ক্যাটাগরি ইসলামী বিশ্ব

  • ১১ মাসে কোরআনের হাফেজ নাঙ্গলকোটের দশ বছরের শিশু মুনতাসির

    ১১ মাসে কোরআনের হাফেজ নাঙ্গলকোটের দশ বছরের শিশু মুনতাসির

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মাত্র ১১ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আবদুল্লাহ আল মুনতাসির নামে দশ বছর বয়সী এক শিশু। এ বয়সে অনেকেরই ত্রিশ পারা কোরআন মুখস্থ করা অসম্ভব হলেও মুনতাসিরের পক্ষে তা সম্ভব হয়েছে।

    এতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে ফুলের মালা ও পাগড়ি পরিয়ে দেয়। এছাড়াও তার হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ ক্বারি ফয়সাল মাহমুদকে পুরস্কৃত করা হয়।

    শিশু হাফেজ আবদুল্লাহ আল মুনতাসির উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের পিপড্ডা গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী মুহাম্মদ খুরশীদ আলমের ছেলে। খুরশীদ আলমের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মুনতাসির সবার ছোট।

    দেড় বছর আগে নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের চারিজানিয়া নেছারিয়া হামীদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নাজেরা শুরু করে মুনতাসির। ৭৫ জনের মধ্যে নাজেরা শেষ করে ১১ মাসে পুরো ৩০ পারা কোরআন শরিফ মুখস্থ করে হাফেজ হয় সে।

    শিশু হাফেজ আবদুল্লাহ আল মুনতাসির জানায়, বিশ্ব বিখ্যাত আলেম হয়ে ইসলামের খেদমত করা, মা-বাবা ও প্রিয় শিক্ষকদের নাম যেন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া যায় এটা এখন তার স্বপ্ন। সবার কাছে দোয়া চায় এই শিশু হাফেজ।

    হাফেজ মুনতাসিরের মা কামরুজ্জাহান রুমি জানান, তার ছোট সন্তান আবদুল্লাহ আল মুনতাসির মাত্র ১১ মাসে ৩০ পারা কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হয়েছে। ভবিষ্যতে তার স্বপ্ন সন্তানকে অনেক বড় আলেম বানানোর। তাই দেশবাসীসহ সবার কাছে দোয়া চান মা।

    চারিজানিয়া নেছারিয়া হামীদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ ক্বারি ফয়সাল মাহমুদ কালবেলাকে বলেন, আবদুল্লাহ আল মুনতাসির কোরআনে হাফেজ হওয়ার পেছনে তার অনেক চেষ্টা ও মেহনত থাকায় হাফেজ হওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে শিক্ষকদেরও মেহনত রয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কবুল করায় ১১ মাসে হাফেজ হতে পেরেছে মুনতাসির। সূত্রঃকালবেলা

    এআর/এনই

  • ‘ভিন্ন ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানো সমাজের মানদণ্ড হওয়া উচিত’

    ‘ভিন্ন ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানো সমাজের মানদণ্ড হওয়া উচিত’

    ডেস্ক নিউজঃ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব সমাজে ধর্মীয় সহাবস্থান নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

    তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত সমাজে পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই হওয়া উচিত প্রধান নীতি।

    পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে, রাষ্ট্রে যখন ভিন্ন ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মানুষ একসাথে বসবাস করে; তখন এক ধর্মের লোক আরেক ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাবেন এবং পাবলিকলি অবমাননাকর/ডেরোগেটরি কোনো মন্তব্য করবেন না— এইটাই নর্ম হওয়া উচিত। অন্যথায় সহাবস্থান বিঘ্নিত হবে এবং সমাজে অ্যানার্কি তৈরি হবে। 

    ধর্মীয় বিশ্বাস, শিক্ষা, এবং নবী-রাসূলের প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধাবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেন, মূর্খ এবং ইতরের মতো এইটাকে আঘাত করা কোনো বাকস্বাধীনতা না, বরং অত্যন্ত নিচু স্তরের অসভ্যতা। এই অসভ্য কাজ যে কোনো সভ্য সমাজে নৈতিক জায়গা থেকে নিন্দাযোগ্য এবং আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।

    আর আই খান

  • লবণাক্ততার  ঝুঁকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ

    লবণাক্ততার ঝুঁকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ

    ডেস্ক নিউজঃ

    ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে দ্রুত ক্ষয়ের মুখে পড়েছে। মসজিদের দেয়াল, গম্বুজ, স্তম্ভ ও বিশেষ করে মিহরাবে ফাটল, চুন খসে পড়া এবং সাদা লবণের স্তর স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। নিচ থেকে উঠে আসা নোনা পানি ইটের ভেতরে লবণ ক্রিস্টাল তৈরি করে স্থাপনার মূল গঠন দুর্বল করে দিচ্ছে।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি এবং আইকমসের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে—তাপমাত্রা বৃদ্ধি, শিল্প দূষণ, বর্ষাকালের আর্দ্রতা এবং ভূগর্ভস্থ লবণাক্ততা ক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করছে।

    ঐতিহাসিক স্থাপনাটির জরুরি সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সাবেক ডিজি ড. মো. শফিকুল আলমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, মিহরাব যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাথর খণ্ড যুক্ত রাখতে ব্যবহৃত লোহার ক্ল্যাম্পে জং ধরায় ভার বহনক্ষমতাও কমে গেছে।

    আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ইউনেস্কোর সহায়তায় মসজিদের পূর্ণ ক্ষয়-মানচিত্র তৈরি করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে দ্রুত সংরক্ষণ-কাজ শুরু করা হবে। ইউনেস্কো ঢাকার পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক সংরক্ষণ কাজেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ষাটগম্বুজ মসজিদকে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য’ ঘোষণা করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—যা দেশের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

    আর আই খান

  • ধর্ম থেকে রাজনীতি বিচ্ছিন্ন করলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে: ধর্ম উপদেষ্টা

    ধর্ম থেকে রাজনীতি বিচ্ছিন্ন করলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে: ধর্ম উপদেষ্টা

    ডেস্ক নিউজঃ

    ধর্ম থেকে রাজনীতি বিচ্ছিন্ন করলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ টিকে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ইমাম খতিব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা রাজনীতিকে সমাজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করতে চাই। আমাদের রাজনীতি, সমাজ, কূটনীতি সব জায়গায় আমরা একটা ধর্মীয় আবেগ জাগ্রত করতে চাই। ধর্ম বাদ দিলে আমরা যেকোনো সময় বিপদে পড়তে পারি।

    ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গণতন্ত্র হোক, রাজতন্ত্র হোক, ধর্ম থেকে রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা যদি আলাদা হয় এবং ধর্ম থেকে বিশ্লেষণ যদি আলাদা হয় তাহলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে।তিনি বলেন, দায়িত্বশীলদের অনুরোধ করব ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও খাদেমদের জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় সম্মানজনক বেতন এবং উৎসব ভাতা প্রদান করবেন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ মুফতি শামীম মজুমদার, মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ তারেকী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আশেকুর রহমান প্রমুখ।

    আর আই খান

  • যে গোনাহের কারণে ভূমিকম্পে ধ্বংস হয় কোরআনে বর্ণিত সেই জাতিটি

    যে গোনাহের কারণে ভূমিকম্পে ধ্বংস হয় কোরআনে বর্ণিত সেই জাতিটি

    ডেস্ক নিউজঃ

    শহিদুল ইসলাম কবির
    ইতিহাসের পাতা এবং কোরআনের আদ্যোপান্ত বিবরণে মানবজাতির সামনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে বহু জাতির উত্থান-পতনের গল্প। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সঠিক পথের প্রতি আহ্বান করা এবং অবাধ্যতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা। এমনই একটি জাতি হলো কওমে সামূদ, যাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভয়াবহ ভূমিকম্প ও প্রচণ্ড ধ্বনির মাধ্যমে ধ্বংস করেছিলেন। কওমে সামূদ ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী একটি জাতি। পাহাড় কেটে তারা ঘরবাড়ি নির্মাণ করত, উন্নত নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্যের জন্য তারা প্রসিদ্ধ ছিল। আল্লাহ তাদের কাছে হযরত সালেহ আ:-কে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহর একত্ববাদে ডেকে আনলেন, অন্যায়-অবিচার পরিহার করতে বললেন এবং আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানালেন। কিন্তু এই জাতির অধিকাংশ মানুষ নবীর ডাকে সাড়া না দিয়ে উল্টো তাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দেয়।

    আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়—মিরাকল উষ্ট্রী। এটিকে কষ্ট দেয়া বা হত্যা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বিদ্রোহী সম্প্রদায় নবীর সতর্কতা অমান্য করে ওই উষ্ট্রীকে হত্যা করে। এটাই ছিল তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নাজিল হওয়ার কারণ।

    পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, তাদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ ভূমিকম্প (আর-রজফাহ) এবং আকাশবিদারী প্রচণ্ড ধ্বনি (আস-সাইহাহ)। মুহূর্তের মধ্যেই তারা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাদের বিলাসী জনপদ এক ভয়াল নিস্তব্ধতায় পরিণত হয়। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এ ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে—

    ‘অতঃপর তাদেরকে ভূমিকম্প গ্রাস করল; ফলে তারা তাদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।’ (সূরা আল আ’রাফ, আয়াত : ৭৮)

    ‘ভয়াবহ শব্দ তাদেরকে গ্রাস করল; তারা তাদের ঘরে মুখ থুবড়ে পড়ে রইল।’ (সূরা হুদ, আয়াত : ৬৭)

    কওমে সামূদের এই পরিণতি মানবইতিহাসে সতর্কবার্তা হিসেবে চিরস্মরণীয়। উন্নয়ন, শক্তি কিংবা সম্পদ কাউকে রক্ষা করতে পারে না, যদি ন্যায়-নীতি, সত্য এবং আল্লাহর নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে যায়।আজকের পৃথিবীতেও ভূমিকম্পসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষ যত শক্তিশালীই হোক, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছার কাছে সে সর্বদাই অসহায়। কওমে সামূদের ঘটনা তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়; বরং মানুষের জন্য নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা।

    সাম্প্রতিক সময়ে ৩১ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪টি ভূমিকম্পের ঘটনা আমাদেরকে সতর্ক করিয়ে দিয়েছে। তাই আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে মহান আল্লাহর হুকুম-আহকাম মেনে চলতে হবে এবং রাসূলে কারীম সা:-এর দেখানো পথে বাকি জীবন পরিচালনা করতে আবারো অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। অতীতের গুনাহের থেকে পরিত্রাণ পেতে অধিক পরিমাণে তাওবা ইস্তেগফার পড়ার অভ্যাস করতে হবে।

    লেখক : সম্পাদক, মাসিক মদীনার পয়গাম

  • হামাসের পাঁচ শীর্ষ সদস্যকে হত্যা ইসরাইলের

    হামাসের পাঁচ শীর্ষ সদস্যকে হত্যা ইসরাইলের

    ডেস্ক নিউজঃ

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় শনিবার গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য হামাসকে দায়ী করেছে। কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, হামাসের হামলার জবাবে ইসরাইলি বাহিনী তাদের পাঁচজন ‘শীর্ষ সদস্যকে’ হত্যা করেছে।

    এক্সে প্রকাশিত পোস্টে জানানো হয়েছে, গাজায় যেসব এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনারা পিছু হটে ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত নিরাপত্তা সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে, হামাসের হামলাটি ঘটেছে সেই অঞ্চলের মধ্যেই। ইসরাইল দাবি করছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুসারে এসব এলাকা শান্ত থাকার কথা ছিল, কিন্তু হামাসের আক্রমণ পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে। ইসরাইলের বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ হামাস আবারও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে, ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে একজন সন্ত্রাসী পাঠিয়ে আইডিএফ সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইসরাইল পাঁচজন শীর্ষ হামাস সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।”

    নেতানিয়াহুর কার্যালয় আরো দাবি করে, ইসরাইল এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলেছে, তবে হামাস তা করেনি। তারা মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানায় যেন হামাসকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে বাধ্য করা হয়।

    আর আই খান

  • মনগড়া মতবাদ সমাজে শান্তি ও সম্মান দিতে পারবে না

    মনগড়া মতবাদ সমাজে শান্তি ও সম্মান দিতে পারবে না

    ডেস্ক নিউজঃ

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মসজিদে নববীকে কেন্দ্র করে মহানবী (সা.) যে সমাজ গড়ে তুলেছিলেন, সেই সমাজ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভাল ও মর্যাদার। সেই সমাজ বাদ দিয়ে মনগড়া কোন মতবাদের গড়া সমাজ শান্তি ও সম্মান কোনটাই দিতে পারবে না।

    তিনি বলেন, এদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে। তারা কোরআন মানে, রাসুল (সা.) কে শেষ নবী মানে। তাই এদেশের আইন চলবে কোরআনের মতবাদে ইনশাআল্লাহ। এই জায়গায় যতদিন দেশ না আসবে, ততদিন মানবিক সমাজ কায়েম করতে পারব না।

    তিনি রোববার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শীর্ষ আলেমরা বক্তব্য রাখেন।

    কোরআনের আইন চালু হলে অন্য ধর্মের মানুষের কি হবে এমন প্রশ্ন উঠতে পারে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কোরআন শুধু মানুষ নয় সব সৃষ্টির অধিকার দিয়েছে। মদীনায় যেমন সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ভোগ করেছে, আমাদের দেশেও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা হলে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

    জামায়াত আমির বলেন, মসজিদ কমিটি হবে ইমাম-খতিবদের পরামর্শের ভিত্তিতে। কমিটির প্রাণপুরষ হবেন খতিব-ইমামরা। তাদের বাদ নিয়ে নয়, সহযোগিতার ভিত্তিতে কমিটি হতে হবে।

    তিনি ইমাম-খতিবদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার আমাদের ইমাম। আমরা আপনাদের সম্মান দেখাতে চাই। সমাজের ফয়সালা মেম্বার থেকে আসবে ইনশাআল্লাহ। ইমামরা যেদিন সমাজের ইমাম হবে সেদিন আমাদের মুক্তি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আর আই খান

  • কোরআন-হাদিসে ভুমিকম্প  সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

    কোরআন-হাদিসে ভুমিকম্প সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

    বিডিনিউজ ডেক্স : পৃথিবীতে প্রাকৃতিক যত দুর্যোগ রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে ভূমিকম্প। কারণ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেলেও ভূমিক্ম্প এর ব্যতিক্রম। ভূমিকম্পের আগে কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। ফলে এতে ব্যাপক জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসলামিক দৃষ্টিতে ভূমিকম্প মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের সতর্কবার্তা। এমন দুর্ঘটনার সময় মানুষের উচিত মহান আল্লাহর কাছে অতি দ্রুত তাওবা করা। তার কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা। মহান আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা ও তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

    মানুষকে সতর্ক করে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘জনপদের অধিবাসীরা কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার আজাব (নিঝুম) রাত তাদের কাছে আসবে না, তারা (গভীর) ঘুমে (বিভোর হয়ে) থাকবে!’ (সুরা আরাফ: ৯৭)

    বান্দার অপরাধ ক্ষমা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা: ৩০)

    পবিত্র কোরআনে ভূমিকম্প বিষয়ে ‘যিলযাল’ এবং ‘দাক্কা’ শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘যিলযাল’ অর্থ হচ্ছে একটি বস্তুর নড়াচড়ায় আরেকটি বস্তু নড়ে ওঠা। ‘দাক্কা’ অর্থ হচ্ছে প্রচণ্ড কোনো শব্দ বা আওয়াজের কারণে কোনো কিছু নড়ে ওঠা বা ঝাঁকুনি খাওয়া।

    বান্দার অপরাধ ক্ষমা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা: ৩০)

    পবিত্র কোরআনে ভূমিকম্প বিষয়ে ‘যিলযাল’ এবং ‘দাক্কা’ শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘যিলযাল’ অর্থ হচ্ছে একটি বস্তুর নড়াচড়ায় আরেকটি বস্তু নড়ে ওঠা। ‘দাক্কা’ অর্থ হচ্ছে প্রচণ্ড কোনো শব্দ বা আওয়াজের কারণে কোনো কিছু নড়ে ওঠা বা ঝাঁকুনি খাওয়া।

    ভূমিকম্প সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এ উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের মুখোমুখি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, কখন সেটা হবে হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, যখন গায়িকা এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে এবং মদপানের সয়লাব হবে।’ (তিরমিজি: ২২১২)

    অন্যত্র বলা হয়েছে, ভূমিকম্প হচ্ছে কিয়ামতের একটি অন্যতম আলামত। কিয়ামত যতই নিকটবর্তী হবে, ভূমিকম্পের পরিমাণ ততই বাড়তে থাকবে।

    ভূমিকম্পের বিভীষিকা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে মানব জাতি, তোমরা ভয় করো তোমাদের রবকে। নিশ্চয়ই কেয়ামত দিবসের ভূকম্পন হবে মারাত্মক ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, স্তন্যপায়ী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানের কথা ভুলে যাবে আর সব গর্ভবতীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। মানুষকে মাতালের মতো দেখাবে, আসলে তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুত আল্লাহর শাস্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।’ (সুরা হজ: ১-২)

    ভূমিকম্পের বেশকিছু কারণ সম্পর্কে জানা যায় হাদিসের মাধ্যমে। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যখন অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জিত হবে। কাউকে বিশ্বাস করে সম্পদ গচ্ছিত রাখলে তা আত্মসাৎ করা হবে। জাকাতকে মনে করা হবে জরিমানা হিসেবে। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া বিদ্যা অর্জন করা হবে। পুরুষ তার স্ত্রীর বাধ্যগত হয়ে মায়ের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করবে। বন্ধুকে কাছে টেনে নিয়ে বাবাকে দূরে সরিয়ে দেবে। মসজিদে শোরগোল (কথাবার্তা) হবে। সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তি সমাজের শাসক হবে। সে সময় তোমরা অপেক্ষা করো—রক্তিম বর্ণের ঝড়ের, ভূকম্পনের, ভূমিধসের, লিঙ্গ পরিবর্তন, পাথর বৃষ্টির এবং সুতো ছেঁড়া (তাসবিহ) দানার ন্যায় একটির পর একটি নিদর্শনগুলোর জন্য।’ (তিরমিজি: ১৪৪৭)

    তাই বলা যায়, বর্তমানে যেসব ভূমিকম্প হচ্ছে, তা মহান আল্লাহর পাঠানো সতর্কবার্তার নিদর্শনগুলোর একটি। এগুলো দিয়ে তিনি বান্দাদের সাবধান করেন। মূলত এগুলো মানুষের পাপ ও অপরাধের ফল। কেননা আল্লাহ অধিকাংশ জাতিকে ভূমিকম্পের গজব দিয়ে ধ্বংস করেছেন।

  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা মসজিদ আল হারামে

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা মসজিদ আল হারামে

    ইসলামী ডেস্ক:

    ফুল ফোটার মতই ছাতাগুলোতে ভাঁজ খুলে যায় এবং বন্ধও হয়ে যায়। এ ভাঁজ খোলা ও বন্ধ হওয়ার যথাযথভাবে হয় এবং একটির সঙ্গে আরেকটির সংঘর্ষের ঘটনা এড়িয়ে তা করা হয়।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা তৈরি করছে সৌদি আরব। আগামী বছর মসজিদ আল হারামে স্থাপন করা হবে ওই ছাতা। হাজিদের আরামের জন্য স্থাপন করা হবে ঐ ছাতা। ছাতাটির আয়তন হবে দৈর্ঘ্যে ৫৩ মিটার আর প্রস্থে ৫৩ মিটার। গ্রীষ্মের তাপদাহ থেকে ওই ছাতা পবিত্র হজ পালন করতে আসা লাখো হজযাত্রীকে রক্ষা করবে।

    মসজিদ আল হারামের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আল-আহমাদী বলেন, ‘ছাতাগুলো মসজিদের আঙিনা ও ছাদে স্থাপন করা হবে।’ মসজিদের ভেতরের অংশ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকায় ছাতার বাইরের অংশ ঠান্ডা হবে বলে জানান তিনি।

    জানা যায়, প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ২০১৪ সালে মদীনায় মসজিদে নববীর অনুরূপ মক্কায় মসজিদে হারাম আঙিনায় ৩শ’ ছাতা নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। ক’ বছর ধরে মসজিদের পরিবর্ধনের কাজ চলছিল।

    মুসুল্লিরা হারামের বাইরে তপ্ত গরমে সালাত আদায় করে থাকেন। তাই হারামের এলাকা সম্প্রসারণসহ মসজিদের আঙিনায় ৩শ’র বেশি ছাতা নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। ছাতাগুলো স্হাপন সম্পন্ন হলে মসজিদ চত্বরের ২ লাখ ৭৫ হাজার বর্গমিটার উন্মুক্ত জায়গা ছাতার আওতায় আসবে। এর আগে হাজীদের সুবিধার্থে মসজিদে নববীতে প্রায় আড়াইশ ছাতা স্হাপন করা হয়েছিল।

    ছাতা ভাঁজ হওয়া বা বন্ধ করার স্বয়ংক্রিয় নীরব কর্মসূচির ফলে দৈনন্দিন তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়। প্রতিদিন ভোরে ঈষৎ আলো বিশিষ্ট ছাদ তৈরি করার জন্যে খুলে দেয়া হয় এবং তা’সন্ধ্যায় অর্থাৎ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে বন্ধ করা হয়।

    গ্রীষ্মে উন্মুক্ত ছাতাগুলো দিনের বেলায় ছায়া দেয় এবং রাত্রীকালীন সময়ে বন্ধ করা হলে পাথেরের মেঝে কর্তৃক সেগুলোকে বাড়তি তাপ শুঁষে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়।

    শীতে এই প্রক্রিয়ার উল্টোটা চলে। যখন তাপমাত্রা তুলনামূলক নিচে নেমে যায়, তখন উষ্ণতার জন্যে শীতকালীন সূর্যের আলো যাতে দিনের বেলায় উন্মুক্ত দেখা যায় সেজন্যে ছাতা বন্ধ রাখা হয়। মসজিদ পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এর ফলে হারাম চত্বরের তাপমাত্রাও নিচে নেমে যায় মসজিদে হারামের চত্বরে এ ছাতার ফলে হাজী ও মুসল্লিদের আরো অধিকতর সুবিধা হবে।
    বি/এ