ক্যাটাগরি ন্যায়বিচার

  • কুষ্টিয়ার পীর হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ার পীর হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

    ডেস্ক নিউজ:

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে (৫৭) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা-পুলিশ। রোববার (২৭ এপ্রিল) রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ফিলিপনগর পশ্চিম দক্ষিণ এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম ও একই এলাকার নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আরিফুর ইসলাম। তিনি  বলেন, রোববার দিবাগত রাতে ফিলিপনগর এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপ্লব ও আলিফ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ফরজ আলী নামের একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফরজ আলী নামের ওই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা শামিম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণ পুলিশের হাতে এসে পৌঁছালে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আজ সোমবার বেলা ৩ টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত (১১ এপ্রিল) শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর নামের এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করে স্থানীয় মুসল্লী ও এলাকাবাসী। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করেন তারা। এই ঘটনায় পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেল ৪টায় মারা যান তিনি। এই হামলায় দরবার শরীফে তার আরও তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন। নিহত শামীম জাহাঙ্গীর ওই দরবার শরীফের প্রধান ছিলেন। পরদিন ১২ এপ্রিল রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

    পরে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানায় নিহত শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ দিন পর এই প্রথম দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করল দৌলতপুর থানাপুলিশ।

    বি /এ

  • ছাগলের সাথে শত্রুতা!

    ছাগলের সাথে শত্রুতা!

    চৌগাছা প্রতিনিধি

     

    যশোরের চৌগাছায় ঘাস খাওয়ায় অপরাধে একটি বকরীর চোখ তুলে নিয়েছে আরজ আলী মন্ডল নামে এক পাষন্ড।
    সে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের উসমান মন্ডলের ছেলে। রবিবার বিকেলে এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাগলের মালিক চৌগাছা থানায় একটি লিখিত আভিযোগ দায়ের করেছেন।

    অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, এদিন বিকেলে গ্রামের রিংকু খানের একটি ছাগল আরজ আলীর ড্রাগন ক্ষেতের ভিতরে ঢুকে ঘাস খায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরজ আলী ছাগলটির ডান চোখ তুলে ফেলে। খবর পেয়ে ছাগলের মালিক স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ছাগলটি উদ্ধার করে চৌগাছা পশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তকারী এসআই গোলাম কিবরিয়া বলেন, অভিযোগ সত্য হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি অমানবিক অপরাধী কোন ছাড় পাবেনা

  • নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

    নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামে ঘটে যাওয়া ব্যতিক্রমী ‘মহিষ বাজি’ এবার পেল এক মানবিক পরিণতি। মানবিক বিবেচনায় বাজিতে জেতা মহিষটি শেষ পর্যন্ত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক মো. আব্দুল মান্নান।

    শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেন কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ। মহিষের মালিকের কষ্ট দেখে হৃদয়ে আঘাত অনুভূত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    নির্বাচনের আগে উত্তর নাকশী গ্রামের আব্দুল মান্নান ও বালুঘাটা গ্রামের আমির হোসেনের মধ্যে অভিনব এক বাজি ধরা হয়। শর্ত ছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়ী হলে আব্দুল মান্নান দেবেন ৬টি মহিষ, আর ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে আমির হোসেন দেবেন ১টি মহিষ।

    ভোট গণনা শেষে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হওয়ায় বাজিতে পরাজিত হন আমির হোসেন। পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে মহিষটি বুঝে নেন আব্দুল মান্নান। মহিষ নিয়ে বিজয় মিছিলের আদলে গ্রামে প্রবেশ করলে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কৌতূহলী ভিড় জমে সেই দৃশ্য দেখতে। তবে আনন্দের সেই মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহিষটি ছিল আমির হোসেনের পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। মহিষ হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের আর্থিক কষ্ট ও জীবিকার অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে আসতেই বদলে যায় পরিস্থিতি।

    এলাকাবাসী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আব্দুল মান্নান ও আমির হোসেন সম্পর্কে ওরা আত্মীয়, নির্বাচনের আগে তারা মহিষ নিয়ে বাজি ধরেছিল। আমির হোসেন বাজিতে হেরে যাওয়ার পর আব্দুল মান্নান বিএনপির সমর্থক লোকজন নিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মহিষটি নিয়ে আসেন এরপর তিনি মানবিক বিবেচনা করে ফেরত দিয়ে দেন। এতে করে আমরা এলাকাবাসী ব্যাপক খুশি হয়েছি।

    আব্দুল মান্নান বলেন, বাজি ছিল নিছক আনন্দের জন্য, কিন্তু কারও জীবিকা বিপন্ন হোক তা তিনি চান না। এরপর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটি আমির হোসেনের হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তে উপস্থিত সবাই সাধুবাদ জানান।

    আমির হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দুজন মাঠে মহিষ চড়াইতে গিয়ে কথার এক পর্যায়ে বাজি ধরি। নির্বাচনের পর বাজিতে আমি হেরে গেলে আমার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাকে একটি মহিষ দিয়ে দেই। পরবর্তীতে উনি আমার প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করে, উনার মনোবল বড় বিদায় আমার প্রতি খুব ভালোবেসে মহিষটি ফেরত দেন, এতে করে আমি তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

    উল্লেখ্য, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেও এমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত এলাকাবাসীর কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আনন্দের বাজি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবতার অনন্য উদাহরণ।

  • গাইবান্ধায় দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা আটক

    গাইবান্ধায় দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা আটক

    ডেস্ক নিউজঃ

    গাইবান্ধার ফুলছড়িতে যৌথ অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপির এক নেতাকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ফুলছড়ি উপজেলার বালাশীঘাট এলাকার রসুলপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    আটক ব্যক্তি হলেন, মিলন মিয়া (৪৪)। তিনি কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। তিনি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের মৃত মেছের উদ্দিন সরকারের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে যৌথবাহিনীর সদস্যরা মিলন মিয়ার নিজ বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তাকে আটক করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে চারটি রাম দা, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা, ভয়ভীতি ও নাশকতা ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যৌথ বাহিনী নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

    ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম জয় বলেছেন, আটক মিলন মিয়া কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধে আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত নেবো।

    ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, যৌথ অভিযানে উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

    এম কে