ক্যাটাগরি বাংলাদেশের অর্থনীতি

  • আবারো বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২০৯৫২০ টাকা

    আবারো বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২০৯৫২০ টাকা

    ডেস্ক নিউজ,

    স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    টানা দু’ দফা কমার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে দু’ হাজার ৬১২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দু’ লাখ নয় হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

    বুধবার (১৮ নভেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) থেকেই নতুন এ দর

    স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে

    প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দু’ লাখ নয় হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ
    প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দু’ লাখ নয় হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ |সংগৃহীত

    টানা দু’ দফা কমার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে দু’ হাজার ৬১২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দু’ লাখ নয় হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

    বুধবার (১৮ নভেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

    page-top-ad

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দু’ লাখ নয় হাজার ৫২০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দু’ লাখ তিন টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৭১ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৪২ হাজার ৫৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরো জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সাথে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ছয় শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

    এর আগে, সবশেষ গত ১৮ নভেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে এক হাজার ৩৬৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দু’ লাখ ৬ হাজার ৯০৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৯৭ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৬৯ হাজার ২৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৪০ হাজার ৭৬১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল ১৯ নভেম্বর থেকে।

    এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৭৯ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৫৪ বার, আর কমেছে মাত্র ২৫ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।

    স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ২৪৬ টাকায়।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি চার হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি তিন হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে দু’ হাজার ৬০১ টাকায়।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত নয়বার সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে বেড়েছে ছয়বার, আর কমেছে মাত্র তিনবার। আর গত বছর সমন্বয় করা হয়েছিল তিনবার।

    এ/ আর ১৯ নভেম্বর

  • দেশের অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ

    দেশের অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো তিনটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—দুর্বল রাজস্ব, ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

    চলমান ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় পঞ্চম পর্যালোচনা শেষে সংস্থাটির ঢাকা সফররত প্রতিনিধিদল এই মূল্যায়ন প্রকাশ করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ক্রিস পাপাজর্জিও। ২৯ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত তারা সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও অর্থনৈতিক নীতি–নির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশের রাজস্ব কাঠামো দুর্বল হওয়ায় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের মূলধন ঘাটতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা। সংস্থাটির মতে, টেকসই আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহসী ও কার্যকর নীতিমালা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন। নীতি প্রণয়নে বিলম্ব বা দুর্বলতা দেখা দিলে অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। একটি সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং সামষ্টিক স্থিতিশীলতা দৃঢ় হবে।

    আইএমএফের মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে, যা গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটার ফল। অন্যদিকে, টানা কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক থেকে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

    সংস্থাটি আশা করছে, কর সংস্কার ও আর্থিক খাতের পুনর্গঠন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৫–২৬ এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি গড়ে প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তা সাড়ে ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

    আইএমএফ আরও বলেছে, মধ্য মেয়াদে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, যুব বেকারত্ব হ্রাস এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে। এসব সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই হবে বলে সংস্থাটির অভিমত।
    সুত্র: আমার দেশ
    বি/এ

  • অর্থ উপদেষ্টা নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার

    অর্থ উপদেষ্টা নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার

    সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত আগামী সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

    রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সালেহউদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন।

    মন্ত্রিপরিষদ ভবনে একাধিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘পে কমিশনের বিষয়ে আমরা এখন কিছু বলতে পারছি না। বিষয়টি আগামী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, প্রাথমিক কাজগুলো শুরু হয়েছে। পরবর্তী সরকার চাইলে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে।’

    গত ২৪ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের জন্য পে কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের প্রধান সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

    কমিশনটি সরকারি, অর্ধ-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সংস্থার কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা মূল্যায়ন করবে।

    বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুসারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পান। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন প্রায় ১৫ লাখ।

    দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। এতে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে নতুন পে কমিশন গঠন করা হয়।

  • অনিশ্চয়তার বেড়াজালে পে স্কেল

    অনিশ্চয়তার বেড়াজালে পে স্কেল

    ডেস্ক নিউজ :

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন পে স্কেল ঘোষণার জন্য জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছে। তবে এ সরকার পে স্কেলের সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, নতুন পে স্কেলের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার।

    রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এবং অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

    জানা গেছে, ইতোমধ্যে বেতন কমিশন বিভিন্ন সুপারিশও গঠন করেছে। তবে পে স্কেল নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে না। নির্বাচিত সরকারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে পে স্কেলের সিদ্ধান্ত।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, একটা কমিটি করেছি ট্যাক্সের ব্যাপারে কিছু ইকোনমিস্ট নিয়ে। তারা ইন্ডিপেন্ডেন্ট, কিছু রিকমেন্ডেশন দেবে। একটা পে কমিশনের ব্যাপার আছে। সেটা আমরা এখন কিছু বলতে পারি না। ওটা দেখা যাক কতদূর যায়। আগামী সরকার হয়তো সেটা এসে করতে পারে। আমরা যেহেতু ইনিশিয়েট করে ফেলেছি। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনি প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারই পে স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

    জাতীয় বেতন কমিশন আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিতে চাইছে। একটি সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে নির্বাচিত সরকার।
    বি/এ

  • ঢাকা-ওয়াশিংটন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, ভারতের ঘুম হারাম

    ঢাকা-ওয়াশিংটন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, ভারতের ঘুম হারাম

    ডেস্ক নিউজ:

    সম্প্রতি এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সয়াবিন রপ্তানি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী এক বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করবে।

    ঢাকা-ওয়াশিংটনের এই বিশাল অর্থনৈতিক চুক্তি ভারতের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য হিন্দু জানায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের তেল ও সয়ামিল রপ্তানি এমনিতেই নিম্নমুখী ছিল। এর ওপর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি ভারতের সয়ামিল রপ্তানিকারকদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।

    ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সয়ামিল আমদানিকারক বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে দেশটি। গত অর্থবছরেই বাংলাদেশের বাজারে ভারতের সয়ামিল রপ্তানি ১.৬৩ লাখ টনে নেমে আসে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ কম।

    ভারতের সয়াবিন প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ডি.এন. পাঠক এ বিষয়ে বলেন,

    “বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বল্পমূল্যে প্রচুর সয়াবিন কিনছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ তেলবছরে আমাদের রপ্তানি তীব্রভাবে কমে গেছে। বাংলাদেশ মাত্রই এক বিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তি করেছে, যা আমাদের জন্য স্পষ্ট সংকেত—বাংলাদেশ আর ভারত থেকে এ পণ্য কিনবে না। এটি ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”

    এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন আমদানি করবে।

    এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু খাদ্যনিরাপত্তায় নয়, কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরো মজবুত করেছে, যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক প্রভাবের ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
    সুত্র আমার দেশ
    বি/এ

  • চলনবিলের শুটকি যাচ্ছে দেশ-বিদেশে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

    চলনবিলের শুটকি যাচ্ছে দেশ-বিদেশে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

    বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৎস্যভাণ্ডারখ্যাত চলনবিল এলাকার তাড়াশ ও উল্লাপাড়ায় শুটকি তৈরির ধুম পড়ে গেছে। শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের তিন শতাধিক চাতালে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ দিয়ে শুটকি তৈরির প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৭৫.৮০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    শুটকি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমণ কাঁচা মাছ ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা হয়। তাড়াশের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩ কেজি কাঁচা মাছ থেকে প্রায় ১ কেজি শুটকি তৈরি হয়। উৎপাদিত শুটকি মাছ প্রকারভেদে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি করা হয়।

    ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। সকাল বা বিকেলে স্থানীয় আড়ত থেকে এসব মাছ কিনে এনে চাতালে শুকিয়ে শুটকি তৈরি করা হয়। চলতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রতিটি চাতালে ১০ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন, যার মধ্যে নারীরাই বেশি দক্ষ বলে জানা গেছে।

    চলনবিলে শুটকি তৈরির কাজ শুরু হলেও বাজারজাত হতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে। শুকনো মৌসুমে এসব শুটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। স্থানীয় পাইকাররা জানান, এখানকার উৎপাদিত শুটকির বেশিরভাগই সৈয়দপুর আড়তে যায়।

    তাড়াশ এলাকার শুটকি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও মোফাজ্জল হোসেন জানান, এবার শুটকি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলনবিলে যত্রতত্র পুকুর খনন এবং বন্যা কম হওয়ায় পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বলেন, গত বছর ৩০ থেকে ৩২ মেট্রিক টন শুটকি তৈরি হলেও এবার ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টনের বেশি উৎপাদন সম্ভব নয়।

    চাতালের নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা চরম মজুরি বৈষম্যের শিকার। একজন নারী শ্রমিক দিনে ২৫০ টাকা পান, যেখানে পুরুষ শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা এবং তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু নারী শ্রমিকদের কোনো খাবার দেওয়া হয় না।

    উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাসীর হাছেন আলী বলেন, বর্ষাকালে মাছের আমদানি বেশি হয়। এলাকার হাট-বাজার থেকে মাছ কিনে এনে তারা শুটকি তৈরি করেন। এখানকার শুটকি মাছ সৈয়দপুর, জয়পুরহাট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন মোকাম বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়।

    চাতালের নারী শ্রমিক হাফিজা ও শাহিনুর জানান, সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য তারা মাছ বাছাইয়ের কাজ করেন। দিনে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পান।

    তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকারম হোসেন বলেন, ইতিমধ্যেই শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে এ বছর মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা কম। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

    উল্লাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, বর্তমানে এখানে ৩০–৩৫টি চাতালে শুটকি উৎপাদন চলছে। প্রতিবছর এ উপজেলায় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদিত হয়। এখানকার শুটকির চাহিদা দেশের বিভিন্ন মোকাম বাজারে রয়েছে। উৎপাদিত শুটকি ঢাকা ও নীলফামারীতেও পাঠানো হয়।

    সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শুটকি উৎপাদনের জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত মনিটরিং চলছে। সিরাজগঞ্জের শুটকির চাহিদা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রয়েছে। এখানকার শুটকি নীলফামারী আড়ত হয়ে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।

  • চৌগাছায় জিআই পণ্য খেজুরগুড় সংগ্রহে গাছ কাটা’র উদ্বোধন 

    চৌগাছায় জিআই পণ্য খেজুরগুড় সংগ্রহে গাছ কাটা’র উদ্বোধন 

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের জিআই পণ্য খেজুর গুড়ের রস সংগ্রহের জন্য গাছ কা’টার (গাছ তোলা ও চাচ দেয়া) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
    রোববার (২নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টায় চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুরে গাছ তোলা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার।
    এসময় এসিল্যান্ড প্রকৌশলী তাসমিন জাহান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আনোযারুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা তাসলিমা জেবিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা মাহমুদা, সমবায় কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
    হায়াতপুর গ্রামের গাছি আব্দুর রহমান গাজী গাছ তোলা ও চাচ দেয়া কাজ করেন। তার সাথে গাছি কামাল হোসেনসহ কয়েকজন গাছি ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
    ২০২২ সালে চৌগাছার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানার উদ্যোগে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণে খেজুরগুড়ের মেলা, গাছিদের প্রশিক্ষণ, গাছি সমাবেশ, গাছিদের সমবায় সমিতি গঠন, খেজুর গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই বছর যশোরের বিখ্যাত খেজুর গুড়কে জিআই পণ্যের স্বীকৃতির আবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে খেজুরগুড়কে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দেয় সরকার। সে বছর থেকে প্রতি বছর ১লা মাঘ থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে খাটি খেজুর গুড়ের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও মেলা যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে উপজেলা প্রশসন সূত্রে জানা গেছে।
    বিডিটাইমস/এআর/নিইআর/
  • পদ্মায় ইলিশ ধরায় ৯ জে‌লে গ্রেপ্তার

    পদ্মায় ইলিশ ধরায় ৯ জে‌লে গ্রেপ্তার

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

    মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৯ জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

    মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় পদ্মা নদীর কলাবাগান এলাকা থেকে ৬ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও আনুমানিক ১০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে ইলিশ স্থানীয় দৌলতদিয়া খানকা শরিফের এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা নদীতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ জেলেকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন মতে ২টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালত পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে উদ্ধাকৃত জালগুলো আলামত হিসেবে রাখা হয়েছে।

     

  • বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা!

    বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা!

    বিনিয়োগ ডেস্ক:

    দেশজুড়ে বিনিয়োগের নামে চলছে একের পর এক ভয়াবহ প্রতারণা। অনলাইন কিংবা অফলাইনে, অ্যাপসভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে সব জায়গায়ই লোভনীয় মুনাফার প্রতিশ্রুতিতে প্রলুব্ধ হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কেউ ব্যাংকে, কেউ শেয়ারবাজারে হচ্ছেন নিঃস্ব। অথচ প্রতারক চক্রের বেশির ভাগই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।গত সরকারের পুরো শাসনামলে দুর্নীতিবাজ আর লুটপাটকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল দেশের আর্থিক খাত। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাধারণ মানুষের পুঁজি লুট করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার যোগসাজশে ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার ধ্বংস করে লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মহোৎসবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নিঃস্ব হয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ। আর তাদের সম্পদ লুট করে দেশ-বিদেশে প্রাচুর্যের পাহাড় গড়েছে আওয়ামী রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, আমলাসহ বিভিন্ন লুটেরা গোষ্ঠী।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পপুঁজিতে অল্প সময়ে অধিক লাভের প্রলোভনই এ প্রতারণার প্রধান অস্ত্র। শুরুতে অল্প অঙ্কের বিনিয়োগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লভ্যাংশ দেওয়া হয়, এতে আস্থা পেয়ে বিনিয়োগকারীরা আরো বড় অঙ্কের অর্থ ঢালেন। শুধু নিজে নয়, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনকেও বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন তারা। কিন্তু একসময় প্রতারক চক্র গা-ঢাকা দেয়, আর বিনিয়োগকারীরা হয়ে যান সর্বস্বান্ত।

     কৌশল ব্যবহার হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি জগতে। বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, বাইন্যান্স কয়েনের নামে কোনো নিয়ন্ত্রণ বা বাস্তব ঠিকানা ছাড়াই এসব প্ল্যাটফর্মে মানুষকে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। ফলে বিপুল অর্থ হারানোর পর অভিযোগ জানানোর পথও থাকে না তাদের সামনে।

    ‘সুদবিহীন শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ’—স্লোগানে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে প্রতারকরা। পিরোজপুরের এহসান গ্রুপের প্রতারণা এর বড় উদাহরণ, যেখানে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ। দেশের নানা প্রান্তে ‘হালাল মার্চেন্টিং’, ‘শরিয়াহ কমপ্লায়েন্ট ফার্মিং’ ইত্যাদি নামে একই রকম প্রতারণা চলছে। শুরুতে কিছুদিন নিয়মিত লভ্যাংশ দিলেও একসময় বন্ধ হয়ে যায় সব, বিপুল অর্থ নিয়ে হারিয়ে যায় সংগঠকরা।

    প্রতারণার আরো পথ

    বাংলাদেশে আলোচিত প্রতারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ই-ভ্যালি, ডেসটিনি, ইউনিপে টু ইউ ও যুবক অন্যতম। এরা উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। ডেসটিনি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা, ই-ভ্যালি গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ও পণ্য মিলিয়ে প্রায় ৩৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বিভিন্ন সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা আজও তাদের অর্থ ফেরত পাননি।

    ক্ষুদ্রঋণ ও সমবায়ের নামে গ্রামীণ প্রতারণা

    গ্রামের সহজ-সরল মানুষ, বিশেষ করে নারীরা, প্রতারকদের সহজ লক্ষ্যবস্তু। মাসিক ভিত্তিতে অল্প অল্প চাঁদা সংগ্রহ করার মাধ্যমে প্রথমে তাদের সদস্য বানানো হয়। পরে বড় কোনো রিটার্ন, কিংবা বাড়ি-গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণের লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। এভাবে বিপুল অর্থ হাতে এলে হাওয়া হয়ে যায় প্রতারক চক্র। এমনি একটি সংস্থা বগুড়ার শেরপুরের ‘আশার আলো মালটিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইট’। গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। শুধু এক ‘আশার আলো’ নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণা চলছে বিরামহীনভাবে।

    হাসিনা আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় লুটপাট

    অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশে লুটপাট, দুর্নীতি একটি অতি সাধারণ ঘটনা হলেও শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যেভাবে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, তা বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন। শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও লুটপাটের এমন মাত্রায় পৌঁছায়, যা দেশের আর্থিক খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে পড়েছে, বিনিয়োগকারীরা পাচ্ছেন না কোনো লভ্যাংশও।

    লুটপাটের শিকার হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে এখন একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    শেয়ারবাজারে কারসাজি, বীমা খাতে প্রতারণা

    লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক মদতে তালিকাভুক্ত করা, ভুয়া লেনদেন, বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎÑসব মিলিয়ে আস্থার চরম সংকটে শেয়ারবাজার। শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নিলেও বহু কোম্পানি বছরের পর বছর কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না। অন্যদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটে কারসাজির মাধ্যমে বিভিন্ন চক্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলে তাদের পুঁজি লুটে নিয়েছে। মশিউর সিকিউরিটিজ একটি প্রতিষ্ঠান একাই দেড় হাজার বিনিয়োগকারীর ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় প্রায় দেড় হাজার বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    অন্যদিকে বীমা খাতে প্রতারণা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ২০২৩ সালেই ভুয়া এজেন্ট, গোপন শর্ত, মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ৫০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে। বর্তমানে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার দাবির অর্থ আটকে আছে বিভিন্ন কোম্পানিতে। এসব অর্থ বীমা কোম্পানিগুলো লুটপাট করে হাতিয়ে নিয়েছে। এসব অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

    সর্বগ্রাসী দুর্নীতিই মূল কারণ

    বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, দুর্নীতি এখন সিস্টেমিক রূপ নিয়েছে। ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, প্রশাসন, আদালত সর্বত্রই দুর্নীতি। সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণে নানাভাবে সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক চক্র। তাদের থামাতে না পারলে এসব প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

    সব মিলিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এখন আর আয়ের নিশ্চয়তা নয়—বরং এক অনিশ্চিত ঝুঁকি। যখন রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতারণাকে প্রশ্রয় দেয়, তখন সাধারণ মানুষের সঞ্চয় হয়ে ওঠে লুটেরাদের হাতিয়ার।

    দৈনিক আমার দেশ

  • ছাত্রী কেন্দ্রে ঢুকে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থীর বিশৃঙ্খলা

    ছাত্রী কেন্দ্রে ঢুকে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থীর বিশৃঙ্খলা

    নিউজ ডেস্ক

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ১৫ নম্বর হলে (সাবেক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল) ভোট কারচুপির মিথ্যা অভিযোগ এনে দলবলসহ কেন্দ্রে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা করেছেন ছাত্রদল প্যানেলের ভিপিসহ তার অনুসারীরা। এসময় ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিকে গলা ধাক্কা দেন ছাত্রদল কর্মী জিসান।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও হলের রিটার্নিং অফিসারের সূত্রে জানা যায়, হলে ভোট গ্রহণের সময় আঙুলে যে কালি ব্যবহার করা হচ্ছিল তা মুছে যাচ্ছিল। এজন্য ছাত্রীরা অভিযোগ করেন। এরপর যাদের কালি মুছে যাচ্ছে তাদেরকে জড়ো করা হয়। এসময় হঠাৎ করে বিএনপিপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থীসহ তার অনুসারীরা ১৫ নং হলে প্রবেশ করে। এ সময় ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান সরাসরি কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। অনুসারীসহ কেন্দ্রে প্রবেশ করায় ছাত্রীরা এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও করতে গেলে ছাত্রদল কর্মী জিসান তাকে ঘাড় ধাক্কা দেন। এতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    একপর্যায়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রক্টর এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো ভোট বন্ধ আছে।