ক্যাটাগরি বাগেরহাট

Bagerhat district

  • চৌগাছায় পুলিশ সদস্য নিখোঁজ

    চৌগাছায় পুলিশ সদস্য নিখোঁজ

    চৌগাছা প্রতিনিধি:

    যশোরের চৌগাছায় আক্তারুজ্জামান (৪৬) নামের এক পুলিশ সদস্য তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের বিষয়ে চৌগাছা থানায় অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার শিমা।

    নিখোঁজ আক্তারুজ্জামান উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জামলতা গ্রামের মৃত আনিচুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি খুলনা রেঞ্জের বাগেরহাট জেলার রামপাল থানায় কর্মরত আছেন। তার বিপি নং ৮৪০৩০২৪৬৪৪।

    ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের স্ত্রী শাহিনা আক্তার চৌগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন। ‘আমার তিন সন্তান নিয়ে চৌগাছা শহরের ইছাপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছি। আমার স্বামী ২৬ নভেম্বর ৫ দিনের জন্য ছুটি নিয়ে চৌগাছায় আসেন। ২৭ নভেম্বর সকালে মহেশপুর যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়। এর পরে তিনি আর ফিরে আসেননি’। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বাসায় রেখে যান। (তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর-০১৭৯০০১৫৬৭৭৫ এবং ০১৯৫৩৮২৪৪৫২) যে কারনে আক্তারুজ্জামানের সাথে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান শাহিনা আক্তার।

    নিখোঁজ আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী শাহিনুর আক্তার জানান, তিনধরে স্বামী আক্তারুজ্জামানের কোনো সন্ধ্যান না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।

    চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    বি/এ

  • ‘শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল’

    ‘শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল’

    ডেস্ক নিউজঃ

    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ‘শিক্ষা শুধু সনদ বা ডিগ্রি নয়, এটি জাতি গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীই রাষ্ট্রের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তারা গণতন্ত্রকে সুসংহত করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে।’

    জাতি গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিষয়ে বিশেষ শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে মোরেলগঞ্জ রওশ-আরা স্মৃতি মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘যে দেশ যত বেশি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করবে, সেই দেশ তত বেশি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং সচেতন নাগরিক তৈরি করতে সক্ষম হবে। সুশিক্ষিত মানুষই প্রকৃত জাতির সম্পদ। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল। দিনের ভোট রাতে নিয়ে ব্যালট বক্স ভর্তি করতে বাধ্য করা হয়েছিল শিক্ষকদের। সেই দিন আর বাংলাদেশে ফিরে আসবে না।’অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, সৃজনশীল চিন্তা এবং মূল্যবোধ নির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। অফিস ও সমাজে নয়, চরিত্র নির্মাণেই শিক্ষার আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন – কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম আজাদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতন উদ্যোগের মাধ্যমেই শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন সম্ভব।’সমাবেশে রওশ-আরা স্মৃতি মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    এম কে

  • বারান্দায় মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী সবুজ

    বারান্দায় মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী সবুজ

    ডেস্ক নিউজ:

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পানবাড়িয়া গ্রামের যুবক সবুজ শিকদার (৩৪)। জীবিকার খোঁজে ১৭ বছর গ্রামের বাইরে ছিলেন। গত বছর নিজ গ্রামে ফেরেন তিনি। মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে নিজ ঘরের বারান্দায় শুরু করেন মাশরুম চাষ। এখন সেই মাশরুমই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের পানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ইছহাক আলী শিকদারের ছেলে সবুজ শিকদার। ২০০৭ সালে জীবিকার খোঁজে বাড়ি ছেড়েছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কাটিয়েছেন।

    এক সময় ওষুধের ব্যবসা করলেও, গত বছর তিনি নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। সবুজ সাভারের মাশরুম ইনস্টিটিউট থেকে ১২ দিনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাশরুম চাষ শুরু করেন। নিজের ঘরের বারান্দার মাত্র ১২ হাত জায়গায় তিনি ‘মেসার্স সাইবা পিও-টি জাতের মাশরুম’ প্রকল্প চালু করেন। বর্তমানে তিনি একসঙ্গে ৬২২টি মাশরুম ব্যাগে চাষ করছেন এবং প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন কেজি মাশরুম উৎপাদন করতে সক্ষম।

    সবুজ স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মাশরুম ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন, আর মাশরুম গুঁড়া বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৩ হাজার টাকা দরে। তিনি দারাজ, পাঠাও, স্কুট এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাশরুম সরবরাহ করছেন। এছাড়াও ৫০০ গ্রাম ইস্পন প্যাক ২৫ টাকায়, ১ কেজি ৫০ টাকায় এবং ২ কেজির প্যাকেট ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

    পানবাড়িয়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, সবুজ ভাই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আগে কেউ ভাবেনি যে ঘরের বারান্দায় বসেই এত কিছু করা যায়। এখন গ্রামের অনেক যুবকই মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

    স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা শিরিন বেগম বলেন, মাশরুম চাষ করে সবুজ এখন ভালো আয় করছেন। এমন উদ্যোগে যদি সরকারি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন এবং স্বাবলম্বী হবে।

    সবুজ শিকদার বলেন, প্রথমে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। যদি সরকারি সহযোগিতা পাই, তাহলে আরও বড় আকারে চাষ করতে পারব। আমার স্বপ্ন অনেক বড়। এই বারান্দার ছোট পরিসর থেকে শুরু করে একদিন আমি এই মাশরুম চাষকে অনেক বড় একটি শিল্পে পরিণত করতে চাই।

    তিনি বলেন, আমি চাই আমার মতো আরও অনেক বেকার যুবক এই মাশরুম চাষে আগ্রহী হোক এবং স্বাবলম্বী হোক। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষকে আমি দেশের প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে দিতে চাই।

    কচুয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শেখ নাইমুর রশিদ লিখন বলেন, মাশরুম চাষ এখন একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগ। খুব অল্প জায়গায়, অল্প খরচে এটি চাষ করা যায়। সবুজ যা করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই আরও যুবক তার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করুক। কৃষি অফিস থেকে আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি।  মাশরুম পুষ্টিকর হওয়ায় বাজারে এর

    চাহিদাও হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে। সবুজের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, সবুজের মতো কেউ যদি এই উদ্যোগ শুরু করতে চায়,  তাহলে  প্রশিক্ষণ, পরামর্শ বা যে কোনো সহযোগিতায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

  • মোড়লগঞ্জে চাচাত ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

    মোড়লগঞ্জে চাচাত ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

    ডেস্ক নিউজ:

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. কালাম খান (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে চোর তকমা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে তাঁর চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। গতকাল  রাত ৯টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়িখালী ইউনিয়নের ছোট জামুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কালাম খান ওই ইউনিয়নের ঢেপুয়ারপাড়

    গ্রামের ওয়াজেদ আলী খানের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন,  জমিজমা নিয়ে কালাম খান ও একই বংশের সোহেল খানের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজার থেকে ফেরার পথে সোহেল খান তাঁর লোকজন দিয়ে কালাম খান ও তাঁর বড় ভাই লুৎফর খানকে ধরে নিয়ে চুরির অভিযোগে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে কালাম খান অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে রাস্তায় এনে ফেলে পুলিশে দেন। পরে পুলিশ তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় দুই ভাইকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালাম খানকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বড় ভাই লুৎফর খানের অবস্থায়ও সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    সুত্র: প্রথম আলো

  • রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড

    রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড

    ডেস্ক নিউজ:

     

    বাগেরহাটে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। আগস্ট মাসে কেন্দ্রটি ৭৭১.৭০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের (১০ হাজার ১০০ মিলিয়ন ইউনিট) ৭.১৫ শতাংশ।

    গত তিন মাস ধরে প্ল্যান্টটি ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে ৬০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, যার মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩৬.৪ মিলিয়ন ইউনিট।
    মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম।

  • নতুন জাতের ধান চাষে লাভবান

    নতুন জাতের ধান চাষে লাভবান

    ডেস্ক নিউজ:

    চলতি বোরো মৌসুমে চাষি মোস্তফা হাসান চার বিঘা জমিতে মাত্র ২১ কেজি বীজ লাগিয়ে ২২১ মণ ধান উৎপাদন করেছেন। যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা! বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে সোনালি বর্ণের এই ধান।

    বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউটের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক জাত ব্রি-১০৮ ধান চাষে এ অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন উপজেলার শৌখিন এই চাষি।

    ইউটিউবের মাধ্যমে খোঁজ পেয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে কৃষক মোস্তফা হাসান শেরপুর থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে ২১ কেজি বীজ ধান সংগ্রহ করেন। চার বিঘা জমিতে কিষান খরচ, জমি চাষ, সার ওষুধ ও সেচ খরচ মিলে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অধিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও খরা সহিষ্ণু হওয়ায় বীজতলা থেকে শুরু করে ধান পাকা পর্যন্ত তার এই খরচ হয়েছে বলে জানান। সার ব্যবস্থাপনা কম লাগায় ও বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় অধিক লাভের আশা প্রকাশ করেন। জানুয়ারিতে রোপণ করা ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে। এক শতক জমির ধান নমুনা কর্তনে ৪৫ কেজি ধান পেয়েছেন। মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৬০০ টাকা বলে তিনি জানান। ২/১ দিনের মধ্যে বাকি ধান কাটা হবে বলে জানান মোস্তফা হাসান।

    ইতোমধ্যে ফকিরহাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বীজের জন্য ২০ মণ ধানের চাহিদার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন।

    রোববার  সকালে উপজেলার বাহিরদিয়া ব্লকে কৃষক মোস্তফা হাসানের ধানক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, আশেপাশের অনেক কৃষক আগ্রহ নিয়ে ধান দেখতে এসেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তাসহ কৃষি বিভাগের লোকজন কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।

    উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নয়ন সেন বলেন, সোনালি রঙের ব্রি-১০৮ জাতের ধানটি এই উপজেলায় প্রথম চাষ হয়েছে। সম্ভবত জেলায়ও প্রথম হবে। এ ধানের চাল মাঝারি লম্বা ও চিকন। ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হওয়ায় উচ্চ মূল্যের জিরা ধানের বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবন করা হয়েছে। একদিকে উৎপাদন খরচ কম, অন্যদিকে অধিক দামের কারণে ইতোমধ্যে ধানটির প্রতি ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে।

    কৃষক মোস্তফা হাসান ও ক্ষেত মজুর রহমত ফকির জানান, ৪ বিঘা ৫ শতক জমিতে ব্রি-১০৮ ধান চাষের সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ হবে। এ অঞ্চলে প্রথম চাষেই সাফল্য পাওয়ায় অনেক চাষি এটি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের সহযোগিতা করতে চান তিনি। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্রি-১০৮ হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আবিষ্কৃত সর্বাধুনিক জাতের ধান। এ ধানটি অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি উৎপাদন হয়। প্রতি গোছায় গড় কুশির সংখ্যা ১৬/১৭টি। দানার পুষ্টতা শতকরা ৮৮.৬ ভাগ। চালে প্রটিনের পরিমাণ ৮.৮ ভাগ যা অন্যান্য চালের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্য সম্মত।

    উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের মাঝে ধানটি ছড়িতে দিতে এই ক্ষেত থেকে সরকারিভাবে বীজ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

  • নারকেলের ছোবড়ায় সাবলম্বী ৮০ টি পরিবার

    নারকেলের ছোবড়ায় সাবলম্বী ৮০ টি পরিবার

    ডেস্ক নিউজ :

     

    বাগেরহাটের সদর উপজেলার বাসাবাটি এলাকায় নারীদের হাতে তৈরি অর্গানিক পণ্য এখন শুধু ঘরের সাজসজ্জা নয়, তাদের জীবিকা ও স্বপ্নের উৎস। নারকেলের ছোবড়া, কাঠ, কাপড় ও সুতা দিয়ে তাদের হাতে তৈরি পাখির বাসা, বিড়ালের খেলনা, দোলনা, জুতাসহ নানা ধরনের পণ্য বাজারে বিক্রি হয়। জার্মান, জাপান, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয় এগুলো। রোজী আহমেদের উদ্যোগে নারীবান্ধব এই কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন ৮০ জন নারী। এই শ্রম শুধু নারীদের আয়ের পথই খুলে দেয়নি, জুগিয়েছে তাদের আত্মবিশ্বাস।

    সরেজমিনে দেখা যায়, রোজী আহমেদের ফ্যাক্টরিতে, বাড়ির উঠানে এবং পাশের দুটি একতলা ভবনে তৈরি হচ্ছে ৫০-৬০ প্রকারের অর্গানিক পণ্য। নারকেলের ছোবড়া ও আঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে পাখির বাসা, দোলনা, নারকেলের জুতা। কাঠ, কাপড় ও সুতো দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিড়ালের খেলনা, চপিং বোর্ড, দোলনা, কাপড়ের ব্যাগ। প্রতিটি পণ্যে নারীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া স্পষ্ট। প্রতিটি পণ্য নকশা অনুযায়ী সজ্জিত করা হয়, পরিশোধন করা হয়, এবং বিদেশে পাঠানোর জন্য নিখুঁতভাবে প্যাক করা হয়। জার্মান, জাপান, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই উদ্যোগে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীরা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। প্রতিটি পণ্যে তাদের শ্রম ও সৃজনশীলতার ছোঁয়া রয়েছে।

    রোজী আহমেদের তিনতলা বসতবাড়ি ও পাশের দুটি একতলা ভবন মিলিয়ে গড়ে উঠেছে অর্গানিক প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি। এখানে কমপক্ষে ৮০ জন নারীকর্মী কাজ করছেন। তারা প্রত্যেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করছেন। নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নারীরা অত্যন্ত খুশি।

    করোনার সময় যখন সমস্ত মিল-ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখনই রোজী আহমেদ ফেসবুকে নিজের হাতে তৈরি নারকেলের মাজুনি বিক্রি শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর উদ্দিপন নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আঁশের তৈরি পাখির বাসার তৈরির অর্ডার দেন। এরপর একের পর এক নতুন পণ্য তৈরি শুরু হয় এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশে বিক্রি করা শুরু হয়।

    বিসিক, বাগেরহাট উপ-ব্যবস্থাপক শরীফ সরদার বলেন, রোজী আহমেদের উদ্যোগ নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। অর্গানিক পণ্য তৈরির মাধ্যমে দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে। এটি অন্যান্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। রোজী আহমেদ ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা-২০২৪’ পেয়েছেন।

    বাগেরহাটের এই উদ্যোগ শুধু নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না, দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা আনার পথ খুলছে। প্রতিটি নারী শ্রমিকের প্রতিদিনের শ্রম, সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায় অর্গানিক পণ্যকে দেশের এবং বিদেশের বাজারে পরিচিতি দিয়েছে। রোজী আহমেদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ অসহায় নারীদের জীবনে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে।

    নারীরা প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছে, নতুন কিছু তৈরি করছে, এবং প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে তাদের জীবনের গল্প ও স্বপ্ন মিশে আছে। এই উদ্যোগ অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস এবং এটি প্রমাণ করছে, উদ্যোক্তা নারীর উদ্যোগে একদম ছোট উপকরণ থেকেও বিশাল অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব।

  • সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে ৭ শিকারি আটক

    সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে ৭ শিকারি আটক

    ডেস্ক নিউজ :

     

    রাতের আঁধারে সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন একদল শিকারি। তবে বন বিভাগের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে পুরো চক্রটি।

    শনিবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমনি টহল ফাঁড়ির হোন্দল এলাকা থেকে সাত শিকারিকে আটক করে বন বিভাগের স্মার্ট টিম–১ এর সদস্যরা।

    বন বিভাগ জানায়, অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে বন বিভাগের পতাকাসহ দুটি ট্রলার, ১০০টি হরিণ শিকারের হাটা ফাঁদ, একটি মই জাল, একটি করাত, ২০টি কন্টেইনার, দুটি ড্রাম, একটি নোঙর, তিনটি ত্রিপল, দুটি পাতিল ও দুটি ককসিট জব্দ করা হয়।

    আটকরা হলেন- বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শগুনা গ্রামের মনোজ পাল (৪২), বাইনতলা গ্রামের মুজিবুর রহমান (৫৬), চাঁনপুর গ্রামের মুনাফ আলী মোল্লা (২২), মোজাম্মেল শেখ (৫২), বারইপাড়া গ্রামের খান তামিম (২০), ওহিদ মল্লিক (৩৬) এবং মোংলার জয়মনি গ্রামের আলী হোসেন (৪৫)।

    বন আইনে মামলা দায়েরের পর রোববার (৩ নভেম্বর) দুপুরে আটক সাতজনকে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গভীর রাতে হোন্দল এলাকায় হরিণ শিকারের ফাঁদ পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন একটি চক্র। আমাদের স্মার্ট টিম দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    বি/এ

  • সুন্দরবনে ফুট ট্রেইলে বাঘ

    সুন্দরবনে ফুট ট্রেইলে বাঘ

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

     

    বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের হাড়বাড়িয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে ঘটেছে এক বিরল ঘটনা। কাঠের তৈরি উঁচু হাঁটার পথ অর্থাৎ ফুট ট্রেইলে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে এক প্রাপ্তবয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে।

    সম্প্রতি  নিয়মিত টহলের সময় বনরক্ষীরা বাঘটিকে ফুট ট্রেইলের ওপর দেখতে পান। সৌভাগ্যবশত তখন সেখানে দেশি-বিদেশি কোনো পর্যটক ছিলেন না। এতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

    বনরক্ষীরা বাঘটিকে দেখে আতঙ্কিত না হয়ে চিৎকার ও হাঁকডাক শুরু করেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর বাঘটি ধীরে ধীরে ফুট ট্রেইল থেকে নেমে সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে প্রবেশ করে।

    এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, শনিবার সকালে হাড়বাড়িয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বনরক্ষীরা ফুট ট্রেইলে একটি প্রাপ্তবয়স্ক বাঘ দেখতে পান। পরে তাদের হাঁকডাকের কারণে বাঘটি বনের ভেতরে চলে যায়। এটি সত্যিই বিরল দৃশ্য, কারণ সুন্দরবনের কোনো ফুট ট্রেইলে এর আগে কখনও বাঘ দেখা যায়নি।

    তিনি আরও বলেন, হাড়বাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বাঘের অবাধ বিচরণ রয়েছে। কেন্দ্রের দিঘির পাড়েও প্রায়ই বাঘের দেখা মেলে। তবে এই প্রথমবারের মতো কোনো ফুট ট্রেইলে বাঘ উঠতে দেখা গেল।

    স্থানীয় বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে বাঘের দেখা মেলার ঘটনা বেড়েছে, যা ইকোসিস্টেমের জন্য ইতিবাচক হলেও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।