চিকিৎসকরা।

    এ বিষয়ে শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে শয্যা বাড়ানো হয়েছে এবং আইসিইউ সুবিধাও রাখা হয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসায় চাপ বেড়েছে, ফলে সবাইকে শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৪ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭২ জনের। তাতে সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী এক হাজার ৯৬ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম সন্দেহে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫। আর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ শিশুর। ফলে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৮৪। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বি/ এ

  • হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    স্বাস্থ ডেস্ক:

     

    হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আরও ১ হাজার ৯৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকাতেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৬ হাজার ৯১১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৩ হাজার ২২৫ জন শিশু।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৪ জন শিশুর মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৩২৫ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৫ হাজার ২১৮ জন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।

    বি / এ

  • হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৮৫ জন।

    শুক্রবার (১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। অন্যদিকে, সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩১।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৫ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৪৬।

    বি/ এ