.বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নদীর কোল ঘেঁষে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর চর ধারাবর্ষা। যেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছে চরটি। এখানে পা রাখতেই কানে বাজবে শোঁ শোঁ শব্দ। মূলত বাতাসে বিভিন্ন গাছের পাতার নাচনে এমন শব্দ তৈরি হয়।
মাঝেমধ্যে গর্জন করে বিভিন্ন শ্যালো মেশিন চালিত নৌকা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। হালকা শব্দে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে নদীর ঢেউ।
সেই গর্জনের সঙ্গে পাখির কলকাকলি মিশে অন্যরকম এক আবহ সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, সকাল বেলায় পূর্বগগনে নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা রক্তলাল সূর্য, বেলা শেষে পশ্চিম আকাশে তার হেলে পড়ার দৃশ্য উপভোগ করারও অতুলনীয় স্থান চর ধারাবর্ষা। বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি বোহাইল ইউনিয়নের যমুনা নদীতে বন অধিদপ্তরের তও্বাবধায়নে গাছ লাগিয়ে নদীতে জেগে ওঠা চরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে।
প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় করছেন এখানে। যত্নআত্তি করলে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে ধারাবর্ষা। চরটিতে রয়েছে কয়েক লক্ষ গাছ। পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ রয়েছে নানা সংকট। তবু সেই সংকট উপেক্ষা করেই প্রকৃতির নয়নাভিরাম চর ধারাবর্ষা পর্যটকের মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উওরবঙ্গের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এই চর।
খেলায় জেলার ছয়টি উপজেলার দল অংশ নিচ্ছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেলুন উড়িয়ে ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। উদ্বোধনী খেলা ফেনী সদর ও ফুলগাজী উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানায়, টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হবে এক লাখ টাকা। রানার্স-আপ দল পাবেন ৫০ হাজার টাকা। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পাবে ২০ হাজার টাকা। টুর্নামেন্টের ক গ্রুপে রয়েছে পরশুরাম, সদর ও ফুলগাজী উপজেলা, আর খ গ্রুপে আছে ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা। টুর্নামেন্টের প্রতিটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রথমে লীগ পর্ব খেলবে। লীগ পর্ব শেষ করে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচন করা হবে এবং দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা গোলকিপারকে যথাক্রমে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
কলকাতার পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ যাদবপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেত্রী শান্তা পালকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ভারতের ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, গত ২৮ জুলাই বিক্রমগড়ে একটি ফ্ল্যাট থেকে শান্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলছে—কীভাবে তিনি ভারতীয় পরিচয়পত্রগুলো পেয়েছেন।
জানা গেছে, অ্যাপ-ক্যাবের ব্যবসার আড়ালে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন শান্তা। ২০২৩ সাল থেকে যাদবপুরের বিজয়গড়ে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করতেন তিনি।
সম্প্রতি তিনি ঠাকুরপুকুর থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে আবারও ভিন্ন একটি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। শান্তা বাংলাদেশের দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মডেল ছিলেন এবং একাধিক বিউটি কনটেস্টে অংশ নেন।
তার বিরুদ্ধে সন্দেহ বাড়ে গ্রেপ্তারের পরই, এক ব্যক্তির নামে এতগুলো ঠিকানা কীভাবে থাকতে পারে, তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। পরে তাঁর কাছ থেকে একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট, মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রবেশপত্র এবং একটি বিমান সংস্থার আইডি কার্ডও উদ্ধার হয়েছে।
তদন্ত আরও এগিয়ে নিতে পুলিশ জানতে চাইছে—তিনি কী নথি দেখিয়ে আধার ও ভোটার কার্ড পেয়েছেন। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। খাদ্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে রেশন কার্ড সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য।
শান্তা পালের বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল ‘ব্যাচেলর ইন ট্রিপ’ নামের ছবিতে। তিনি কাজ করেছেন একটি তামিল চলচ্চিত্র ‘ইয়েরালাভা’-তেও, যেটির পরিচালক ছিলেন বিশ্বনাথ রাও। এছাড়া বাংলাদেশের একাধিক প্রজেক্টেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
যশোর প্রতিনিধি
যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের আয়োজনে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবের প্রথমবার্ষিকী।
রবিবার (২৭ জুলাই) বিকাল শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজনে ছিল ইতিহাসের পুনর্পাঠ, শহীদদের স্মরণ এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের ডাক।
‘জুলাই বিপ্লব: তরুণ্যের ভাবনা ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ের রক্তাক্ত
ইতিহাস আমাদের জন্য শুধুমাত্র শোক নয়, এটি একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে স্বৈরাচার পতনের বার্তা। এই দিনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের আলোকে আমাদের আগামীর পথ রচনা করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের ফল। সেই ঐক্যই পতিত স্বৈরাচার সরকারকে চরম চাপে ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু আবারও দেশে সেই ফ্যাসিবাদের দোসরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে ঘাপটি মেরে থেকে একই চিত্র ফিরে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদের থেকে সাবধান হতে হবে। আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনামলে বিরোধীদল তথা জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম ও মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছিলÑযা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাকর অধ্যায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ছাত্র জনতা ঐক্যবদ্ধ না থাকে, তাহলে ফের সেই অন্ধকার যুগ ফিরে আসতে পারে। আজ যারা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করছে, ধর্ম-বর্ণ-পেশা-রাজনীতির নামে সংঘাত ছড়াচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ঘাপটি মেরে বসে থাকা স্বৈরাচারীদের ভুলে গেলে চলবে না। যারা শহীদ হয়েছেন, যারা রক্ত দিয়ে আন্দোলনকে রাঙিয়ে দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগকে মনে না রাখলে জাতি অকৃতজ্ঞের কাতারে পড়বে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন শহীদ আব্দুল্লাহর গর্বিত পিতা আব্দুল জব্বার। তিনি কণ্ঠ ভার করে বলেন, আমার ছেলে জীবনের বিনিময়ে জাতিকে কিছু দিতে চেয়েছিল। আজ আমি গর্বিত যে তার সেই আত্মদান বৃথা যায়নি। কিন্তু আমি চাই, শহীদদের নাম যেন শুধু ব্যানারে না থাকে, তাদের আদর্শ যেন বাস্তবে রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান, ন্যাশনাল ডক্টরস ফ্রন্ট-এর সভাপতি ডা. শরফুজ্জামান রঞ্জ, ছাত্র প্রতিনিধি সামিউল আলম শিমুল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন যশোর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক এবং সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজা।
আলোচনার পরপরই এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শহীদদের স্মরণে গান, আবৃত্তি ও নাট্যাংশ পরিবেশিত হয়। পুরো মিলনায়তন উপস্থিতি সকলে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
আট বছর পর অ্যালবাম আনার ঘোষণা দিল নেমেসিস। ২৩ মে প্রকাশ পাবে ব্যান্ডটির চতুর্থ অ্যালবাম ভিআইপি। ব্যান্ডের ভোকালিস্ট ও গিটারিস্ট জোহাদ রেজা চৌধুরী জানান, অ্যালবামে ‘ভিআইপি’, ‘ঘুম’, ‘ডাক’, ‘মায়া’, ‘তোমার চেহারা’সহ ১০টি গান থাকবে। অ্যালবামের ‘ঘোর’ ও ‘ভাঙা আয়না’ শিরোনামের দুটি গান আগেই প্রকাশিত হয়েছে।
স্পটিফাই, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১০টি গান একসঙ্গে প্রকাশ করবে নেমেসিস। অ্যালবামটি নিয়ে জোহাদ রেজা চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রায়ই ভিআইপি কালচার দেখি, রাস্তাঘাটে বের হলে ভিআইপিদের জন্য অপেক্ষা করতে হয়; ট্রাফিকে আটকে থাকতে হয়। প্রতিদিন কেউ না কেউ ভুক্তভোগী হন। ভিআইপি কালচার নিয়েই “ভিআইপি” গানটি করেছি।’
অ্যালবামের ধরন নিয়ে জোহাদ বলেন, ‘সাউন্ডওয়াইজ আরেকটু নিরীক্ষা করার চেষ্টা করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি ইলেকট্রনিক মিউজিক খুব পছন্দ করি। তাই সেই সাউন্ডগুলো নতুন গানে যুক্ত করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটা গান লিরিক অনুযায়ী আরও বেশি আপন মনে হয়েছে। কারণ, এসব গানের বেশির ভাগই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বানানো। ২৫ বছর ধরে নেমেসিস আছে, তাই আরেকটু নিরীক্ষাধর্মী কাজ না করলে নিজেদের মধ্যে অনুতাপ থেকে যাবে ভেবেছি।’
১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে নেমেসিস। ২০০৫ সালে আসে তাদের প্রথম একক অ্যালবাম অন্বেষণ। ২০১১ সালে দ্বিতীয় অ্যালবাম তৃতীয় যাত্রা। ২০১৭ সালে গণজোয়ার। ‘বীর’, ‘নির্বাসন’, ‘তৃতীয় যাত্রা’, ‘এগিয়ে যাও’, ‘গণজোয়ার’সহ বেশ কয়েকটি গানের জন্য শ্রোতাদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে নেমেসিস।
বর্তমানে নেমেসিসের সদস্য পাঁচজন। লাইনআপ হচ্ছে জোহাদ রেজা চৌধুরী (ভোকাল ও গিটার), রাফসান (গিটার), ইফাজ (গিটার), রাতুল (বেজ গিটার) ও জেফ্রি (ড্রামস)।
টকটকে লাল ট্রেনটা অন্তত দুবার ঘুরে গেল আমাদের সামনে দিয়ে। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমাদের একটা আইসক্রিম খাওয়া শেষ। আরেকটি খাব? এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গরমও লাগছে। আইসক্রিমের লাইনে বিরাট লম্বা ভিড়। ট্রেনে চড়ার লাইনেও। কোনটা ধরব? টরন্টো শহরে লাইনে না দাঁড়িয়ে কোনো কিছু করার মতো অর্বাচীন আছে কে?
তৃতীয়বারও ট্রেনটা একদম যাত্রীভর্তি হয়ে আমাদের স্টপেজে এল, আর এখান থেকে কোনো যাত্রীই নিল না। টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে আছে এক জেন-জি। ‘আমি কী করব’-জাতীয় ভাব ধরে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে সে।
আমার বন্ধু ফারজানা শাহরিনের জেদ চেপে গেল। ‘তুই এইখানে দাঁড়া, কাহিনি কী দেখে আসি,’ বলে আমি তার পিছু নেওয়ার আগেই জ্যাকেট, ব্যাগসহ ছুট দিলাম সামনে। ওখান থেকে ফোনে জানাল আসল কাহিনি। ওটা প্রথম স্টপেজ। সেখান থেকেই একদম ভরে পরের স্টপেজগুলোয় আসছে। এটাও কি সম্ভব! ওরা সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী তুলবে না! মতিঝিল কিংবা ফার্মগেটের কন্ডাক্টর হলে এমনটা করতে পারত! আর আমাদের এত কষ্ট করে ট্রেনে ওঠার কী দরকার! চেরি তো আমরা দেখেই ফেলেছি। আর ট্রেনে কি জীবনে উঠিসনি। আমরা তো ট্রেনে যমুনা ব্রিজ পার করেছি, কতবার আমার মা-খালারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পার করেছে…আর কানাডার এই খেলনা ট্রেন… ‘দৌড় দিয়ে এই স্টপে আয়। ট্রেন প্রায় চলে এসেছে,’ শাহরিনের শীতল কণ্ঠ শুনে আমি আর তর্ক করার সাহস পেলাম না।
গিয়ে শুনি ওখানেও এতক্ষণ ছিল এক জেন-জি। এই স্টপেজেই ট্রেন ভরে গেলে পরের স্টপেজে মানুষ উঠবে কীভাবে, এ নিয়ে তার হেলদোল নেই। যাক, বুদ্ধি করে প্রথম স্টপেজে এসে ট্রেন ধরব আর পরের স্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর দিকে ‘কানাডিয়ান নাইসনেস’ দেখিয়ে বেশ একটা সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকাব, একটু মাথা নেড়ে ‘সরি’ বলার ভঙ্গি করব, এসব ভেবে ভালো লাগছে। এর মধ্যে জেন-জির শিফট শেষ হলো। এলেন বুমার আর মিলেনিয়ালের মাঝামাঝি এক নারী। ট্রেন এলে কয়েকটা সিট ভরলে তিনি রীতিমতো দরজা আগলে ‘নো, নো, নেক্সট ট্রেন’ করতে থাকলেন।
আমরা এসেছি টরন্টোর হাই পার্কে চেরি ব্লসম দেখার মৌসুমে। সকালে-বিকেলে জ্যাকেট লাগে, আবার দুপুরে কটকটে রোদ। কানাডার আবহাওয়ার মুড সুইংয়ের সময় এটা। অবশ্য তৈরি হয়েই এসেছি আমরা। জ্যাকেটের নিচে পছন্দের পোশাক, ব্যাকপ্যাকে পানি।
লাল টুকটুকে ছোট্ট একটা ট্রেন। বড়জোর ১৫-২০ জন বসতে পারে। লাল লাল বেঞ্চ। ট্রেন বলাও যায় না বোধ হয় একে। ট্র্যাক নেই কোনো। চারপাশ খোলা। টরন্টো শহরের মধ্যে হাই পার্কটা এত বিশাল, ট্রেনে চড়ে একবারে ঘুরে দেখার জন্যই রয়েছে এটা। এটুকু ট্রেনে ওঠার জন্য এত পাগল হওয়ার কী আছে! এ তো শিশুপার্কের ট্রেনের চেয়েও ছোট! আমরা আন্তনগর ভেজে খেয়ে ফেলার দেশের মানুষ। আমার বন্ধুর এই ট্রেন ব্যাকুলতার কোনো ব্যাখ্যা নেই।
তবে সিটি বাজিয়ে সত্যিই যখন ট্রেনটা চলা শুরু করল, মুখে লাগল হাই পার্কের ঘাস-মাটি আর দূর থেকে আসা কোনো ফুলের মিষ্টি গন্ধ—আমি আমার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে হাসলাম যার অর্থ, ‘ইটস টোটালি ওয়ার্থ ইট।’ পাল্টা হাসিতে সে-ও বুঝিয়ে দিল, ‘জানতাম।’ স্কুলজীবনের বন্ধুদের তো আর সব মুখে বলে বোঝাতে হয় না!
দুই-তিন স্টপেজ পরেই আমরা নেমে গেলাম। ছবি তুলতে হবে তো! ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বড় ক্যামেরা, ট্রাইপড, বিরাট বিরাট লাইট নিয়ে ছবি তুলতে এসেছে মানুষ। বড় গাছগুলোর সামনে বেজায় ভিড়। আমরা ধারেকাছেই যেতে পারছি না। এরপর ঠিক করলাম আমাদের তো গাছ দরকার নেই। লাগবে চেরি ফুলের বড়সড় কয়েকটা ছড়া। একটু ফাঁকা দেখে ছোট একটা গাছ খুঁজে বের করে জ্যাকেট-ব্যাগ মাটিতে রেখে ছবি তোলা শুরু করলাম। পরে দেখি অনেকেই এই বাঙালি বুদ্ধি খাটানো শুরু করল। ছোট গাছের সামনেও ভিড় জমতে থাকল। আমরা ফোন চেক করলাম। অন্তত পাঁচটা ছবি হয়েছে না পোস্ট করার মতো! আবার চোখাচোখিতে যোগাযোগ, ‘ডান! চল এবার খেতে যাই।’
ওগো বিদেশিনী/ তোমার চেরি ফুল দাও/ আমার শিউলি নাও
চেরি ফুলের ছবি পোস্ট করেছি আর এই কথাটুকু কেউ মন্তব্যে লেখেনি, আজ পর্যন্ত তা ঘটেনি। এই গান আমার আগে শোনা হয়নি। ব্যাপারটা কী। একবার ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখলাম। লাল মেমসাহেব সিনেমার গান। প্রয়াত শিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরের গাওয়া গান। অভিনয়ে অলিভিয়া ও ওয়াসিম।
পুরো গানটা শুনে বুঝলাম চতুর্থ লাইনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওগো বিদেশিনী তোমার চেরি ফুল দাও আমার শিউলি নাও দু’জনে প্রেমে হই ঋণী
চেরি ফুল নিয়ে এত সুন্দর গান কি জাপানেও হয়েছে? আমি হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে পড়ি। একদল আছে না, যাদের বিদেশের সবকিছুই ভালো লাগে। আরেক দল যা-ই দেখে মুখ বাঁকা করে বলে এ তো আমাদের দেশেই আরও ভালো পাওয়া যায়!
শিউলির সঙ্গে চেরির অদলবদল? নাহ আমি মনে হয় রাজি হতাম না। এক, চেরি ফুলের স্থায়িত্ব খুব কম। মার্চ-এপ্রিল-মে বলা হলেও গোটা বছরে বড়জোর সপ্তাহ চারেক থাকে এই ফুল। আর তার চেয়েও বড় কথা, আমি আসলে আজ অবধি বুঝিইনি এর হালকা গোলাপি থেকে সাদার মাঝের নরম, খুব সূক্ষ্ম সৌন্দর্য। আমরা তো আগুনরঙা ফুলের দেশের মানুষ—কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, জবা, রক্তকরবী, জারুল। আমাদের হালকা রঙের ফুলগুলোও তীব্র সুগন্ধে জানান দেয় তার উপস্থিতি—শিউলি, বকুল, হাসনাহেনা, কামিনী। অত নরম, পলকা, ‘এসেই বলে যাই যাই’ চেরিতে আমাদের পোষায় নাকি!
ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইছবি: রুহিনা তাসকিন
তবে কানাডার সরকার কিন্তু এই গানের কপিরাইট নিয়ে অনুবাদ করে কাজে লাগাতে পারে। কানাডার চেরি ফুল সব জাপানের উপহার দেওয়া। বন্ধুত্ব-সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে। এর বদলে কানাডাও কিন্তু গান গেয়ে ধন্যবান জানাতে পারে। কানাডার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গাইছেন—ওগো বিদেশিনী তোমার চেরি ফুল দাও/ আমার মেপল নাও। দারুণ না ব্যাপারটা!
শহরের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা
‘ছয় টাকা ভাড়া। যাবেন?’ ‘ওঠেন।’ রিকশাওয়ালার এই কথা শুনলেই আমার খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করত। তার মানে আমরা বড় খালার বাসায় যাচ্ছি। আর খালার বাসায় যাওয়ার পথেই পড়বে সেই রাস্তাটা। জানি, তা-ও জিজ্ঞেস করতাম, ‘আমরা কি ওই রাস্তাটা দিয়ে যাব?’ অনেক পরে জেনেছি, ওই রাস্তাটা হলো শহীদ মিনার থেকে নীলক্ষেত। লাল কৃষ্ণচূড়া কিংবা রাধাচূড়ায় ভরা। আমি আজও এই দুই ফুলের পার্থক্য মনে রাখতে পারি না।
শহীদ মিনারের দিকে এগোতে থাকলেই আমরা রিকশার হুড ফেলে দেব। আম্মা শক্ত করে ধরে রাখবেন চার-পাঁচ বছরের আমাকে। আমাদের মাথার ওপর ছাউনি হয়ে থাকবে অজস্র লাল কৃষ্ণচূড়া কিংবা রাধাচূড়া। আমার মাথার ওপর টুপটুপ করে ঝরবে কিছু পাপড়ি। আম্মা সাবধানে সরিয়ে দিয়ে আমার ক্লিপ দিয়ে চুল ঠিক করে দেবেন। এরপর ওই রাস্তাই একরকম আমার ঘরবাড়ি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। কতবার হেঁটে, রিকশায় পার করেছি শৈশবের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তাটা। তখন আর তা সবচেয়ে সুন্দর মনে হতো না। জ্যাম পড়লে বিরক্ত হতাম, ক্লাস ধরার তাড়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার বিরক্তি। আম্মাকেও কোনো দিন বলিনি, মা চলো তোমাকে হুডখোলা রিকশায় আমার ক্যাম্পাস দেখিয়ে আনি।
প্রতিবছর কানাডায় আমি আর শাহরিন চেরি ব্লসম দেখতে যাই। ওর ডাকনাম তিসি, আর আমার শামা। সময় অনুযায়ী চেরি ফুলের রং বুঝে একই রকম কাপড় পরে তিসি আর শামা চেরি ব্লসম দেখতে যাবেই। এ বছর চেরি ব্লসমের সময়টা আমি কানাডায় নেই। তিসি অনেকবার টেক্সট দিয়েছে, ‘তুই আসলি না, আমরা চেরি দেখতে যাব না?’
অন্য সময় হলে হয়তো আমার খারাপ লাগত। কিন্তু এবার ওর সঙ্গে আছে ছোট্ট আরিশা। স্ট্রলারে করে আরিশাকে নিয়ে ও ঠিকই যাবে হাই পার্ক। আরিশা ফুল দেখার চেয়ে রঙিন আইসক্রিমের দিকেই তাকিয়ে থাকবে। ওর কপালে এসে পড়বে চেরির পাতলা পাপড়ি। তিসি আলতো হাতে তুলে নিয়ে ক্লিপ দিয়ে ওর চুলটা ঠিক করে দেবে। ওরা হয়তো পার্ক থেকে ভিডিও কল দেবে আমাকে। আমি না থাকলেও আরিশার সঙ্গে লাল টুকটুকে ট্রেনে চড়ে মা-মেয়ে এবার চেরি ব্লসম দেখবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, পেশাগত মর্যাদা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৭ হাজার চিকিৎসককে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি চিকিৎসক ও সার্জনদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির (ওএসবি) ৫২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
এ সময় নূরজাহান বেগম বলেন, ‘চিকিৎসকদের পেশাদারত্ব ও আত্মত্যাগকে আমরা মূল্য দিই। দীর্ঘদিন ধরে অনেক চিকিৎসক তাঁদের ন্যায্য পদোন্নতি ও বেতনকাঠামো পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে বড় পরিসরে পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই, চিকিৎসকেরা উৎসাহ নিয়ে দায়িত্ব পালন করুন।’
বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির আহ্বায়ক শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর শাহিনুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন প্রমুখ।
তিন দিনের এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি চক্ষুবিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।
চানা বুট বেশ স্বাস্থ্যকর খাবার। কোনো এক বেলার স্ন্যাকস তো বটেই, রাতের খাবারের বিকল্পও হতে পারে এক কাপ চানা বুট। চানা বুটে আছে আমিষ, শর্করা এবং দেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ উপাদান। আরও আছে পর্যাপ্ত আঁশ। এ সম্পর্কে জানালেন টাঙ্গাইলের সরকারি কুমুদিনী কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শম্পা শারমিন খান।
ওজন নিয়ন্ত্রণ
পর্যাপ্ত আঁশ ও আমিষ থাকায় চানা বুট খেলে আপনার সহজে ক্ষুধা লাগবে না। আবার এতে শর্করাও পাবেন। অর্থাৎ কর্মক্ষম ও সতেজ থাকার জন্য আপনি পর্যাপ্ত ক্যালরিও পাবেন তা থেকে। বুঝতেই পারছেন, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে রোজ চানা বুট খেতে পারেন। এভাবে ওজন কমানো সহজ হবে।
আঁশের উপকার এখানেই শেষ নয়
পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে কোষ্টকাঠিন্য এড়ানো সহজ। রক্তের খারাপ চর্বি কমাতেও কাজে আসে এই আঁশ। তা ছাড়া আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে হুট করে রক্তের সুগার বেড়ে যায় না, যেমনটা বাড়ে সাদা ভাত খেলে। চানা বুটের মতো আঁশযুক্ত খাবার খেলে রক্তের সুগার বাড়ে ধীরে ধীরে, স্বাস্থ্যকরভাবে।
খনিজ উপাদানের উপকার অনেক
চানা বুটে আছে ম্যাঙ্গানিজ, কপার, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও সেলেনিয়াম। চুল ও ত্বক সতেজ রাখার জন্য তো বটেই, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য এসব উপাদান আমাদের প্রয়োজন রোজ। এসবের মধ্যে জিংক ও সেলেনিয়াম অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তার মানে তারুণ্য ধরে রাখতেও কাজে আসে এসব উপাদান। তা ছাড়া চানা বুটে আরও আছে সামান্য পটাশিয়াম ও আয়রন। তবে এই আয়রন দেহের কাজে লাগানোর জন্য এর সঙ্গে চাই ভিটামিন সি। অর্থাৎ টক ফল বা ফলের রসের সঙ্গে খেলে তবেই এই আয়রন কাজে লাগবে। হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতার জন্য সঠিক মাত্রায় পটাশিয়াম জরুরি। আয়রন রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক। তবে কেবল এক কাপ চানা বুটের আয়রনের ওপর নির্ভর করে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
বিকল্প আমিষ
চানা বুটে যে আমিষ থাকে, তা দেহের আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। তবে এটি উদ্ভিজ্জ আমিষ হওয়ায় একে দ্বিতীয় শ্রেণির আমিষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, উদ্ভিজ্জ আমিষে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে না। সুস্থ থাকতে সারা দিনে চানা বুটের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও আমিষ গ্রহণ করতে হবে। আপনি চাইলে এক কাপ চানা বুটের সঙ্গে একটা সেদ্ধ ডিম কুচি করে যোগ করে নিতে পারেন। ডিম প্রাণিজ আমিষ বলে তা প্রথম শ্রেণির আমিষ। অর্থাৎ এতে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব কটি অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে। চানা বুটে যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো নেই, সেসবের ঘাটতি মেটানো যায় এভাবে। অর্থাৎ চানা বুটের সঙ্গে ডিম যোগ করলে আমিষের মোট পরিমাণও বাড়ে, আবার আমিষের গুণগত মানও বাড়ে।
খেয়াল রাখুন
চানা বুটে টক ফলের রস যোগ করলে আপনি ভিটামিন সির উপকারও পাবেন।
কাঁচা সবজি যোগ করলে পাবেন ভিটামিন বি।
চানা বুট সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো। তেল যোগ করা হলে ক্যালরির মাত্রা বেড়ে যাবে। তাতে ওজন নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হবে।